নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তারুণ্যের দ্রোহ

মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মে

দ্রোহী তারুণ্য

মুক্ত চিন্তা এবং প্রগতিলশিল ধ্যান ধারনার বিকাশ একজন মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। আমার লেখা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ যদি দেশপ্রেম এবং মুক্ত বুদ্ধির চর্চাকে জীবন গড়ার আদর্শ হিসেবে নেয় তাহলেই আমার সকল প্রচেষ্টা সফল হবে।

দ্রোহী তারুণ্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

শোষণ ও ধর্ম

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৮:৫৬

সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থার শুরু থেকেই শাসকগোষ্ঠী দুটি বিষয়কে তাদের শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে আসছে। এর একটি হল ধর্ম এবং অপরটি নেশা। সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য চাপা দেয়ার জন্য অত্যন্ত সুকৌশলে জমিদার এবং ভূপতিরা শ্রমিকশ্রেনী তথা বঞ্চিতদের ব্যাস্ত রেখেছে ঈশ্বর এবং মাদকের পুজায়। দিনভর ফসলের ক্ষেত এবং তৎকালীন ক্ষুদ্র শিল্প-কারখানায় কাজ শেষে শ্রমিকদের উৎসাহিত করা হতো ধর্মীয় উপাসনালয় কিংবা পানশালায় নিজেকে নিবেদন করার জন্য। একদল যাবতীয় বৈষম্য এবং অপ্রাপ্তি নিরসনের জন্য প্রার্থনা করত সৃষ্টিকর্তার কাছে, অপরদল পানশালার নেশায় ভুলে থাকার চেষ্টা করত না পাওয়ার হতাশা।



সামন্তপ্রথা বিদায় নেয়ার পরে এসেছে পুঁজিবাদী অর্থনীতি। রেনেসা তথা শিল্প-বিপ্লব উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ কিন্তু অভাব দূর হয়নি। বর্ধিত উৎপাদনের সুফল ভোগ করেছে মালিকশ্রেনী আর ক্ষুধার জালা তখনো শ্রমিকের ঘরে বৈষম্যের বাণী শুনিয়েছে। অর্থাৎ সর্বহারাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। কারন ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করে, শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদ না করে তারা তখনো সৃষ্টিকর্তার মুখাপেক্ষী হয়েছিল। আর কিছু মানুষ আগের মতই নেশায় বুঁদ হয়ে ভুলে থাকার চেষ্টা করেছে নিজের অবস্থানকে। অথচ প্রাচীনকালেই মানুষ রপ্ত করেছে সামাজিক মতৈক্যের ভিত্তিতে সমাজ পরিচালনার কলাকৌশল। সামাজিক মালিকানার ভিত্তিতে তারা প্রতিষ্ঠা করেছে বৈষম্য ও শ্রেণীহীন সমাজব্যাবস্থা।



প্রাচীনকালে শিকার এবং সংগ্রহ নির্ভর সমাজে ব্যাক্তিমালিকানার কোন ধারনাই ছিলনা। তারা দলবদ্ধ হয়ে খাদ্য সংগ্রহ করত এবং তা সুষমভাবে বণ্টন করত। ফলে বৈষম্য সৃষ্টির কোন সুযোগই ছিলনা। শ্রেণীবৈষম্যের সূত্রপাত ঘটে ব্যাক্তি মালিকানার ধারনা আসার পরে বিশেষকরে কৃষিভিত্তিক এবং পশুপালন সমাজে। যার ফসলের ক্ষেত কিংবা পশু আছে সে শক্তিশালী হয়ে ওঠে আর যার এর কিছুই নেই সে পিছিয়ে পরে, শুরু হয় বঞ্চনার। অথচ সামগ্রিক মালিকানায় এধরনের কিছু ঘটার কোন সুযোগই ছিলনা।



একুশ শতকের এই আধুনিক বিশ্বে এই অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি বরং পুঁজিবাদের সাথে সাথে শোষণ এবং বঞ্চনার পরিমাণও বেড়েছে। আমরা এখনো সেই ধর্মীয় অপব্যাবহার কিংবা মাদকের জালেই আটকে আছি। এখনো সাধারণ মানুষের মুক্তির পথে বাধা হিসেবে দাড় করানো হচ্ছে ধর্মকে। অথচ মানুষের মুক্তির সাথে ধর্মের কোন দ্বন্দ্বই নেই। সব ধর্মই মানবতার কথা বলে, মানুষের মুক্তির কথা বলে। যেখানে মানুষের জন্যই ধর্ম সেখানে মানবতার চেয়ে ধর্ম বেশী গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেনা।



বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানবমুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা ধর্মীয় গোঁড়ামি তথা ধর্মের অপব্যাবহার। কোন ধর্মই মানুষকে সংকীর্ণ হতে শেখায়না বরং উদার হতে শেখায়। যে ব্যাক্তি ধর্মকে স্বীকার করে বাংলাদেশ যেমনি তার দেশ, যে ধর্মকে স্বীকার করেনা তার দেশও তেমনি বাংলাদেশ। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) মক্কা বিজয়ের পর ভিন্ন মতাদর্শীদের নির্বিচারে হত্যা করেননি বরং তাদের প্রতি চরম সহিষ্ণুতা দেখিয়েছেন। নির্দেশ দিয়েছেন নিজের ধর্ম অপরের উপর চাপিয়ে না দিতে। তাই রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে কোন ধর্মকে চাপিয়ে দেয়ার যৌক্তিকতা যেমন নেই, তেমনি ভিন্ন মতাদর্শের কাউকে বাধা দেয়ার ও কোন সুযোগ নেই। আমরা ঐতিহ্যগতভাবে অত্যন্ত সহিষ্ণু জাতি। ধর্মীয় পরমমত সহিষ্ণুতা আমাদের সবচেয়ে বড় গুণ। তাই যে যার ধর্ম কিংবা মতবাদ স্বাধীনভাবে চর্চা করার সুযোগ পাবে এটাই প্রগতিশীল মানুষের চাওয়া। আর ১৬ কোটি মানুষের দেশে নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখারও কোন সুযোগ নেই। নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখার মানে ৮ কোটি কর্মক্ষম মানুষকে অকার্যকর করে দেয়া যা কিনা উন্নয়নের পথে বড় বাধা।



শোষণের আরেক হাতিয়ার মাদকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অবস্থা বিরাজ করছে। মাদকের ব্যাবহার প্রকাশ্যে উৎসাহিত না করা হলেও এর প্রতিরোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এর কারন হল যে যুবকটি নেশাগ্রস্থ সে কখনই তার অধিকার আদায়ের জন্য মাথা তুলে দাড়াতে পারবেনা। সামাজিক বিপ্লব প্রতিহত করার জন্য পরোক্ষভাবে তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হচ্ছে । সুতরাং শোষণ এবং বঞ্ছনামুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের প্রধান শর্ত হচ্ছে মাদক এবং ধর্মের অপব্যাবহার রোধ করা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.