নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আত্মার প্রকারভেদঃ

Shahindranath

1

Shahindranath › বিস্তারিত পোস্টঃ

সনাতনসংবাদ

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:১৭

মানবতার কল্যাণে সত্য প্রকাশে নির্ভীক>চুচুলীবটতলী সত্যসনাতন আধ্যাত্মিক পরিষদ । আটোয়ারী,পঞ্চগড়,বাংলাদেশ ।
সত্যবাদীতা একটি বিশেষ গুণ । এ গুণ যার থাকে,তিনি সমাজে বিশেষভাবে সন্মানিত হন । সত্যবাদীতা মানব-চরিত্রের একটি মহৎ গুণ । গোপন না করে অকপটে সবকিছু প্রকাশ করার নামই "সত্যবাদীতা" । সত্য মানবজীবনের স্বরূপ বিকশিত করে । সত্যের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বা তথ্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায় । সত্যবাদী কখনও খারাপ কাজ করতে পারে না । সত্যবাদীকে সকলে ভালবাসে,সন্মান করে,শ্রদ্ধা করে । সত্যবাদীতা ধর্মের অঙ্গ । সকলেরই উচিৎ সত্য কথা বলা,সৎপথে চলা এবং সত্যবাদীতার অনুশীলন করা । এ বিশ্বে যত মহাপুরুষ আছেন তাঁরা সকলেই সত্যবাদী । সত্য প্রকাশ করাই ছিল তাঁদের জীবনের অন্যতম ব্রত ।
সত্য হচ্ছে দর্শনশাস্ত্রের একটি ধারণা যা প্রকৃত বিষয় বা ঘটনার সাথে যোগাযোগের সেঁতুবন্ধন গড়ে তোলে । যদি কোনো বিষয় প্রকৃতই ঘটেছে বলে মনে করা হয়,তখন তা সত্য হিসেবে বিবেচিত হয় । যিনি সত্য কথা বলেন বা লিখেন,সমাজে তিনি সত্যবাদী নামে পরিচিতি লাভ করেন ।
উদাহরণস্বরূপ-মানুষের রক্তনীল,তখন তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে । সত্য বিষয় হচ্ছে মানুষের রক্ত লাল । সত্যস্বর্গ ও মিথ্যা নরকের পথ

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:১১

Shahindranath বলেছেন: গণেশের মাতৃভক্তি- মা দূর্গার ছেলে গণেশ ও কার্তিক । গণেশের দেহটি মোটাসোটা,তাঁর বাহন ইঁদুর । অপরদিকে কার্তিকের সুঠাম বলিষ্ঠ দেহ,তাঁর বাহন ময়ূর ।
মা দূর্গা ঘোষণা করলেন,যে আগে পৃখিবী ঘুড়ে এসে মাকে প্রণাম করতে পারবে তাকেই তিনি গলার হার দেবেন । দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হলো । গণেশ দেখলেন তাঁর বাহন ইঁদুরকে নিয়ে কার্তিকের বাহন ময়ূরকে হারানো সম্ভব নয় । তখন গণেশের মনে হলো,মাতা জগৎরূপিণী,তিনিই পৃথিবী । তাঁর চারিদিকে ঘুরে আসলেই পৃথিবী ঘোরা হয়ে যাবে । এই চিন্তা করে গণেশ ভক্তিভরে মায়ের চারিধার ঘুরে এসে মাকে প্রণাম করলেন । অপরদিকে কার্তিক দ্রুতগতিতে পৃথিবী ঘুরে এসে দেখেন গণেশের গলায় মা হারটি পরিয়ে দিয়ে গণেশকে কোলে নিয়ে বসে আছেন । এ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে মা দূর্গা কার্তিককে বললেন,গণেশ অত্যন্ত জ্ঞানী । সে জানে মাতাই পৃথিবী । তাই তাঁর চারপাশে ঘুরলে পৃথিবী ঘোরা হয় । গণেশের এ মাতৃভক্তি জগতে অমর হয়ে রয়েছে । সকল ছেলে মেয়েরই উচিত মাতা-পিতাকে দেবতা জ্ঞানে ভক্তি করা,সেবা করা ।
বাবা-মা তাঁদের জীবনের সমস্ত ভালবাসা দিয়ে সন্তানদের ভালবাসেন ও মঙ্গল কামনা করেন । সন্তনদের মঙ্গলের জন্য তাঁদের সমস্ত জীবন নিরলসভাবে কাজ করে যান ।

২| ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:১৭

Shahindranath বলেছেন: নিত্যকর্ম ও যোগসাধন-প্রতিদিনের কাজকেই বলা হয় নিত্যকর্ম । যেমন-প্রতিদিন প্রভাতে সূর্যপ্রণাম একটি নিত্যকর্ম । নিত্যকর্ম মেনে চললে একদিকে নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায় অপরদিকে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা যায় । ঈশ্বর-আরাধনার একটি পদ্ধি হচ্ছে যোগ । যোগ বলতে বোঝায় ভগবান ও তাঁর সত্যচেতনার সঙ্গে যোগ স্থাপন । আসন হচ্ছে যোগের একটি অঙ্গ । স্থির ও সুখাবহ অবস্থিতির নামই আসন । যোগাসন অনুশীলনে কতগুলো সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হয় । তবেই এর সুফল পাওয়া যায় । নিয়মিত যোগাসন অনুশীলনে দেহকে বিভিন্ন রোগ থেকে দুরে রাখা যায় । ফলে শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ,সবল ও সুন্দর হয়ে ওঠে,এবং মনও হয়ে ওঠে আনন্দ ও শান্তিময় । সুতরাং দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে আসনের গুরুত্ব অপরিসীম ।
নিত্যকর্মের ধারণা-এ পৃথিবীটা বিরাট কর্মক্ষেত্র । এখানে সকলকেই কিছু-না-কিছু কর্ম করতে হয় ।কেননা জাগতিক কর্ম ছাড়া জীবনধারণ করা যায় না । তাই কর্মকে জীবন এবং ধর্ম বলা যায় । 'নিত্য'অর্থ প্রত্যহ বা প্রতিদিন । কর্ম মানে কাজ । সুতরাং শাব্দিক অর্থে নিত্যকর্ম বলতে বোঝায় প্রতিদিন যে-কাজ সম্পন্ন করা হয় ।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়-ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঈশ্বর ও গুরুর নাম স্মরণ করা,পিতামাতাকে প্রণাম করা ইত্যাদি

৩| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৫২

Shahindranath বলেছেন: নিত্যকর্মের প্রভাব ও গুরুত্ব - নিত্যকর্ম করলে নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায় । সময়ের কাজ সময়ে শেষ হয় । কোনো কাজই একেবারে অসমাপ্ত পড়ে থাকে না । কাজে নিষ্ঠাবান হওয়া যায় এবং শৃঙ্খলা বজায় থাকে । নিয়মিত ব্যায়াম,খেলাধুলা এবং আহারগ্রহণে শরীর ভালো থাকে । শরীর সুস্থ থাকলে মন ভালো থাকে । মন ভালো থাকলে পরিবেশকে ভালোলাগে এবং সকল কাজে ধৈর্যের সাথে মনোনিবেশ করা যায় ।নিয়মিত পিতা-মাতাকে প্রণাম করলে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি সুগভীর হয় । মানুষের প্রতি প্রীতি জন্মে । নিয়মিত অধ্যয়ন করলে ভালো ফলাফল করা যায় । জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ হয় এবং জীবনে সফলতা আসে ।নিয়মিত পূজা ও উপাসনার ফলে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি সুগভীর হয় এবং ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা যায় । আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত একটি সুন্দর জীবনযাপনের পথ অনুসরণ করা । সুতরাং আমরা নিত্যকর্মের নিয়মাবলি মেনে চলব এবং নিজের কাজে নিষ্ঠাবান থাকব । আমাদের হৃদয়ে থাকবে সুগভীর ঈশ্বরভক্তি । সকাম ও নিষ্কাম এই দুইধরণের নিত্যকর্ম । যে কর্মের মাঝে কামনা-বাসনা থাকে সেটা হলো সকাম কর্ম । কামনা-বাসনাবিহীন কর্ম হলো নিষ্কামকর্ম । কামনা-বাসনার কর্ম মানুষকে দুঃখ দেয় । কামনা-বাসনা রহিত কর্ম মানুষকে আনন্দ দেয়,সুখ দেয় ।

৪| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৩০

Shahindranath বলেছেন: যোগাসনের ধারনা-ঈশ্বরআরাধনার একটি পদ্ধতি হচ্ছে 'যোগ' । সাধারণভাবে 'যোগ' শব্দের অর্থ হচ্ছে কোনোকিছুর সঙ্গে অন্যকিছু যুক্ত করা । ধর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে এর অর্থ হচ্ছে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার বা ঈশ্বরের যোগসাধন করা । 'যোগ' শব্দটি সংস্কৃত ভাষা 'যজ্' ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়েছে । এর প্রধান অর্থ হলো মিল । যোগক্রিয়া জীবাত্মা পরমাত্মার মিলন ঘটায় । আবার চিত্তনিবৃত্তির এক নাম হল যোগ । যোগ দর্শনের প্রণেতা মহর্ষি পতঞ্জলি 'যোগ' শব্দের অর্থ করেছেন চিত্তবৃত্তি নিরোধ । সুতরাং যোগ বলতে বোঝায়,চিত্তবৃত্তি নিরোধ করে নিষ্কামভাবে ভগবানের সঙ্গে ও তাঁর সত্য চেতনার সঙ্গে যোগ ।
যোগের আটটি অঙ্গ । যথা- (১) যম- যম মানে সংযমী হওয়া । (২) নিয়ম-শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়া । নিয়মিত ও পরিমিত স্নান,আহার ও বিশ্রাম করা । (৩) আসন- বিশেষ ভঙ্গিতে বসাকে আসন বলে । (৪) প্রাণায়াম- শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রন করার পদ্ধতিকে প্রাণায়াম বলে । (৫) প্রত্যাহার- মনকে বহির্মুখী হতে না দিয়ে অন্তর্মুখী করাকে প্রত্যাহার বলে । (৬) ধারণা- কোনো এক বিষয়ে মনকে একাগ্র করা । (৭) ধ্যান- কোনো এক বিষয়ে মনের অবিচ্ছিন্ন চিন্তা । (৮) সমাধি- ধ্যানস্থ অবস্থায় মনকে ইষ্টচিন্তায় নিমগ্ন থাকা

৫| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৩০

Shahindranath বলেছেন: যোগাসনের সাধারণ নিয়ম ও গুরুত্ব-যোগাসন হচ্ছে দেহ,মনকে সুস্থ রাখার প্রক্রিয়া ।যোগাসনের সংখ্যা অনেক,যেমন-শবাসন,সিদ্ধাসন,গোমুখাসন,সর্বাঙ্গাসন ইত্যাদি ।যোগাসন অনুশীলন করতে হলে অবশ্যই কতগুলো সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হয় । যেমন-(১) নিদির্ষ্ট সময় মেনে সকাল ও সন্ধ্যায় যোগাসন অনুশীলন করা ভালো । (২) ভরাপেটে অথবা একেবারে খালিপেটে আসন অভ্যাস করা ঠিক নয় । সমান্য কিছু হালকা খাবার খেয়ে কিছুটা সময় পরে যোগাসন অভ্যাস করতে হবে । (৩) নরম বিছানার ওপর আসন অভ্যাস করা যাবে না । মেঝের ওপর কম্বল,শতরঞ্জি বা ঐ জাতীয় কিছু বিছিয়ে আসন অনুশীলন করতে হবে । (৪) যোগাসন কোনো নির্জন স্থানে বা নিভৃত কক্ষে আলো-বাতাসযুক্ত স্থানে করা দরকার,যেন কোনো বাধাবিপত্তি না আসে । (৫) আসন করার সময় আঁটসাঁট ভারী পোশাক না পরে ঢিলেঢালা হালকা পোশাক পরা উচিত । (৬) আসন অভ্যাস করার সময় মনকে ধীর,স্থির,শান্ত ও প্রফুল্ল রাখতে হয় । (৭) আসন অভ্যাসকালে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে । (৮) আসন অবস্থায় মুখে যেন কোনো বিকৃতি ভাব না আসে । (৯) আসন অভ্যাসকালে জোর করে বা ঝাঁকুনি দিয়ে কোনো ভঙ্গিমা প্রক্রিয়া করা ঠিক নয় । (১০) নিয়মানুযায়ী প্রত্যেকটি আসন করার পর শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে ।

৬| ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৪৮

Shahindranath বলেছেন: নিয়মিত যোগাসনে দেহে স্থিরতা আসে,দেহ সুস্থ থাকে এবং দেহ লঘুভার হয় । আসন কোনো জিমন্যাস্টিক ব্যায়াম নয়,শুধুই দেহভঙ্গি । এ দেহভঙ্গিতে দেহের প্রতিটি পেশি,স্নায়ু ও গ্রন্থির ব্যায়াম হয় । তাতে দেহ ও মনের কর্মতৎপরতা,সুস্থিতি,সহিষ্ণুতা ও জবনীশক্তি বৃদ্ধি পায় । আসনে দেহের গঠন সুন্দর ও উজ্জল হয়,দেহ বলশালী ও নমনীয় হয় এবং দেহ রোগমুক্ত থাকে । দেহের রক্ত প্রবাহ বিশুদ্ধ হয় । দেহের মেদ কমাতে শীর্ণতা দূর করতে যোগাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করে । যোগাসন দেহের অবসাদ ও ক্লান্তি দুর করে । যোগাসনে দেহ ও মন একই কেন্দ্রবিন্দুতে নিবদ্ধ হওয়ার ফলে চিত্তচাঞ্চল্য কমে । আসনের প্রকৃত গুরুত্ব এই যে, আসন মনকে বশে এনে উর্ধ্বলোকে নিয়ে যায় । যোগসাধক প্রথমে আসনের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য লাভ করেন তারপর তিনি অধ্যাত্মসাধনায় নিয়োজিত হন তিনি তাঁর সমস্ত কর্ম ও ফল বিশ্বসেবায় ঈশ্বরে সমর্পণ করেন ।

৭| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৩৩

Shahindranath বলেছেন: শবাসনের ধারণা ও অনুশীলন-পদ্ধতি-শব শব্দের খর্থ মৃতদেহ । মৃতব্যক্তির মতো নিষ্পন্দভাবে শুয়ে যে-আসন করা হয় তার নাম শবাসন । মৃতব্যক্তি যেমন তার দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর কোন কতৃত্ব থাকে না,তেমনি শবাসন অবস্থায় আসনকারীর দেহের কোনো অংশে তার কোন কতৃত্ব থাকবে না । শবাসনের লক্ষ্য মৃতব্যক্তির মতো নিশ্চল নিঃসাড় হয়ে শুয়ে থাকা,কিন্তু চেতনা হারানো নয় । মাটিতে চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটি লম্বা করে দিতে হবে । পা দুটোর মধ্যে প্রায় এক ফুটের মতো ফাঁকা থাকবে এবং হাত দুটোকেও লম্বালম্বিভাবে শরীরের দুপাশে ঊরু থেকে একটু দূরে রাখতে হবে । হাতের পাতা উপরের দিকে খোলা থাকবে । চোখ বন্ধ,ঘাড় সোজা,গোটা শরীর শিথিল অবস্থায় থাকবে । এবার ধীরে ধীরে চার পাঁচ বার লম্বা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করতে হবে । দৈনিক যোগাভ্যাসে কঠিন আসন করার পর বিশ্রামের জন্য এই আসন ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত করা উচিত । এছাড়া আলাদাভাবে অন্তত ১৫ মিনিট শবাসন করা প্রয়োজন ।

৮| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৩৮

Shahindranath বলেছেন: শবাসনের গুরুত্ব ও প্রভাব-শরীর শিথিলকরণ বা বিশ্রামের জন্য শবাসন যোগসাধনার একটি উপযুক্ত আসন । এতে সম্পূর্ণ শরীর সুস্থবোধ হয়,স্নায়ুমণ্ডলী ও শিরা-উপশিরাগুলো সম্পুর্ণ বিশ্রাম পায়,শরীর ও মনের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায় ।ফলে শরীর,মন,মসস্তিষ্ক ও আত্মার পূর্ণ বিশ্রাম,শক্তি,উৎসাহ ও আনন্দ লাভ হয় । মানসিক টেনশন,বেশি বা কম রক্তচাপ,হৃদরোগ,পেটে গ্যাস,ডায়াবেটিস প্রভৃতি রোগ উপশমের ক্ষেত্রে শবাসন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে । আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার পীড়নে মানুষের স্নায়ুর উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে,সেই চাপের সর্বোত্তম প্রতিষেধক শবাসন । অনিদ্রার জন্য এই আসন সর্বোত্তম । রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ৫-৭ মিনিট বা তার বেশি এ আসন অনুশীলন করে আস্তে আস্তে বিছান গিয়ে শুয়ে পড়লে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুম আসে । শরীর শিথিল করে দিয়ে বিশ্রাম করার এ কৌশল আয়ত্ত হলে ঘুমকেও জয় করা যায় । এ আসনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে অবসাদ,ক্লান্তি দূর হয়,নতুন উদ্যম ফিরে আসে,স্মৃতিশক্তিও বৃদ্ধি পায় । সাধকেরা এ আসনের সাহায্যে যোগনিদ্রা আয়ত্ত করে উচ্চস্তরের অনুভূতির রাজ্যে প্রবেশ করতে পারেন । এ আসনে ধ্যানের স্থিতির বিকাশ হয় । যে কোনো আসন অনুশীলনের পর শবাসনে বিশ্রাম নিতে হয় ।

৯| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ ভোর ৬:৩৫

Shahindranath বলেছেন: সিদ্ধাসনের ধারণা ও অনুশীলন পদ্ধতি-সাধনায় সিদ্ধ যোগীদের দ্বারা বিশেষভাবে অনুসৃত হওয়ার ফলে এই আসনের নাম সিদ্ধাসন । এই আসনটি সিদ্ধ যোগীগণ প্রায়ই করতেন বা করেন । এটি দেখতে সাধুদের ধ্যানের মতো । সেজন্য এই আসনকে সিদ্ধাসন বলে ।
অনুশীলন পদ্ধতি-সামনের দিকে পা ছড়িয়ে শিঁরদ্বাঁরা বা মেরুদণ্ড সোজা করে বসতে হবে । এবার ডান পা হাঁটু থেকে গোড়ালি দু-পায়ের সংযোগস্থলে স্পর্শ করে রাখতে হবে । তারপর বাঁ পা হাঁটু ভেঙ্গে ডান পায়ের উপর রাখতে হবে । দু-পায়ের গোড়ালি তলপেটের নীচে লেগে থাকবে । এবার হাত দুটো সামনের দিকে ছড়িয়ে দিতে হবে । হাতের তালু উপর দিকে করে ডান হাতের কবজি ডান হাঁটুর উপর আর বাঁ হাতের কবজি বাঁ হাটুর উপর রাখতে হবে । দু-হাতের বুড়ো আঙ্গুল আর তর্জনী ছোঁয়াতে হবে । অন্য আঙ্গুলগুলো সোজা থাকবে । তারপর পিঠ,ঘাড়,আর মাথা সোজা রেখে চোখ বন্ধ করে দু-ভ্রূয়ের মাঝে মনকে একাগ্র করার চেষ্টা করতে হবে । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে । পা বদল করে আসনটি পাঁচ মিনিট করতে হবে । শেষে শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে ।

১০| ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:১৪

Shahindranath বলেছেন: সিদ্ধাসনের গুরুত্ব ও প্রভাব-সিদ্ধাসনে শরীরের বিশ্রাম হয় । এ আসনে বসে থাকার ফলে শরীর যেমন বিশ্রাম পায়,তেমনি দু-পা আড়াআড়ি আর পিঠ সোজা থাকার ফলে মন স্থির ও তৎপর থাকে । হাঁটু আর গোড়ালির গাঁট শক্ত হয়ে গেলে এ আসনে উপকার পাওয়া যায় । এ আসনে কটিদেশে আর উদারাঞ্চলে রক্তসঞ্চালন হয় এবং এর ফলে মেরুদণ্ডের নিম্নভাগ আর পেটের ভেতরকার প্রত্যঙ্গগুলো সতেজ ও সবল হয় । কোমর ও হাঁটুর সন্ধিস্থল সবল হয় । এ আসন অভ্যাসে উদরাময়,হৃদরোগ,যক্ষা,ডায়াবেটিস,হাঁপানি প্রভৃতি রোগ দূর হয় । অর্শরোগে এ আসন অত্যন্ত ফলপ্রদ । সিদ্ধাসনে বসে জপ,প্রাণায়াম ও ধ্যান ধারণাদি অভ্যাস করলে সহজে ও অল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধিলাভ করা যায় ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.