| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমাকে যাচাই করার পূর্বে নিজেকে যাচাই করুন ।

বর্তমানে পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর । পৃথিবীতে প্রথম প্রাণ প্রায় ৩৭০ থেকে ৪৮০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল । যা ছিল একটি মাইক্রোফসিল প্রাক-ঐতিহাসিক ব্যাকটেরিয়া । আর সেটা কানাডার কুইবেক অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছিল ।
পৃথিবীর এই সময় দীর্ঘ যাত্রায় প্রায় ২ লাখ বছর আগে আধুনিক মানুষ পৃথিবীতে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১,১৭০ কোটি (১১৭ বিলিয়ন) মানুষ জন্মগ্রহণ করেছে । মানব ইতিহাসে এ পর্যন্ত যত মানুষ জন্মেছে, তাঁর প্রায় ৭% মানুষ বর্তমানে এই মুহূর্তে পৃথিবীতে বেঁচে আছে ।
পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা থেকে এ পর্যন্ত আনুমানিক ৫০০ কোটি প্রজাতি (উদ্ভিদ ও প্রাণী মিলিয়ে) এসেছে বলে ধারণা করা হয় । এ পর্যন্ত যত প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ এসেছে, তাঁর ৯৯.৯%-এরও বেশি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে । বর্তমানে পৃথিবীর ইতিহাসের মাত্র ০.১% প্রজাতির প্রতিনিধিত্ব করে ।
২ লক্ষ বছরে ১১৭ বিলিয়ন মানুষ পৃথিবীতে এসেছে, সংখ্যাটিকে যদি এভাবে বলি যে প্রতি বর্গমিটারে যদি ৪ জন মানুষ দাঁড়ায় তাহলে লেবানন কিংবা বেলজিয়ামের মতো দেশ ভরে যাবে । আর বাংলাদেশ অনুযায়ী ওই অনুপাতে হিসেব করলে ৫ ভাগের এক ভাগ জায়গা লাগবে ।
এত বিপুল সংখ্যক মানুষ পৃথিবীতে এসেছে এবং পৃথিবী ছেড়ে চলেও গেছে (৭% বাদ দিয়ে) । এত এত মানুষের ভীড়ে মহান আল্লাহ একজন মানুষকে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করেছেন । যিনি ছাড়া এই পৃথিবী অন্ধকারে ডু্বে যেত । আর তিনি হলে বিশ্বনবী, নবীদের নবী জনাবে মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহিস ওয়া সালাম) ।
পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে সম্মানিত ও সফল মহা মানব, মহান নেতা ১২-ই রবিউল আউয়াল তারিখে সুবহে সাদিকের আগ মুহূর্তে দুনিয়ার বুকে আসেন । ইসলামি ইতিহাস (সিরাত) ও হাদিসের আলোকে মহানবী (সাঃ)-এর শুভ জন্মের মুহূর্তে এক অলৌকিক ও জ্যোতির্ময় পরিবেশের সৃষ্টি হয় । তাঁর মাতা হযরত আমিনা (রাঃ) থেকে নির্গত অপার্থিব আলোয় দূরবর্তী সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে ওঠে এবং শয়তান ও জিনদের আসমানে ওঠার পথ বন্ধ হয়ে যায় । একই সাথে পারস্যের কিসরার প্রাসাদের ১৪টি মিনার ধসে পড়ে । অগ্নি উপাসকদের দীর্ঘ ১,০০০ বছরের পুরনো অগ্নিকুণ্ড হঠাৎ নিভে যায় এবং ‘সাওয়া’ হ্রদের পানি এক রাতেই শুকিয়ে যায় । এমনকি পবিত্র কাবাঘরের ভেতরে থাকা রক্ষিত মূর্তিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে গিয়ে তাওহীদের বিজয়ের বার্তা বহন করে।
যিনি এমন এক সময়ে আগমন করেছিলেন, যখন মানবতা ডুবতে বসেছিল চরম অজ্ঞতা ও অন্ধকারের অতল গহ্বরে । সেই মহানবী (সাঃ)-এর আদর্শ, ন্যায়বিচার ও হিদায়াতের আলোই পরবর্তী সময়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন বিশ্বকে আলোকিত করেছিল ।
পৃথিবীর কোটি কোটি বছরের ইতিহাসে ৫০০ কোটি প্রজাতির বিলুপ্তি কিংবা ১১৭ বিলিয়ন মানুষের আনাগোনার মাঝে এই অলৌকিক আলামতগুলো একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়, আল্লাহ তা’আলা এই কায়েনাতকে এক চূড়ান্ত সত্যের দিকে পরিচালিত করছেন । আর সেই সত্য ও হেদায়েতের মূর্ত প্রতীক হিসেবেই ধরণীতে পদার্পণ ঘটেছিল সাইয়্যিদুল মুরসালীন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর । যে আলো দিয়ে তাঁর জন্মের সূচনা হয়েছিল, তা আজও মানবজাতির নৈতিক ও আত্মিক শান্তির একমাত্র পথপ্রদর্শক ।
মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাঁর দেখানো সুন্নাহ ও সুপথ আঁকড়ে ধরার তৌফিক দান করুন । আমিন । ছুম্মা আমিন ।
সাব্বির আহমেদ সাকিল
১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | বুধবার | ২৬ আগস্ট ২০২৬ ইং | নীলফামারী
#রাসূলুল্লাহ_সাঃ
#মিলাদুন্নবী
©somewhere in net ltd.