নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজের মতামত প্রকাশ না করাই অসততা - দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

লিখতে পারি না, তাই চুপচাপ থাকি

আমি মেসি বলছি

একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার, সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহঙ্কার

আমি মেসি বলছি › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফুটবল ও বিশ্বকাপ হাবিজাবি (পর্ব-১)

০৯ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫৬

বিশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নামতে আর মাত্র তিনদিন বাকি। এর আগে আরো উনিশবার পর্দা নেমেছিলো জগৎবিখ্যাত এ খেলার, এবারে বসবে এর বিশতম আসর। শৈল্পিক ফুটবলের তীর্থভূমি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে আয়োজিত হচ্ছে ফুটবলের মহারণ



আজকে আমরা যে ফুটবল দেখছি, তার উৎপত্তি কোথায়? তা কি শুরু থেকেই এভাবে খেলা হতো? কোথায় আজকের এই খেলার নিয়মকানুন তৈরি হয়েছে? কারা চিন্তা করেছিলো ১১ জন প্লেয়ার খেলবে প্রতি দলে? এ সকল প্রশ্ন আমাদের সকলের মনে। আমরা আজকের যে ফুটবল দেখছি তা একদিনে এক জায়গায় তৈরি হয় নি, এর রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস।



প্রাচীন গ্রীস ও রোমে বল দিয়ে অনেক খেলা হতো, যার কয়েকটি পা দিয়ে খেলার কথাও শোনা যায়। রোমান একটি খেলা নাম 'হার্পাস্টাম' (Harpastum) যার উৎপত্তি গ্রীসের একটি দলগত খেলা নাম 'এপিস্কাইরস' (Episkyros),দেখতে আজকের অনেকটা রাগবি খেলার মত ছিলো, যাকে ফুটবলের আদিরূপ হিসেবে ধরা হয়



ফুটবলের প্রথম পা দিয়ে খেলার প্রথম লিখিত ইতিহাস পাওয়া যায় খীস্টপুর্ব তৃতীয় শতকে চীনের হান রাজবংশের সময়। তখন সেনাবাহিনীতে 'কুজু'(Cuju) নামে একটি খেলা হত, যাতে চামড়ার তৈরি একটি বলকে সিক্লের তৈরি একটি কাপড়ের গর্তের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করাতে হত, যার দুইপাশে দুটি লম্ব লাঠি ছিলো। ঐতিহাসিক লিও য্যু'র বলেন, প্রত্যেক দলে ছয়জন করে খেলোয়ার ছিলো, সাথে ছিলো একজন রেফারি ও একজন সহকারী। মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মানা হতো। খেলোয়ারা তাদের মাথা, বুক, পিছনের অংশ ব্যবহার করত বলকে বিপরীত দলের আয়তাকার পোস্টের দিকে নিয়ে যেত এবং প্রতিপক্ষরা তাতে বাধা দিতো, বলে হাত লাগানোর কোন নিয়ম ছিলো না। ফিফা 'কুজু'কে ফুটবলের সবচেয়ে প্রাথমিক রূপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।



মধ্যযুগে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্কুল, কলেজে ফুটবল খেলা জনপ্রিয় হতে থাকে,কিন্তু কোন নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় একেক স্কুল, কলেজ একেক নিয়মে খেলত। ফলে, যখন তারা একে অপরের বিপক্ষে খেলত তখন নানান সমস্যা দেখা দিতো। ফুটবল জনপ্রিয় হলে, প্রচুর মানুষ খেলা দেখতে আসত মাঠে, এতে করে মাঠের আশেপাশে প্রচুর শব্দের সৃষ্টি হতো এবং খেলার মাঝে হাতাহাতির ঘটনায় অনেক ক্ষয় ক্ষতি হতো দেখে রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ড ১৩১৪ সালের ১৩ এপ্রিল লন্ডনে ফুটবল খেলা নিষিদ্ধ করেন। তিনি বলেন, বল খেলার কারণে শহরে প্রচুর গোলমাল হচ্ছে, এতে করে ঈশ্বর যে শয়তানকে নিষিদ্ধ করেছেন, তা আবার জেগে উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে যদি কেউ এ খেলা খেলে তাকে বন্দী করে জেলে নেয়া হবে। চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত আরো প্রায় ত্রিশবারের মত ফুটবল নিষিদ্ধ করা হয়।



একই সময়ে ইউরোপের আরো অনেক দেশে ফুটবল নিষিদ্ধ করা হয়। স্কটল্যান্ডর রাজা প্রথম জেমস ১৪১৪ খিস্টাব্দে ফুটবল নিষিদ্ধ করেন যা ১৯০৬ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিলো সেখানে। এছাড়াও ফ্রান্সের রাজা পঞ্চম ফিলিপস ও পঞ্চম চার্লস ফুটবলের সদৃশ এক খেলা নাম 'লা সোলে' ১৩১৯ ও ১৩৬৯ সালে দু'দফায় নিষিদ্ধ করেন।



এভাবেই নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে ফুটবল চলতে থাকে তার আপন পথে। (চলবে)

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৭

উদাস কিশোর বলেছেন: কিছু কিছু জানা আছে । নতুন কিছু জেনে ভালই লাগছে । বাকি পর্বের অপেক্ষায় ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.