| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৌরভ (জ্যাকরেবিট)
একজন স্বাধীনচেতা শালিক, যে সীমান্তে আবদ্ধ নয়!
জাতি হিসেবে আমরা খুব একটা বুদ্ধিবৃত্তিক নই। এতে অবশ্য আমাদের কোনো হাত নেই, এটা ভৌগলিক কারণেও হতে পারে। এ অঞ্চলেই জন্ম নেয়া আমাদের প্রপিতামহরাও এমনই ছিলেন (অবশ্যই ব্যাতিক্রম আছে, আমি বেশিরভাগের কথা বলছি)। এরা নতুনকে কখনোই সহজভাবে মেনে নেয়নি, এরা সবসময় পুরাতনকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চেয়েছে। এরা পরিবর্তনে খুব একটা সমর্থন করেনি কখনো, প্রথাগত বদ্ধমূল ধারণার ওপরই তাদের ভরসা এবং আস্থা ছিলো।
এজন্য পুরো পৃথিবী যখন বিশ্বায়নের হাওয়া গায়ে লাগিয়ে উন্নত এবং উৎকৃষ্ট হতে শুরু করেছে, তখনো আমরা অনেক অনেক পিছনে। আমাদের সমাজে রেপিড চেঞ্জ কখনো আসেনি; হ্যা, বিপ্লব হয়ত হয়েছে, কিন্তু সমাজ তার সুফল কখনোই পুরোপুরি ভোগ করতে পারেনি।
আমাদের সমাজ এখনো ব্যাক্তির চিন্তাচেতনা, মানসিকতা, দর্শন এসবের ওপর নিয়ন্ত্রন আনতে চায়। এখানে এখনো ভূল এবং শুদ্ধকে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্ধারণ করা হয়। এখন, সমস্যা হলো সবকিছু তো ডেমোক্র্যাটিক্যালি নির্ণয় করা যাবে না। তাহলে, মেজরিটি যদি ভূলকে সমর্থন করে, তবে তাই সমাজে শুদ্ধ বলে প্রতিষ্ঠা পাবে।
সমাজ কখনো একজন নিয়ে তৈরি হয়না, একজনের আদেশেও চলে না; তাই সমাজকে সমাজের প্রয়োজনেই নিরপেক্ষ বা স্যাকুলার হতে হয়। এখন সমস্যা হচ্ছে, যখন সমাজ সবার মতো না হয়ে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠি দ্বারা শাসিত হয় কিংবা তাদের নির্দেশে চলে, তখনই একটা সমাজ আর আদর্শ সমাজ থাকে না, কারণ তখন সমাজের নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়ে যায়। ওদিকে, যে গোষ্ঠি সমাজের শাসন করছে, তারা এর সুবিধা নিতে শুরু করে। নতুন নতুন নিয়মকানুন ও বিধিনিষেধ তৈরি করে তারা সমাজের একটা বৃহৎ অংশকে কুক্ষিগত করে ফেলে।
এতে করে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি হয়।
এই বৈষম্য দূরীকরণে তরুণরাই কথা বলে, কাজ করে কিন্তু তাদের থামিয়ে দেয়া হয়, ঐ যে বললাম আমাদের সমাজ পরিবর্তন চায় না!
এক্ষেত্রে তরুণদেরও বেশিরভাগ সময় কিছু করার থাকে না। কারণ রাষ্ট্রের সিনিয়র সিটিজেনরাই সমাজের হর্তাকর্তার পদে আসীন থাকেন। তারা সবসময়ই ভাবেন, নতুন প্রজন্ম একটা বিরাট গাধার দল! তারা সবাই অকর্মণ্য এবং সেই সাথে অলস। তাদের সময় তারা কতকিছু করেছেন! ধান কেটে স্কুলে গিয়েছেন, স্কুল থেকে এসে ক্ষেতে আলু কুড়িয়েছেন, ফ্যামিলিকে কতো কতোভাবে সাপোর্ট করেছেন, আহা; আজকালকার ছেলেমেয়েরা কি পারবে এসব করতে, করবে?
অথচ সত্যি এই যে, আজকালকার গাধাগুলো বেডরুমের ল্যাপটপে বসে ফরেইন কোন নামজাদা কোম্পানীর ওয়ার্ক সাবমিট করে ফেলছে কিংবা নাসার নতুন আবিষ্কার নিয়ে ওয়েবে খুব তথ্যবহুল একটা ব্লগ লিখে ফেলছে অথবা স্ট্রীট অর ওয়াইল্ড ফটোগ্রাফি করে দুনিয়াকে দেখিয়ে চলেছে "Bangladesh, the school of beauty".
এতোগুলো কথা বলার অর্থ হলো, হোমোসোপিয়েন্স হিসেবে আপনার চিন্তার দুটো দিক আছে, একটা পজেটিভ আরেকটা নেগেটিভ। পজেটিভ ওয়েতে চিন্তা করলে আপনার কাজেও সেই পজিটিভিটি রিফ্লেক্ট করবে। এতে সমাজে একটি সুস্থ পরিবর্তন আসবে যা সবার কাম্য। ভালো থাকুন, পজেটিভ এবং ক্রিয়েটিভ চিন্তা করুন, ধন্যবাদ।।
©somewhere in net ltd.