| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
[ লেখাটা দীর্ঘ বলে এড়িয়ে যাবেন না, প্লীজ যা বলছি, তা ভেবে দেখার অনুরোধ করছি ]
আমরা আসলে কপালপোড়া মুসলমান । আল্লাহ বলেছেন, ২ নম্বর সূরা আল্-বাক্ব’রহ্ এর আয়াত ২০৮-এঃ- “হে মুমিনগণ, তোমরা পূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না । নিশ্চয় শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।”
দেখুন, আমরা শৈশব-কৈশোরে ১লা বৈশাখ নিয়ে আজকাল যা হয়, তা কোনদিন দেখিনি । কি দেখেছি ? এটা ছিল ব্যবসায়িদের “হাল খাতা” উৎসব । ব্যবসায়িরা সম্মিলিতভাবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাজাতেন । যে মানুষরা তাদের প্রতিষ্ঠানের খরিদ্দার, তাদের মধ্যে যারা বাকীতে কেনাকাটা করতেন, তাদের জন্য নতুন “হিসাবের খাতা” খুলতেন । তারা পুরাতন বছরের বকেয়া দেনার টাকা জমা দিয়ে নতুন খাতায় নাম লেখাতেন । ব্যবসায়ি দোকানী ভাই তাদেরকে একটু মিষ্টিমুখ করাতেন । এইতো । তখন দোকানে দোকানে অনেক মানুষের সমাগম হত বিধায় ভাসমান ব্যবসায়িরা পথের দুধারে তাদের ভাসমান দোকান বিছিয়ে বিভিন্ন পণ্য, খাদ্য দ্রব্য, খেলনা সামগ্রি বিক্রি করতেন । বলা যায়, একটা হাট বা মেলার আয়োজন হত কোন রকম পূর্ব পরিকল্পণা ছাড়াই । মানুষ তখন এই হাল খাতা উৎসবকে কেন্দ্র করে জাষ্ট এতটুকু সামাজিক মেল বন্ধনের আয়োজন করত । কোন পদযাত্র, শোভা যাত্রার নামে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিলই না ।
তাহলে তথাকথিত নববর্ষ উদযাপন নামে “ আনন্দ শোভা যাত্রা” কোথা থেকে আবিষ্কার হলো ? তার আবার নাম পরিবর্তন করে ”মংগল শোভাযাত্রা”ই বা হলো কেন ? কেন করা হয়েছিল সে পরিবর্তন?
প্রথমে এই বেকুব জাতি বুঝতে না পারলেও এক পর্যায়ে ন্যাচারালীই প্রকাশ পেয়ে গেল যে, এই নামটা পরিবর্তন করার পেছনে কাজ করেছে মূলতঃ চারুকলার মাধ্যমে উদীচী-ছায়ানট নামক ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনবাদীদের একটা গ্রুপ । তাদের এজেন্ডাঃ এই দেশের আবেগ প্রবন মুসলমানদের মধ্যে এক প্রকার উত্তেজনা ছড়িয়ে এখানে সো-কল্ড “ইসলামী জংগীবাদী শক্তির উত্থান” এর গল্প -সিনেমা-নাটক বানিয়ে পাশ্চিমা দুনিয়ার War on Terror নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্রের ”মুসলিম শক্তির বিনাস” নামক কর্মসূচির সাথে একাত্ম ঘোষণা করে বাংলাদেশে তথা কথিত “জংগীবাদী শীক্তর উত্থান” নামক গল্পের মাধ্যমে এই দেশের আলেম সমাজ, তথা ইসলামী আদর্শে গড়ে উঠা মানুষদের বিনাশ করে মোনাফেক সরকারগুলোর মাধ্যমে ভারতের কৃতদাস সরকারকে ক্ষমতায় বসার সুযোগ করে দেয়া । যার মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভার্সন ছিল হাসিনার টানা ১৬ বছরের ফেরআউনী শাসন ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার কৌশল ।
এটা করার ধৃষ্টতা তারা পেল কিভাবে ? এই দেশের ৫৪ বছরের সকল মোনাফেক সরকার প্রধানদের মোনাফেকীর কারণে । তারা বাংলাদেশের চিরাচরিত “হালখাতা” উৎসবকে রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক কর্মসূচীর মোড়কে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের কালচার এই জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার কারণে ভারতের আগ্রাসী শক্তির এই ধৃষ্টতা প্রকাশ্য রূপ নিয়ে এই দেশকে ভারতের একটা কৃতদাস রাষ্ট্রে পরিণত করেছে । প্রমাণ ? বিগত ১৬ বছর ভারতের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপে লেডি ফিরআউন দেশটার কি সর্বনাশ করেছে, তা সবাই জানেন ।
লেডি ফিরআউনের পতনের পর এই মোনাফেক জাতির উচিৎ ছিল এই দিবসকে “হালখাতা” উৎসব হিসেবে ব্যবসায়িদের সাংগঠণিক উৎসব হিসেবে পালন করবে এই মর্মে আদেশ জারী করে এটাকে রাষ্ট্রীয় উৎসব হিসেবে বাতিল করা । কিন্তু মোনাফেক ইউনুস সরকার সেই কাজ না করে এটা আবার আগের ফরমেটে ফিরিয়ে নিয়ে উদীচী গংদের বিরুদ্ধে গিয়ে এমন একটা ভাব করলেন যে, এই পরিবর্তন জুলাই চেতনার ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেন ।
ভোট চুরি করে নিরংকুশ ক্ষমতা পাওয়া এই সরকারের মন্ত্রী নিতাই বাবু তার জীবনের একেবারে পড়ন্ত বেলায় এই রাষ্ট্রের সবচে’ বড় গাদ্দার এরশাদ সরকারের কেবিনেটের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নব্য ভারতীয় দালাল বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব পেয়ে বেসামাল হয়ে গেলেন । তিনি আস্ফালন করে উদীচী গংদের খুশী করলেন । মানে ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে হাটলেন এবং আবার সেই বস্তাপচা War on Terror ফর্মুলার ”মংগল শোভাযাত্রা” পালন হবে বলে ঘোষণা দিলেন । ওদিকে জুলাই চেতনার প্রথম ধাক্কায় পড়ে পিঠ বাঁচাতে গিয়ে বললেন, ”মংগল শোভাযাত্রা”ও যা, “ আনন্দ শোভা যাত্রা“ও তাই (?) । এই কথা বলে চালাতে চেয়ে জুলাই চেতনার দাবীদারদের সাংস্কৃতিক চেতনায় আবার এমন খোঁচা দিলেন যে, মৌচাক ভেংগে ফেলার উপক্রম করলেন। সেই বিষের জ্বালা থেকে বাঁঁচার জন্য এখন বলছেন “ বৈশাখী শোভাযাত্রা” হবে । এতে আবার উদীচীদের পুচ্ছে আগুন ধরেছে ।
এর কোন দরকার ছিল কি ? ফালতু একটা বিষয় নিয়ে এই তামাশা করার আসল উদ্দেশ্য কি ? আসল উদ্দেশ্য আগ্রাসনবাদী শক্তিকে বেকুব জাতির ঘাড়ে পা রেখে আবার একটু শয়তানের ভুমিকায় যাওয়া লাগবেই, তাই । শয়তান যেমন দেয়ালে একটু গুড় লাগিয়ে দিয়ে মানুষকে কিভাবে তার গোলাম বানিয়ে ধ্বংস করে ফেলে- সেটাই করতে চাইছে । শয়তান দেয়ালে একটুখানি গুড় লাগিয়ে মানুষের মাঝে কিভাবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়, এরকম রূপক গল্প হয়তো অনেকেই জানেন । যারা জানেন না, তারা নেট দুনিয়ায় সার্চ করে দেখে নিতে পারেন ।
আমি সাবধান করছি আমাদের মুসলিম পরিবারগুলোকে । যারা সত্যিকার মুসলিম বলে দাবী করেন, দয়া করে আপনারা নিজেরা এবং আপনাদের সন্তানদের এই শোভাযাত্র বিষয়ক ফালতু কর্মসূচি থেকে দূরে থাকুন এবং সবাইকে দূরে রাখুন । এই দেশের অধিকাংশ মানুষ যদি নিরর্থক কাজের সাথে সম্পৃক্ত না হন, তাহলে শয়তানের গুড় লাগিয়ে ঝামেলা পাকানোর প্ল্যান নস্যাৎ হতে বাধ্য । এটা এই রাষ্ট্র করছে, করুকগে । আপনার আমার কি? দেখুন, আমাদের বুঝতে হবে , উপরে যে আয়াতের কথা বলেছি, তার গভীরতা অনুধাবন করা ।
উপরে বর্ণিত ঐ আয়াতে শুধু মাত্র মু’মিন ( অর্থাৎ, যারা ঈমান এনে মুসলিম হয়েছে ) তাদের জন্য আল্লাহ কেন পৃথকভাবে এভাবে বললেন ? কারণ আল্লাহ জানেন, মানুষের চরিত্র এমন । যুগে যুগে , কালে কালে যত মানুষ ঈমান এনে মুসলিম হয়েছিল, সেই তাদের মধ্যেই একদল শক্তিধর মানুষ, যারা দুনিয়াতে নিজেদের ইচ্ছেমত মন গড়া আইন-কানুন, বিদ্’আত, শিরকী নিয়ম কানুন তৈরী করে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে, দুনিয়ার লোভ, লালসা, ক্ষমতার মোহে আল্লাহর নাফরমানী করেছে, তাদের সেই অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ সেই জাতিকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করে কতিপয় ঈমানদারদের নিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তুলেছেন ।
এভাবেই আজ আমরা আখেরী জামানার উম্মত । কিন্তু বড়ই পরিতাপেরর বিষয় হচ্ছে, সেই মুসলিম এখন কোথায় ? এখনতো পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম দেশের চরিত্র দেখলে বোঝা যায়, তারা কেবল মুসলিম নামধারী বিশাল এক মোনাফেক জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করেছে । সারা পৃথিবীর মুসলমানদের চরিত্র যদি কুরআন এবং হাদীস দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে আমরা অনেকে নিজেরাই বুঝতে পারব, আমরা আসলে আর “মুসলিম” আছি কি না? আর একারণেই মৃণাল কান্তি দাস নির্বাচনী মিছিলি নিয়ে যাবার সময় যখন তাকে তার এক কর্মী “সামনে মসজিদে নামায চলছে, মিছিল থামান” বলার কারণে খেপে গিয়ে বলেছিলেন, আরে রাখ ? নামায চো--য়(?) । তার মত লোকেরা এই কথা বলার সাহস দেখিয়েছে এই কারণে আমাদের দেশের তথাকথিত ৯২% মুসলমানের মধ্যে ৯৯% মোনাফে। কথা খুব তিতে লাগবে । কিন্তু এটাই বাস্তব । আজকে আমাদের নিয়ে ভারত যে খেলা করে, তার মূল কারণ এটাই । তারা জানে, এই দেশের মুসলমানরা ৯৯% মোনাফেক ।
অতএব যে যা করে করুক না ? যারা প্রকৃত মুসলিম বলে দাবী করেন, যে কর্মসূচি ইসলামে নেই, যা রাসুল(সঃ) কোনদিন করেরননাই, তার সাহাবীরা কেউ করেননাই । পরবর্তী যুগের আলেম সমাজ কেউই কোন কালে কোন দিবস উদযাপন করেন নাই, কাউকে করতেও বলেন নাই । তো ? আমরা কেন সেই অহেতুক কাজে নিজেকে সামিল করব ?
জাহান্নামের আগুন থেকে নিচে বাঁচুন, নিজের পরিবারকে বাঁচান ।
©somewhere in net ltd.