নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Shakhawat Nayon

শাখাওয়াৎ

শাখাওয়াৎ নয়ন: জন্ম ২০ মে, মাদারীপুর জেলার কুন্তিপাড়া গ্রামে নানাবাড়িতে। বাবা মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী মোল্লা এবং মা রিজিয়া বেগম। ক্লাস ওয়ানের ফাইনাল পরীক্ষায় ডাবল শূন্য পেয়ে শিক্ষাজীবনের শুরু হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করতে পেরেছিলাম। সমাজবিষয়ক গবেষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মজীবন শুরু। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পাবলিক হেলথ’-এ পিএইচডি করছি। বাল্যকালে ছোট চাচাকে পত্র লেখার মধ্য দিয়ে লেখালেখিতে হাতেখড়ি। ঢাকা, কলকাতা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও লন্ডন থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্র-পত্রিকায় প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও গল্প, উপন্যাস লিখি; পাশাপাশি এসব দেশের অনলাইনভিত্তিক পত্রিকাতেও বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। "ব্যাপ্টিস্ট চার্চ এবং একটি টিকটিকির গল্প (২০১২)" আমার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। "অদ্ভুত আঁধার এক (২০১৩)" প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। "নিয়তিপাড়ে গলে যাওয়া ডিমগুলি" (২০১৪) প্রথম নিবন্ধ গ্রন্থ।

শাখাওয়াৎ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মৃত্যু অথবা নিঃসঙ্গতার গল্প

১৫ ই জুন, ২০১৪ সকাল ৭:৩৯

১৬ মে ২০০৩, অস্ট্রেলিয়ায় আসার মাস খানেক পরই আব্বার অসুস্থতার খবর পেলাম। ১৭ আগস্ট তিনি মারা গেলেন। কী নিদারুণ অসহায় দিন কেটেছে! সামর্থ্যরে অভাবে দেশে যেতে পারিনি। কতবার যে আব্বার লাশ-কবর-গোরস্থান দেখে ঘুমের মধ্যে ডুকরে কেঁদে উঠেছি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। হতাশায় ডুবে যেতে যেতে একসময় অনুভব করেছি, কখন যেন হতাশাগুলোই আমার মধ্যে ডুবে গেছে।



বাবাকে কবর দিতে না পারলেও গত আট বছরের প্রবাসজীবনে বিভিন্নজনের মৃত্যুতে সিডনির রকউড গোরস্থানে যেতে হয়েছে। অনেকবার। এ দেশে শনি-রবিবার মৃত্যু হলে জানাজা-ভাগ্যে দু-চারজন মানুষ জোটে, নয়তো তা-ও জোটে না। সামর্থ্য কিংবা আনুকূল্য থাকলে লাশটি দেশে নিয়ে যেতে পারে। নয়তো সৎকার হয় পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। অস্ট্রেলিয়ানরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় লোক ভাড়া করে প্রার্থনা, কান্নার ব্যবস্থা করে। বাঙালিরা আপনজনের মৃত্যুতে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করবে, নাকি কান্নাকাটি করবে? কান্নার লোকেরও বড় অভাব। কায়মনে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে পারি না। বুকের গভীরে আমার অপ্রাপ্তি আমাকে দেশে যেতে বলে। আমার বৈষয়িক প্রাপ্তি আমাকে সশ্রম কারাদণ্ডে আরো শক্ত করে বেঁধে রাখে। নিজেকে প্রশ্ন করি, বিদেশে আসে কারা? অতি ভাগ্যবান নাকি অতি অভাগারা?



ফোনালাপে দেশে ফেরার কথা তুললেই স্বজনেরা বলে, ‘দেশে আসবি মরতে? ওখানেই তো ভালো আছিস।’ কেমন আছি, বোঝাব কী করে? বিদেশের মাটিতে বাঁচা-মরার কী যে কষ্ট, ব্যথার সাতকাহন! বলব কীভাবে? এ মাটি আমার না, আমিও এই মাটির না। বহু সংস্কৃতির এই দেশে একই গোরস্থানে বহু রকমের কবর। খেজুর পাতায় ঘেরা কবর থেকে শুরু করে শ্বেত পাথরে বাঁধানো কবরের সমাবেশ। ফলকে ফলকে বহু ভাষার এপিটাফ, তাজা কিংবা প্লাস্টিকের ফুলে ফুলে সজ্জিত চিরনিদ্রা। মনে পড়ে যায় মাদারীপুর দরগাহ খোলার জরাজীর্ণ গোরস্থানের কথা। ছোটবেলায় সন্ধ্যার পর ওখান দিয়ে চলাচল করতে ভীষণ ভয় করত। এই বিদেশ-বিভুঁইয়েও কবরস্থানের অনুভূতি একই, মনের ওপর কেমন যেন চাপ ফেলে। অচেনা ভয়, বিষণœতা, নিঃসঙ্গতা, আততায়ীর মতো জাপটে ধরে।



জন্মভূমি ছেড়ে কোন দূর দেশে পড়ে আছি। ইচ্ছে করে পাখি কিংবা হাতি হয়ে যাই। শুনেছি, পূর্ণবয়স্ক পাখিরা নাকি আগাম মৃত্যুর খবর পায়। যখন তারা বুঝতে পারে, তখন দলবল ছেড়ে গহিন অরণ্যের দিকে যাত্রা করে। সেই গহিন অরণ্যে একাকী মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে। আর হাতিরা নাকি বয়স হলে একদিন হঠাৎ সঙ্গী-সাথিদের ছেড়ে বনের মধ্যে একলা কোনো এক দিকে চলে যেতে থাকে। সে হাঁটতে থাকে হাঁটতে থাকে আর হাঁটতে থাকে। একসময় পৌঁছে যায় কোনো এক জায়গায়, যেখানে চারদিক জঙ্গল আর মাঝখানে খানিকটা ফাঁকা জমি। যেখানে আরো সব হাতির হাড়গোড় পড়ে আছে। সেখানে গিয়ে একটু জায়গা খুঁজে নিয়ে হাঁটু গেড়ে আস্তে আস্তে বসে পড়ে। নীরবে অপেক্ষা করতে থাকে। তারপর একসময় মরে যায়। নিজে নিজেই মরে যায়।



জীবনসায়াহ্নে একদিন আমিও পাখির মতো, নয়তো বয়স্ক হাতির মতো হারিয়ে যাব এই অচিন দেশের কোনো এক জনারণ্যে...।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই জুন, ২০১৪ সকাল ১০:০০

আরিয়ানা বলেছেন: "ফোনালাপে দেশে ফেরার কথা তুললেই স্বজনেরা বলে, ‘দেশে আসবি মরতে? ওখানেই তো ভালো আছিস।’ কেমন আছি, বোঝাব কী করে? বিদেশের মাটিতে বাঁচা-মরার কী যে কষ্ট, ব্যথার সাতকাহন! বলব কীভাবে? এ মাটি আমার না, আমিও এই মাটির না " ...............

একই কথা আমারও

সিডনি তে কোথায় আছেন?

২| ১৫ ই জুন, ২০১৪ সকাল ১০:৩৪

শাখাওয়াৎ বলেছেন: HURSTVILLE, APNI?

৩| ১৫ ই জুন, ২০১৪ সকাল ১১:৫২

মিনুল বলেছেন: |-)

৪| ১৫ ই জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৮

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: খুব কষ্ট লাগলো আপনার লেখাটি পড়ে।

১৬ ই জুন, ২০১৪ রাত ২:৫৭

শাখাওয়াৎ বলেছেন: সরি ভাই।

৫| ১৫ ই জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:৪১

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আজ বিশ্ব বাবা দিবস। এই দিনে আপনার লেখাটি পড়ে চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠলো।

ধন্যবাদ, ভাই শাখাওয়াৎ।

১৬ ই জুন, ২০১৪ রাত ২:৫৬

শাখাওয়াৎ বলেছেন: হু। সরি, ভাই।

৬| ১৫ ই জুন, ২০১৪ বিকাল ৫:২৫

আরিয়ানা বলেছেন: আমি Bankstown এ। একদিন চলে আসুন আড্ডা দেয়া যাবে।

১৬ ই জুন, ২০১৪ রাত ৩:০৪

শাখাওয়াৎ বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনি আসুন। আপনার ইমেইল কিংবা ফেইসবুক? (shakhawat.nayon) is my facebook ID.

৭| ১১ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:৩৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার বৈষয়িক প্রাপ্তি আমাকে সশ্রম কারাদণ্ডে আরো শক্ত করে বেঁধে রাখে। নিজেকে প্রশ্ন করি, বিদেশে আসে কারা? অতি ভাগ্যবান নাকি অতি অভাগারা? - মন্তব্যটি পড়ে মনে বেদনাবোধ জাগ্রত হলো।
বহু সংস্কৃতির এই দেশে একই গোরস্থানে বহু রকমের কবর - বিদেশের মাটিতে ওরকমই হয়। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান!
জীবনসায়াহ্নে একদিন আমিও পাখির মতো, নয়তো বয়স্ক হাতির মতো হারিয়ে যাব এই অচিন দেশের কোনো এক জনারণ্যে...
-- দীর্ঘশ্বাস! :(
ভাল থাকুন প্রবাসে, সব সময়! শুভকামনা...

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.