নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিঃসীম নীল আকাশে পাখী যেমন মনের আনন্দে উড়ে বেড়ায়, কল্পনার ডানায় চড়ে আমিও ভেসে চলেছি মনের আনন্দে--রূঢ় পৃথিবীটাকে পিছনে ফেলে।

খেয়ালের বশে কোন পথে চলেছো পথিক...

শামছুল ইসলাম

পাখী ডানায় ভর করে মুক্ত নীল আকাশে মনের আনন্দে উড়ে বেড়ায়, আমিও কল্পনার ডানায় চড়ে মনের গহীন আকাশে .......

শামছুল ইসলাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটি দাওয়াত ও কিছু ঘটনা (পর্ব-৫)

২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:০৫

৪র্থ পর্বের লিংক: Click This Link
.
সাড়ে এগারোটা বাজে – আমি আসছি না। শাহানা একটু অস্থিরতা অনুভব করে। আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে বন্ধ পায়। ভাবে, হয়তো চার্জ শেষ হয়ে গেছে। কোন যেন ওর মনে প্রায় উনশি বছর আগের স্মৃতি মনে পড়ে। তখন আমি লালমাটিয়ায়, নিউ কলোনী মাঠের পাশে একটা অফিসে চাকরি করি। থাকতাম মিরপুর ১২-তে। অফিস থেকে ফেরার পথে অনেক সময়ই আসাদ গেট থেকে বাস পেতাম না। তাই বাধ্য হয়ে মাঝে মাঝে স্কুটারে শেয়ারে আসতাম। এমনি একদিন স্কুটারে আসার সময় ছিনতাইয়ের মুখে পড়ি। তখন মাদকের আখড়া বলে পরিচিত বিনপি বস্তির কাছে এসে ওরা দু’পাশ থেকে দু’জন আমাকে চেপে ধরে। সমানের সিটের একজন পিস্তল বের করে চিৎকার দিতে মানা করে। একজন ক্রমাগত আমার বুকে ঘুষি মারতে থাকে। আমি নিজের অজান্তেই “লা ইলাহা ইল্লাহ্” জোরে জোরে পড়তে থাকি। ওদের একজন আমার চোখের চশমা খুলে চোখে কী যেন লাগিয়ে দেয়্। চোখ জ্বলতে থাকে। ওরা সোজা না যেয়ে একটা ইউ টার্ন নিয়ে আবার শ্যামলী শিশু-মেলার দিকে যেতে থাকে- ধীরে ধীরে। আমার ঘড়ি, মানিব্যাগ সব নিয়ে নেয়। তারপর একটা অন্ধকার জায়গায় নামিয়ে দেয় । পিছন থেকে হুমকি দেয়, চিৎকার করলে গুলি করবে।
.
পরে বুঝতে পারি, শুকনো মরিচের গুঁড়ো চোখে ডলে দিয়েছিল। বাসায় ফিরে অনেকক্ষণ পানি দিয়ে চোখ ধুই। আশঙ্কায় ছিলাম চোখে কোন সমস্যা হয় কি-না। আস্তে আস্তে চোখের লাল কেটে যায়। সেদিন স্কুটারে ওঠার সময় আমি এক সাইডে বসেছিলাম। পরে আর একজন এসে আমাকে মাঝখানে বসতে বলে- সে নাকি শেওড়া পাড়া নেমে যাবে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি মাঝখানে বসি।
.
ঘটনার এখানেই শেষ না। এর দিন পনেরো পরের কথা। কোন বাসে ওঠতে না পেরে শেয়ারের স্কুটারের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। একটা স্কুটারে তখন একটা সিট বাকী – ডান দিকে। আমি গিয়ে ওঠলাম। স্কটারটা স্টার্ট নিচ্ছে। এমন সময় বাম দিকের যাত্রী নেমে গেল। আর তখনি আর এক যাত্রী আমার দিক দিয়ে ওঠতে চাইলে। মাঝখানের জন তখন বাম দিকে সরে গেছে। আমি বাধ্য হয়ে সরে বসলাম। শিশু-মেলা দিয়ে আগার গাঁও রোডে ঢুকে আবার সেই একই দৃশ্যের অবতারণা। এবার আমি শান্ত থাকলাম। ঘড়ি তখনো কিনি নি। তাই টাকা ছাড়া আর কিছু পেল না। আমার এই গরিবী হাল দেখে তারা আমার উপর বেশ গেস্বা হলো। আমি সবিনয়ে তাদের জানালাম, আমি খুব সামান্য বেতনের একটা চাকরি করি। দিন আনি, দিন খাই। তারা দয়া পরবশ হয়ে লাল দ্রব্য দিয়ে আমার চোখ রাঙানো থেকে বিরত থাকল। আমার হাতে কিছু টাকা গুচে দিয়ে অন্ধকার রাস্তায় নামিয়ে দিল-যেন আমি বাসায় যেতে পারি। উনাদের দয়ার শরীর।
.
এই সব পুরনো ঘটনা ভাবতে ভাবতে শাহানা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আরো উৎকণ্ঠিত হয়ে ওঠে। ঘড়িতে তখন প্রায় বারোটা বাজে। আমার মোবাইলে ফোন করে। মোবাইলে রিং হচ্ছে। একজন অপরিচিত লোক ফোনের অপর প্রান্তে। শাহানা জানতে চায়, আপনার কাছে মোবাইলটা আসল কী ভাবে? লোকটা বলে, আমি মোবাইলটা আঙ্কেলের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছি। শাহানা ভয় পেয়ে যায়। তবে কী আমাকে আটকে রেখে টাকা দাবী করবে? ও ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে, মানুষটা এখন কোথায়? লোকটা বলে, আমি উনাকে শাহবাগ থেকে ফলো করি। তারপর শাহবাগে মোবাইলটা কেড়ে নেই। পুলিশ আমাকে জেলে পাঠায় । জেল থেকে ফিরে আমি কোন কাজ পাচ্ছি না। তাই আঙ্কেলের মোবাইলটা কেড়ে নেই। আঙ্কেলকে বলবেন, আমাকে ক্ষমা করে দিতে। তারপর ফোনের লাইনটা কেটে দেয়।
শাহানা অস্থির হয়ে আবারও ফোন দেয়। কিন্তু ফোনটা আর বাজে না।
অসহায় শাহানা পাশের বাসার ভাবীকে ডাকে। ভাই-ভাবীকে ঘটনা জানায়। ভাগ্নীকেও ফোন দিয়ে ঘটনা জানায়।
.
আমি অক্ষত অবস্থায় বাসায় ফিরায় ও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। ওর ভাগ্নীকে ফোন দিয়ে জানায়, তোর আসা লাগবে না। তোর খালু এই মাত্র বাসায় ফিরল। তবে ওর মোবাইলটা ছিনতাই হয়ে গেছে।
.
ঘরে এসে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করি। শাহানাও আমাকে সাহায্য করে। আমার মোবাইলে পাসওয়ার্ড দেওয়া ছিল। ছিনতাইকারী মোবাইলটা বন্ধ ও খুলতে পারছে। তার মানে ও আমার পাসওয়ার্ড ভেঙ্গে ফেলেছে। আমি শাহানার মোবাইল থেকে আমার মোবাইলে ফোন দেই। ওটা আর বাজছে না। আমার মোবাইল থেকে দেশের বাইরে ফোন করা যায়। ছিনতাইকারী যদি সেটা করে আমার বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। আমি নম্বরটা ব্লক করার জন্য অফিসের সহকর্মীর সাহায্য নেই। ওর সাথে গ্রামীন ফোনের ভালো পরিচয় আছে। এতো রাতেও ওর সাহায্য পেয়ে কৃতজ্ঞ বোধ করি।
.
ছেলে কক্সবাজার থেকে ফোন করলে আমার ফোন বন্ধ পাবে। তাই শাহানা ওকে ফোন করে সংক্ষেপে ঘটনাটা জানায়। ছেলে ওর মাকে বলে,মোবাইলের আইএমইআই নম্বর দিয়ে পুলিশকে জানাতে। শাহানা আমার মোবাইলের প্যাকেটটা বের করে। হ্যাঁ, আইএমইআই নম্বরটা পাওয়া গেল। রাত প্রায় দেড়টা বাজে। আমি এশার নামাজটা পড়ে শুয়ে পড়লাম। মনে মনে একটা আশা তখনো জেগে আছে। মোবাইলটা কী কোন ভাবে ফেরত পাব?
.
চলবে...
মো. শামছুল ইসলাম
২০ এপ্রিল ২০১৯

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:০১

রাজীব নুর বলেছেন: চোখে মরিচের গুড়া!!
কি ভয়াবহ!!

চলুক---

২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:৩৫

শামছুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ রাজিব ভাই।

মরিচের গুড়া তো নস্যি, আরো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ছিনতাইকারীদের দ্বারা।
পরবর্তী কোন এক পর্বে তা লিখব- ইনশাআল্লাহ।

২| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:১৫

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ভয়াবহ অভিজ্ঞতা!
দু:খজনকতো বটেই।


২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:৪৬

শামছুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ বিদ্রোহী ভৃগু ভাই।

আমার সাথে যা হয়েছে, তার চেয়ে ভয়ঙ্কর এবং নিষ্ঠুর ঘটনা আমার খুব কাছের কিছু মানুষের সাথে ঘটেছে।
পরবর্তী কোন এক পর্বে তা আমি লিখব - ইনশাআল্লাহ।

৩| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:২৮

হাবিব স্যার বলেছেন: কি সাঙ্গাতিক!

২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:৩৩

শামছুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ হাবিব ভাই।

আপনার লাইক পেয়ে ভালো লাগছে।

আরো সাঙ্গাতিক কিছু অভিজ্ঞতা আছে, সে গুলো ইনশাআল্লাহ লিখব।


৪| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:৫৭

পবিত্র হোসাইন বলেছেন: আমাদের জীবনের নিরাপত্তা এতই কম?

২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:৪০

শামছুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ হোসাইন ভাই।

চরম তিক্ত একটা সত্য কথা বলেছেন, আমাদের জীবনের নিরাপত্তা এতই কম?

আমি একজনের কথা শুনেছি, যিনি পেশায় ডাক্তার। এপোলো হাসপাতালে চাকরি করতেন। সিএনজি অটোরিকশা করে হাসপাতাল থেকে বাসায় (মিরপুর) পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। তারপর আর দেরী করেন নি। কিছুদিনের মধ্যেই আমেরিকা চলে যান। বিত্ত-বৈভব অনেকেই চায় না। একটু নিরাপদে জীবনযাপন করতে চায় নিজের মত করে । তারও উপায় নেই।

৫| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:৫২

নতুন নকিব বলেছেন:



ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বটে!

২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:৪২

শামছুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ নকিব ভাই।

আরো দু'একটা ছিনতাইয়ে ঘটনা জানি। সে গুলো আরো ভয়াবহ।

৬| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:৫৩

কালো যাদুকর বলেছেন: ভয়াভহ ঘটনা।

২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:৪৪

শামছুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ কালো যাদুকর ভাই।

দেখেন ভাই, আপনার কালো যাদু দিয়ে এই খারাপ লোক গুলোর কাছ থেকে এই নিরীহ-গোবেচারা মধ্যবিত্তকে বাঁচাতে পারেন কি-না।

৭| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৩

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আপনার রাশিতে মনে হয় ছিনতাই আছে। :)

একবার ছিনতাই হওয়ার পর আবার পনেরো দিনের মাথায় শেয়ারের স্কুটারে কেন চড়তে গেলেন বুঝলাম না। সাবধান হওয়া উচিত!
লেখাটা পড়ে অন্যরা সাবধান হবে, আশা করছি।

২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:১৬

শামছুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ মফিজ ভাই।

সাবধানতার সাথেই ওঠি শেয়ারের স্কুটারে।
কিন্তু বিভিন্ন কলাকৌশল করে ওরা মানুষকে ফাঁদে ফেলে।

আসাদ গেট থেকে সেই সময় বাসায় ফেরার আর কোন উপায় থাকত না-শেয়ারে স্কুটার ছাড়া।
বাস গুলো (৯ ও ১৪) ভরে ভরে আসতো নীলক্ষেত থেকে। আসাদ গেটে অনেক সময় থামতেও না।
এর পর বাধ্য হয়ে শংকরে বাসা ভাড়া নেই।

স্কুটারের সেই যুগের পরে সিএনজি যুগে এসেও কিন্তু লোকজন ছিনতাইয়ের কবলে পড়ছে।
এপোলো হাসপাতালে একজন তরুণ ডাক্তারের কথা সেদিন শুনলাম।
উনি থাকতেন মিরপুরে। ডিউটি শেষে বাসায় ফিরছিলেন সিএনজি করে। পথের মধ্যে সিএনজি থামিয়ে লোক ওঠে উনার মোবাইল, টাকা - সব নিয়ে যায়। ডাক্তার ভদ্রলোক এর পর আরে দেরী করেন নি। কিছুদিনের মধ্যেই আমেরিকায় পাড়ি জমান।

আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলো ক্রমেই আরো অকার্যকর হয়ে পড়ছে, শক্তিশালী হচ্ছে দুর্বৃত্তরা।


৮| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:৩৪

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: চলুক

২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:১৮

শামছুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ মাহমুদ ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.