নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্য বলবোই !

নিজের জন্যেই নিজে একা বসে ভাবি !

মান্যবর

মান্যবর › বিস্তারিত পোস্টঃ

অসমাপ্ত ।।

৩১ শে মে, ২০১৩ ভোর ৫:৩১

"নিজের কাছেই নিজেকে কখন তুচ্ছ লাগে?" জিজ্ঞেস করল ছেলেটি।

মেয়েটির উত্তরটি ছিল খুবই সরল।

"প্রেমে পড়লে।" বলল মেয়েটি।

"তাহলে কি আমি বলবো আমি তোমার প্রেমে পড়েছি?" ছেলেটি বলল।

মেয়েটি উত্তর না দিয়ে সোজা ছেলেটির চোখের দিকে তাকাল।

অপলক কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, "উত্তরটা কি তোমার জানা নেই?"

ছেলেটি মুচকি হাঁসল।

বলল, "এক কথা তুমি কয়বার শুনতে চাও?"

মেয়েটি বলল, "তুমিই তা ভাল জান।"

ছেলেটি আর কিছু বলেনি। নিজের সেলফোনটি হঠাৎ বেরসিকের মত বেজে উঠায় ওটার দিকেই নজর দেয়। বাসা থেকে ভাইয়ার ফোন। বাবার হার্ট এটাক হয়েছে। এক্ষুণি হাসপাতালে নিতে হবে। পড়িমরি করে ছুটে যায় ছেলেটি। যাবার আগে মেয়েটিকে শুধু একবার বলে, "আমি তোমাকে ভালোবাসি।"



ছেলেটির বাবা হাসপাতালে। হার্টে দুইটা ব্লক ধরা পড়েছে। বাইপাস করতে হবে।

বাইপাস সার্জারী হয় বাবার। টানা ৩দিন হাসপাতালে থাকে ছেলেটি। বাইরের কোন খবরই সে নেয় না। মেয়েটির সাথেও কথা হয়না। ৪দিনের মাথায় বাসায় আসে ছেলেটি। এসেই ঘুম। টানা ৩রাত জেগে থাকার ক্লান্তি ভর করে তার শরীরে। সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়। বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেয়। তারপর ফোন দেয় মেয়েটিকে। মেয়েটি ফোন ধরে বাবার অবস্থা জানতে চায়। এই কয়দিন তার সাথে যোগাযোগ না করায় কিছুটা অভিমানও বুঝি করে। ছেলেটা মিষ্টি কথায় মেয়েটাকে ভুলায়। বলে, "পাগলামি করছ কেন? বাবার এই অবস্থায় তোমার সাথে যোগাযোগ করার কোন ব্যাবস্থাই পাইনি। তাছাড়া, তুমি জান তোমাকে ছাড়া থাকতে আমার কেমন কষ্ট লাগে। আমি কি কষ্ট পাইনি।" এসব কথা শুনে মেয়েটা হাঁসে। আর বলে, "এইজন্যই তো তোমাকে এতটা ভালোবাসি।"



এক সপ্তাহ পর ছেলেটির বাবা বাসায় আসেন। ছেলেটা আর মেয়েটার ভালোবাসা এভাবেই এগিয়ে যায়।



কিছুদিন পর ছেলেটা তার বড় ভাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যায়। জমি নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে। মাঝে ছেলেটার সাথে মেয়েটার যোগাযোগ কিছুটা কমে যায়।



ছেলেটা ঢাকায় আসার পর আবার আগের মত যোগাযোগ করে। কিন্তু ছেলেটা মেয়েটার মাঝে কিছু পরিবর্তন দেখতে পায়। মেয়েটাকে সে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করে। মেয়েটা কিছু বলে না। এভাবেই সময় কেটে যায়। ছেলেটা সবসময় চিন্তা করে কি এমন হল যার জন্য ও আমার সাথে এমন করছে। আর অন্যদিকে মেয়েটা ভাবে কিভাবে কথাটা ওকে বলা যায়। দুইজনের কেও কাওকেই তাদের মনের অবস্থাটা বুঝাতে পারছে না।



তারপর একদিন মেয়েটা সিদ্ধান্ত নেয় সব সত্য কথা বলে দেয়ার। মেয়েটা ছেলেটাকে বলে যে তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। ছেলে ঢাকা ভার্সিটির শিক্ষক। ছেলেটার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। সে মাত্র অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ে। তার পক্ষে এখনই কিছু করা সম্ভব নয়। আর পরিবারকে সব বলেও লাভ নেই। ছেলেটার ছোট বোনটাকে বিয়ে না দিয়ে তার নিজের কিছু করার উপায় নেই। এসব কথা সে মেয়েটাকে বলে। মেয়েটা কাঁদে।



মেয়েটা তার বাসায় বলে তার পক্ষে এখন বিয়ে করা সম্ভব নয়। কিন্তু মোটামোটি রক্ষণশীল একটা পরিবারের একটা মেয়ের এমন কথা বাসায় মেনে নেয় না। মেয়ের শত আবদারও তার বাবার সম্মানের কাছে মাথা নোয়ায়। মেয়েটা আর কিছু বলে না। শুধু কেমন যেন হয়ে যায়। কারো সাথে ঠিক করে কথা বলে না, নিয়ম করে খায় না, রাতে না ঘুমিয়ে বারান্দায় উদাস হয়ে বসে থাকে।



ছেলেটা প্রতিদিন রাতে দেরী করে বাসায় ফিরে। মা'র প্রশ্নের কোন সদুত্তর দেয় না। বাসায় এসেই রুমের দরজা বন্ধ করে বসে থাকে। ছেলেটার সিগারেট খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। কোন কাজেই সে আর মন দিতে পারে না। টিউশনি করাতে গিয়ে ভুল করে। বন্ধুদের সাথে ঠিক করে কথা বলে না।



কিছুদিন পর ডিপার্টমেন্টে সাড় সাড় রব পড়ে যায়। মেয়েটার বিয়ে। সবাই খুশি কারণ তারা জানে না ছেলেটা মেয়েটাকে ভালোবাসে। সবাই শুধু জানে ওরা ভালো বন্ধু।



বিয়ের দিন সবাই জোর করে ছেলেটাকে নিয়ে যেতে। ছেলেটা রাজী হয় না। শেষমেশ তাকে রেখেই সবাই চলে যায়। ছেলেটা একা থাকে। রাস্তায় হাঁটে আর চিন্তা করে। একটার পর একটা সিগারেট ধরিয়ে যায়। কিছুদূর যাওয়ার পর লেভেল ক্রসিং সামনে পড়ে। গাড়িগুলো সব নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। ট্রেইন আসার শব্দ শোনা যাচ্ছে। ছেলেটা কি যেন ভাবে। তারপর আসতে আসতে রেল লাইনের দিকে আগায়।



মেয়েটা ঘরে একা। তাকে সাজানোর জন্য এতক্ষণ যারা অপেক্ষা করছিল তারা সবাই বর দেখতে গিয়েছে। মেয়েটা আসতে আসতে বিছানা থেকে নামে। এগিয়ে যায় রুমের দরজার দিকে। দরজাটা লক করে। তারপর আবার ফিরে আসে বিছানায়। ড্রয়ারে সে কিছু একটা রেখে ছিল। গতকালকে সে এটা অনেক কষ্ট করে আনিয়েছে। ড্রয়ারটা খুলে সে ওটা বের করে। তারপর কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখে। দুগাল বেয়ে অবিরাম অশ্রু পড়ে।



পরদিন খবরের কাগজে ছেলেটার ছবি আসে। তার কয়েক পাতা পর মেয়েটার ছবিও দেখা যায়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.