নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ডক্টর এ.বি.এম. রেজাউল করিম ফকির, অধ্যাপক, জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগ \nআধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় e-mail: [email protected]

রেজাউল করিম ফকির

অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রেজাউল করিম ফকির › বিস্তারিত পোস্টঃ

আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ হিসেবে পরিচিতি পেলেও, যারা আদতে ছিলেন রাষ্ট্রনায়ক বা সেনানায়ক

১৭ ই আগস্ট, ২০২৪ বিকাল ৫:৩২

রাজনৈতিক ইতিহাসে বিস্মৃত অনেক মুসলমান রাষ্ট্রনায়ক ও সেনানায়ক ধর্মীয় ইতিহাসের আবরণে আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ হিসেবে জাতির মননে টিকে আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজী (১১৬৫-১২০৬খ্রি.), গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ (১৩৯০-১৪১১ খ্রি.) ও নাসিরউদ্দীন সিপাহশালার (১২৫০-১৩৪৬খ্রি.)। আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ হিসেবে তাঁদের স্মৃতি মুসলমানদের মধ্যে শতশত বছর ধরে বাহিত হয়ে এসেছে। সুফীবাদী মুসলমানগণ এই তিনজন মহাপুরুষকে আধ্যাত্মিক পুরুষ হিসেবে ধারণ করে, তাঁদের মাজার প্রতিষ্ঠা করে। সেইসব মাজারকে ঘিরে ফাতেহা ও বার্ষিক ওরশ ইত্যাদি ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তাঁদের স্মৃতিকে ধারণ করে এসেছে এবং এই একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত তাঁদের ইতিহাসকে পরিবহন করে এনেছে। আমরা জানি যে, ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজী (১১৬৫-১২০৬খ্রি.) বঙ্গ বিজেতা হিসেবে বিখ্যাত হয়ে রয়েছেন। তিনি ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়ায় প্রতিষ্ঠিত সেন রাজবংশের শেষ রাজা লক্ষণসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাঙ্গালায় দিল্লী সালতানাতের গোড়াপত্তন করেছিলেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের দেবকোটে তাঁর মাজার রয়েছে, যেখানে তাঁর উদ্দেশ্যে ভক্তবৃন্দ মানত ও শিন্নী দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ (১৩৯০-১৪১১ খ্রি.) ছিলেন বাঙ্গালার সুলতান। তাঁর সমাধিস্থলটি কালাপীরের মাজার হিসেবে পরিচিত। ১৯৮০-এর দশকে এই লেখক (আমি) সোনারগাঁও ভ্রমণে গেলে, একজন রিকশাওয়ালা তাঁকে কালাপাহাড়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করে। এই লেখক সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায় যে, সেখানে একটি মাজার রয়েছে। রিক্সাওয়ালা তখন এই লেখককে রিক্সা থামিয়ে বলে যে, আর যাওয়া যাবে না, হেঁটে যেতে হবে। ওনার অসম্মান হবে। এই লেখক হেঁটে অগ্রসর হলে, রিকশাওয়ালা বলে যে, জুতা খুলে যেতে হবে। তা না করলে ওনার অসম্মান হবে। এই প্রথমবারের মতো এই লেখক জানতে পারে যে, বাঙ্গালা সালতানাতের সুলতানদের মধ্যে একমাত্র সুলতানের সমাধি এই পূর্ববাঙ্গালায় রয়েছে। দেশদশান্তর থেকে অনেক পর্যটক সোনারগাঁও ভ্রমণে আসে। কিন্তু সোনারগাঁওয়েই যে, বাঙ্গালার একজন সুলতানের সমাধি রয়েছে সে বিষয়টি অনেকের কাছেই অনিবিদিত রয়ে গেছে। অন্যদিকে নাসিরউদ্দীন সিপাহসালার (১২৫০-১৩৪৬খ্রি.) একজন আধ্যাত্মিক পুরুষ হিসাবে খ্যাতি রয়েছে। প্রতিবছর বহু ভক্ত ও অনুগামীদের সমাগমে তাঁর বার্ষিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তিনি ছিলেন মূলত হযরত শাহজালালের শ্রীহট্ট বিজয়ের প্রধান সেনানায়ক। তিনি সিলেট থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে চুনারুঘাট জেলার মুড়ারবন্দ নামক স্থানে আস্তানা স্থাপন করে, ইসলাম ধর্ম প্রচারের মাধ্যমে ক্ষমতার বলয় বিস্তৃত করতে প্রয়াসী ছিলেন। কিন্তু সেনানায়ক হিসেবে তাঁর পরিচিতি আধ্যাত্মিক পুরুষ পরিচিতির আড়ালে চলে গেছে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.