নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন মানুষ

মো:ছাব্বির আহমদ

মানব

মো:ছাব্বির আহমদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফেরা

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:৫০

দূর্ঘটনার ঊর্ধ্বে আমরা কেউ'ই নই। প্রশাসনের কাছ থেকে কতটুকু নিরাপত্তা আশা করা যায় ?তাও ঘুষ প্রথাটা যদি অপ্রচলিত থাকতো। কিছুটা আশ্বস্ত হতাম। ট্রাফিক চেকপোস্ট!ট্রাফিক ক্যাম্প!!জেব্রা ক্রসিং!গতিরোধক !ইত্যাদি। ইত্যাদি। অর্ধেকমাইল দূরত্ববজায় রেখে এসব আইন পালন করা হলেও দূর্ঘটনা(এক্সিডেন্ট) হাত থেকে রেহাই ততটা সহজ নয়।আশংকিত/অনাশাংকিত যায়গা এ্যানি প্লেস এক্সিডেন্ট চোখেরপলক উঠানামা সময়টুকুর ভেতরে হয়ে যেতে পারে।
.
তাই রাস্তাঘাটে বের হওয়ার আগে আমি।আমার আম্মা আব্বার দোয়া পুঁজি করে নেই। আর যানবাহনে চলার দোয়া। কেবল এইটুকুই নিরাপদ রাস্তা দেখায়। অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারা দেয়। প্রাণ কেড়ে নেয়া তো দূরে থাক। অশুভ শক্তি পাশ ঘেঁষতে'ই পারেনা।
.
তবু মনে হয় অশুভ শক্তি গুলো ট্রাপ পেতে রাখে। উদ্দেশ্য হাসিল হতেই হবে। পাশ থেকে নাহলেও দূর থেকে কোনোনা কোনো মাধ্যমে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। মাধ্যমটা হতে পারে
.
একটা অটোরিকশা (সি,এন,জি)
ষাটোর্ধ ড্রাইভার বেপরোয়া ভাবে চালনা করছে। হঠাত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমার বাইকটার পেছনে কষে ধাক্কা দিলো। বাইকটা বিকট হাওয়াজ করে কংক্রিটের রাস্তায় আছড়ে পড়ে। ক্ষাণিক দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মোটামুটি ধরণের হয়েছে।
.
আমি নির্দোষ স্পটে জড়ো হওয়া কিছু লোক অটোরিকশা (সি,এন,জি)ড্রাইভারকে উত্তমমধ্যম দিতে যাচ্ছিলো। ড্রাইভার ষাটোর্ধ হওয়ায় উত্তমমধ্যম নিম্নমানের বিকল্প রাস্তা ধরলো। তবে সেফাত উল্লার মতো গালি না পাড়লেও জনতা তাদের সাধ্যি মতো গালাগাল দিয়ে ড্রাইভারকে একেবারে ধুয়ে দিলো।
.
অন্যদিকে কিছু লোক কুণ্ডলী পাকিয়ে আমায় দেখছিলো আর দূর থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা পিঁপড়ার দলের মতো আসতে আসতে বলছিলো, ছেলেটা...ছেলেটা কি বেঁচে আছে? আমার যতটুকু মনে পড়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলছিলাম ' আছি আমি'।
.
কয়েক মিনিট পর নিশ্চিত হলাম যে আসলেই আমি বেঁচে আছি। তারপর হাঁফছেড়ে বাঁচা অন্তত 'বেঁচে আছি' বলে আম্মা আব্বাকে বুঝ দেয়া যাবে। তারওপর পুলিশি বিপাক। কর্তব্য ঠিক করলাম বাড়ির দিকেই ফিরে যাবো।
.
দূর্ঘটনাটা আজ দুপুর দুইটার দিকে ঘটেছে। এর আগে। রাতে তানিয়া আপুর সাথে ম্যাসেঞ্জারে মৃত্যুর ব্যাপারে কথা হয়েছে। উনাকে আমি যাই বলিনা কেনো। তখনো আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। তারপর খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে একজন হিন্দু সম্প্রদায় ব্যক্তির মরদেহ দেখতে গেলাম।
.
বাসায় এসে গল্পের মতো করে ৩০০/৩৫০ শব্দের একটা স্ট্যাটাস লিখে সময় সুযোগ করে পোষ্ট দিবো বলে অনলি মি করে রেখে দিয়েছিলাম।ইভেন এখনো আছে।
.
অথচ দুপুর দুইটার এক্সিডেন্টের ভাষা ছিলো ''টাইম এন্ড টাইড ওয়েট ফর নান'' আসলেই তো। সময়তো বহমান। আমি পোষ্ট করতে পারোনি তো কি হয়েছে ? অন্য কেউ করবে। হিন্দু সপ্রদায়ের যায়গায় লিখা হবে। মুসলিম সম্প্রদায়। সামনে থাকবে (মো: .............আহমদ)পেছনে । সব'ই ঠিকঠাক হতো।
.
আবেগের বশে কিছুদিন অনুসরণ অনুকরণের মাধ্যমে অনেকে জানতে চেয়ে টুরিস্ট ভিসা ছাড়া'ই আমার টাইমলাইন ভিজিট দিতো। রিমেম্বারিং লিখাটা দেখে কেউ অনুশোচনা কেউবা অনুতপ্ত হতো।তারপর পাঁচ হাজার ফ্রেন্ড হয়ে গেলে নতুনদের আহবান জানিয়ে পুরাতোন অকেজো এই আমার আইডিটা আনফ্রেন্ড করে দেয়া হতো। আশ্চর্য ব্যাপার নাহ ? আসলেই।
.
''ধ্যাত এই নাম্বারটা শুধো শুধোই যায়গা দখল করে আছে'' বলে আত্নীয় স্বজন বন্ধুনান্ধবরাও কন্ট্রাক্ট লিস্ট থেকে আমার নাম্বারটা ডিলিট দিয়ে দিতো। অনেকে মন থেকে আমি নামক নামটা ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলতো। যাদের খুব জ্বালিয়েছি যাদের কাছে আমি অপরাধী ছিলাম, তারা তখন আমার দোষগুণ বিচার করতোনা, বাটখারা ছাড়াই মাফ করে দিতো।
.
কোনো জার্নালে না আসলেও আমিময় রাজ্যটা খুউব অল্পদিনেই বুঝে নিবে যে তাদের লিডার জীবন থেকে পালিয়ে বেঁচেছে। পুরো রাজ্য সহে নিবে। মানিয়ে নিবে। কেননয়! এটাই তো নিয়ম। কর্মস্থলে আমার আসনে পুনঃনিয়োগ দেয়া হবে। আমার আসনে আরেকটা নতুন আমি আসবে।
.
মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়। তাহলে নামটা কেন বেহুদাই মানুষের মনে বেঁচে থাকবে?
''যেহেতু দেহের জন্মের পর নতুন একটা নামেরও জন্ম হয়।
সেহেতু দেহের মৃত্যু হলে নামের মৃত্যু কেননয় ''?
আহা জীবন।
.
ব্যাপারটা অন্যদিকে মোড় নিয়ে লাভ নেই। যাইহোক, মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে আসছি। মৃত্যুর দরজায় কড়া নেড়ে করিডোরে পা রাখার আগেই পড়লো পিছুটান। আশ্চর্য। স্রষ্টার এ কেমন বিধান!বুঝা বড় দায়। আলৌকিক ভাবে'ই বেঁচে গেলাম।এ এক পুনঃজন্ম। শুকড়িয়া। শুকড়িয়া। অশেষ শুকড়িয়া সেই সত্ত্বার নিকট।
.
আবারো বলছি,, ঘটন অঘটনের মধ্যেই জীবনযাপন, মনে রাখবেন 'একটা দূর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না'। যানবাহনে আরোহণে কালে 'সময়ের মূল্য' রচনার কথা মনে করবেন নাহ। নাহ মোটেও নাহ।স্থান কাল পাত্রভেদে 'সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য কিন্তু অনেক বেশী'। রাস্তাঘাটে খুব সাবধানতার সাথে চলাফেরা করবেন।

Sabbir

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.