নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

life is a game . lets make a highscore

প্রফেসর সাহেব

প্রফেসর সাহেব › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঠিকাদারদের কবলে শান্তির ধর্ম

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৩৮

একবার বরযাত্রী হিসেবে কনে বাড়ির পথে যাচ্ছিলাম,জুম্মাবার হওয়ায় মুরব্বীদের পরামর্শে হাইওয়ের পাশে এক মসজিদে জুম্মা আদায়ের জন্য থামা হল।সর্বমোট বরযাত্রী ১০০+।নামাজের জন্য গাড়ি থেকে নামবো এমন সময় শুনলাম এই মসজিদে নামায পড়া যাবেনা,সামনে অন্য কোন মসজিদ দেখলে গাড়ি থামানোর জন্য ড্রাইভার বৃন্দকে নির্দেশনা দেওয়া হল।
:কারণ কি, কেন পড়া যাবেনা??????
ভাবলাম মুসল্লি সংখ্যা বেশি হওয়ায় মসজিদে জায়গা সংকুলান হবেনা তাই......।
কিন্তু না, মুরব্বীদের উত্তর আসলো এটা "কৌমি মসজিদ"। কৌমিদের সাথে নামাজ পড়লে সুন্নিদের নামাজ কবুল হবেনা।

বর্তমানে ইহুদি,নাসারা,মুশরিক কতৃক মুসলমানদের উপর নির্যাতনের পথকে সহজগম্য করার পেছনে মুসলমানদের শিয়া, সুন্নি,তাবলীগি,লা-মাযহাবি ইত্যাদি বিভিন্ন দলে বিভক্তি অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। "ধর্মের ঠিকাদারেরা" এর দায় কখনওই এড়াতে পারেননা।এর জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

ধর্মের মধ্যে বিভক্তি দূর করে এক দল হিসেবে থাকার জন্য কাজ করা তো দূরের কথা উনারা আছেন কিভাবে অপর মতের উপর নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় তা নিয়ে,নবিজী মাটির তৈরী এটা আজ উনি প্রমান করেই ছাড়বেন।কিংবা সাহাবীরা নিজে কিয়াম করেছেন এটা দলিল,ফর্ছা,এস এ রেকর্ড সহ প্রমান উনার কাছে আছে,নিজেকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় না দিয়ে শিয়া, সুন্নি,কৌমি হিসেবে পরিচয় দিতেই উনারা উপভোগ করেন।

ধর্মভীরু মুসলমানদের সরলতার সুযোগ নিয়ে নিজের "ফিল্ড " ধরে রাখতে উসকানি মূলক বক্তব্য প্রধানের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের ধর্ম ইসলামকে উনারা হিংসার ধর্মে পরিণত করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

আজ এক মুসলমান যদি তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধনের সময় মিলাদ পড়ায় তাহলে আরেক মুসলমান তাকে বিদাতি বলে
আজ এক মুসল্লি যদি বুকে হাত বাধে তাহলে আরেক মুসলমান তাকে বিপথগামী মনে করে
আজ এক মুসলমান যদি বলে যে নবী (স) আমাদের মতই মানুষ তাহলে সে হয়ে যায় ইহুদির দালাল

নিজের মতের সাথে না মিললে সে "খাটি মুসলমান "না। আজ কাওমির কাছে সুন্নি বিপথগামী, সুন্নির কাছে কওমিরা বিপথগামী,
এই "বিপথগামী" " বিদাতি" "ইহুদির দালাল" শব্দ গুলি খুব সুক্ষ ভাবে আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে নিজেদের আখের গোছাবার জন্য।

"মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই" এই কথাটির স্থলে এখন হয়েছে "লা মাযহাবি লা মাযহাবি ভাই ভাই" " সুন্নি সুন্নি ভাই ভাই" "শিয়া শিয়া ভাই ভাই" " কওমি কওমি ভাই ভাই"।
নিজেদের মাঝে মতানৈক্য থাকতেই পারে। কারো কাছে নবী নূরের তৈরি,কারো কাছে মাটির। কেউ মিলাদ পড়বে কেউ এটাকে বিদাত বলবে। কেউ মাজারে যাবে কেউ নিজের বাপের কবরেই যায়না।
এগুলা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় যতটা গুরুত্ববহন করে ভ্রাতৃত্ববোধ।

একজন মিলাদ পড়েনা তার মানে আপনার কাছে যে "মুসলমানত্ব" মাপার মাপকাঠি আছে সেখানে তার লেভেল ডাউন হয়ে গেলো?

আমাদেরকে এই ধরনের চিন্তাভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। নিজের সকল পরিচয় ছাপিয়ে মুসলমান পরিচয়টাকে উজ্জ্বল করতে হবে।

যেসব "ঠিকাদারেরা" মুসলমানদের মাঝে বিরোধ বাড়াতে ওয়াজ মাহফিলে গলা ফাটান তাদেরকে আল্লাহ হেদায়ত দান করুন।

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

“The believers are nothing else than brothers. So make reconciliation between your brothers, and fear Allah, that you may receive mercy.” [Al-Hujjurat, 49:10]

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:১৭

ফ্রিটক বলেছেন: সহমত পোষন করছি

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.