![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বাঙ্গালা-বিহারে বৌদ্ধ ধর্মের পতনের ধারা
একাদশ শতাব্দিতে সেন শাসকগণ বাঙ্গলার একাংশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই বৌদ্ধ ধর্মের পতনের ধারা শুরু হয়। বৌদ্ধ ধর্মের পতনের মূল কারণ হলো― বৌদ্ধ ধর্মের সাথে শৈব ও তান্ত্রিক উপাদানের মিশ্রণ। এই মিশ্রণের ফলশ্রুতিতে বৌদ্ধ ধর্ম তার আসল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অনার্য ধর্ম ও পৌরাণিক ধর্মের সংশ্লেষণ শুরু হয়। ফলশ্রুতিতে প্রতিটি ধর্মেরই নানা রূপান্তর ঘটতে শুরু করে এবং নতুন ধারার ধর্মেরও সৃষ্টি হয়।
যুগান্তরে শাসনকর্তা বদলেছে এবং হিন্দু ধর্মের রূপান্তর ঘটেছে, কিন্তু ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রাধান্যে সামাজিক স্তরবিন্যাসের প্রক্রিয়া অব্যাহত থেকেছে। ফলশ্রুতিতে বৌদ্ধ ধর্ম ও হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রথায় যে রূপান্তর সাধিত হয়, তাই দীর্ঘমেয়াদে বাঙ্গলাবর্ত থেকে বৌদ্ধ ধর্ম উৎখাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাঙ্গলাবর্তে মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠা পর্বে বৌদ্ধ ধর্ম ছিলো ক্ষীয়মান এবং এই ধর্ম নাথ ধর্ম ও সহজিয়া ধর্ম ইত্যাদি ধর্মের মাধ্যমে অস্তিত্ত্বমান ছিলো। সে সময় বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ শাস্ত্রচর্চা থেকে বিচ্যুত হয়ে অতিন্ত্রীয়বাদে বিশ্বাসী হয়ে উঠে এবং নানা তান্ত্রিকতা চর্চায় লিপ্ত হয়। কোনও কোনও সংঘের বৌদ্ধ শ্রমণগণ অনৈতিক যৌনাচারে ব্যপৃত হয়। তাঁরা তখন যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে লিপ্ত ছিলো তাকে বৌদ্ধ ধর্মের আদর্শের মাপকাঠিতে বৌদ্ধ ধর্ম বলা যায় না। সে সময় পৌরাণিক হিন্দু ব্রাহ্মণগণও তাঁদের প্রতি বৈরী অবস্থান গ্রহণ করে। তখন তান্ত্রিক সিদ্ধাচার্যদের প্রতি আর্য ব্রাহ্মণগণও বিরক্ত হয়ে উঠে। কাজেই সে সময় মুসলমান শাসকগণ তাঁদের অনৈতিক জীবন-যাপনের খবরে বিরক্ত হয়ে এবং হিন্দুদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে অনেক বৌদ্ধবিহারে অভিযান পরিচালনা করে। এভাবে বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ তখন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়— এই উভয় পর্যায়ে নিগ্রহ ও নির্যাতনের স্বীকার হয়ে বার্মা ও তিব্বতে পাড়ি জমাতে থাকে। ফলশ্রুতিতে বৌদ্ধ ধর্মের ভৌত অবকাঠামোসমূ্হ তখন ধ্বংসপ্রায় হয়ে উঠে।
©somewhere in net ltd.