| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সালমান মাহফুজ
সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা সেই কৈশোর থেকেই । মাঝে মাঝে লিখতেও চেষ্টা করি । যেই সাহিত্য আমাকে ধরেছে, সেই সিলেবাস আমাকে দূরে সরিয়ে দিছে । সুতরাং একাডেমিক কন্ডিশন চরম বাজে । প্রচণ্ড অলস এবং অসামাজিক । নিজের কাজের প্রতি চরম বিশ্বাসহীনতা । মাঝে মাঝে সবকিছুকেই অনর্থক ফাও ফাও মনে হয় । এমনকি বেঁচে থাকাটাও । তবুও বেঁচে আছি । কেন ? জানি না । শুধু জানি, কিছু একটা করতে হবে । কী সেটা ? তাও জানি না । মানবজন্মটাকে এভাবে বৃথা চলতে দেয়া যায় না, এই ভেবেই বোধোহয় আরেকটু বাঁচবার লোভ হয় ।
তখন ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি । বই পড়ার নেশাটা ভালো জমে উঠেছে । যেখানে যা পাই গোগ্রাসে গিলি । বুঝি না বুঝি গিলতে থাকি । কাটা তো আর নয় যে গলায় বিঁধবে ।
হাতে কিছু টাকা জমলে ছুটে যাই বইয়ের দোকানে । সেলফে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি । নামাই । পাল্টা উল্টাই । গন্ধ শুকি । কিন্তু যে পরিমান টাকা থাকত তাতে ৯০ ভাগ পছন্দের বই-ই কিনতে পারতাম না । কিন্তু বইয়ের স্পর্শের মধ্যে আলাদা একটা রোমাঞ্চ আছে ! এটা টের পেতাম ।
যাই হোক । আমার শহরতলীর যে দোকান থেকে বই নিতাম, সেখানে সব টাইপের বই-ই পাওয়া যেত । ধর্মগ্রন্থ-সাহিত্য-চটি সব । তবে সবচে যে লেখকের বই বেশি চোখে পড়ত তার নাম কাসেম বিন আবু বাকার ।
বুঝতাম বাজারে ইনার চাহিদাই বেশি । কিন্তু কখনো কেনা হয়ে ওঠে নি ।
তবে কালেক্ট করেছিলাম । আমার বন্ধু সজীবের কাছ থেকে । বেশ কয়েকটা । বেশ ঝাঁঝালো রসালো সব শিরোনাম । ‘ফুটন্ত গোলাপ’, ‘পাহাড়ি ললনা’, ‘প্রেম যেন এক সোনার হরিণ’ ‘বাসর রাত’ ইত্যাদি ইত্যাদি । বুঝতেই পারছেন, নিষিদ্ধ গন্ধটা ওই বয়সে ছেলেদের খুব টানে ।
পড়তে বসলাম । পড়তে গিয়ে পুরাই হতাশ । ধর্ম-হাদিস-কোরান-প্রেম-কাম-পরকীয়া সব একাকার হয়ে যাচ্ছে । খালি পাতা উল্টাচ্ছি । কিন্তু পাতার মধ্যে যে ‘সাহিত্যের খেলা’ বলে কিছু একটা হচ্ছে তা টের পেলাম না । ক্যামনে ইনি এত জনপ্রিয়তা পেলেন !
ততদিনে আমার ‘ চাঁদের পাহাড়, ‘বড়দিদি’, ‘দেবদাস’, এমনকি তারাশঙ্করের ‘কবি’ ও পড়া হয়ে গেছে । সুতরাং ওই ঝাঁঝালো রসালো ব্যাপারটা আমাকে দ্বিতীয়বার টানল না !
আজ দেখছি ওনাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে পাঠকমহলে । কারণ একটাই ওনার বাজার চাহিদা । বেশি কপি বিক্রি ।
আবার কেউ কেউ দেখছি ওনার বইয়ের বস্তা নিয়ে সাহিত্যের দুয়ারে ঠকঠক করে দরজা নাড়াচ্ছে । হাজার হাজার কপি বিক্রি হচ্ছে । পাঠককে নাড়া দিচ্ছে । নড়তে নড়তে পাঠকের এমন অবস্থা যে ভাইঙ্গা-চুইরা খান খান হয়ে যাচ্ছে । হুমায়ূন জায়গা পাইলে কাসেম কী দোষ করল !
হ্যাঁ, হুমায়ূনের বাজার-চাহিদা ছিল । এটা সত্য । কিন্তু হুমায়ূনের লেখায় ‘সাহিত্যের খেলা’ বলে কিছু ছিল । যা কাসেমের লেখায় আমি পাই নি । আর লেখক জনপ্রিয়তার বিচারে যদি সাহিত্যের মান ধরতে যান, তয়লে রসময়গুপ্তকে কেন বাদ রাখলেন । অফলাইন জেনারেশনের এমন কাউকে পাওয়া যাবে না, যে বালিশের নীচে লুকিয়ে তার চটির আদিরস আস্বাদন করে নাই !
লিখলেই তো লেখক হওয়া যায় । কিন্তু সাহিত্যিক হতে হলে ভিন্ন একটা কিছু থাকা লাগে । খালি বাজার বুঝলেই চলে না !
২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৩৪
সালমান মাহফুজ বলেছেন: কী বলেন ! উনার বই ৫ লাখ কপি বিক্রি হয় !
গ্রাম-শহরতলীর মানুষের কাছে উনি ব্যাপক মার্কেট পাইছে !
২|
২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:১০
মোহাম্মাদ আব্দুলহাক বলেছেন: এখন জানলাম কেন ৫ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৩৪
সালমান মাহফুজ বলেছেন: হু্ম ।
আপনাকেও মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ ।
৩|
২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:১৯
চাঁদগাজী বলেছেন:
উনি কি শরিয়তী শেফিক রহমান?
২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৩৬
সালমান মাহফুজ বলেছেন: হ্যাঁ । তবে গল্পটা একটু পোশাক পরিয়ে বলেন ।
৪|
২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৪১
প্রবাসী দেশী বলেছেন: উনার নাম আজই প্রথম শুনলাম।
২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৩৭
সালমান মাহফুজ বলেছেন: এতদিন ধরে তয়লে ব্যাপককিছু মিস করে আসছিলেন ।
৫|
২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৪৫
বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। সব কিছু ইসলামের বিপরীতে যেন না যায় তা খেয়াল রাখতে হয় মুসলমানদের। তবে তবুও আমরা গুনাহ করে থাকি সব সময়। এক শ্রেণীর মুসলমান সব কিছুতে ইসলামী লেভেল থাকলে পুলকিত হয়ে থাকেন যদিও সেটা অনৈসলামিক হয়। যেমন ধরা যাক, কিছু লোকদের বলতে শোনা যায় ইরানী ছবি দেখা যেতে পারে। কেন ভাই? ইরানী ছবিতে নায়ক নায়িকা হাত ধরে না? এটা কি ইসলামে জায়েজ? আবার ধরা যাক জামায়াতীদের দিগন্ত টিভি(এ ব্যপারে আমার একটা পোস্টও ছিল)। হিজাবী নারীরা খবর পড়তো। বাহ কত সুন্দর! কিন্তু আবার নাটক, সিনেমা সবও চলত! খুব উৎসাহ নিয়ে জামায়াতীরা দিগন্ত টিভি দেখত। অথচ একই বিনোদন মূলক চ্যানেল। ঠিক একই শ্রেণীর কিছু মানুষ প্রেম ভালোবাসা উপন্যাসকেও ইসলামী করণ করে ফেলেছে। যে কারণে, তারা হুমায়ুন, আনিসুল হক, ইমদাদুল হক মিলনদের উপন্যাসের চেয়ে বেশী হালাল মনে করে কাসেম বিন আবু বকরের উপন্যাসকে!!
একই শ্রেণীর মানুষ 'বুরকিনি' কে ইসলামী পোশাক ভেবে পুলকিত হয়।
২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৩৭
সালমান মাহফুজ বলেছেন: একদম ।
৬|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ২:৩৭
সৌমিক আহমেদ খান বলেছেন: বোরখা না খুললে প্রকৃত প্রেম হবেনা।
প্রকৃত প্রেম করে বাচ্চা জন্মদানের জন্য বিসমিল্লাহ বলে বোরখা খুলুন।
৭|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ২:৫৩
মোহাম্মাদ আব্দুলহাক বলেছেন: সৌমিক আহমেদ খান বলেছেন: বোরখা না খুললে প্রকৃত প্রেম হবেনা।
প্রকৃত প্রেম করে বাচ্চা জন্মদানের জন্য বিসমিল্লাহ বলে বোরখা খুলুন।
ইতা কেটায় লিখছে!? ![]()
৮|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১:৩৪
রাজীব নুর বলেছেন: ভালো বলেছেন।
৯|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ২:৩৮
টারজান০০০০৭ বলেছেন: আর লেখক জনপ্রিয়তার বিচারে যদি সাহিত্যের মান ধরতে যান, তয়লে রসময়গুপ্তকে কেন বাদ রাখলেন । ![]()
১০|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:০৫
রুমি৯৯ বলেছেন: অনলাইনে ঝড় ওঠার আগে আমি লেখক হিসাবে কাবিআব এর নাম শুনিইনি৷ তবে নামগুলো পরিচিত৷ যেমন কাসেম নামে আমার এক বন্ধু আছে, আবু বকর নামে খুলনায় একজন বিখ্যাত মেডিসিনের অধ্যাপক ছিলেন যিনি বর্তমানে ঢাকার স্কয়ারহাসপাতালে কর্মরত৷ যাকগে মূল কথায় আসি, তার লেখার কিঞ্চিত যে নমুনা দেখলাম তাতে তার বই পড়ার কোন ইচ্ছে আর অবশিষ্ট নেই৷
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:০৬
সুমন কর বলেছেন: উনার নাম আজই প্রথম শুনলাম।