নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্য বলবোই !

নিজের জন্যেই নিজে একা বসে ভাবি !

মান্যবর

মান্যবর › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিছু বলব বলে এসেছিলেম।।

৩১ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১২:১০

"হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো, কে বলছেন?" সেলফোনে অনবরত বলেই যাচ্ছে রাতুল। ওপার থেকে কোন উত্তর নেই। কিছুক্ষণ এরকম হওয়ার পর মেজাজ খারাপ করে ফোন কেটে দেয় সে। "এটা তো দেখছি প্রতিদিনের সমস্যা হয়ে গেল।" তার রুমমেট সাবিতকে বলল রাতুল। সাবিত বলল, "দেখ তোর কোন পরিচিত কেউ হবে হয়তো।" "পরিচিত না ছাই।" কিছুটা ঝাঝের সাথেই বলল রাতুল। "সকাল বেলাই মেজাজটা খারাপ করে দিল।"



এরকমটা প্রতিদিনই হচ্ছে রাতুলের সাথে। প্রতিদিনই কোন না কোন সময় একটা নাম্বার থেকে তার কাছে ফোন আসছে। ফোন ধরার পর ওপাশ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায় না। কয়েকবার হ্যালো হ্যালো করার পর লাইন কেটে দেয়া হয়। রাতুল বুঝতে পারছে না কে বা কারা এমনটা করছে। এসব ভেবে ভেবেই ভার্সিটিতে প্রবেশ করে সে। ঢোকার মূহুর্ত্বে হঠাৎ করে অর্ণি'র সাথে দেখা হয়ে যায় তার। অর্ণিকে দেখেই রাতুলের মাথাটা ঘুরে যায়। সে অন্যদিকে তাকিয়ে না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। অর্ণিও রাতুলকে একপলক দেখে মাত্র।



ক্লাসের সবথেকে কিউট মেয়েটি ছিল অর্ণি। অন্তত রাতুলের তাই মনে হয়। তারা দুইজন একই ইয়ারে একসাথে পড়ত। কিন্তু রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণে এক ইয়ার ড্রপ দেয় অর্ণি।



ভার্সিটিতে রাতুলের সবথেকে ভালো বন্ধু ছিল অর্ণি। অনেকগুলো বন্ধুর মাঝেও অর্ণিকে সময় দিতে রাতুলের কখনো কুন্ঠাবোধ হত না। অপরদিকে অর্ণির একমাত্র বন্ধুই ছিল রাতুল। অর্ণি রাতুলকে অন্য সবার চেয়ে বেশি বিশ্বাস করত। সেই বিশ্বাসের মর্যাদাও অবশ্য রাতুল রেখেছে!



অর্ণিকে না জানিয়ে মনে মনে অনেক আগে থেকেই তাকে ভালোবাসত রাতুল। কিন্তু ভুলেও অর্ণির সামনে এটা প্রকাশ করত না। পাছে তাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায় এই ভয়ে। কিন্তু এভাবে বেশিদিন থাকা সম্ভব হচ্ছিল না তার। অবশেষে রাতুল সিদ্ধান্ত নেয় অর্ণিকে সবকিছু খুলে বলার। রাতুল জানত যদি কোন মেয়ে কখনো তাকে বুঝতে পারে তাহলে সে হল অর্ণি। তাই রাতুল প্রস্তুত হয়ে যায় অর্ণিকে তার মনের কথাগুলো বলতে।



সে দিনের কথা মনে হলে এখনো রাতুলের বুক কাঁপে। বুকের ভেতর কোথায় যেন চিনচিনে ব্যাথা অনুভূত হয়। সবকিছু খুলে বলতেই গিয়েছিল সে। কিন্তু হঠাৎ করেই অর্ণি তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় শিহাবের সাথে। শিহাব অর্ণির বয়ফ্রেন্ড। রাতুল অবাক হয়ে যায়। শুধু এতটুকু ভাবে, "কই! এতদিন ধরে অর্ণির সাথে কথা বলছি ও তো কখনো শিহাবের কথা বলে নি।" ও কিছু না বলেই সেখান থেকে চলে আসে। অর্ণিকে ভুলার চেষ্টা করে। আস্তে আস্তে অর্ণির সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু অর্ণি বুঝতে পারে রাতুলের কিছু হয়েছে। সে রাতুলকে অনবরত জিজ্ঞেস করতেই থাকে কি হয়েছে বলার জন্য। রাতুল রাগের অভিনয় করে। দেখায়, দেখ আমি তোমার প্রতি প্রচন্ডভাবে রেগে আছি। কিন্তু অর্ণি বুঝে ফেলে। এতদিনের ভালো বন্ধু যার এক ইশারাতেই সব বুঝা হয়ে যেত তাকে বুঝতে সময় লাগে না। সে রাতুলকে বার বার জিজ্ঞেস করে। অবঃশেষে রাতুল নিজের কাছে হার মানে। অর্ণিকে ডেকে নিয়ে নিজের মনের সকল কথা খুলে বলে দেয় তাকে। অর্ণি কিছু বলে না। শুধু তাকিয়ে থাকে। রাতুল তার কথা বলে যায়। শেষে অর্ণি জিজ্ঞেস করে, "কেন? কেন? তুমি আমাকে আগে এ কথা গুলো বলনি?" রাতুল বলে, "ভয়ে। আমি ভয় পেতাম যদি আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়।" তখন অর্ণি বলে, "কিন্তু এখন তো এসব সম্ভব নয়। আমি শিহাবকে ভালোবাসি।" রাতুল বলে, "আমি জানি এটা অসম্ভব। কিন্তু আমার মন মানতে চাচ্ছিল না। তাই তোমাকে সবকিছু বলে দিলাম। আমি আজকে তোমার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমি জানি যদি আমি তোমার সাথে আবারও আগের মত আচরণ করা শুরু করি তাহলে আমরা দু'জনই কষ্ট পাব। তার চেয়ে দু'জন আলাদা হয়ে যাওয়াই ভালো। যদি কখনো মনে কর আমি তোমার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য, আমার কাছে ফিরে এসো। আমি তোমাকে কখনো ফিরিয়ে দেব না।"



এসব কথা ভাবতে ভাবতেই হাঁটছিল রাতুল। হঠাৎ অর্ণি ওর সামনে এসে দাঁড়ায়। বলে, "রাতুল, একটু দাঁড়াও। তোমার সাথে আমার কথা আছে।" রাতুল অবাক হয়। তার সাথে কিছুটা খুশিও হয়। বলে, "ঠিক আছে। কি বলার বল।" অর্ণি বলে, "তোমাকে প্রতিদিন কে ফোন দিয়ে কোন কথা বলে না জানতে চাও?" রাতুল বলে, "অবশ্যই।" তখন অর্ণি বলে, "আমি।" রাতুল অনেকটা শকড হয়। অনেকটা অবিশ্বাসের সুরে বলে, "তুমি!" অর্ণি বলে, "হ্যা, আমি। তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে আমি শিহাবের সাথে থাকতে পারছিলাম না। কেন যেন তোমাকে অনেক বেশি মিস করতে শুরু করেছিলাম। বুঝতে পারছিলাম শিহাবকে আমি ভালোবাসি না। আমি ভালোবাসি তোমাকে। তাইতো অনেকবার চেয়েছি তোমাকে ফোন দিয়ে তোমার সাথে কথা বলতে। কিন্তু সাহসে কুলায় নি। তোমার কণ্ঠ শোনার পর আমি আর কিছু বলতে পারতাম না। নিজের কাছে অপরাধী ছিলাম তাই তোমাকে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারি নি। তোমাকে প্রতিদিন ফোন দিয়ে তোমার কণ্ঠ শুনতাম আর কাদঁতাম। কিন্তু আজকে যখন অনেকদিন পর তোমাকে দেখলাম তখন আর নিজেকে সামলে রাখতে পারি নি। আমি আবার তোমার কাছে ফিরে এসেছি। আমাকে ফিরিয়ে দিও না।" রাতুল কথাগুলো শুনে আর দেখে অর্ণির চোখদুটো থেকে অবিরাম পানি ঝরছে। রাতুলের চোখ দিয়েও পানি বেরিয়ে আসে। সে এগুলো লুকানোর বৃথা চেষ্টা করে। কিন্তু অর্ণির চোখকে ধোঁকা দিতে পারে না। রাতুল বলে, "পাগলি! আমি কি কখনো তোমাকে ফিরিয়ে দিতে পারি।"



এখন আর রাতুলের সেলফোনে অজানা নাম্বার থেকে কেও ফোন করে কথা না বলে রেখে দেয় না। রাতুলেরও সকাল সকাল মেজাজটা খারাপ হয় না।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.