নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ডক্টর এ.বি.এম. রেজাউল করিম ফকির, অধ্যাপক, জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগ \nআধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় e-mail: [email protected]

রেজাউল করিম ফকির

অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রেজাউল করিম ফকির › বিস্তারিত পোস্টঃ

আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অজ্ঞানতার যুগে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা

০৫ ই অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ১০:৪৭

দেশে এখন মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। এ পরীক্ষা শেষ হলে, শুরু হবে হাতে-কলমে পরীক্ষা। হাতে-কলমে পরীক্ষার জন্য শতকরা ২৫নম্বর নির্ধারিত রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে হাতে-কলমে পরীক্ষা হয়ে থাকে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে। বিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মনষ্ক হিসাবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।কিন্তু দেশে হাতে-কলমে শিক্ষার ব্যবস্থার নামে যা চলছে, তা মোটাদাগের জালিয়াতি ছাড়া আর কিছুই নয়। হাতে-কলমে শিক্ষার নামে, কিন্তু কাজে কোথাও হাতে-কলমে তেমন কোন ক্লাসও অনুষ্ঠিত হয় না এবং হাতে-কলমে তেমন কোন পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয় না। হাতে-কলমে শিক্ষা ও পরীক্ষার নামে যা হয়, তা কেবলই এক ধরণের হাত সাফাই বিশেষ। রাজধানীর নামীদামী বিদ্যালয়সহ দেশের সর্বত্র এই হাত সাফাইয়ের আবহ চলছে। দেশে একজন শিক্ষামন্ত্রী আছেন; মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবিভাগে রয়েছেন শিক্ষাপ্রশাসক থেকে শুরু ছোটবড় অনেক শিক্ষা তদারকী আমলাগণ। তাঁরা এই শিক্ষাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরিচালনা করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো-দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পরীক্ষণাগার বলতে যা বুঝায়, তার কোন অস্তিত্ত্ব নাই। আবার যেখানে পরীক্ষণাগার রয়েছে, সেখানে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে তাড়াহুড়ো করে হাতে-কলমে লোকদেখানো কিছু কাজ করানো হয়। হাতে-কলমে কাজের শেষে তার একটি বিবরণ লিখতে হয়। কিন্তু পরীক্ষণ খাতায় পরীক্ষণের এই বিষয়বস্তু সাধারণত: শিক্ষার্থীরা লিখে না। এগুলো লিখিয়ে নেওয়া হয় ফরমায়েস দিয়ে। আবার হাতে=কলমের এইসব পরীক্ষায় হাতে-কলমে পরীক্ষা বলতে তেমন কিছু হয় না। পরীক্ষকদেরকে কিছু টাকা ধরিয়ে দিলে তাঁরা সবকিছু সামলে নেয়, আবার যথেষ্ট নম্বরও দেয়। শিক্ষাব্যবস্থায় হাতে-কলমে শিক্ষার এই যে ডুব-সাঁতারের খেলা চলছে, তা সবাই জানে। এই ডুব-সাঁতারের খেলা যারা তদারকীতে আছে এবং যারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সবাই বিষয়টি জানে। কিন্তু এই ডুব-সাঁতারের খেলাটি এখন গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, তেমনই দেশের শিক্ষার ব্যবস্থায় ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে। এই ক্ষত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যেমন শিক্ষায় ফাঁকিবাজির প্রথম ছবক দিচ্ছে, তেমনইভাবে শিক্ষকগণও ফাঁকিবাজিতে হাত পাঁকাচ্ছে। দেশে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা কর্মকর্তা সবাই যেন জেনেও না জানার ভান করছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় হাতে-কলমে শিক্ষা নিয়ে এই যে ফাঁকিবাজির মচ্ছব চলছে, তা যখন জেনেশুনেই চলছে তখন একে আইয়েমে জাহেলিয়াত বা অজ্ঞানতার যুগ না বলে আর কী বলা যায়?

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.