| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দ্রোহী তারুণ্য
মুক্ত চিন্তা এবং প্রগতিলশিল ধ্যান ধারনার বিকাশ একজন মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। আমার লেখা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ যদি দেশপ্রেম এবং মুক্ত বুদ্ধির চর্চাকে জীবন গড়ার আদর্শ হিসেবে নেয় তাহলেই আমার সকল প্রচেষ্টা সফল হবে।
আমাদের চারপাশের আর সবকিছুর মত সমাজও প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। আর সমাজের সাথে সাথে পরিবর্তন আসে সভ্যতায়। মানব সভ্যতা এবং সমাজ পরিবর্তনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তা মূলত উৎপাদন ব্যাবস্থার উপর নির্ভরশীল।
গোটা উৎপাদন ব্যাবস্থা নির্ভর করে কতগুলো মৌলিক বিষয়ের উপরে। যেকোনো উৎপাদন ব্যাবস্থা পরিপূর্ণ করতে তাই প্রয়োজন হয় প্রাকৃতিক সম্পদের, আর সেই সাথে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান বা উৎপাদন শক্তি এবং কিছু মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বা উৎপাদন সম্পর্কের। এই তিনটির যে কোন একটি উপাদান ব্যাহত হলেই সর্বাধিক এবং দীর্ঘস্থায়ী উৎপাদন সম্ভব হবেনা।
প্রথমেই আসি উৎপাদন শক্তির কথায়। উৎপাদন শক্তি হচ্ছে উৎপাদন সম্পর্কিত যাবতীয় জ্ঞান যা মানুষ তার অভিজ্ঞতা বা আধুনিক কালে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অর্জন করেছে। যেমন মাটি পুড়িয়ে ইট বানানোর কৌশল মানুষ আবিষ্কার করেছে তার অভিজ্ঞতা থেকে। বর্তমানে বিজ্ঞান এই কৌশলকে আরও সহজ এবং সমৃদ্ধ করেছে।
এরপর আসে উৎপাদন সম্পর্কের কথা। যেকোনো জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কিছু মানুষ যখন সম্মিলিতভাবে কোন কাজ করে তখন তাদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয় যা উৎপাদন সম্পর্ক নামে পরিচিত। উৎপাদন সম্পর্ক মূলত নির্ভর করে উৎপাদিত দ্রব্য ভোগ করার ক্ষমতার উপর। অর্থাৎ সবাই মিলে উৎপাদন করে সবাই মিলে ভোগ করার প্রক্রিয়ায় এক ধরনের উৎপাদন সম্পর্ক স্থাপিত হবে, আর শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ভোগ করার ক্ষেত্রে আরেক ধরনের উৎপাদন সম্পর্ক তৈরি হবে। সুতরাং, উৎপাদন ক্ষমতা বা কি পরিমান উৎপাদন করা হবে এবং উৎপাদিত দ্রব্য কিভাবে ব্যাবহৃত হবে তা অনেকাংশে উৎপাদন সম্পর্কের উপর নির্ভর করে।
সবশেষে আসি উৎপাদনের উপকরন বা প্রাকৃতিক সম্পদের কথায়। আধুনিক বিশ্বের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম প্রাকৃতিক সম্পদের মজুদ। প্রকৃতি তথা পৃথিবীর মোট সম্পদের পরিমাণ অফুরন্ত নয়। তাই আধুনিক শিল্প নির্ভর জীবনে জ্বালানীসহ অন্যান্য প্রাকিতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যাবহারের গুরুত্ব অপরিসীম।
এই পৃথিবীর সমগ্র সৃষ্টই এক একটি ভিন্ন অস্তিত্ব বা স্বত্বা। সুতরাং এই পৃথিবী তথা মহাবিশ্বের সব কিছুর উপরই প্রত্যেকের সমান অধিকার আছে। আর সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে বাস্তবিকভাবেই মানুষ প্রকৃতির উপর তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। মহাবিশ্বের সকল উপাদানের উপর তাই প্রত্যেকটি মানুষেরই সমান অধিকার আছে। একইসাথে এটাও সত্য যে সমাজের আর সবকিছুর মত সম্পদের মালিকানা ব্যাবস্থাও চিরস্থায়ী নয় বরং তা পরিবর্তনশীল। তাই সব মিলিয়ে চিন্তা করলে উত্তরাধিকার সূত্রে পিতার সম্পত্তির উপর পুত্রের অধিকার কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বরং পিতার মৃত্যুর সাথে সাথেই তা সমাজ তথা বর্তমান পরিবর্তিত ব্যাবস্থায় তা রাষ্ট্রের সম্পত্তি। এতে করে ওই নির্দিষ্ট সম্পত্তি থেকে কোন নির্দিষ্ট ব্যাক্তি নয় বরং গোটা সমাজ বা রাষ্ট্র উপকৃত হতে পারবে। সুবিধাভোগ করতে পারবে সমাজে আগত নতুন সকল স্বত্বা। এই ব্যাবস্থায় ব্যাক্তিগত সম্পত্তির ধারণা বিলুপ্ত করে সবকিছুর ব্যাবহার সামাজিক মালিকানার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র এভাবেই প্রকৃতি তথা পৃথিবীর সকল সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যাবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। ব্যাক্তিগত মালিকানায় কোনভাবেই সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব না। উপরে আলোচিত ব্যাবস্থায় প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধ করে এর ব্যাবহার আরও দীর্ঘািয়ত করা যাবে। সেই সাথে সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সভ্যতার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
©somewhere in net ltd.