নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সায়েদুল ইসলাম এর বাংলা ব্‌লগ

সায়েদুল ইসলাম এর বাংলা ব্‌লগ › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্পঃ নতুন সূর্যোদয়

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫৯


কারো পায়ে হাটার শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল।রাত কয়টা বাজে বুঝতেছি না।তিনটা থেকে চারটার মধ্যে হবে হয়তো। ঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার।
ঘুম ভাঙ্গেতেই বুঝলাম,প্রচন্ড পানির পিপাসা পেয়েছে।আমার বিছানার পাশেই একটা ছোট্ট টেবিল।টেবিলে অনেক হাতরেও পানির বোতলটা পেলাম না।অথচ শোয়ার সময় পানির বোতলটা টেবিলেই রেখেছিলাম।
দুদিন হলো আমার ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। হাতের কাছে আলো জ্বালানোর মত আর কিছুই নেই।তাই,পানি পানের আশা ছেড়ে দিয়ে ঘুমানোর জন্য আবারও চোখ বন্ধ করলাম।
ঠিক তখনই আবারো কারো হাটার শব্দ শুনলাম।মনে পড়ল,এরকম শব্দ শুনেই একটু আগে আমার ঘুম ভেঙ্গেছিল।কিন্তু কে হাটছে আমার ঘর?
.
ঘরের মাঝখানে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম।একটা অস্পষ্ট ছায়ামূর্তি দাড়িয়ে আছে একদম মাঝখানে।অন্ধকার ঘরে অন্ধকার ছায়া দেখা যাওয়ার কথা না,কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি,কারন,ছায়ামূর্তির দেহ থেকে হালকা সাদা আলো বের হচ্ছে।
.
ছায়ামূর্তিকে দেখে আমি প্রচন্ড ভয় পেলাম।বুকের বাম পাশে ধরাস ধরাস শব্দ হতে থাকল।একটু আগে পাওয়া পানির পিপাসার কথা ভুলে গেলাম।
মুখ শুকিয়ে গেলেও কাশ বের হলো না।
ভয়ে কুকড়ে গেলাম।
.
ঠিক তখনই দেখলাম,ছায়ামূর্তি আমার দিকে খানিকটা এগিয়ে এলো।তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসতে শুরু করল।
আমি আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করলাম,
--কে,কে আপনি?
অদ্ভুতভাবে হেসে ছায়ামূর্তি বলল,
--কিরে বন্ধু,তুই আমাকে চিনছিস না?
ছায়ামূর্তির এমন কথা শুনে আরো চমকে উঠলাম।আর সবচেয়ে বেশি ঘাবড়ে গেলাম যে কারনে তা হলো,ছায়ামূর্তির কন্ঠস্বর একদম আমার মত।তোতলাতে তোতলাতে বললাম,
--কি,কি বলছেন আপনি?আপনাকে চিনব মানে,কে আপনি?
ছায়ামূর্তি এবার খানিকটা গম্ভির হয়ে বলল,
--আমাকে তোর চেনার কথা।আমি তোর 'ভাগ্য'
আমি বললাম,
--আপনি আমার ভাগ্য?
--হু
--আমি বললাম,আপনি আমার ভাগ্য হলে তো আমার কপালে থাকার কথা।কিন্তু আপনি ছায়ামূর্তি হয়ে আমার সামনে এসেছেন কিভাবে?
ছায়ামূর্তি কিছুটা রেগে গিয়ে বলল,
--তোমরা মানুষরা খুবই বোকা।তোমরা ভাবো,ভাগ্য মানুষের কপালে লেখা থাকে।কিন্তু তোমরা ভুল।আসলে ভাগ্য থাকে তোদের সকল কর্মে,তোদের আচরনে।
ছায়ামূর্তির কথা শুনে ভয় কিছুটা কমে এসেছিল।সহজভাবে বললাম,
--তার মানে,আপনি বলতে চাচ্ছে,কর্মই ভাগ্য?ভাগ্য বলতে আলাদা কিছু নেই?
ছায়ামূর্তি গম্ভিরভাবে বলল,
--অবশ্যই ভাগ্য বলতে আলাদা কিছু আছে।
আমি বললাম,
-- ভাগ্য বলতে যদি সত্যিই কিছু থেকে থাকে,তাহলে,কর্মের দরকার কি?
--ছায়ামূর্তি গম্ভিরভাবে বলল,তোমরা মানুষরা যেমন অক্সিজেন ছাড়া বাচ না,তেমনি আমরা ভাগ্যরাও কর্ম ছাড়া বাচি না।
আমাদের বাচাতে হলে তোমাদের কর্ম করতে হবে।আমাদের অক্সিজেন যোগান দেওয়ার দায়িত্ব তোমাদের।
কিন্তু, তোমরা নিজেরা কর্ম করো না,অক্সিজেনের অভাবে আমরা মরে যাই,অসুস্থ হই,আর তোমরা কপাল চাপড়ে দোষ দাও আমাদের,মানে ভাগ্যের।আসলে কি আমাদের দোষ?
--আমি যন্ত্রের মত বললাম,না।আপনাদের কোন দোষ নেই!
.
ছায়ামূর্তি আবার বলল,
--একটু পরেই সকাল হবে।সকালে উঠে 'ভাগ্যে যা আছে হবে ' না বলে সৎভাবে কাজ শুরু করো।আমি বেচে থাকব।অবশ্যই বেচে থাকব।
.
ঘরটা সামান্য আলোকিত হয়েছে।পানির পিপাসা আবারো অনুভূত হচ্ছে।হালকা আলোয় টেবিলের পানির বোতলটা হাতে নিলাম।পানি খেয়ে তাকালাম ছায়ামূর্তির দিকে।কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না।
.
দরজা খুলে বাইরে এসে দাড়ালাম।টকটকে লাল সূর্য ওঠা শুরু করেছে পুর্বদিকে।
ঘরে এসে টেবিলের সামনে বসলাম।অনেকদিন সকালে পড়ি না।আজ পড়ব।আমার ভাগ্যের প্রচুর অক্সিজেন দরকার।
.
বাইরে সূর্য উঠেছে।টকটকে লাল নতুন সূর্য...!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.