| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সারাদিন অকারন ঘোরাঘুরি করেই কাটাই।দিনশেষে বাসায় ফিরি। ক্ষুধা পেলে খাই,মাঝে মাঝে ঘুমাই। এখন আর ঘুম আসে না। রাতটা জেগেই কাটিয়ে দেই।
সকালে আবার বের হই।
কখনো স্কুলের সামনে গিয়ে দাড়াই,
কখনো সেই শান্ত নদীর তীরে হাটাহাটি করি।
কখনো ক্ষেতের আলে মাথা রেখে ঘাস্ফুল গুলোর সাথে কথা বলি।
সুখের কথা,
দুঃখের কথা,
আগে যেভাবে কথা বলতাম রুনুর সাথে।
হাতটা চেপে ধরে বসে থাকতাম।আমি কথা বলে যেতাম অনর্গল ।বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলাতাম।আজগুবি সব গল্প-
“শোন দক্ষিন পাড়া আমি এখন যাই না কেন জানো? কারন ওখানের ৩০ টা মেয়ে আমার জন্য পাগল। ওখানে গেলেই আমাকে মেয়ের বাপেরা জোর করে বিয়ে দিতে চায় তাদের মেয়ের সাথে।সবাই আমার জন্য পাগল,বুঝলে।“
আমার গল্প রুনু চোখ বড়বড় করে শোনে।
তারপর আচমকা হেসে অঠে।পেট চেপে ধরে খিলখিল করে হাসে।
তারপর বলে,”তুমি এমন মিথ্যুক কেন বলত।এত বানিয়ে কিভাবে গল্প বল?”
আমি কপট রাগ করে বলি,”যদি জানোই আমি বানিয়ে বলছি,তাহলে আগেই বললে না কেন?”
হাসতে হাসতে রুনু বলে,”কারন,তোমার এই আজগুবি গল্পগুলো আমার খুব ভালো লাগে।“
বলে আবার হাসতে থাকে।সোনালি রোদে ওর মুখটা ঝলমল করে।
আমি বলি,”আমি রোজ এমন আজগুবি গল্প করি কেন জান?”
হাসি থামিয়ে রুনু জিজ্ঞেস করে,”কেন?”
আমি বলি,”কারন তোমার হাসি দেখতে আমার খুব ভালো লাগে’।
আমার কথা শুনে রুনু হাসতে থাকে।আমার গল্প বানানো এগিয়ে চলে।সারাটা বিকেল ওর হাত ধরে বসে থাকি।
তারপর হঠাত সন্ধ্যা নেমে আসে।রুনুর হাতটা ছেড়ে বাসায় ফিরি।
আমার মাঝে মাঝে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।বিকেলটা আরেকটু লম্বা হলে কি হত?
যে রাতে জ্যোৎস্না উঠত আকাশে,ঝিঝি পোকারা সুর করে গান গাইত,সে রাতে রুনু বাড়ির বাইরে আসার সুযোগ পেত।আমাদের বাড়িটা ছিল পাশাপাশি।
দিনে কথা বলার সুযোগ থাকলেও রুনুর সাথে রাতে কথা বলার সুযোগ থাকত না।
কিন্তু জ্যোৎস্না রাতে নিয়মের ব্যাতিক্রম হত।রুনুর সাথে চাঁদের আলোয় দাড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পেতাম।
সবাই কেন দিত এ সুযোগ? জ্যোৎস্নার পবিত্র আলোয় সবার মন কি পবিত্র হয়ে যেত?
আমি নিঃশব্দে রুনুর পাশে এসে দাড়াতাম।রুনু হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলত,”নাও হাত ধরে তোমার বানানো গল্প বলা শুরু কর।“
রুনুর হাতটা আমি শক্ত করে ধরতাম।তারপর বলা শুরু করতাম-
“শোন, আমাদের বিয়ে হবে এরকম জ্যোৎস্না রাতে।আকাশে চাঁদ উঠবে,আজকের মতই ঝিঝিরা গান গাইবে।আমরা সারারাত এরকম জোতস্নায় বসে গল্প করব।
তারপর এক বছর পর আমাদের একটা বেবি হবে। ওর নাম রাখব জ্যোৎস্না।
মিটিমিটি হেসে রুনু বলে,যদি ছেলে বেবি হয়?
আমি বলি,”ছেলে হলেও নাম রাখব জ্যোৎস্না”।
এবার খিলখিল করে হেসে ওঠে রুনু বলে,”জোতস্না কখনো ছেলের নাম হয়?”
আমি বলি,”কেন হবে না? এই চাঁদের আলো,এ কি ছেলে না মেয়ে? তারপরও এর নাম জ্যোৎস্না হলে আমাদের ছেলের নাম জ্যোৎস্না হতে পারে না কেন?”
আমার কথা শুনে রুনু হাসতে হাসতে বলে,”তুমি একটা পাগল”
আমি কিছু বলি না।চুপ করে ওর হাসি দেখি।চাদের আলোয় ওর দাতগুলো মুক্তোর মত ঝলমল করে।
একসময় রাত বেড়ে যায়।রুনুর হাতটা ছেড়ে দিতে হয়। ও চলে যায় বাড়ির ভেতরে।
একটু পরেই বাড়ির ভেতর থেকে রুনুর রিনরিনে গলার গান শোনা যায়।ঝিঝিদের গানের সাথে ওর গলার স্বরটা মিশে তৈরি হয় স্বপ্নময় এক পরিবেশ।
জীবনটা স্বপ্নের মত লাগত তখন।
তারপর একদিন…
আমার স্বপ্নের অবসান হয়ে গেল হঠাত করেই।
বিয়ে হয়ে গেল রুনুর।
সব দেখলাম চোখের সামনে।
কিছু করতে পারি নি,কিছু বলতে পারি নি।
কিছু অনুভব করতে পারি নি সেদিন।শুধু চুপ করে দেখে গেছি।
যখন রুনুর হাতটা ওর বরের হাতে দেয়া হল,আমার বুকের ভেতরটা হঠাত মোচর দিয়ে উঠল।
রুনু যখন টলমল চোখে আমার দিকে তাকাল,তখন বুঝলাম, পৃথিবীর সব কষ্ট জমে রয়েছে রুনুর ওই চোখেই।
সেদিন ওর চোখের ভাষাটা শুধু আমিই বুঝেছিলাম।
এখনও চাঁদ অঠে।ঝিঝিরাও আগের মতই গান গায়।
আমিও চাঁদের আলোয় দাড়াই।শুধু রুনু আসে না।আমার হাত ধরে আর বলে না,”কই,গল্প শুরু কর”।
রুনুর রিনরিনে গলায় গান আর শোনা যায় না এখন।ঝিঝিরা হয়ত রুনুর গলার গান মিস করে না,কিন্তু আমি মিস করি খুব।
আকাশের দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝেই বলি,হে আল্লাহ, আমার মৃত্যু যেন চাঁদের আলোয় হয়,আর তখন যেন রুনু হাতটা ধরে বলে,”শেষবারের মত একটা গল্প শোনাও দেখি?“
আমি ওর হাত ধরে চাঁদের আলোয় ঘুমাতে চাই।শেষবারের মত দেখতে চাই ওর সেই মায়াভরা হাসিমুখ।
২|
১৮ ই এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৮
খায়রুল আহসান বলেছেন: এ ব্লগে আপনার প্রথম পোস্টটা পড়তে এখানে এলাম, বিলম্বিত সুস্বাগতম জানাতে। এখানে আপনার বিচরণ আনন্দময় হোক, দীর্ঘস্থায়ী হোক!
শুভকামনা---
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৩
খায়রুল আহসান বলেছেন: বিরহ বিষাদের গল্প। লেখায় আবেগ মিশে আছে, তবে লেখাটা আরেকটু বিস্তৃত হতে পারতো।
ছেলের নাম জ্যোৎস্না না রেখে চাঁদবদন বা চাঁদগাজী রাখলে ভাল হতো।