| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সুব্রত দত্ত
পরিশ্রমকে সঙ্গী করে কত মানুষ উর্ধ্বে গেলো, আকাশের ঐ তারার দলে/ চিরদিনই অলস আমি, আছি পড়ে অনন্তকাল এই ধরনীর গাছের তলে।
ভাবছি হৃদয়ের সাড়ে তিন শতাংশ জমিটুকু ডেভলপার্সের কাছে বুঝিয়ে দেব।
ডেভলপার খুঁজতে হবে তাই।
সে-ই বুঝে শুনে বিহিত করবে একটা।
তবে, ডেভলপারকে হতে হবে তুখোড়,
যেমন থাকবে বুদ্ধিমত্তা, ব্যবসায়িক জ্ঞান,
তেমনি থাকবে কঠোরতা, ন্যাকামোর প্রতি ঘৃণা।
তার প্রথম কাজ হবে,
সাফসাফাই।
যত্তসব আবড়জাবড় বিদেয় করতে হবে।
তারপর?
দক্ষিণের বাগানটা পড়বে কাটা।
গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাদা কিংবা নাম না-জানা গাছগুলোকে উপড়ে ফেলবে সে।
বাগান, বাগানের গাছ এবং বেড়াগুলো দুমড়েমুচড়ে পিষে দেবে বুলডোজার।
উত্তরের পুকুরটা হবে ভরাট।
যে পুকুরে ছোট ডিঙি নৌকো আছে,
যে পুকুরের স্বচ্ছজলে ধবল হংস ভাসে,
যে পুকুরে পূর্ণিমার চাঁদটা ছিটকে পড়ে,
সে পুকুরটা ভরাট হবে।
গাদাগাদা মাটি ফেলে পুকুরটা ভরাট হবে।
হৃদয়ের একেবারে শেষপ্রান্তে, নৈর্ঋতে যে ছোট্ট ঘরটা আছে, ওটাও ভাঙা হবে।
কে থাকে?
আরে যে-ই বা থাকুক।
ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বিদেয় করে, ঘরটা ভাঙা হবে।
এরপর?
মূল বাড়িটা।
বহুদিনের যত্নে গড়া, একটু একটু করে করে ঘরটা তোলা।
পুরোনো ইটে, কাঠের জানালা, দরজা দিয়ে, বড় একটা হলরুম আর ছোট্ট ছোট্ট কামরা নিয়ে যে ঘরটা গড়ে উঠেছে বহুদিনে, সে ঘরটাও এক নিমিষে ভেঙে যাবে।
গৃহবাসীরা? আছেই বা ক'জন?
২/৩ জন বা একটু বেশি।
তাদের জন্য অন্য পাড়ায়, চুক্তি করে পাঠিয়ে দেব।
থাকুক তারা বছরখানেক, বা তার একটু বেশি।
এরপর সুযোগ হলে, ইচ্ছে সাধ দুটো থাকলে আসবে ফিরে নতুন ঘরে।
নতুন বাড়ি।
দামী দামী টাইলস আর ইন্টেরিয়র ডিজাইন দিয়ে ডেভলপার গড়বে তুলে।
আধেক আমার আধেক তার।
এই তো রীতি?
এমন কী বা?
হৃদয়খানি দখল করে, সংস্কারের পরে যদি, আধেকও ফেরত মেলে, ক্ষতি কীসে? বরং লাভের।
এই যে এখন ভগ্ন দশা।
এ-ওর আছে ভীষণ পীড়া।
এসব উৎপাত বন্ধ হবে।
ডেভলপার নিজের তাড়ায় নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেবে,
মাঝখানেতে লাভটা আমার।
অবাঞ্ছিতরা রইবে দূরে।
এ-ই ভালো।
ডেভলপার, ডেভলপার, ভালো একজন ডেভলপার চাই।
©somewhere in net ltd.