নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমরাও পারবো.....

১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৩

আমরাও পারবো.....

ইদানিং সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন এক জোশ উঠেছে-
“বাংলাদেশকেও ইরান, পাকিস্তান বা উত্তর কোরিয়ার মতো সামরিক শক্তিধর হতে হবে- তাহলে আমাদের দিকে কেউ চোখ রাংগাতে পারবে না!”
শুনতে দারুণ লাগে। বুকের ভেতর আগুনও জ্বলে। এমন বিপ্লবী পোস্টে মর্দে মুমিনদের লাইক কমেন্টস সুনামি বয়ে যায়।

কিন্তু সমস্যা হলো- আবেগ আর বাস্তবতা এক জিনিস না।
সামরিক শক্তি শুধু কয়েকটা ফাইটার জেট, ট্যাংক, মিসাইল বা ব্যাটল হেলিকপ্টার কিনে অর্জন করা যায় না।
এর পেছনে লাগে বহু বছরের শিল্পভিত্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ, ভারী শিল্প, নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সবচেয়ে বড় কথা- আত্মনির্ভর অর্থনীতি।

যে দেশে আলু, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে সুঁইসুতা পর্যন্ত আমদানি করতে হয়, সেই দেশ যদি হঠাৎ “সুপার পাওয়ার” হওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখে- তাহলে সেটি কৌশল না, আত্মপ্রবঞ্চনা।

ধরে নিলাম- ঘটিবাটি বিক্রি করে বাংলাদেশ দুই-চার স্কোয়াড্রন ফিফথ জেনারেশন ফাইটার কিনলো।
তারপর?
রাখবো কোথায়?
রক্ষণাবেক্ষণ করবে কে?
যুদ্ধ লাগলে এক সপ্তাহের যন্ত্রাংশ আসবে কোথা থেকে?
প্রতিপক্ষ যেখানে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ছয় হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের মিসাইল বানায়, আমরা সেখানে আমদানিকৃত ৬০ কিলোমিটার রেঞ্জ নিয়ে উল্লাস করি!

ভূগোলও একটা বাস্তবতা।
বাংলাদেশ কোনো মহাদেশসম আয়তনের রাষ্ট্র না।
আমরা অত্যন্ত সীমিত ভৌগোলিক পরিসরে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের প্রায় কোলের মধ্যেই বসবাস করি।
তাহলে কি আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবো?
না।
হাজারবার না।

আমাদের যুদ্ধ হবে জ্ঞানবিজ্ঞানের যুদ্ধ।
আমাদের অস্ত্র হবে প্রযুক্তি।
আমাদের শক্তি হবে দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবন, শিল্পায়ন আর অর্থনীতি।
★চীন একসময় সস্তা শ্রমের দেশ ছিলো- আজ প্রযুক্তি রপ্তানি করে।
★জাপান ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে গাড়ি আর ইলেকট্রনিক্সে বিশ্ব শাসন করেছে।
★সিংগাপুরের প্রাকৃতিক সম্পদ নেই- কিন্তু জ্ঞান আর শৃঙ্খলায় তারা বিশ্বমানের রাষ্ট্র।

সত্যিকারের শক্তিধর রাষ্ট্র শুধু অস্ত্র নয়।
সত্যিকারের শক্তিধর রাষ্ট্র সেই- যার পণ্য, প্রযুক্তি আর অর্থনীতি ছাড়া পৃথিবী চলতে কষ্ট হয়। ইরান কোরিয়া হতে হলে আগে মেধা জ্ঞানে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জন করতে হবে।

আমরাও পারবো।
যদি এক টন লোহা এক লাখ টাকায় কিনে এনে কোটি টাকার ইঞ্জিন বানিয়ে বিক্রি করতে পারি।
সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, চিপস, রোবটিক্স, এআই- এসবের বাজারে জায়গা নিতে হবে।
বিশ্ব যেন আমাদের দিকে তাকিয়ে বলে- “বাংলাদেশ কী বানাচ্ছে?”

আর সেদিনই বিশ্ববাসী নতুন করে অনুভব করবে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কালজয়ী কবিতা "দুর্মর" এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি "সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়; জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়!"

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:২৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: সত্যি যদি এমন হতো

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.