| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খুবই সাধারণ
Own Company at Loading... ██████████████] 99% একা থাকতেই বেশী ভালো লাগে । কেনো জানি না , যতক্ষন একা থাকি, ততোক্ষন মনে হই , আমি সাবার সাথেই আছি ... যেকোন কাজ একা করতে, একা একা ভাবতে ভালো লাগে ... মাঝে মাঝে রাতে একা একা বাস্তায় হাটতে খুব ভালো লাগে ...
#পর্ব_১
ছেলেটির নাম রাসেল ।
নিদারুন বান্দর । বন্ধুদের সাথে দিনে ১৮ ঘন্টা কাটানো , লাফালাফি , মারামারি সাইতানিতে মোটামুটি সে বস । খেলাধুলাই ভালো।
ছেলেটা শুকনা , গায়ের রঙ শ্যমলা , দামী জামা-জিন্স পড়লে মনে হয় ভালো ঘরের ছেলে, আবার একটু সস্থা পোশাকে মনে হই - রিকশাওলার ছেলে
ছেলেটার HSC - 2nd ইয়ারের ছাত্র । SSC তে D গ্রেড পেয়ে যে মজা করেছিলো, তা মানুষ ডবল A+ পেলেও তা করে না ।
ছেলেটার হটাথ একটা মেয়ে কে দেখে বেশ পছন্দ হল । মেয়েটা সবে মাত্র নিউ ফাস্ট ইয়ার, পাশের কলেজের । তারপর বব্ধুত্ত। মেয়েটার আগ্রহ বেশী ছিলো । এক পর্যায়ে শুরু হল প্রেম । সবই মোবাইল ফোন আর চোখে চোখের ইশারাই । ছেলেটির জীবনের প্রথম প্রেম ।
মেয়েটা ছিলো সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়ে । মেয়ের বাবা - চাচা- মামারা ছিলেন শহরের নামী-দামী রাজনীতিবীদ । বেশ ক্ষমতাবান । সে তুলোনায় ছেলে ছিলো অতি এবং অতি সাধারন ।
মেয়েটার সাথে দেখা করা , কিনবা সরাসরি কথা বলা বেশ অসম্ভব ছিলো , কারন তার বাসার লোক জন যখন তখন জেনে ফেললে অনেক সমস্যা হতে পারে ...
প্রেমের কয়েক মাস পর একটা বুদ্ধি বের করল । বুদ্ধি টা কিছু টা এমনই- রাত ১২-১ টার দিকে মেয়ের বাসার সবাই ঘুমিয়ে পডবে ,তখন ছেলেটা পাচিল টপকিয়ে – মেয়ের ঘরে আসবে , তারপর ফজরের আজান দিলে , ছেলেটা চলে যাবে । এভাবে চলবে সপ্তাহে ২-১ বার ।
শুরু হলো বুদ্ধিকে বাস্তব করা । ছেলেটা সপ্তাহে ২-১ দিন বন্ধুর ছূতা- এ ছূতা দিয়ে চলে যেত । তারপর সারা রাত গল্প, মাঝে মাঝে রোমান্টিকতাও তাদের মধ্যে চলে আসত ... ;*!
এভাবে চলল দেড় মাসের মত ।
একরাতে মেয়েটার ফোন পাবার পর,ছেলেটা বাসায় কোন একটা ছুতা দেখিয়ে , বেরিয়ে গেলো রাত ১২ টাই বাসা থেকে ।তারপর পাচিল টপকালো , যখন মেয়েটার ঘরের সামনে আসলো , তখন দেখলো , মেয়েটা কল করেছে । প্রায় সে ফোন দিত – “আর কত দূর, কই তুমি “ এমন ধরনের কথা শোনার জন্য ।
প্রতিবার মেয়েটার রুমের কাছে যাবার পর, ছেলেটা আসতে আসতে রুমের দরজা খুলত । তারপর মেয়েটা ছেলেটাকে ঘরে ঢূকিয়ে ,দরজা বন্ধ করত । প্রতিবারের মত , এবারো সে তাই করলো ।
কিন্তু এবার ঘটল ব্যতিক্রম কিছু ।
ছেলেটা দরজা খোলার সাথে সাথেই ভক ভক করে সিগারেটের ঘন্ধ বেরিয়ে আসলো । ;O তার ভেতরে বসা একজন লোক তার দিকে তাকালো। চোখা-চুখি হল... ছেলেটা স্তব্ধ হয়ে গেলো। Oo কি করবে বুঝতে পারলো না । ভয়ে কাপতে শুরু করলো । দৌড়াবে , নাকি কি করবে কিছু ভেবে ওঠার আগেই, লোকটা বল্লো ... ওই দাড়া ।
পাথর হয়ে গেলো ছেলেটা । মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো ।
বিদ্যুতের গতিতে লোকটা এসে , সজোরে চড় কষে দিলো ............ !
#পর্ব_২
আমি ছেলেটার গল্পটা এখানেই শেষ করলাম ।
এবার আসি রাসেলের বন্ধুদের গল্পে ।
সকাল থেকে রাসেলের কোন খোজ নেই ।
রাসেলের বাসা থেকে ফোন , রাসেল রাতে বের হয়েছে, এখনো ফিরে নি ।
রাসেলের বন্ধুরা এত দিন জানতো না, রাতে ওরা দেখা করে । রাসেলকে খোজা খুজি শুরু হলো । কোথাও পাওয়া যায় না ।
সকাল গড়িয়ে দুপুর ।
থানায় খোজ নেওয়া হলো , পেলো না ।
হাসপাতালে খোজ নেওয়া হলো , তাকে পাওয়া গেলো ।
হাত-পা কোথাও কোথাও নীল হয়ে রক্ত জমে গেছে , কোথাও বা ফেটে গেছে । হাতের আংগুল গুলো আর হাতের কবজি ভেঙ্গে গেছে । ঠোট ফেটে, , দাত ভেঙ্গে গেছে । সারা পিঠ আর পায়ে রক্তের জমাট বেধে কালো হয়ে গেছে । এখনো জ্ঞান ফেরেনি । একটা জীবন্ত লাশ শুয়ে আছে, হাতে পায়ে ব্যন্ডেজ, মেঝেতে একটা সাদা চাদরে ।
তার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলে চোখের পানি কেউ ধরে রাখতে পারবে, এমন শক্ত মনের মানুষ হয়ত নেই ।
ডাক্তরদের জিঙ্গাসা করলে বলে - কে যেন মাঝ রাতে হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে গেছে ওকে ।
এখনো পর্যন্ত শুধূ বন্ধুরাই ওকে খুজে পেয়েছে । তার পরিবারকে কিভাবে জানাবে কিচ্ছু বুঝতে পারলো না ।
তারপরেও সাহস করে জানালো । রাসেলের বাবা মা আসলো , তারপর যা হই , মা বাবা পাগলের মত হয়ে গেলো ।
#পর্ব_৩
রাসেলের ২ দিন পর জ্ঞান ফিরলো । রাসেল কথা বলতে পারছে না ।
এত আস্তে আস্তে কথা বলছে আর এত কষ্ট করে যে , তা বোঝাই যাচ্ছে না ।
সে কারণে , সেদিন রাতে কি হয়েছিলো এ কারণে তাকে কেউ জিজ্ঞাসাও করছে না ।
তাছাড়া, রাসেলের বয়স্ক মা - খালারাদের কেউ কেউ তথাকথিত কুসংষ্কার ধরে বসে আছে,- "জিনের আসর, পেতনির জুলুম, ইত্যাদি " ।
আবার কেউ কেউ ছিনতাইকারীর আক্রমন , ইত্যাদি ইত্যদি ।
কিন্তু রাসেলের মা চেরেকে ফিরে পেয়েছেন - এতেই খুশি । আর বন্ধুরা এটাও জানে য়ে রাসেলের এমন কোন শত্রু নেই যে, এর হাল এমন করবে ।
কয়েকদিন পর রাসেল সামান্য সুস্থ । এখনো সে হাসপাতালে । রাসেল চুপচাপ থাকে , কাওকে কিচ্ছু বলে না । তাকে কি হয়েছিলো - জিজ্ঞাসা করলে , চুপ করে থাকে । কখা বলতে কষ্ঠ হচ্ছে , এমন একটা রূপ ভেসে ওঠে ।
হাসপাতালে থাকতে থাকতে, সেদিন বন্ধুরা রাসেলের বেডের পাশে বসে , মাথাটা কোলের উপর রেখে , জিজ্ঞাসা করলো আবার ।
রাসেল কিচু সময় চুপ করে থেকে - চি্থকার করে কেদে উঠলো । হাওমাও বন্ধুদের জঢ়িয়ে ধরে কেদে উঠলো । বাচ্চাদের মত করে কেদে বলে উঠলো - "আমি ওকে কোনদিন মাফ করবো না, কোনদিন না ।"
বার বার একই কথা বলতে থাকলো, কিছুসময় কেদে কেদে, সে বলতে শুরু কররো ....
#পর্ব_৪
এবার আর কারোর গল্প না , না সেই কলেজের বা না সেই মেয়ে বা বন্ধুদের কথা ...
এবার রাসেল কেদে কেদে যা বলেছলো ...
ঘরের মধ্যে ছেলেটাকে দেখার পর , সে দেৌড়াবে নাকি দাড়াবে , সেটা ভাবার আগেই, লোকটা জামার কলার ধরে ফেললো ।
প্রথম চড় খাবার পর হমভম্ভ হয়ে গিয়েছিলো রাসেল। জীবনের প্রথম এমন ধরনের পরিস্থিতিতে সে কি করবে বা করা উচিত সে বুদ্ধিঞ্জান হারিয়ে ফেললো ভয়ে ।
লোকটি তার জামার কলার চেপে ধরে-
“ কি রে ? চুরি করতে এসেছিস???”
না , আমি চোর না , শুনেনে …
কুত্তার বাচ্চা এত রাতে কি ? কি করে ঢুকলি????
না, মানে ………….
( সে সব বলতে গেলো , কিন্তু কি বলবে সে , আপনার বাসার মেয়ের সাথে আমি দেখা করতে আসি … , বলতে যেয়েও সে বলতে পারলো না , মুখ বন্ধ হয়ে গেলো লজ্জায় )))
চুপ কেনো … বলে লাগিয়ে দিলো সজরো আরো দু একটা চড় …
রাসেল পুরো হকচকিয়ে গেলো ।
রাসেল হঠাথ চিন্তা করলো , চুরি বেশী অপরাধ , নাকি তার বোনের সাথে যেৌনতা ??? সেকি বলবে ,
কিন্তু কাজগুলো এত দ্রুত হচ্ছে যে কোন ভাবনায় শেষ করতে পারছে না ।
ততক্ষনে বাড়ির আরো ৩-৪ জন পুরুষ চলে আসলো ,
কি হয়েছে রে ,
চোর পাইছি …
মার শালারে …
কেমন যেন , তারা বিদ্যুতের গতিতে ছুটে এলে । পাগলা কুকুরের মত তাকে নিয়ে টানা হেচড়া শুরু করলো । কেউ কেউ তাকে চড়-কেউ গালি, যে যার মত ব্যবহার করতে শুরু করলো ।
এমন সময় রাসেল মেয়েকে এক পলক দেখলো , সে বারেন্দায় এসেছে । তাকে দেখে সে কিছুটা সস্থি পেলো ।
কিন্তু মুহূর্তেই মেয়েটা দেৌড়ে আবার ভেতর চলে গেলো ।
রাসেল এই সময় দেখলো কে যেন ওর দিকে ক্রিকেট খেলার ষ্টাম্প নিয়ে বেশ গতিতে আসছে ।
রাসেল ভয়ে বলে উঠলো – “ আমি লিজার কাছে ……………….
কথা শেষ করার আগেই , ষ্টাম্প দিয়ে সজরো বাড়ি মাররো রাসেলের পায়ে , আর বলে উঠলো , “ নেশা করিস খা**কির পো*….
রাসেল কথাটা আর শেষ নামাতে পারলো না আর “নেশা করিস” এর কথার তীব্রতায় হারিয়ে গেলো , তার সত্যতা …
রাসেল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে…
রাসেল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে… শুরু হলো অত্যাচার
রাসেলের গায়ে একটার পর একটা বাড়ি পড়ছে । রাসেলের মুখ বন্ধ হয়ে গেলো । হাজার চেষ্ঠা করেও রাসেলের মুখ দিয়ে শব্দ উচ্চারণ করতে পরছে না । তার শরীল যেন সব কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ভয়ে আর আঘাতে…
একটা চোর কে যেভাবে মারা হয় সেভাবে সেভাবে একটা সাধারণ ১৮-১৯ বছরের ছেলেকে মারা হলে , তা সহ্য করা সম্বব নয় । আরো শুনেছি , চোরেরা চুরি করার আগে , একপ্রকার নেশা করে , যাতে সে ধরা পড়লে , কেউ মারলে ব্যথা কম লাগে । আর রাসেল তো সেন্ট্রাল ফ্রুট খেতে-খেতে আসিছিলো ।
রাসেল আর্তনাথ করতে থাকলো , লিজা , আমাকে বাচাও, আমি মরে যাবো …
কিন্তু সে শব্দ এতই ক্ষীর্ণ যে, নিজের কানে , লাথি, চড় আর ষ্টাম্পের শব্দই ছিলো তীব্র ।
রাসেলের একসময় আর কিছু মনে নেই ।
#পর্ব_৫
রাসেল , লিজার অনেক কথা হলো , এবার আমার কথা বলবো ।
রাসেলের মোটামুটি সুস্থ হতে ৪-৫ মাস লেগে গিয়েছিলো ।
সেদিন ভেবে নিয়েছিলাম , মেয়েকে দেখে নিবো । প্রতিটি চোখের পানির হিসাব নেব ।
কিন্তু কিছুই করতে পারিনি , কারণ মাত্র ৩ মাসের মধ্যে লিজার বিয়ে হয়ে যায় র্যছবের এক উদ্ধতন কর্মকর্তার সাথে । একজন সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবার এবং ব্যবের এক উদ্ধতন কর্মকর্তার সাথে আমাদের মত সাধারণ ছেলেরা কখনোই পারবো না ।
রাসেলের অনেক প্রশ্নের উত্তরে উঠে এসেছিলো, রাসেল যখন প্রথম লোকটাকে দেখেছিলো , টোবিলে তখন কয়েকটা ফেনসিডিলের বোতল ছিলো ।
তাতে বুঝেছিলাম , লোকটা সম্পূর্ন নেশার ঘোরে ছিলো ।
রাসেলের কথায় যুক্তি পাচ্ছিলাম না , কারণ ঐ দিন মেয়েটা কেনো ওকে দেখে চলে গিয়েছিলো , মেয়েটা তো ওকে বাচাতে পারতো । আবার মেয়েটা তো কল করেছিলো , তাহলে রাসেলকে কি মারা হয়েছিলো কোকন শত্রুতার কারণে ।
খুব রেগে আর সাহস করে , একদিন লিজাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছিলাম …
মানুষ এতটা আত্নকেন্দ্রিক আর স্বর্থপর হতে পারে , সেদিন আমি প্রথম বুঝেছিলাম ।
লিজা বলেছিলো ,
তাকে কল করার পর , ওর ভাই ওকে বলেছিলো কিচ্ছুক্ষন উপরের ঘরে থাকতে । মাঝে মাঝেই ওর ভাই এভাবে বাইরে যেতে বলে – নেশা করত, ২-১ টা সিগারেট টেনে আবার চলে যেত । কিন্তু লিজা আবার কল করেছিলো রাসেলের কাছে, কিন্তু রাসেল ফোন ধরে নি ।
রাসেল কে যখন প্রথম ধরা হয় , লিজা ভেবেছিলোম ২-১ টা চড় মেরে হয়ত ছেড়ে দেবে ।সব সমস্যা মিটে যাবে ।
কিন্তু ওর পরিবারের এমন কান্ড দেখে সে নিজেই ভয় পেয়েছিলো । তার বাবা-মা – পরিবারের সবাই তাকে অনেক আদর আর অঘাত বিশ্বাস করে । তাই সে লজ্জায় কিছু বলতে পারি নি ।
সে নিজের যেৌনতার কুর্মের কথা কাউকে জানাতে চাচ্ছিলো না আর যদি সবাই জেনে যাই , তাহলে সে মুখ দেখাবে কি ভাবে … তা্ই সে চুপ করেছিলো , কিন্তু সে অনেক কষ্ট পেয়েছিলো ।
---- এই ছিলো লিজার কথা এর পর আর কিছু শুনতে চাইনি আমি ।
পরবর্তী রাসেলের প্রতিবাদে কোন বিচার হয়নি …
কারণ, ক্ষমতাবানদের একটা ক্ষমতা থাকে , সেটা হলো – “যা হয়েছে, হয়ে গেছে, এখন একটা ভূল তো হয়ে গেছে বাবা, এই নাও কিছু টাকা , সব বাদ দাও”…. ক্ষমতাবানদের এই সামান্য কথাই - অনেক কথাকেই নিমিশেই হারিয়ে যায় । …
রাসেলের মত হাসিখুশি ছেলেগুলোর ভালোবাসার যন্ত্রনা, হেরে যাবার যন্ত্রনা, লজ্জায় নিস্থব্ধ হয়ে যায় , ধুলোই চাপা পড়ে যায় সব কিছু । যেৌনতা মানুষেরই সৃষ্টি, আর মানুষের জন্যই সৃষ্টি , থাক না লিজার মত সুন্দরীরা যেৌবনের সম্মান নিয়ে আর
রাসেলরা মারা যাক, তাতে এমন ভালোবাসা আর সৃষ্টি হবে না ।
সবাই যখন মারছিলো, তখনো রাসেল লিজার ঘরের দরজার দিকে ঝাপসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আশা করেছিলো ছিলো যে, লিজা এসে ওকে জড়িয়ে ধরবে, আর সবাইকে বলবে, আমি রাসেলকে ভালোবাসি …
_______________________________
©somewhere in net ltd.