![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, স্তরবিন্যস্ত ক্ষমতার বলয়ের ওপর ভর করে। সেই ক্ষমতার বলয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে প্রত্যন্ত নেতৃত্ব পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত ক্ষমতাসীন শ্রেণী দেশের বিভিন্ন সরকারী, আধা-সরকারী, বেসরকারী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য জনগণকে শাসন ও শোষণ করা। উদাহরণস্বরূপ: দেশের থানা, ভূমি অফিস, বাজার বা সড়ক পথ ও জলপথ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের কথা ধরা যাক। এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনওনা কোনও স্থানীয় রাজনৈতিক দল (আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয়পার্টি) নিয়ন্ত্রণ করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ বা পারিচালনায় তারা নিজেদের মতো নিয়ম প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে, যেনো তারা জনগণের ওপর খবরাদারী করতে পারে এবং জনগণের অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। জনগণের ওপর এই যে শাসন-শোষণের প্রক্রিয়া বিদ্যমান রয়েছে, তার সাথে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা রয়েছে। অর্থ্যাৎ সমাজের প্রত্যেক স্তরে জনগণকে যে শাসন-শোষণ চলে, তার পক্ষে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের সমঝোতা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক তত্ত্বকে সঠিক হিসেবে ধরে নিলে, এখন যারা সরকার পতনের আন্দোলন করছে তারা যে সামাজিক শ্রেণী থেকে এসেছে, সেই শ্রেণী কোনও না কোনওভাবে এই ক্ষমতার বলয়ে সাথে যুক্ত। কাজেই তাদের আন্দোলনে বর্তমান সরকারের পতন ঘটলেও, বিদ্যমান ক্ষমতার বলয়ের সংস্কার না হলে রাষ্ট্রের শাসন-শোষণ যন্ত্র বন্ধ হবে না। কাজেই বলা যায় যে, গতানুগতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার পালা বদল ঘটলেও, ক্ষমতার বলয় অক্ষুন্ন থাকলে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে জনগণের শাসন-শোষণ চলতে থাকবে।
©somewhere in net ltd.