নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সায়েদুল ইসলাম এর বাংলা ব্‌লগ

সায়েদুল ইসলাম এর বাংলা ব্‌লগ › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্পঃ নিশিরাতের মরা জোৎস্না

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪৫



মেয়েটা হাটছে! একটু পরেই ওদের
বাড়ি।সাদা দোতলা বাড়িটা এখান
থেকেই দেখা যাচ্ছে।মাথা নিচু করে
মেয়েটা হেটে চলেছে।আজ ওর মনটা
খারাপ! তবে এটা নতুন কিছু না।ওর মন
সবসময়ই খারাপ থাকে।
-
মেয়েটার নাম নিশি। গায়ের রং
কালো।
অনেকে বলে 'কুচকুচে' কালো।দেখলে
মনে হয় কেউ যেন অাদর করে ওর গায়ে
কালো কালি লেপে দিয়েছে!
-
নিশির জন্য হয়েছিল গভীর রাতে।
নিশিরাতে জন্য বলে বাবা অাদর
করে নাম দিয়েছিল নিশি।
জন্মের সময় নিশির গায়ের রং ছিল
টকটকে লাল।তারপর যতদিন গেছে,ওর
গায়ের রং কালো হয়েছে।
নিশিরাতের সবটুকু অাধার যেন নিশির
শরীরে বাসা বেধেছে।
-
হাটতে হাটতে বাসায় পৌছায় নিশি।
বইগুলো টেবিলে রেখে বাথরুমে ঢুকে
শাওয়ার ছেড়ে দেয়।কিন্তু শাওয়ার
থেকে পানি পরে না।কোন সমস্যা
হয়েছে নিশ্চয়ই।
-
নিজ রুমের বাথরুম থেকে বের হয়ে
সবার জন্য যে বাথরুমটা
অাছে,সেখানে ঢোকে নিশি।
শাওয়ার ছাড়তেই ঠান্ডা পানিতে ওর
শরীর ভিজে যায়।ঠান্ডা পানিতে
দেহ ঠান্ডা হয়,কিন্তু মনটা ঠান্ডা হয়
না।বুকের ভেতরটা জ্বলতে থাকে ওর।
-
কালো হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত
অপমানিত হতে হয় ওকে।আজকেও ওকে
অপমান করেছে সবাই!
ক্লাসের সবাই মিলে এক বান্ধবীর
বিয়েতে গিয়েছিল ওরা।খাওয়া-
দাওয়া শেষে যখন ছবি ওঠানো
হবে,তখনই ঘটল ব্যাপারটা।নিলু হঠাৎ
ওকে বলল,
"কিছু মনে করিস না দোস্ত,তুই পরে ছবি
ওঠা,আগে অামাদেরটা হয়ে যাক"
হাসি হাসি মুখ করে নতুন কনের পাশে
দাড়িয়েছিল নিশি।নিলুর কথাটা
শুনে একটা ধাক্কা খেল ও।বুঝতে
পারল,ও কুৎসিত বলে ওকে ছবিতে
রাখতে চাচ্ছে না।
হাসিটা মুখে ধরে রেখে নিশি বলল,
"আমিও তাই ভাবছিলাম,তোরা আগে
ওঠাও,তারপর অামি ওঠাবো"
বলেই ওখান থেকে সরে অামে নিশি।
সাথে সাথে ক্যামেরার ফ্লাসের
অালো দেখা যায়।
-
অদুরেই দাড়িয়ে ছিল কয়েকটা ছেলে।
ওকে সরে অাসতে দেখে ছেলেগুলো
হাসতে শুরু করে।একজন বলেই বসে,
"কি কাইল্যার কাইল্যা রে ভাই,এর ছবি
ওঠাতে গেলে তো ক্যামেরা
ভাইঙ্গা যাইব"
কথাটা ওর বুকে তীরের মত বিধেযায়।
না শোনার ভান করে ওখান থেকে
সরে অাসে নিশি।কাউকে না বলেই
বাড়ির পথে হাটা দেয় ও!
-
বাথরুমে কতক্ষণ কেটেছে বলতে পারে
না নিশি।দরজা ধাক্কার শব্দে সম্বিৎ
ফিরে পায় ও।বলে,
"কি হয়েছে??"
বাইরে থেকে ক্লাস এইটে পড়ুয়া টিপু
বলে ওঠে,
"কতক্ষণ আগে বাথরুমে ঢুকেছিস,মনে
অাছে? সারাদিন বাথরুমে থাকবি
নাকি?"
"এইতো,হয়ে গেছে"
"শোন,যতই ঘষে চামড়া তুলে ফেলিস, তুই
ফর্সা হবি না"- বলেই খিক খিক করে
হাসে টিপু।
কথাটা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে
নিশি।পরিবারের মানুষগুলোও যখন
এভাবে কথা বলে,তখন বাইরের
লোককে দোষ দিয়ে লাভ কি?
-
সন্ধ্যায় একটা উপন্যাস হাতে
জানালার পাশে বসেছিল নিশি।
পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে ধীরে
ধীরে।কালো ছায়া পরছে পুরো
অাকাশ জুড়ে।
নিশি ভাবে,এই যে অন্ধকার,এও তো
কালো। যদি এ অন্ধকার,রাতের এ
কালো ছায়া না থাকত,তাহলে কি
রাত বলতে কিছু থাকত? মানুষ কি
অন্ধকার না থাকলে পুর্নিমা কি বুঝতে
পারত।প্রকৃতিতে রাত,রাতের কালো
অাধার কত প্রয়োজনীয়, শুধু মানুষের
কালোটুকুই অপ্রয়োজনীয়।
এমনটা কেন?
তারপর অাবার ভাবে,রাতের অাধার
দরকারি,তাই নাহয় এ কালো ছায়া
তৈরি করেছে,কিন্তু যে কালো
মানুষের কোন মুল্য নেই সে কালোকে
কেন সৃষ্টি করলেন সেই সৃষ্টিকর্তা!?
-
ভাবতে ভাবতে দুফোটা জল গাল
বেয়ে পরে ওর।জলটুকু মুছে শুয়ে পরে
নিশি।এমন সময় মা ঘরে অাসে।
বিছানায় উঠে বসে নিশি,
পাশে বসে মা বলেন,
"এতো তারাতারি শুয়ে পরলি
যে,শরীর খারাপ?"
"না মা,এমনিতেই"
"শোন মা,কাল নাকি ছেলেপক্ষ
থেকে দেখতে অাসবে"
মায়ের কথা শুনে ভাবান্তর হয় না
নিশির। মা বলে চলেন,
"ছেলেটা নাকি ভালো।ভালো
চাকরি করে"
এবার নিশি বলে,
"ছেলে ভালো হলেও কি,অার খারাপ
হলেই বা কি,আমাকে তো পছন্দ করবে
না"
"কেন পছন্দ করবে না।আল্লাহ যার
সাথে তোর জোড়া রেখেছেন,সে
কালো দেখেও তোকে পছন্দ করবে"
"আমার সাথে যার যার জোড়া লেখা
অাছে,তার কপালটা কত খারাপ,তাই
না মা!"
বলেই ফিক করে হাসে নিশি।মায়ের
বুক চিড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে
অাসে।
তারপর রুম থেকে নিঃশব্দে বের হয়ে
যান তিনি।
-
হঠাৎ নিশির বুকটা মোচর দিয়ে ওঠে।
কাল সকালে আবার ওকে দেখতে
অাসবে।তারপর কালো মেয়ে দেখে
সবাই নাক কুচকাবে।আবার অপমানিত
হতে হবে ওকে।
হঠাৎ দুরে কা কা শব্দ শোনা যায়।
এতরাতে কাক ডাকছে কেন?
হয়তো কাকটা বোঝাতে চাচ্ছে,শুধু
তুমিই কালো না,আমিও কালো।
বাতিটা নিভিয়ে দেয় নিশি।ওর ঘুম
আসে না।কালো রাতের কালো
অাধারের সাথে জড়াজড়ি করে শুয়ে
থাকে এক হতভাগি কালো মেয়ে!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.