| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজ থেকে সাড়ে সাত বছর অাগে ক্লাস টেনে পড়ুয়া এক বালিকা টেনে পড়ুয়া তার প্রেমিকটিকে অাবেগপ্রবন হয়ে বলেছিল-
“অামি যদি কখনো রাগ করে চলে যাই,তাহলে তুমি অামাকে ফিরিয়ে অানবে।অামাকে ছাড়বে না”
দেড় বছর পর মেয়েটি চলে গিয়েছিল। ছেলেটি অারো দের বছর মেয়েটিকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলো।কিন্তু ফেরাতে পারে নি।কারন মেয়েটা ফেরানোর সুযোগই দেয়নি।
শুধু “অামি চলে গেলে ফিরিয়ে অানবে” কথাটা বললেই হয় না।কাউকে জোর করে ফেরানো যায় না।কেউ ফিরতে চাইলে তবেই তাকে ফেরানো যায়।
আর কেউ চলে গিয়েও যখন ফেরানোর জন্য দু হাত বাড়িয়ে দেয়,সেই ভালোবাসাটাই খাটি!
কয়েকদিন অাগে চানখার পুলের কাছে হাটছিলাম।আমার খুব সামনে হাটছিলো একটা ছেলে মেয়ে।
মেয়েটার হাত ছেলেটা শক্ত করে ধরে রেখেছে!
মেয়েটা একটু পর পর হাতটা ছাড়ানোর জন্য টানছে অার ধীরে ধীরে বলছে,
“হাতটা ছাড়ো।তোমার সাথে অার থাকব না”
অামি বুঝলাম এদের ঝগড়া লেগেছে।রাগ করে মেয়েটা চলে যেতে চাইছে।
কিন্তু এটাও বুঝেছি,মেয়েটার হাত ছাড়লেও সে যাবে না।যদি সত্যিই যাওয়ার ইচ্ছা থাকত তাহলে জোড়াজোরি করে হাতটা ছাড়িয়ে নিত।
একটু পরে দেখি সেই ছেলে মেয়েটাই রাস্তার পাশে দাড়িয়ে।এখন মেয়েটার মুখ হাসিহাসি।
ছেলেটার হাত এবার মেয়েটাই শক্ত করে ধরেছে!
প্রত্যেকটা মানুষ চায় তার প্রিয় মানুষটি তাকে ধরে রাখুক।প্রিয় মানুষটি ভালোবাসায় অাগলে রাখুক তাকে।
সাত অাট দিন অাগের ঘটনা!
মগবাজার মোরে ধুলোর সমুদ্র দাড়িয়ে অাছি।
আমার থেকে কিছুটা দুরেই একটা মেয়ে কান্না কান্না মুখ করে দাড়িয়ে অাছে।আর একটা ছেলে তার সামনে দাড়িয়ে নিচু স্বরে মেয়েটাকে ধমকে যাচ্ছে।
অামি এক দু পা করে ওদের কাছাকাছি দাড়ালাম।উদ্দ্যেশ্য ওদের ঝগড়া শোনা। ভালোবাসায় সিক্ত একজোড়া তরুন তরুনির ঝগড়া শুনতে ভালো লাগার কথা!
আমাকে কাছাকাছি দেখে ছেলেটা থেমে গেল।তারপর কি যেন ভেবে হাটা শুরু করল।
আমি ভাবলাম চলে গেছে রাগ করে। কিন্তু না,একটু পরে ছেলেটা ফিরে এলো, হাতে একটা কোন অাইসক্রিম নিয়ে!
মেয়েটার দিকে বাড়িয়ে দিতেই আইস্ক্রিমটা হাতে নিয়ে খাওয়া শুরু করল।মেয়েটার মুখ অানন্দে উজ্জ্বল।
ছেলেটা এবার বিরক্ত হয়ে বলল-
“একটু পর যখন টনসিল ফুলে ঢোল হবে,তখন বুঝবি। এখন বেশি করে খা”
মেয়েটা কিছু বলল না।আইসক্রিম গিলে চলেছে সে।
সত্যি বলছি,১৮/১৯ বছরের একটা মেয়েকে বাচ্চা মেয়ের মত অাচরন করতে সেদিন প্রথম দেখেছি।
একটু পর আইস্ক্রিম শেষ হতেই ছেলেটা বলল-
‘এবার ফার্মেসী চলো!’
মেয়েটা বলল-
“কেন?”
ছেলেটা বলল-
“একটু পরে যে গলা ব্যথায় মরবে,ওষুধ নিতে হবে না?”
মেয়েটা ফিক করে হেসে বলল-
“ওষুধ যখন নেবই তখন আরেকটা কাজ করি”
“কি কাজ?”
“তুমি অারেক বাটি অাইসক্রিম নিয়ে অাসো। আজ অনেক অাইসক্রিম খাবো”
ছেলেটা বিরক্ত হয়ে বলল-
চল! ওই দোকানে বসে যত ইচ্ছা আইসক্রিম খাবি!
মেয়েটা বলল-
“এখানে নিয়ে এসো!”
ছেলেটা বিরক্ত হয়ে বলল-
“এখানে আনতে পারব না।দেখছিস না,ছেলেটা হা করে সব দেখছে”
বলেই মেয়েটার হাত ধরে ছেলেটা টেনে নিয়ে চলল।
মেয়েটা ধীরে ধীরে বলছে-
“হাত ছাড়ো,অামি যাব না।ছাড়ো বলছি!”
অামিও হাটা দিলাম।
অামি জানি,এই মেয়েটা হাত ছাড়লেও যাবে না।
এ বকা খাবে,রাগ করবে।
কিন্তু সারাজীবন এই ছেলেটার কাছেই আইস্ক্রিম খেতে চাইবে।
আমাকে ছেড়ে দাও অথবা আমি অার তোমার সাথে থাকব না- কথাগুলো শুধু মুখেই বলা যায়।সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষগুলো এসব কথা মন থেকে বলতে পারে না।
সাড়ে সাত বছর অাগের সেই তরুনিটি শুধু মুখেই বলেছিলো আমাকে ফিরিয়ে অানবে!
যদি মন থেকে বলত,ছেলেটার দেড় বছরের চেষ্টায় ফিরে অাসত।
মিথ্যে ভালোবাসায় ভরা তরুনিটি এখন স্বামী সংসারে ব্যস্ত।অার ছেলেটি ব্যস্ত খাটি ভালোবাসায় ঘেরা তরুন তরুনিদের দেখতে।
ছেলেটা এমন তরুন তরুনিদের খোজে, যারা মুখে বলে আমাকে ছেড়ে দাও,কিন্তু মন থেকে বলে না।
সত্যিকারের ভালোবাসার মিষ্টি ঝগড়া অার ফিরে অাসা দেখার মত মজা অার কোন কিছুতেই পায় না ছেলেটি!
ছবিঃ গুগল
©somewhere in net ltd.