| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পোপ ফ্রান্সিস সাভারের রানা প্লাজার ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং বিশ্ববাসীকে তাদের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতোপূর্বে ইউরিপিয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতগণসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকগণ নিহত ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্র এক দিনের শোক পালন করেছে। দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেত্রীসহ সকল রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের নেত্রীবৃন্দ, সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নিহতদের পরিবার ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে উদ্ধার কাজে ঝাপিয়ে পড়েছেন।
আমরা লক্ষ্য করলাম আমাদের গর্ব গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরষ্কার কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল বিজয়ী, বিশ্বের বিভিন্ন ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান সূচক ডক্টরেট প্রাপ্ত প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারেনি সাভার ট্রেজিডি। এমনকি তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বা গ্রামীণ ফোনও সাভার ট্রেজিডির ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ায়নি।
এর পূর্বে যখন দেশের সকল নাগরিক (মুষ্টিমেয় জামাত বাদে) যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে একাত্ম, রামুর বৈধ্যবিহারের হামলায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি বিনষ্ট, বিরোধীদল তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে একের একের পর এক হরতাল করছে, জামাত যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে পুলিশ হত্যাসহ রাষ্ট্রকে চ্যালেন্স করছে, শাহাবাগের তরুণ প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে আন্দোলন করছে, হেফাজতে ইসলাম নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি, নারীনীতি বাতিলের দাবী নিয়ে ১৩ দফা দিয়েছেন তখনও তিঁনি কোন কথা বলেননি। তখন ভেবেছিলাম এ সকল বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিধায় তিনি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকার জন্য এ সকল বিষয়ে কোন কথা বলবেন না বা কোন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন না।
কিন্তু সাভার ট্রেজিডিতে সকল দেশবাসী যখন একাত্ম, সকল মানুষ যখন নিজের রক্ত (যাদের দেওয়ার সুযোগ ছিল) দিয়ে, জীবন বাঁজিরেখে রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছে তখন আমাদের প্রত্যাশা ছিল প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর সকল কর্মসূচী বাতিল করে এমন জাতীয় দুর্যোগে দেশবাসীর পাশে দাড়াবেন। কিন্তু আমরা দেখলাম তিনি সশরীরে এলেন না এমনকি একটি বিবৃতি দিয়েও ক্ষতিগ্রস্থদের সান্তনা দিলেন না।
এ সকল ঘটনা কি প্রমাণ করেনা আমরা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে গর্ব করলেও তাকে আমাদের লোক ভাবলেও তিনি আমাদের কেও নয়? আমাদের দুঃখ-কষ্ট, আবেগ-অনুভূতি তার হৃদয়কে যদি স্পর্শ করতে না পারে তাহলে তাকে নিয়ে বা তার ‘নোবেল’, ‘কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল’ বিজয় নিয়ে আমাদের গর্ব করার কি আছে?
©somewhere in net ltd.