| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ছবিঃ সংগৃহীত
ক্লাসে ঢুকেই চারপাশটা ভালো করে তাকায় রাতুল।নাহ,মিরা এখনও অাসেনি।শেষের দিকের একটা বেঞ্চে বসে পরে রাতুল।ক্লাস কিছুক্ষনের মধ্যেই শুরু হবে।
একটু পরেই স্যার এলেন।স্যারের পেছন পেছন মিরা!
ওকে দেখেই বুকের ভেতর হৃদপিন্ডটা লাফিয়ে ওঠে রাতুলের।এক পলক দেখেই মাথা নিচু করে রাতুল।
মিরা এসে রাতুলের ঠিক সামনের ব্রেঞ্চে বসে পরে।
-
ক্লাসে রাতুলের মন থাকে না।মিরাকে দেখে,আর কল্পনার জগতে বিচরন করে।
-
অনেকদিন থেকেই মিরাকে দেখে অাসছে রাতুল।প্রচন্ড ভালোবাসে ওকে।কিন্তু বলা তো দুরের কথা,রাতুল ওর সাথে কোনদিন কথাই বলতে পারে নি।
বলবেই বা কি করে।সবাই যখন ক্লাসে বসে আড্ডা দেয়,তখন মিরা হয় লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ে,না হয় কমন রুমে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে।
রাতুল এত শান্ত আর চুপচাপ মেয়ে কোনদিন দেখেনি। যে মেয়েটা কারো সাথে আড্ডা দেয় না,কথা বলে না,মন খুলে হাসে না,সে মেয়েটাকে তো হুট করে বলা যায় না যে "অামি তোমাকে ভালোবাসি"!
তাই রাতুলের মনের কথা মনেই থেকে গেছে!
-
ক্লাস কখন শেষ হয়ে যায় বুঝতেই পারে না রাতুল।স্যার চলে যায়,সাথে মিরাও বের হয়ে যায়।আশ্চার্য স্বভাবের মেয়ে মিরা।এই যে এতদিন থেকে রাতুল ওকে দেখছে,ক্লাসে ওর দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে,ও কি একটুও বুঝতে পারে না? নাকি বুঝেও এড়িয়ে চলে?
-
রাতুল উঠে দাড়ায়।বুকটা একটু ফাকা ফাকা লাগে ওর।আর ক্লাস করবে না ভেবে যখন চলে অাসবে,ঠিক তখনই রাতুল লক্ষ করল,মিরা যেখানে বসেছিল,ঠিক সেখানে একটা তাজা বেলি ফুলের মালা!
রাতুল দ্রুত মালাটা তুলে নিয়ে পকেটে চালান করে। তারপর বের হয় ক্লাস থেকে।
-
দিনটা চলে যায় দ্রুত।রাতে একটা ছোট্ট স্বপ্ন দেখে রাতুল।
ও দেখে,একটা বিশাল বাগানে দাড়িয়ে অাছে ও।আশেপাশে হাজার হাজার বেলি ফুলের গাছ।সাদা বেলি ফুলে বাগানটা ঝকমক করছে।
রাতুলের সামনেই দাড়িয়ে আছে মিরা।ওর মুখ শুকনো।সে রাতুলের দিকে একটা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে,আমার এ বেলি ফুলগুলো তোমায় দেব,নেবে তুমি?
রাতুল মাথা নাড়ে।একমুঠো ফুল ওর হাতে দেয় মিরা।রাতুল ফুলগুলো নাকের কাছে নিতেই সুন্দর গন্ধ পায়।
হঠাত স্বপ্নটা ভেঙ্গে যায় রাতুলের।
রাত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।চারদিকে অাযানের ধ্বনি শোনা যায়।
রাতুল মাথার কাছে রাখা বেলি ফুলের মালাটা তুলে নেয়।একটা মিষ্টি গন্ধ ওর নাকে লাগে।ঠিক স্বপ্নের মত।
বিছানা ছেড়ে উঠে নামাযে দাড়ায় রাতুল।
-
অাজ একটু সকাল সকাল কলেজে অাসে রাতুল।মাঠে পা দিতেই বড় ধরনের একটা ধাক্কা খায় ও।দেখে মিরা মাঠে বসে অাছে। তাও একা না,সাথে ফতে।ফতে ওদের ক্লাসের খারাপ মেয়েদের একজন।আসল নাম ফাতেমাতুজ্জোহরা।সবাই সংক্ষেপে ফতে ডাকে।
রাতুল চিন্তায় পরে যায়।কি করবে ভেবে না পেয়ে মাঠে,ওদের অাশেপাশে ঘুরঘুর করতে থাকে।
-
ক্লাসে সবাই আড্ডা দিচ্ছি।শান্তভাবে ঢুকে বসে পরে রাতুল।ছেলেরা কিসব নিয়ে যেন কথা বলছে।সে শুনতে পায়,একজন বলছে,
"মনে হচ্ছে কাজ হয়ে যাবে"!
আরেকজন বলল,
"কাজ না হলে কি,রফিকভাইকে তো চেনে নি,জোর করে তুলে নিয়ে যাবে!'
ভালো করে শোনার জন্য এগিয়ে যায় রাতুল।বলে,
"কি নিয়ে অালাপ করছিস তোরা?"
সবাই একসাথে তাকায় রাতুলের দিকে।মিশু বলে,
"তুই জানিস না,মিরাকে তো রফিক ভাই পছন্দ করেছে। রাজি করানোর দায়িত্ব পরেছে ফতের ওপর"
শফিক বলে,
"আর হ্যা,যদি কাজ হয়ে যায়,রফিকভাই সবাইকে খাওয়াবে বলেছে"!
কথাগুলো শুনে মাথাটা চক্কর দিয়ে রাতুলের।কি বলছে ওরা।
রফিকভাই হচ্ছে কলেজের দলের লিডার।এমন কোন খারাপ কাজ নেই রফিকভাই করে না।
আচ্ছা,যদি মিরা রাজি হয়ে যায়,তাহলে কি হবে? মিরার জীবনটা তো নষ্ট হয়ে যাবে। চিরতরে হারাতে হবে মিরাকে।
মাথাটা চেপে ধরে বসে পরে রাতুল।আর ভাবতে পারছে না ও!
-
ক্লাস শেষে মিরাকে ফলো করে রাতুল।মিরা একা একা হাটতে থাকে।মিরার কাছে গিয়ে রাতুল বলে,
"এই যে,একটু শুনে যাও"!
মিরা ঘুরে দাড়ায়।রাতুল বলে,
"শোন ফতের কথায় রাজি হয়ো না।রফিকভাই খুব খারাপ লোক!"
মিরা এই প্রথম বলে,
"তাতে তোমার কি।তোমাকে এসব চিন্তা করতে হবে না!"
রাতুল অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
মিরা বলে,
"রফিকভাই খারাপ হোক আর ভালো হোক,এসব কথা আর কোনদিন অামাকে বলতে এসো না।পারলে আর কোনদিন অামার সামনেই এসো না"!
রাতুল বুঝতে পারে না কি বলবে।মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে।তারপর পেছন ফিরে হাটা শুরু করে।
-
রাতুল চলে যেতেই মিরার চোখ থেকে টপটপ করে জল পরতে থাকে।
কেন ও রাতুলকে বলল না যে,ফতের কথায় ও রাজি হয় নি।কেন বলতে পারল না,রাতুলকে সে ইচ্ছা করেই সেদিন বেলি ফুলের মালাটা দিয়েছিল।
কেন বলতে পারল না,রাতুলের কাছাকাছি অাসার জন্যই রোজ ওর সামনে বসত?
-
মিরার বুকের ভেতরটা হঠাৎ হাহাকার করে ওঠে।ফতে বলেছে,যদি রফিকভাই ছাড়া আর কারো সাথে ও সম্পর্ক করে,তাহলে তার হাত পা ভেঙ্গে দেবে।
রাতুলকে কথাটা বলে দিলে কি ভালো হত?
-
পরদিন,রাস্তায় দাড়িয়ে থাকে রাতুল।মিরা অাসতেই ওর সামনে দাড়ায়।দ্রুত এসে একটা ছোট্ট প্যাকেট ওর হাতে দিয়ে দ্রুতই চলে যায়।
প্যাকেটটা খুলে মিরা দেখে ওর দেওয়া বেলি ফুলের মালাটা আর একটা ছোট্ট চিরকুট।তাতে লেখা,
"তোমার মালাটা ফেরত দিলাম।কিন্তু সুবাসটুকু নিয়ে গেলাম।আর কোনদিন আসব না"
-
৪ বছর হয়ে গেছে,রাতুল সত্যিই কোনদিন আসেনি।মিরা রোজ ওর জন্য বেলি ফুলের মালা গাথে।কিন্তু ফুলগুলোর গন্ধ সে পায় না।
মালাগুলোকে শুকোতে দেয় না মিরা।চোখের জলে সুবাসহীন ফুলগুলোক তাজা রাখে ও... ক্লাসে ঢুকেই চারপাশটা ভালো করে তাকায় রাতুল।নাহ,মিরা এখনও অাসেনি।শেষের দিকের একটা বেঞ্চে বসে পরে রাতুল।ক্লাস কিছুক্ষনের মধ্যেই শুরু হবে।
একটু পরেই স্যার এলেন।স্যারের পেছন পেছন মিরা!
ওকে দেখেই বুকের ভেতর হৃদপিন্ডটা লাফিয়ে ওঠে রাতুলের।এক পলক দেখেই মাথা নিচু করে রাতুল।
মিরা এসে রাতুলের ঠিক সামনের ব্রেঞ্চে বসে পরে।
-
ক্লাসে রাতুলের মন থাকে না।মিরাকে দেখে,আর কল্পনার জগতে বিচরন করে।
-
অনেকদিন থেকেই মিরাকে দেখে অাসছে রাতুল।প্রচন্ড ভালোবাসে ওকে।কিন্তু বলা তো দুরের কথা,রাতুল ওর সাথে কোনদিন কথাই বলতে পারে নি।
বলবেই বা কি করে।সবাই যখন ক্লাসে বসে আড্ডা দেয়,তখন মিরা হয় লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ে,না হয় কমন রুমে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে।
রাতুল এত শান্ত আর চুপচাপ মেয়ে কোনদিন দেখেনি। যে মেয়েটা কারো সাথে আড্ডা দেয় না,কথা বলে না,মন খুলে হাসে না,সে মেয়েটাকে তো হুট করে বলা যায় না যে "অামি তোমাকে ভালোবাসি"!
তাই রাতুলের মনের কথা মনেই থেকে গেছে!
-
ক্লাস কখন শেষ হয়ে যায় বুঝতেই পারে না রাতুল।স্যার চলে যায়,সাথে মিরাও বের হয়ে যায়।আশ্চার্য স্বভাবের মেয়ে মিরা।এই যে এতদিন থেকে রাতুল ওকে দেখছে,ক্লাসে ওর দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে,ও কি একটুও বুঝতে পারে না? নাকি বুঝেও এড়িয়ে চলে?
-
রাতুল উঠে দাড়ায়।বুকটা একটু ফাকা ফাকা লাগে ওর।আর ক্লাস করবে না ভেবে যখন চলে অাসবে,ঠিক তখনই রাতুল লক্ষ করল,মিরা যেখানে বসেছিল,ঠিক সেখানে একটা তাজা বেলি ফুলের মালা!
রাতুল দ্রুত মালাটা তুলে নিয়ে পকেটে চালান করে। তারপর বের হয় ক্লাস থেকে।
-
দিনটা চলে যায় দ্রুত।রাতে একটা ছোট্ট স্বপ্ন দেখে রাতুল।
ও দেখে,একটা বিশাল বাগানে দাড়িয়ে অাছে ও।আশেপাশে হাজার হাজার বেলি ফুলের গাছ।সাদা বেলি ফুলে বাগানটা ঝকমক করছে।
রাতুলের সামনেই দাড়িয়ে আছে মিরা।ওর মুখ শুকনো।সে রাতুলের দিকে একটা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে,আমার এ বেলি ফুলগুলো তোমায় দেব,নেবে তুমি?
রাতুল মাথা নাড়ে।একমুঠো ফুল ওর হাতে দেয় মিরা।রাতুল ফুলগুলো নাকের কাছে নিতেই সুন্দর গন্ধ পায়।
হঠাত স্বপ্নটা ভেঙ্গে যায় রাতুলের।
রাত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।চারদিকে অাযানের ধ্বনি শোনা যায়।
রাতুল মাথার কাছে রাখা বেলি ফুলের মালাটা তুলে নেয়।একটা মিষ্টি গন্ধ ওর নাকে লাগে।ঠিক স্বপ্নের মত।
বিছানা ছেড়ে উঠে নামাযে দাড়ায় রাতুল।
-
অাজ একটু সকাল সকাল কলেজে অাসে রাতুল।মাঠে পা দিতেই বড় ধরনের একটা ধাক্কা খায় ও।দেখে মিরা মাঠে বসে অাছে। তাও একা না,সাথে ফতে।ফতে ওদের ক্লাসের খারাপ মেয়েদের একজন।আসল নাম ফাতেমাতুজ্জোহরা।সবাই সংক্ষেপে ফতে ডাকে।
রাতুল চিন্তায় পরে যায়।কি করবে ভেবে না পেয়ে মাঠে,ওদের অাশেপাশে ঘুরঘুর করতে থাকে।
-
ক্লাসে সবাই আড্ডা দিচ্ছি।শান্তভাবে ঢুকে বসে পরে রাতুল।ছেলেরা কিসব নিয়ে যেন কথা বলছে।সে শুনতে পায়,একজন বলছে,
"মনে হচ্ছে কাজ হয়ে যাবে"!
আরেকজন বলল,
"কাজ না হলে কি,রফিকভাইকে তো চেনে নি,জোর করে তুলে নিয়ে যাবে!'
ভালো করে শোনার জন্য এগিয়ে যায় রাতুল।বলে,
"কি নিয়ে অালাপ করছিস তোরা?"
সবাই একসাথে তাকায় রাতুলের দিকে।মিশু বলে,
"তুই জানিস না,মিরাকে তো রফিক ভাই পছন্দ করেছে। রাজি করানোর দায়িত্ব পরেছে ফতের ওপর"
শফিক বলে,
"আর হ্যা,যদি কাজ হয়ে যায়,রফিকভাই সবাইকে খাওয়াবে বলেছে"!
কথাগুলো শুনে মাথাটা চক্কর দিয়ে রাতুলের।কি বলছে ওরা।
রফিকভাই হচ্ছে কলেজের দলের লিডার।এমন কোন খারাপ কাজ নেই রফিকভাই করে না।
আচ্ছা,যদি মিরা রাজি হয়ে যায়,তাহলে কি হবে? মিরার জীবনটা তো নষ্ট হয়ে যাবে। চিরতরে হারাতে হবে মিরাকে।
মাথাটা চেপে ধরে বসে পরে রাতুল।আর ভাবতে পারছে না ও!
-
ক্লাস শেষে মিরাকে ফলো করে রাতুল।মিরা একা একা হাটতে থাকে।মিরার কাছে গিয়ে রাতুল বলে,
"এই যে,একটু শুনে যাও"!
মিরা ঘুরে দাড়ায়।রাতুল বলে,
"শোন ফতের কথায় রাজি হয়ো না।রফিকভাই খুব খারাপ লোক!"
মিরা এই প্রথম বলে,
"তাতে তোমার কি।তোমাকে এসব চিন্তা করতে হবে না!"
রাতুল অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
মিরা বলে,
"রফিকভাই খারাপ হোক আর ভালো হোক,এসব কথা আর কোনদিন অামাকে বলতে এসো না।পারলে আর কোনদিন অামার সামনেই এসো না"!
রাতুল বুঝতে পারে না কি বলবে।মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে।তারপর পেছন ফিরে হাটা শুরু করে।
-
রাতুল চলে যেতেই মিরার চোখ থেকে টপটপ করে জল পরতে থাকে।
কেন ও রাতুলকে বলল না যে,ফতের কথায় ও রাজি হয় নি।কেন বলতে পারল না,রাতুলকে সে ইচ্ছা করেই সেদিন বেলি ফুলের মালাটা দিয়েছিল।
কেন বলতে পারল না,রাতুলের কাছাকাছি অাসার জন্যই রোজ ওর সামনে বসত?
-
মিরার বুকের ভেতরটা হঠাৎ হাহাকার করে ওঠে।ফতে বলেছে,যদি রফিকভাই ছাড়া আর কারো সাথে ও সম্পর্ক করে,তাহলে তার হাত পা ভেঙ্গে দেবে।
রাতুলকে কথাটা বলে দিলে কি ভালো হত?
-
পরদিন,রাস্তায় দাড়িয়ে থাকে রাতুল।মিরা অাসতেই ওর সামনে দাড়ায়।দ্রুত এসে একটা ছোট্ট প্যাকেট ওর হাতে দিয়ে দ্রুতই চলে যায়।
প্যাকেটটা খুলে মিরা দেখে ওর দেওয়া বেলি ফুলের মালাটা আর একটা ছোট্ট চিরকুট।তাতে লেখা,
"তোমার মালাটা ফেরত দিলাম।কিন্তু সুবাসটুকু নিয়ে গেলাম।আর কোনদিন আসব না"
-
৪ বছর হয়ে গেছে,রাতুল সত্যিই কোনদিন আসেনি।মিরা রোজ ওর জন্য বেলি ফুলের মালা গাথে।কিন্তু ফুলগুলোর গন্ধ সে পায় না।
মালাগুলোকে শুকোতে দেয় না মিরা।চোখের জলে সুবাসহীন ফুলগুলোক তাজা রাখে ও...
©somewhere in net ltd.