| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
--শুভ্রদা,তুমি নাকি আজ চলে যাবে?
--হুম,যাব তো।
--আর দুটো দিন থেকে যাওনা শুভ্রদা..
--না রে।ক্লাস শুরু হয়ে গেছে।আর
থাকা উচিত হবে না।যেতেই হবে।
--প্লিজ শুভ্রদা,দুটোদিন থেকে যাও।
তোমার সাথে অনেক কথা আছে।
--আমার সাথে অনেক কথা আছ,তো
বলে দে।
--না,এখন বলল না।রাতে বলব।প্লিজ তুমি
যেও
না।
--এখন বললে কি হয়?
--বা রে।আমার লজ্জা করে না বুঝি।
--ঠিক আছে,এতই যখন লজ্জা তো রাতেই
বলিস।আর তুই যখন বলছিস,তখন আরো দু দিন
থেকে যাবে।
--ঠিক আছে শুভ্রদা।তুমি খুব ভালো।
বলে নাকটা টেনে দিল তৃনা।তারপর
মুচকি হাসি দিয়ে উঠে গেল
চেয়ারটা থেকে।আমি একাই বসে
থাকলাম বারান্দায়।
তৃনা আমার ছোট চাচার মেয়ে।আমার
থেকে তিন বছর ছোট।একসাথে বড়
হয়েছি দুজনে।সেই ছোট্ট থেকে মনে
মনে ভালোবাসি ওকে।বিন্তু মনের
কথাটা মুখ ফুটে বলতে পারি নি।আজ
বোধহয় আমার ভাগ্যটা বদলে যাবে।
নিশ্চয়ই তৃনা আমাকে ভালোবাসার
কথা বলবে রাতে।নাহলে এত লজ্জা
পাবে কেন??
এসব কথা ভাবতেই মনটা খুশিতে নেচে
উঠল।অধির আগ্রহে রাতের জন্য অপেক্ষা
করতে থাকলাম কখন রাত হবে।কখন শুনব
তৃনার মনের লুকানো কথা। বহুদিনের
আশা পুরনের আনন্দে যেন পাগল হয়ে
গেছি আমি।
অবশেষে রাত হল।আমি বারান্দায় বসে
অপেক্ষা করতে থাকলাম।একটু পরে তৃনা
এল,
--শুভ্রদা,বাইরে দাড়িয়ে আছ কেন?
--কি বলবি,বল না।
--না,বাইরে বলা যাবে না।ঘরে
আসো..
আমি ঘরের ভেতরে গেলাম।পেছন
পেছন তৃনা এসে ঢুকল।
--এবার বল, কি বলবি?
--শুভ্রদা,তোমার সাহায্য লাগবে একটু।
--কি সাহায্য?
--শুভ্রদা,আমি নয়নকে
ভালোবাসি,কিন্ত বাড়িতে বলতে
পারছি না।তুমি একটু বাবা আর চাচা
কে বলে দাও না?
তৃনার কথা শুনে বুকটা মোচর দিয়ে উঠল।
বুক ফেটে কান্না বের হয়ে আসল।বলে
কি ও।সারাজীবন ভালোবাসলাম
আমি,আর ও...
বললাম,
--তুই নয়নকে ভালোবাসিস??
--হুম।প্লিজ শুভ্রদা,একটু সাহায্য
কর,প্লিজ...
--কিন্তু আমি তো তোকে....
--কি শুভ্রদা?তুমি কি?
--না,কিছু না।
--তাহলে সবাইকে রাজি করাবে
তো??
--হ্যা,করাবো।
--ঠিক আছে শুভ্রদা।তুমি খুব ভালো।
বলে আজও নাকটা টেনে দিল তৃনা।
কিন্তু আজ আগের মত হাসলাম না।যা
ভেবেছিলাম,তার পুরো বিপরীত হতে
দেখে বুকটা একেবারে ব্যাথায় ভরে
গেছে।মনে জমেছে জলহীন কালো
মেঘ।এসব মেঘে বৃষ্টি হয় না।শুধু ঝড় ওঠে।
বুকের ভেতরটা তছনছ করো অবশেষে
শান্ত হয়।তখন চোখ দিয়ে নামে অশ্রুর
ফোয়ারা।ঝড়ের শেষে গুড়িগুড়ি বৃস্টি
আসা প্রকৃতির নিয়ম।এ নিয়ম কখনো ভঙ্গ
হয় না...
পরদিন সকাল বেলা যাওয়ার জন্য
তৈরি হচ্ছি।ব্যাগটা রাতেই গুছিয়ে
রেখেছি।এখন শুধু দেখে নিলাম সব ঠিক
আছে কি না।তৃনার কথা শোনার পর আর
থাকতে পারব না।মনটা খারাপ করে
বের হলাম বারান্দায়,
--শুভ্রদা,তুমি কি চলে যাচ্ছ?
--হুমম।
--তুমি যে বলেছিলে দুদিন থেকে
যাবে??
--হুম।
--এখনো তো একদিন বাকি আছে।
--হুমম।
-- কি হুম হুম করছ?আজ যাবে না তুমি?
--কেন যাব না।ক্লাস শুরু হয়েছে।আর
থাকা উচিত না।
--প্লিজ আজ যেও না...
--না রে।আর থাকতে পারব না।
--শুভ্রদা....?
--বল...
--আজকের রাতটা শুধু থেকে যাও না।
এবার তৃনার মুখের দিকে তাকালাম।বড়
বড় চোখ দুটো জলে ভরে গেছে।
মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে আর
চলে যেতে পারলাম না।বললাম,
--ঠিক আছে,আর একটা দিন নাহয় তোর
কথায় থেকে যাব।
--তুমি সত্যিই খুব ভালো শুভ্রদা,বলে
আজও নাকটা টেনে দিল তৃনা।আজ একটু
হাসলাম।এই মেয়েটাকে পাওয়ার মত
ভাগ্য আমার নেই।
প্রতিদিনের মত আজও সকাল দুপুর আর
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমে এল।কিন্তু
আজকের রাতটা অন্যরকম।জোনাক যেন
ঠিকরে পরছে চারদিকে।শীতকালে
এমন জোৎস্নারাত সাধারনত দেখা যায়
না।চাদের আলোয় বারান্দায় বসে
চিন্তা করছি অনেক কিছু।এমন সময় তৃনা
এল,
--শুভ্রদা??
--তুই কখন এলি?
--এইমাত্র।দেখতো কেমন দেখাচ্ছে
আমায়?
--প্রশ্নটা শুনে চমকে গেলাম।তৃনা
সাধারনত সাজে না।আজ সেজেছে
কেন?
বললাম,
--অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে।
--মিথ্যে কেন বলছ?তুমি তো আমাকে
ভালো করে দেখই নি।আচ্ছা বল
তো,আমি কেমন রঙ্গের জামা পরেছি?
--এবার তাকালাম তৃনার দিকে।সত্যিই
এর আগে ভালোকরে দেখি নি।
তবে,দেখে অবাক হয়ে গেলাম,হালকা
হলুদ শাড়িটায় ওকে পরীর মত লাগছিল।
মুখথেকে অস্ফুট একটা শব্দ বেড়িয়ে
এল,'হলুদপরী '।।
--শুভ্রদা...
--হুমম,আচমকা ডাকে সম্বিৎ ফিরে
পেলাম যেন।
--কেমন দেখাচ্ছে বললে না তো?
--খুব সুন্দর দেখাচ্ছে তোকে।একদম
হলুদপরীর মত।
--আমাকে তোমার হলুদপরী বানাবে
শুভদা?
--চমকে উঠলাম তৃনার কথা শুনে।আমার
হলুদপরী হবি তুই?
--সারাজীবন তো এটাই হতে চেয়েছি
শুভ্রদা...
--তাহলে,নয়নের কথা বললি যে
সেদিন?
--ভেবেছিলাম,নয়নের কথা শুনে তুমি
আমাকে বলে দেবে যে তুমি আমাকে
ভালোবাস।কিন্ত তুমি বললে না।
লজ্জার মাথা খেয়ে আমাকেই বলতে
হল...
--আমি অবাক হলাম ওর কথা শুনে।
চোখদুটো দিয়ে ঝরঝর করে জলল ঝরা শুরু
করেছে।
তৃনা একটু এগিয়ে এসে চোখদুটো মুছে
দিল।তারপর বলল,
--আমি তোমাকে সেই ছোট্ট থেকে
ভালোবাসি শুভ্রদা...
--আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি
তৃনা।
আমার কথা শুনে খিলখিল করে হাসা
শুরু করল তৃনা।জিজ্ঞেস করলাম,
--হাসার কি হল?
--না,এই প্রথম তুমি আমাকে তুমি করে
বললে তো তাই।সবসময় তো তুই করে বল...
বলে আবার হাসা শুরু করল তৃনা।আমি মুগ্ধ
হয়ে দেখছি ওকে।চাদের আলোয় ওর
হাসিটা দেখতে লাগলাম দু চোখ
ভরে....!
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১২:৪৭
সায়েদুল ইসলাম এর বাংলা ব্লগ বলেছেন: তারেক মাহমুদ ভাই,অনেক ধন্যবাদ। আমি এখানে নতুন। আপনার এডভাইস কাজে লাগাতে পারব।
২|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:৩২
তারেক_মাহমুদ বলেছেন: Click This Link এই লিংক এ নতুন ব্লগারদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে উপকারে আসবে।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২১
সায়েদুল ইসলাম এর বাংলা ব্লগ বলেছেন: আপনাকে আবার ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না ভাই। অনেক তথ্য জানতে সাহায্য করলেন। আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা
৩|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫০
চাঁদগাজী বলেছেন:
ব্লগে স্বাগতম।
লেখাকে সাজাতে হয়
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:৪৭
সায়েদুল ইসলাম এর বাংলা ব্লগ বলেছেন: চেষ্টা করব ভাই। উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ
৪|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:৪৫
কবীর বলেছেন: খুব সুন্দর লিখেছেন++
শুভ কামনা রইল।
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:৪৬
সায়েদুল ইসলাম এর বাংলা ব্লগ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শাহরিয়ার কবীর ভাই।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৯
তারেক_মাহমুদ বলেছেন: ভাল লাগলো, সুন্দর লিখেছেন, অন্য ব্লগারদের পোষ্টে মন্তব্য করতে থাকুন আর লিখে যান,মন্তব্য না করলে মডারেটর ভাইয়ার দৃষ্টি আপনার দিকে আসবে না