| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সুব্রত দত্ত
পরিশ্রমকে সঙ্গী করে কত মানুষ উর্ধ্বে গেলো, আকাশের ঐ তারার দলে/ চিরদিনই অলস আমি, আছি পড়ে অনন্তকাল এই ধরনীর গাছের তলে।
আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশ নামক এই রাষ্ট্রে বসবাস করি, ট্যাক্স দেই, আইন মেনে চলি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড করি না- সেহেতু নিহিলিস্ট হয়েও রাষ্ট্রকে এড়িয়ে যেতে পারি না। রাষ্ট্রের কাছে আমার অনেক প্রশ্ন আছে যদিও মানব সভ্যতায় রাষ্ট্র ধারণা কীভাবে এলো? তার পেছনকার ইতিহাস ও রাষ্ট্র গঠনের পক্ষসমূহ নিয়ে টুকটাক জানা আছে তবুও প্রশ্ন আসে। যেহেতু ‘কল্যাণমূলক রাষ্ট্র’ হিসেবেই ‘বাংলাদেশ’ নিজেকে পরিচয় দেয় এবং সে নিজেকে দায়িত্বপূর্ণ ভাবে।
আজ এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের ফল প্রকাশ হলো। শুনলাম ৪৮% ফেল করেছে মোট পরীক্ষার্থীর। প্রায় ৫০ ভাগ। কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থী। এবার এই ব্যর্থদের কী হবে? রাষ্ট্র কী ভেবে রেখেছে এদের জন্য? তাদের এই ব্যর্থতা কি তাদের পড়াশুনার ঘাটতিই শুধু প্রকাশ করে নাকি এর পেছনে আরও কারো ব্যর্থতা রয়েছে? এই ব্যর্থদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিচ্ছে কি? খোঁজ-খবর নিলে জানবেন এই ফেল করার শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই পড়াশুনা থেকে বিদায় নেবে। মেয়েরা বিয়ে করবে, সন্তান জন্ম দিবে, সংসার করবে, কারো কারো সংসার ভালো হবে, কারো কারো সংসার খারাপ হবে। ছেলেরা কেউ কেউ পুনরায় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিবে, বাকিরা চাকরিতে ঢুকবে, কয়েকজন ঘুরেফিরে বেড়াবে। এই সকল শিক্ষার্থীদের পাশ করার অযোগ্যতা কি কেবল তাদের দায়বদ্ধতা?
একইভাবে ভাবেন, সরকার ঘটা করে বুলডোজার দিয়ে রাস্তা থেকে হকার উচ্ছেদ করে, অস্থায়ী দোকানপাট গুড়িয়ে দেয়। আচ্ছা এদের পরবর্তী ব্যবস্থা কী? রাষ্ট্র কি বিকল্প দিচ্ছে?
শহরের রাস্তায় রাস্তায় অটোরিকশা। সব বন্ধ করতে সবাই সোচ্চার। যুক্তি অবশ্যই আছে। এদের বিকল্প পেশা কী হবে? নাকি এরা ডিগ্রিধারী না, তাই রাষ্ট্র এদের দায়িত্ব নেবে না? অটোরিকশা উৎপাদন বন্ধ করা যায় না কেন?
রাষ্ট্র খুবই সুনির্দিষ্ট ছকে চলে। রাষ্ট্রের যে সংজ্ঞা বইয়ের পাতায় লেখা, সে সংজ্ঞা মূর্খদের জন্য। রাষ্ট্র জানে রাষ্ট্রে ব্যর্থ লোকের সংখ্যা বেশি হতে হয়। কারণ যাদের ব্যর্থ বলা হয়, তারা আসলে ব্যর্থ নয়, রাষ্ট্রই ব্যর্থতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেয়।
৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০
সুব্রত দত্ত বলেছেন: রাষ্ট্র জনগণের বাইরে নয় কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করার আসলে কিছু নাই। রাষ্ট্রের যে নিজস্ব সত্তা আছে এবং সে চাইলে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তার উদাহরণ কিন্তু আমরা প্রায়ই পাই।
২|
৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮
সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: সরকারের আধুনিক চিন্তা নেই, সেই গধবাধা পুরানো চিন্তা।
৩|
৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭
রাজীব নুর বলেছেন: আমি আপাতত চোখ এবং কান বন্ধ করে রেখেছি। এমনকি আমি বোবা হয়ে আছি।
৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০৬
সুব্রত দত্ত বলেছেন: সে তো আমি। আর সেটা আপাতত না। আমার দর্শনই বলে চোখ কান খোলা বা বন্ধে আসলে কিছু আসে যায় না। :-)
৪|
৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০২
রাসেল বলেছেন: যারা খারাপ পথে যায়, তাদের দায়িত্ব অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিই নেন।
৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০৬
সুব্রত দত্ত বলেছেন: তা ঠিকই বলেছেন কিন্তু তবু...
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: যেহেতু ‘কল্যাণমূলক রাষ্ট্র’ হিসেবেই ‘বাংলাদেশ’ নিজেকে পরিচয়
দেয় এবং সে নিজেকে দায়িত্বপূর্ণ ভাবে।
...............................................................................................
‘কল্যাণমূলক রাষ্ট্র’ বলতে কি বুঝি বা এর স্বাদ কেমন ?
জানতে হলে আপনাকে, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান বা জার্মান, ফিনল্যান্ড ২/৩ মাস বসবাস করতে হবে ।
টের পাবেন, স্বাধীনতা মানে উলঙ্গ হয়ে রাস্তায় নাচ করা যায়না বা অন্যর পথ চলা বা সম্পদ নষ্ট করা যায়না ।
চাকুরী করলে ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া যায়না , অপরাধ করলে প্রতিবেশী ধরায়ে দেয় ।
আবার অসুস্হ হলে বা সিনিয়র সিটজেন হলে রাষ্ট্র পাশে এসে দাঁড়ায় ।
তাহলে কি আছে আমাদের দেশে ? আমরা রাজনীতির নামে জনগণকে পিটাই,
গুম করি না পারলে জেলে ভরে দেই , কোন অভিযোগ ছাড়াই জেলে আটকে দেই মাসের পর মাস ।
তাই ক্ষিপ্ত জনতা সময় আসলে বা পেলে তারাও আমাদের গাছে ঝুলায়ে দিতে চায় !
নিজকে প্রশ্ন করেন, কেন এই প্রতিহিংসা ???