নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সৌরভ দাস ১৯৯৫

বামপন্থী রাজনীতি করি, সমাজতন্ত্র ছাড়া কোন সমাজ শান্তি পাবে না। এটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আর ভালবাসি সাহিত্য। অনেক অনেক। লেখালেখি না করে থাকতে পারি না। নিজেকে মূর্খ মনে হয়।

সৌরভ দাস ১৯৯৫ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইতিহাসের একজন শত্রু..

১১ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:৫৫

চীনের এক অদ্ভুত শাসকের কথা বলছি এবার । সেই শাসকের নাম ছিল কিন শি হুয়াং। ইতালির যখন হানিবল অবস্থান করছিলেন ঠিক সেই সময়টাই চীন শাসন করছিলেন কিন শি হুয়াং। কিন শি হুয়াং ইতিহাসকে খুব ঘৃণা করতেন। খ্রিষ্টপূর্ব ২১৩ অব্দে তিনি চীনের ইতিহাস সংক্রান্ত সকল বই-পূস্তক-দলির দস্তাবেজ পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। গানের বই তো দূরের কথা কনফুসিয়াস, তাওবাদের বইগুলোর ক্ষেত্রেও এরকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বই বলতে কৃষি সক্রান্ত কিছু বই থাকবে। স্রেফ এটুকুই। এছাড়া আর কোন প্রকার বই কারো কাছে পাওয়া গেলে সাথে সাথেই শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। ফলে চীনের মানুষজন ভয়ে তাদের ইতিহাসকে আগুনের মধ্যে বিসর্জন দিতে থাকে।
এখানে কিন শি হুয়াং এর একটু পরিচয় দিয়ে নিই। কিন শি হুয়াং চীন (chin) প্রদেশের এক রাজার পরিবারে জন্মগ্রহন করেছিলেন। খুব বড় রাজা বলতে বুঝায় সেরকম কিছু তিনি ছিলেন না। একটা প্রদেশের ছোট্ট একটা অঞ্চল তার বাবার নিয়ন্ত্রনে ছিল কেবল। সেই পরিবারেই কিন শি হুয়াং বেড়ে উঠেছিলেন। এখানে উল্লেখ্য এই চীন (chin)প্রদেশ থেকে চীন( china) নামটি আসে সে নামে আমরা এখন দেশটিকে চিনি।

স্বভাতই প্রশ্ন জাগতে পারে কিন শি হুয়াং এর মাথায় এরকম উদ্ভট শখ চাপলে কেন? আসলে কিন শি হুয়াং পুরো চীনকে নতুন করে তৈরী করতে বলেছিলেন। তিনি পুরো চীন জুড়ে প্রচুর পরিমানে উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। অনেক রাস্তাঘাট নির্মান করেছিলেন। তার আমলে চীনের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয় । চীনের বৃহৎ প্রাচীর বলতে যেটাকে আমরা চিনি সেটা তার আমলেই নির্মিত হয়েছিল। এটি চীনকে অনেক বহিঃশত্রুর আক্রমন থেকে রক্ষা করে। কিন্তু ইতিহাসের প্রতি ঘৃণা থেকে তাকে কেউ চুল পরিমাণও সরাতে পারে নি।

তবে কিন শি হুয়াং খুব বেশিদিন ক্ষমতায় ছিলেন না। এক পর্যায়ে হান পরিবার খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং কিন শি হুয়াংকে গদি ছাড়তে হয়। হান পরিবার অবশ্য কিন শি হুয়াং এর মত ইতিহাসকে ঘৃণা করত না। তার ইতিহাস পছন্দ করত। শুধু পছন্দ নয়, কনফুসিয়াসেরও দারুণ ভক্ত ছিল তারা। ক্ষমতায় বসে হান পরিবার এক এক করে তাদের ইতিহাসের বই পুস্তকগুলো পুনরায় খুঁজতে শুরু করে। যদিও কিন শি হুয়াং এর কড়া নির্দেশনা ছিল ইতিহাস পুড়িয়ে ফেলার। কিন্তু খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল অনেক ইতিহাস পাগল চীনা তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই পূস্তক আড়াল করে রেখেছিলেন। ফলে এক বিশাল ধ্বংসস্তুপে পড়তে পড়তেও রক্ষা পেয়ে যায় চীনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস।

চীন তৎকালীন পৃথিবীর এমন একটি দেশ ছিল যেটি তার ২০০ বছরের ইতিহাস কোন অভিজাত কিংবা কোন সেনা দ্বারা শাসিত হয়নি। তাদের শাসন পালন করত শিক্ষিত মানুষজন। একটি মানুষ কোথেকে আসল সেটি তাদের কাছে বড় কোন বিয়য় ছিল না। সে ধনী না গরীব তাতেও তাদের কিছু যেত আসত না। কেউ যদি তার নিয়োগ পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করত তাহলেই সে অফিসিয়াল পদে নিয়োগ পেত। যার রেজাল্ট সব থেকে ভাল হত সে তত ভাল পদে নিয়োগ পেত। এভাবেই তৎকালীন চীনের প্রশাসন চলত। যে পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগ দেখা হত সেটি খুব কঠিন একটি পরীক্ষা ছিল। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে অনেক কিছু জেনে শুনে আসতে হত। চীনের ইতিহাস, আইন কানুন, কনফুসীয় মতবাদ, তাওবাদ আরো কত কী!
শেষমেষ যেটা দাঁড়ালো তা হল কিন শি হুয়াঙ ইতিহাস ধ্বংস করতে পারেন নি। ইতিহাস ধ্বংস করা কোন সমাধান নয়। সবার ইতিহাস জানা দরকার। ইতিহাস ধ্বংস করা আর জ্ঞানকে হত্যা করার মধ্যে কোন তফাৎ নেই।

লেখক
সৌরভ দাস
সভাপতি
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাকৃবি শাখা

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:০৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


সমাজতন্ত্রের সংজ্ঞ লিখুন!

২| ১২ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:১২

শামচুল হক বলেছেন: পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।

৩| ১২ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:০৮

রাজীব নুর বলেছেন: হা হা হা=----
বেশ মজা পেলাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.