নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্য বলবোই !

নিজের জন্যেই নিজে একা বসে ভাবি !

মান্যবর

মান্যবর › বিস্তারিত পোস্টঃ

কেন এমন হয়??

০২ রা জুন, ২০১৩ দুপুর ২:০২

ছুটির দিন। কি যেন ভাবছিলাম। হঠাৎ করে মোবাইলে মেসেজ আসার সাউন্ড। একটু অনিশ্চয়তা নিয়ে মোবাইলটা হাতে নিলাম। ভাবলাম ভাল কিছুই হয়তো হবে। মেসেজটা দেখে মেজাজ চরম খারাপ হয়ে গেল। অপারেটর থেকে মেসেজ 'প্রিয়জনকে উপহার দিতে চান' এই টাইপ। কিছুটা হাঁসি পেল। প্রিয়জনকে উপহার না! প্রিয়জন! চিন্তার ধারা ছুটে গেল। পুরানো অনেক কথা মনে হতে থাকলো। নিজের উপরই রাগ হওয়া শুরু হল। খুবই খারাপ অবস্থা। কিছুতেই মাথা থেকে বিষয়টা দূর করতে পারছি না। তখন বুদ্ধি এল বাইরে যাওয়ার। গেলাম বাইরে। কয়েকজনকে ফোন দিলাম। বেশিরভাগই ফোন ধরল না। যে কয়জন ধরল তাদেরও সমস্যা এখন দেখা করতে পারবে না। ভাবলাম থাক। নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান করবো। কিছুক্ষণ রাস্তায় রাস্তায় হাটলাম। তারপর বাসায় ফিরে এলাম। দূপুর রোদে বাইরে হাটাহাটি করায় খুব গরম লাগছে। কিছুক্ষণ ফ্যানের নিচে বসে গোসল করতে গেলাম। গোসল করে শরীরটা কিছুটা হালকা লাগছিল। তারপর খেয়ে গল্পের বই পড়তে বসলাম।



পড়তে বসে কেমন যেন লাগতে থাকল। কিছুটা অস্থিরতা। কিছুটা উদ্বেগ। কিছুটা ভয়। ধুর মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল। কোন কিছুই ঠিকভাবে করতে পারলাম না। নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকলাম। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। ঘুরে ফিরে সেই পুরানো কথা বারবার মনে পড়তে শুরু করল। তখন ভাবলাম ধুর কি আর আছে, স্মৃতি যা মনে করতে চাচ্ছে তাকে তা করতেই দেই। ফিরিয়ে রাখব কতদিন। নিজের স্মৃতিকে তার নিজের মত থাকতেই দেই। হঠাৎ করে চোখের সামনে ভেসে উঠল একটা মুখ। একটা মানুষের কন্ঠ শুনতে লাগলাম। সবকিছু এক লাফে আমার সামনে এসে পড়ল।



আহ! কি ভালই না ছিল দিনগুলি। কোন জটিলতা ছাড়াই জীবন কেটে যেত। কখনো কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হত না। কারো সাথে কখনো মিথ্যা বলতে হত না। কখনো অভিনয় করা লাগত না।



একটা মেয়েকে ভাল লাগত। খুবই ভাল লাগত। তার সাথে সময় কাটানোর জন্য সবসময় চেষ্টা করতাম। কখনও পারতাম আবার কখনও পারতাম না। আস্তে আস্তে দূর্বল হওয়া শুরু হল। বুঝতে পারতাম আমি কি চাচ্ছি। ফ্যান্টাসিতে ভোগা শুরু করলাম। একদিন তাকে না দেখলে মনে হত জীবনটাই থেমে গেছে। কাজে মন দিতে পারতাম না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না। শুধু ভাবতাম আমি যাকে নিয়ে এতকিছু ভাবছি সে কি আমাকে নিয়ে কিছু ভাবে। তার সাথে পরোক্ষ ভাবে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতাম কিন্তু কিছু বুঝতে পারতাম না। অপেক্ষা করছিলাম উপযুক্ত সুযোগের। কিন্তু তা পাচ্ছিলাম না। মাঝে কয়েকদিন ওর সাথে দেখা নেই। আমি খুবই অস্থিরতায় ভোগা শুরু করলাম। হঠাৎ একদিন একটা মেসেজ। 'আই মিস ইউ'। আমি পুরো অবাক। নিজেকেই নিজে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তৎক্ষণাৎ ফোন দিলাম। ফোন দিয়ে ওর কন্ঠ শুনেই বুঝতে পারলাম কিছু হয়েছে। আমি কিছু না বলে ওকে বলতে দিলাম। ও বলল আমি নাকি বোকা। আমি বললাম কেন। এরপর ও আমাকে যা বলল তা আমার জীবনের শোনা সবচেয়ে সুখকর কয়েকটা কথা। ও বলল ও অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করে আছে আমার কিছু বলার কিন্তু আমি কিছু বলছিনা। আবার ও কিছু বলতেও পারছে না। সারাক্ষণ আমাকে নিয়ে চিন্তা করা শুরু করেছে। আমি তখনও কিছু বলতে পারছিলাম না। খুশিতে আমার কথা গলায় আটকে যাচ্ছিল। অনেক কষ্ট করে ওকে শুধু বললাম 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'। ও আমাকে কিছু বলল না। কিন্তু আমি সব বুঝে নিলাম।



এরপর থেকে শুরু হল আমার প্রথম এবং একমাত্র প্রেম জীবন। প্রতিদিন নিয়ম করে কথা হওয়া শুরু হল। নিয়ম করে বেড়ানো শুরু হল। ওকে নিয়ে অনেক জায়গায় বেড়াতে গেছি। ওর সাথে যতক্ষণ থাকতাম ততক্ষণ নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হত। আসলেই সুখী ছিলাম। একটা মানুষের জীবনে এমন একটা মানুষ পাওয়া যে তাকে বুঝতে পারে এর থেকে বেশি সুখ আর কি হতে পারে। আর কিছু চাওয়ার ছিল না আমার। শুধু ওকে নিয়েই ব্যাস্ত থাকতাম। পৃথিবীর সকল বিষয় নিয়ে বন্ধুর মত আলাপ করতাম। আবার প্রেমিক-প্রেমিকার রোমান্টিক আলোচনাও হত। কখনো মনে হয় নি কোন দুঃক্ষ কখনো আমাদের স্পর্শ করতে পারবে। এমন একজন মানুষকে ভালোবাসা যে আমার যত্ন নেয়, যে আমার ভালো-মন্দ চিন্তা করে - আসলেই! কত ভাগ্যবান ছিলাম আমি! বন্ধুদের মাঝে নাম হয়ে গিয়েছিল আমাদের। ওরা আমাদের ডাকতো 'ম্যাড ফর ইচ আদার'। 'মেড' নয় 'ম্যাড' মানে পাগল। আসলেই ঠিক বলত ওরা। আমরা পাগলই ছিলাম। একদিন একজন আরেকজনকে না দেখলে থাকতে পারতাম না।



এভাবেই চলতে লাগল আমাদের জীবন। ভার্সিটি লাইফের চার বছর পার হল। মজার ব্যাপার হল আমাদের এত স্প্রেড রিলেশন থাকার পরেও কখনো কেও বাসায় ধরা খাই নি।



অনার্স পাশ করার পর দুই জনই সিদ্ধান্ত নিলাম একসাথে মাস্টার্স করবো। কিন্তু ওর বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করল। ও আমাকে সবকিছু জানায়। আমি চিন্তা করতে লাগলাম কি করা যায়। আমার পরিবার মোটামোটি রক্ষণশীল। তারপরও আমি বিষয়টা বাসায় প্রকাশ করলাম। বাসা থেকে তৎক্ষণাৎ কোন সিদ্ধান্ত পেলাম না। কিছুদিন পর ও বলল ওর বাসায় ওর বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ওদের বাসায় যাব। ও বলল ঠিক আছে। আমি গেলাম। ওদের বাসায় আলাপ করে এলাম। সেখান থেকে বলল পরিবার থেকে প্রস্তাব আসলে তারা চিন্তা করে দেখবে। আমি আমার বাসায় আবার বলি। এবার সবাই রাজী হয়। পরিবার থেকে প্রস্তাব যায়, আর তারা সেটা গ্রহণও করে।



একমাস পর আমাদের বিয়ে হয়। এত ভাল ছিল যাদের প্রেম জীবন তাদের বিয়ে পরবর্তী জীবন নিশ্চই সূখী হবে তাই না। আমিও তাই ভেবেছিলাম। আমার ভাবনার সাথে সংগতি রেখে কয়েকটা মাস খুব ভালই কেটে গেল। বুঝতেই পারলাম না কয়েকটা মাস কিভাবে কাটল।



তারপর আমরা মাস্টার্সে ভর্তি হলাম। মাস্টার্স শেষ করার পর সিদ্ধান্ত নিলাম দুইজনই চাকরী করবো। যেমন ভাবা তেমন কাজ। আলাদা বাসা ভাড়া করে থাকতে লাগলাম। দুইজনই চাকরী করি। এর ফলে শুধু রাতেই আমাদের দেখা হত। এভাবে কেটে গেল একটা বছর।



একবছর পর আমার কেমন যেন লাগতে থাকল। ওকে কেন জানি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ওর সকল কথার পেছনের কারণ খোজা শুরু করলাম। সামান্য বিষয়ে অনেক্ষণ ঝগড়া করা শুরু করলাম। তার কারণ আমি নিজেই বুঝতে পারছিলাম না। চার বছর প্রেম করার পর বিয়ে করে এমন হওয়াটা অস্বাভাবিক। কিন্তু কেন যেন এমনটা হতে থাকল। আস্তে আস্তে আমি ওর সাথে চরম দুর্ব্যাবহার করা শুরু করলাম। প্রতিদিন রাত করে বাসায় ফিরতাম। ড্রাগস নেয়া শুরু করেছিলাম। খুব বেশি মাত্রায় নিতাম না। কিন্তু ড্রাগস নিয়ে বাসায় গিয়ে উলটাপালটা আচরণ করতাম। প্রথম প্রথম ও সহ্য করত। কিন্তু তারপর ও আর সহ্য করে নি। প্রথম প্রথম আমার মানসিক সমস্যা হচ্ছে বলে ডাক্তার দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি যাই নি। আমি কি পাগল হয়ে গেছি নাকি। আমাকে ডাক্তার দেখাতে হবে কেন। এই ধরণের কথা বলতাম। মাঝে মাঝে ঝগড়ার মাঝখানে ওর গায়ে হাত তোলা শুরু করতাম। ওকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতাম।



ও ওর বাবার বাসায় চলে গেছে। আমি বাসায় একা থাকি। একদিন অবশ্য গিয়েছিলাম ওকে আনতে কিন্তু ও আসেনি। আমিও পরে আর জোর করি নি। ওকে বলে এসেছি আমি আর আগের মত নেই। যদি তুমি আমার কাছে আসতে চাও তাহলে যেকোন সময় চলে এসো। ও কিছু বলে নি।



আমি ড্রাগস নেয়া ছেড়ে দিয়েছি। ডাক্তারের কাছেও গিয়েছি। নিয়মিত ঔষধ খাচ্ছি। সবসময় বসে থাকি ওর ফেরার অপেক্ষায়। ভয়ে ওকে ফোন বা মেসেজ দিতে পারি না। ওর ফোন বা মেসেজের অপেক্ষা করে মোবাইল হাতে নিয়ে বসে থাকি। হয়তো একদিন আসবে কোন ফোন অথবা মেসেজ। হয়তো একদিন ফিরে আসবে ও আমার কাছে। হয়তো বলবে তুমি একটা বোকা। আমি বসে আছি। বিকেল বেলা। হাতে গল্পের বই। টেবিলের উপর মোবাইল।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.