| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রিয় দলের ফুটবল খেলা দেখছিলাম। খেলা শেষ। ২-২ গোলে ড্র। ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফেইসবুকে ঢুকলাম। ঢুকার পর দেখলাম 'মিতু'র কাহিনী। তৎক্ষণাৎ মোবাইল রেখে ল্যাপটপ হাতে নিলাম। কিছু কথা মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। কথাগুলো না বললেই নয়।
১/ নারীবাদী সমাজ আমি ব্যাক্তিগতভাবে পছন্দ করি না। নারীদের সম অধিকার দেয়া পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু এরপর আর ঠিক লাগে না। তার একটা কারণ বর্ণনা করছি। দেখুন, প্রগতিশীল নারী সমাজ বলতে যা বুঝায় তা আমাদের দেশে কখনোই সম্ভব না। এক্ষেত্রে নারীরাই তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। প্রগতিশীল নারী সমাজের কথা বলে সুবিধা পায় শুধুমাত্র কিছু বিশেষ ব্যাক্তি এবং 'সুশীল সমাজ' খ্যাত একশ্রেণীর মানুষ। তারা নিজেদের বাঁচাতে প্রগতির ব্যানার গ্রহণ করে। প্রগতিকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে তারা তাদের সমাজ ব্যাবস্থা টিকিয়ে রাখে। উদাহরণ চান?? কত দেব?? কিছুদিন আগের ডাঃ আফসা থেকে আজকের মিতু। এদের কারো সাথে কি এসব প্রগতিশীল সুশীল সমাজের যোগাযোগ রয়েছে?? এসব 'চুতিয়া' ব্যাক্তিরা মুখে অনেক বড় বড় কথা বলে, সভা সমাবেশে অনেক বড় বড় বক্তৃতা দেয়। তারপর যখন তাদের দরকার হয় তখন "মিসেস চৌধুরীর এনিভার্সারি। পার্টি।" এসবেই মনোযোগ দিতে দেখা যায়।
২/ বিশ্বের সকল দেশের মানবাধিকার কমিশন হল সাধারণ মানুষের আশা ভরসার একটা প্রতীক। কিন্তু আমাদের দেশে এটি থাকার যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হয় না। আমাদের মানবাধিকার কমিশন সমাজের সবথেকে বড় 'চুতিয়া'দের একটা মিলনস্থল। তারা শুধু পারে পুরোনো চুইঙ্গগাম চিবাতে। চুইঙ্গগামটা যে তেতো হয়ে গেছে সেদিকে তাদের ভ্রূক্ষেপ নেই। এই পর্যন্ত মানবাধিকার কমিশনকে একটু একটিভ দেখা গেছে 'লিমন' ইস্যুতে। এছাড়া সকল ইস্যুতে উনারা 'দুধভাত' ('দুধভাত' বুঝেন তো। খেলার সময় যারা শুধু শুধুই মাঠে থাকে কিন্তু কোন কিছুতে অংশ নিতে পারে না।)। মানলাম 'লিমন' ইস্যুতে আপনাদের অনেক বড় অবদান আছে। কিন্তু আপনারা করেছেন কি?? লিমনকে নিয়ে নাটক ছাড়া। এরকম নাটক আর কত করবেন?? এবার এটা রাখুন। বাংলাদেশে ইস্যুর অভাব নেই। অন্য যেকোন ইস্যু ধরে ঝুলে পড়ুন। অন্তত আমরা নতুন একটা চুইঙ্গগাম দেখতে পাবো আপনাদের মুখে।
৩/ সংবাদ মাধ্যম গুলোর কথা আর কি বলব। হলুদ সাংবাদিকতা এখন নীতি। আচ্ছা আপনারা কি এমন একটা জিনিসের নাম জানেন যার রঙ হলুদ?? বলতে পারবেন?? থাক আর কষ্ট করে লাভ নেই আমিই বলে দিচ্ছি। জিনিসটা হল মানুষের বর্জ্য (সোজা বাংলায় লিখলে খারাপ শুনায় তাই একটু ভদ্র ভাষায় লিখলাম।)। তাহলে কি বলা যায় যে, আপনাদের সাংবাদিকতা মানুষের বর্জ্যের সমতূল্য। এভাবে আর কতদিন মানুষের বর্জ্য নিয়ে ঘাটাঘাটি করবেন। এমনিতেই দূর্গন্ধ আসছে আরো করলে বেঁচে থাকা দায় হয়ে যাবে।
৪/ যেখান থেকে শুরু করেছিলাম আবার সেখানে ফিরে যাই। বিষয়টা ছিল 'মিতু' নামের একজন মহিলার কাহিনী। শুধুমাত্র কালো হওয়ার জন্য তিনি তার শ্বশুর বাড়ি থেকে খোটা শুনতেন। আমি এখানে শুধুমাত্র বলছি! কিন্তু তা কি করে সম্ভব! এটা কি শুধুমাত্র হবে?? আমি মনে করি না। তাহলে কি করা যায়। হ্যা, এখানে শুধুমাত্র ব্যবহার করাটা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের মানুষের কাছে কোন মেয়ের কালো হওয়াটা শুধুমাত্র নয়। এটা অনেক কিছু। সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি কালো মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকদের কি পরিমাণ যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। কালো হয়ে জন্মানোটাই হল মেয়েজাতির সবচেয়ে বড় অভিশাপ। নিয়মিত নিজের অথবা অন্যের পরিবার থেকে খোটা শোনা ওদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়। কেও কেও এই খোটা সহ্য করে বেঁচে থাকে আর কেও কেও থাকতে পারে না। আমি এটা তাদের অকৃতকার্যতা বলবো না। কারণ সব মানুষ সমান নয়। এখানে 'মিতু'র ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছে। সে সহ্য করতে পারেনি। 'মিতু' আপা এটা আপনার দোষ না। এটা আমাদের সমাজের দোষ, এটা আমাদের সকল মানুষের দোষ।
৫/ আমার ব্যাক্তিগত কথায় আসি। আমি কখনোই চাই না কোন কালো মেয়ে আমার ঘরের বউ হোক। শুধু আমি না, আমি মনে করি যারা আমার কথাগুলো পড়ছেন তাদের প্রায় সবাই এটাই চান। "কোন কালো মেয়েকে আপনার ঘরের ঘরণী করতে ব্যাপক আপত্তি তারপরও আপনি এত বড় বড় ডায়ালোগ ঝারছেন কেন?"- কারো মনে যদি এই প্রশ্ন জেগে থাকে তবে তাদের জন্য উত্তরঃ আমি ভন্ড, আমি প্রতারক। আমি নিজেকে তাই ভাবি। তাই ভালো মানুষের অভিনয় করতে যাই। কিন্তু আমি মানুষ মোটেও ভালো না। আমি নিজেই নিজেকে গালি দেই আবার নিজেই নিজেকে সম্মানিত করি। উপরে উল্লেখিত প্রত্যেকটা 'আমরা' কথায় আমার অবস্থান রয়েছে। আমি মনে করি সমস্যাটা আমাদের সবার, আমাদের সমাজ ব্যাবস্থার। সমাজ আপনাকে এমনভাবে বড় করে তুলেছে যে আমরা কোন মেয়েকে পছন্দ করতে গেলে আগে সাদা চামড়া দেখি। সাদা চামড়ার যে কেও আমাদের রোল মডেল। তাদের সবকিছুই আমাদের পছন্দনীয়। এইখানে একটা জোকস বলার খুব ইচ্ছা করছে। জোকসটা হল "ঘরের বাত্তি নিভাইলে সকল কালো মাইয়ারেই ক্যাটরিনা মনে হয়।" একটু অসভ্য হয়ে গেল। এজন্য সবার কাছে মাফ চাচ্ছি। কিন্তু কথা ওইটাই। সকল দোষ কালোর। দরকার আমাদের এই মানসিকতাকেই পরিবর্তন করা এবং খুবই দ্রুত।
৬/ একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাই। মনে করার চেষ্টা করুন ডাঃ শেজাদী আফসা'র কথা। একটি মেয়েকে ডাক্তারী পাশ করাতে অভিভাবকদের যে কি পরিমাণ কষ্ট করতে হয় তা হয়তো সবাই জানেন না। শুধু এতটুকু বলে রাখি। মেয়েটি মেডিক্যালের পড়া যে পরিমাণ পড়ে তার বাবা-মার কষ্ট আরো বেশি থাকে। এমন একজন ডাক্তার খুন হলেন তার স্বামী লেঃ কর্নেল দ্বারা। কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত কোন কিছুই পেলাম না। তার কারণ কি এটাই যে একজন লেঃ কর্নেল বলেই তিনি মুক্তি পেয়ে যাবেন। ডাঃ আফসা'র দশ বছরের শিশু আহনাফ কি পাবে না তার মা'এর খুনের বিচার?? কি জানি। কিছুই বলা সম্ভব না। আমি আমার অনেক আগের একটি পোস্টে বলেছিলাম পৃথিবীতে বাঙালি জাতিই মনে হয় সবথেকে আনপ্রেডিক্টেবল। এখন বলছি, হ্যা, আমি সিউর, বাঙালি জাতি এই গর্ব করতে পারে যে তারাই সবথেকে আনপ্রেডিক্টেবল।
একটা কথা ডাঃ আফসা'র ক্ষেত্রে নাহয় মানলাম সেনাবাহিনীর উর্ধ্বোতন কর্মকর্তা হওয়ার কারণে লেঃ কর্ণেল শাফিকুল ইসলাম বেঁচে যাবেন। কিন্তু 'মিতু'র শ্বশুর-শ্বাশুড়ি তো আর এত বড় কেও নন। তাহলে মানসিক অত্যাচার করে আত্মহত্যার মত খারাপ কাজে প্রণোদিত করার জন্য তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। না তাদের বিচারও হবে না??
অনেক কিছু বললাম। নিজের লেখা পড়ে নিজেকেই 'চুতিয়া' বলতে ইচ্ছা করছে। আমি ভন্ড, আমি কাপুরুষ, তাইতো নিজের মনের কথাগুলো লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাই। আমি ঐসব লোকদের মত না যারা নিজেদের মতামত প্রকাশই করতে চায় না। আমি ওদের মত হতেও চাই না। আমি ভন্ড, কাপুরুষ আছি, ভালো আছি, বেশ ভালো আছি।![]()
©somewhere in net ltd.