নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিরব

গহীনে রক্তক্ষরণ

ধার্মিক, সৎ, যোগ্য এবং মেধাবী তরুনদের আমি ছাত্র

গহীনে রক্তক্ষরণ › বিস্তারিত পোস্টঃ

শ্লোগানঃ ইসলামের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো ! কিন্তু বাস্তবে ঘরে ঘরে জ্বলছে না কেন ?

২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪১

আমি আমার ছাত্রজীবন থেকেই শুনে আসছি, একটা শ্লোগানঃ ইসলামের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো ! শুনতে শুনতে বুড়ো হয়ে গেলাম । আর বৃদ্ধ বয়সে এসে বুঝতে পারলাম ৯২% মুসলমানের এই দেশে এত চমৎকার, বিজ্ঞানময়, সু-সভ্যতার আলো কেন আমাদের ঘরে ঘরে আজো জ্বলছে না ? কেন কিছুটা জ্বললেও তার জ্যোতি ছড়িয়ে পড়ছে না একটা পরিবার নামক সংগঠণের সকল ইউনিটে ? চার দেয়ালের বাইরে ? সমাজে ? রাষ্ট্রেতো অনেক---- দূর কি বাত !!!

কারণ একটাই । আমরা প্রায় সবাই ব্যক্তিগতভাবে, পারিবারিকভাবে এবং সামাজিকভাবে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা কুরআন এবং রাসুল(সঃ) এর হাদীস থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছি। ইসলাম আমাদের ঘরে ঘরে আছে, শুধুমাত্র কিছু কিছু আনুষ্ঠানিকতায়, ইসলামী সামাজিকতায়ঃ যেমন বিয়ে-সাদী ( তাও আবার অসংখ্য পরিবারে অনেকটাই ইসলামী সভ্যতার ধারেকাছেও নেই ), জানাজা ইত্যাদি কর্মসূচিতে ।

অথচ ইসলাম থাকার কথা আমার প্রতিটি কথায়, কাজে, আচরণে, ব্যবসায়ে, চাকুরিতে, প্রতিবেশীর সাথে আচরণে, আত্মীয়-স্বজনদের হক্ব আদায়ে, চেনা-অচেনা, ছোট-বড়, গরীব-ধনি সবাইকে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে, পাঁচওয়াক্ত স’লাতে সকল মুসলমানের পাবন্দী থাকার মাধ্যমে ( ব্যতিক্রমী ডিউটিরত, অসুস্থ্য, সফরে থাকা ব্যক্তি ব্যতিত ), স’লাতে আল্লাহর সংগে কি কি কথা বলি- তা স’লাত থেকে বেরিয়ে গিয়ে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের প্রতিটি ইউনিটে যার যেখানে দায়িত্ব রয়েছে- সেই সকল স্তরে স’লাতের অংগীকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে । বাস্তবে সেই ইসলাম এই দেশে আছে কোথাও ( কদাচ ব্যতিক্রম ব্যতিত) ?

আসুন, বুকে হাত দিয়ে বলি, আমরা কি ইসলামকে আমার ব্যক্তিজীবনে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছি ? যেভাবে কুরআন এবং হদীস বলেছে ?

যদি তাই না হয়ে থাকে, তাহলে কি করে ভাবছি আমরা, শুধু শ্লোগানের মাধ্যমে মানুষ উজ্জীবিত হয়ে “ইসলামে আলো ঘরে ঘরে জ্বালিয়ে আলোকিত করবে আমাদের সকল ঘর, সমাজ, রাষ্ট্রকে ?

একজন ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তার একটা ব্যক্তিগত মেসেজ লিক হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। দেখুন, সে কি বলেছিল তার এক সহকর্মীকে ?

“ চিন্তা কর না, যতকাল মুসলানরা তাদের জুম’আর জামাতে যে পরিমাণ মানুষ ভিড় করে, ঐ পরিমাণ মানুষ ফজরের জামাতে ভিড় না করবে, ততকাল আমরা ওদের উপর বিজয়ী থাকব এবং মুসলিম জাতিকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন করা আমাদের জন্য সহজ হবে।” ভাবতে পারেন, কী চমৎকার ক্যালকুলেশন করেছিলেন ঐ ইহুদী সামরিক অফিসার ?? বাস্তবে তাই দেখছি কি না আমরা ?

আমরা তথাকথিত ৯২% মুসলমান কি এখনো ঘুমিয়ে কাটাব ? ভাবুনতো, ভারত বার বার এই দেশে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সফল হয় কি জন্য ? আমরা ইসলামে নেই বলে । কেন ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও চলাকালীন সময়ে মসজিদের কাছে মিছিল নিয়ে গিয়ে নামাজ নিয়ে কটূক্তি ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করার মত ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের তৎকালীন এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস ?

কারণ আমরা সেই মুসলমান নেই বলে ( ব্যতিক্রম ব্যতিত) ।

অতএব, এই দেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা ? যা কিনা সর্বকালের ,সর্বযুগের সবচেয়ে আধুনিক, সু-সভ্য একটা ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত, তা কি আমাদের মত ভেজাল চরিত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব ? হ্যা, সম্ভব । কেননা আল্লাহ শিরক ব্যতিত সকল অপরাধ ক্ষমা করে আমাদের সাহায্য করতে পারেন । আর সেই সাহায্য পাওয়া তখনই সম্ভব, যখন এই দেশের ৯২% মুসলমানের মধ্যে কমপক্ষে ৬০% মুসলমানের ব্যক্তিজীবনে ইসলাম সেইভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, যেভাবে কুরআনে আল্লাহ প্রতিষ্ঠিত করতে হুকুম করেছেন , যেভাবে রাসুল(সঃ) প্রতিষ্ঠিত করে প্রমাণ করেছিলেন , অবিকল সেভাবেই । নয়তো গোজা মিল দিয়ে আর যাই হোক, ঐ আলো কোনদিনই ব্যক্তি, পরিবারে জ্বলবে না । আর ব্যক্তি পরিবারে না জ্বললে সমাজ, রাষ্ট্রেও জ্বলবে না । হিসাব ক্লিয়ার ? আসুন তওবা করে অপরাধ স্বীকার করে আল্লাহর সাহায্য চাই, নিজেকে গঠণ করি, পরিবার গঠণ করি, তাহলে আল্লাহ চাইলে সমাজ গঠিত হবে, রাষ্ট্র গঠিত হবে। নয়তো, শ্লোগানেই কেবল থাকবে, বাস্তবে ফলবে না ।

আল্লাহ হাফেজ ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.