![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পাখী ডানায় ভর করে মুক্ত নীল আকাশে মনের আনন্দে উড়ে বেড়ায়, আমিও কল্পনার ডানায় চড়ে মনের গহীন আকাশে .......
১। ভূমিকা:
দেশের স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ সালে অনেক মেধাবী ছাত্র তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতকে অগ্রাহ্য করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল । তাঁদেরই একজন নাইমুল । ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দিনটিকে সে বেছে নেয় নিজের বিয়ের দিন হিসাবে । কারণ তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন হবে । তখন এই দিনটাকে জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করা হবে । সেই ছুটির দিনে সে ও মরিয়ম মনের সুখে ঘুরে বেড়াবে ।
২। ঘটনাপ্রবাহ
ঘটনাপ্রবাহ-১
শাহেদ বন্ধু নাইমুলের সাথে ওর পুরনো ঢাকার অপরিসর বাসায় দেখা করতে যায় । নাইমুল শাহেদকে জানায় ও আজই বিয়ে করতে যাচ্ছে । শাহেদ বন্ধুর এই ব্যবহারে ব্যথিত হয় । কিন্তু নাইমুল বরাবর একটু অন্যরকম – নিজের বিয়ের ব্যাপারে সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করে । নাইমুল দুপুরে হোটেল থেকে ইলিশ মাছের ডিম খাওয়াতে চায় শাহেদকে । কিন্তু শাহেদ ওর উপর অভিমান করে না খেয়েই বেরিয়ে পড়ে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শোনার জন্য – রেসকোর্সের দিকে । নাইমুল ওকে অনুরোধ করে সন্ধ্যায় বিয়েতে থাকার জন্য ।
ঘটনাপ্রবাহ-২
নাইমুলের মা-বাবা মারা গেছে ওর শৈশবে । তেমন কোন আত্মীয়-স্বজনও নেই । তাই বিয়ের বর যাত্রী এবং অভিভাবক হিসাবে শ্রদ্ধেয় প্রিয় শিক্ষক ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরিকে নাইমুল ঠিক করে । আত্মভোলা এই শিক্ষকের গাড়িতে করে সোবহনবাগের দিকে রওনা হয় । রাস্তায় মানুষের মিছিলের ঢল । কিন্তু সেদিকে স্যারের কোন খেয়াল নেই । উনি Kaluza- এর পঞ্চম ডাইমেনশন নিয়ে মেতে আছেন প্রিয় ছাত্র নাইমুলের সাথে । হঠাত রাস্তার পাশের নর্দমায় গাড়ি পড়ে যায় । সুতরাং নাইমুল বাধ্য হয়ে রিকশা করেই মেয়ের বাড়ির দিকে রওনা হয় । ধীরেন স্যার ১৮নং সোবহানবাগের ঠিকানা খুঁজতে চলে যান ১৮নং চামেলীবাগে – কী সহজ,আত্মভোলা একজন প্রফেসর ।
ঘটনাপ্রবাহ-৩
মরিয়মের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে । কিন্তু তাঁর বিশ্বাস হতে চাচ্ছে না । লম্বা রোগা বরকে সে আগে কখনো দেখেও নি । তবে তাঁর ছোট বোন মাফরুহা খবর দিয়েছে, বর খুব সুন্দর । আবার সে শুনতে পেয়েছে, বিয়ের পর তাঁর বর নাকি আজ তাঁদের বাসায় থাকবেও না । নাইমুলের এক চাচা ও ফুফা এসেছে ওর সাথে । মোবারকের মামা মুসলেহ উদ্দিন ওনাদের আপ্যায়ন করছেন । কিন্তু মেয়ের বাবা নতুন কুটুম্বদের কিছু না বলে চলে যাওয়ায় উনারা অপমানিত বোধ করেছেন । বিয়ে পড়ানো শেষে একে একে সবাই চলে যায় । নাইমুল একা বসে থাকে । এদিকে মোবারক সাহবের প্রচন্ড মাথা ব্যথা, তাঁর আদরের পুত্রে ইয়াহিয়ার খুব জ্বর, মরিয়মের ছোট মাসুমা ব্যস্ত রান্নাঘরে দুলাভাইয়ের রান্না নিয়ে । রাত দশটার দিকে রান্না শেষে মরিয়ম বরকে খাবার দেবার জন্য ঘরে ঢুকে ।
নাইমুল প্রথমেই নববধুর কাছে ব্যাখ্যা করে কেন সে এগারো হাজার টাকা শ্বশুরের কাছ থেকে নিয়ে ছিল । তা না হলে যে সে মরিয়মের কাছে যৌতুক লোভী বর হিসাবে পরিচিত হয়ে যাবে । নর্থ ডেকোটায় একটি টিচিং এসিস্ট্যান্স পেয়েছে নাইমুল । মাসে চারশ’ ডলার করে দেবে ওরা । কিন্তু প্লেনের ভাড়া – আট হাজার টাকা ওকেই দিতে হবে । আর বাকী তিন হাজার টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করবে ।
দু’জনের মধ্যে অনেক কথা হয় । মরিয়ম নাইমুলকে এই অল্প সময়েই প্রচন্ড ভালো বেসে ফেলে । সে তাঁকে তাঁদের বাসায় রাখতে চায় – মাকে অনুরোধ করে । কিন্তু বাবার কাছে তাঁর সেই আবেদন নতুন মা পৌঁছাতে পারে না । নাইমুল সেই রাতেই চলে যায় – চোখের জলে ভাসতে থাকে মায়াবতী মরিয়ম ।
ঘটনাপ্রবাহ-৪
মাওলানা ভাসানীর বক্তৃতার দিন মোবারক বাসায় ফিরে তাঁর দুই মেয়েকে পায় । ওদের নিয়ে রিকশার করে তিনি বক্তৃতা শুনতে যান । বড় মেয়েকে আরো কড়া শাসনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেন মনে মনে । ছোট দুই মেয়েকে বেবি আইসক্রিম কিনে দেন । কিছুক্ষণ পর পল্টনের মাঠে মাওলানা সাহেব বলেন-
‘তের বছর আগে কাগমারী সম্মেলনে আমি আসসালামুআলাইকুম বলেছিলাম । মরহুম শহীদ সোহরাওয়ার্দী তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন হয়েও সেদিন আমার কথা অনুধাবন করতে পারেন নাই ।...... তাই বলে ছিলাম যে তোমরা তোমাদের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করো এবং আমরা আমাদের জন্য শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করি । ‘লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন’ । শেখ মুজিবর রহমান আজ ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে । আমি সাত কোটি বাঙালিকে আজ মোবারকবাদ জানাই এ জন্য যে তারা এই বৃদ্ধের তের বছর আগের কথা এতদিন পর অনুধাবন করতে পেরেছে ।‘
এদিকে মরিয়ম খুঁজতে খুঁজতে নাইমুলের পুরনো ঢাকার বাসায় পৌঁছে দরজায় কড়া নাড়ে । ভিতর থেকে নাইমুলের ভরাট গলা ভেসে আসে, মরিয়ম চলে এসো, দরজা খোলা ।
শুধু কড়া নাড়ার শব্দে যে বুঝতে পারে কে এসেছে, তাঁকে কেমন করে উপেক্ষা করে মরিয়ম?
৩। একান্তে দেখা – নাইমুল-মরিয়ম
ঘটনাপ্রবাহ-১ থেকে ঘটনাপ্রবাহ-৪ পর্যন্ত নাইমুল আর মরিয়মের যে পরিচয় আমরা পাই, তাতে একটা কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, ওরা দু’জন যেন একান্তভাবে দু’জনের ।
৪। যে কথাগুলো বারবার পড়লেও পুরনো হয় না - এপিগ্রাম
১। আপনি দেশ বা রাজনীতির বাইরের কেউ না । আপনি সিস্টেমের ভিতরে আছেন । - শ্রদ্ধেয় ধীরেন স্যারের প্রতি নাইমুলের উক্তি ।
৫। দু’টি কথা
নিজের বিয়ের দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখতে একজন অসম্ভব মেধাবী আবেগী যুবক ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে বিয়ে করে ছিল । এমনি আরো কতো মানুষ তাঁদের আবেগের সবটুকু দিয়ে এদেশটাকে ভালো বেসে ছিল । তাঁদের ভালোবাসার কতটুকু দাম আমরা দিতে পেরেছি/পারছি?
ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু চরিত্র আছে । সবগুলো চরিত্রের সন্নিবেশে আসছে আগামী পর্ব । দশম পর্বেই মুক্তিযুদ্ধের শুরুর কথার ইতি টানতে যাচ্ছি ।
মোঃ শামছুল ইসলাম
(নোট: একজন পাঠকের অনুরোধে মাওলানা ভাসানীর বক্তৃতার কিছু অংশ যোগ করলাম । পাঠকের মতামত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকি ।)
(চলবে.....)
ঢাকা
তাং: ১০ জানুয়ারী, ২০১৮
১০ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:১০
শামছুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব ভাই ।
২| ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:২৭
চাঁদগাজী বলেছেন:
আপনার লেখার ষ্টাইলটা কেমন সঠিক মনে হচ্ছে না
১১ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১০:১৩
শামছুল ইসলাম বলেছেন: সাহিত্য তো অংক না । এখানো সঠিক-বেঠিকের কী দেখলেন?
৩| ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:০৮
আহমেদ জী এস বলেছেন: শামছুল ইসলাম ,
জোছনা ও জননীর গল্প পড়েছি । বইটি সংগ্রহেও আছে । প্রথমদিকের পর্ব গোটাদুই পড়েছি এবং মন্তব্যও করে এসেছি । অবশ্য মাঝখানে বেশ বিরতি ছিলো লেখার ।
চলুক ।
১১ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১০:১৬
শামছুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ আহমেদ জী এস ভাই ।
নানা ব্যস্ততায় আমি নিজেই অনেক দিন সিরিজটা লিখিনি । তাই আপনারও পড়া হয়নি । চেষ্টা করছি নিয়মিত লিখতে ।
সাথে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা ।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:০৮
রাজীব নুর বলেছেন: চলুক।