নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যদিও তোমরা রুদ্ধ করে দিতে চাও আমার বলার কিংবা লেখার অধিকার,\nযদিও তোমরা অনুপ্রাণিত করো মিথ্যের প্রচার ও প্রসারে,\nযদিও তোমরা সম্ভোগের কথা বলো,\nআমি বলি, চিৎকার করে বলি;\nসত্য এবং শুধুমাত্র সত্যই তোমাদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট আঘাত!

সৌরভ (জ্যাকরেবিট)

একজন স্বাধীনচেতা শালিক, যে সীমান্তে আবদ্ধ নয়!

সৌরভ (জ্যাকরেবিট) › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাজাকারের বিবৃতি

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৯

একটা মিলিটারি জীপ শহরের আনাচে কানাচে ঘুরে শেষে চলে যাচ্ছিলো রায়েরবাজারের দিকে,
হত্যার আয়োজন সম্পন্ন সেখানে, মৃত্যু অপেক্ষা করে আছে তাদের জন্য যাদেরকে ধরে আনা হয়েছে শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে।
মিলিটারি জীপটা অন্ধকারময়, প্রতিরাতের অন্ধকারকে ছাপিয়েও সেদিন এক গুমোট অন্ধকার ভর করে রেখেছিলো জীপটাকে.......
একজন এমপি পোলিস আমাকে বললেন সবাইকে রিকগনাইজ করার জন্য ভেতরে যেতে। আমি একটা সার্চলাইট নিয়ে ঢুকলাম, তীব্র আলোচ্ছটায় আমি চিনতে পারলাম একে একে সব যাত্রীদের। পাশাপাশি বসে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের শিক্ষক ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব, বাংলা সাহিত্যের ড. আনোয়ার পাশা, ইংরেজী সাহিত্যের ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, হুমায়ুন কবীর, ফলিত পদার্থবিদ্যার অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য। উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছেন সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার, সহকারী সার্জন ডা. আজহারুল হক, অধ্যাপক ডা. আলীম চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতির শিক্ষক ড. শ্রী সুখারঞ্জন সমাদ্দার, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সহ আরো অনেকে।
তাদের প্রখর ব্যক্তিত্ব আর উজ্জ্বল দৃষ্টির সামনে আমি আর বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। সার্চলাইট বন্ধ করে আমি নেমে পড়লাম জীপ থেকে, এক অদৃশ্য ভয় আমাকে গ্রাস করতে শুরু করলো, প্রচন্ড অপরাধবোধে ভুগতে ভুগতে আমি এগিয়ে যাচ্ছিলাম বদ্ধভূমির দিকে।

রাত দুটো ত্রিশ, রায়েরবাজার বদ্ধভূমি, ঢাকা।
একটা ডোবার পাশেই ইটের স্তুপের কাছ ঘেঁষে গাড়িটাকে পার্ক করা হয়। আমাকে কমান্ড দেয়া হলো সবাইকে পিছমোড়া করে হাত বেঁধে একে একে গাড়ী থেকে নামিয়ে এনে পাশাপাশি সুশৃঙ্খল লাইন তৈরি করার। আমার ভেতর একধরণের ঘোর কাজ করছে, আমি রোবটের মতো কমান্ড অনুযায়ী কাজ করছি।
আমাকে একটা কাটা রাইফেল দেয়া হলো, শেখানো হলো কিভাবে কাঁধে সাপোর্ট রেখে নিশানা করে ফায়ার করতে হয়।
রাত তিনিটে চল্লিশ; একটা অস্থায়ী ফায়ারিং রেঞ্জের ভেতর আমি আর আমার সামনে চোখ এবং হাত-পা বাঁধা কিংবদন্তিরা দাঁড়িয়ে আছেন, এরা একেকজন বাঙলার সূর্যসন্তান। আমি ফায়ারের জন্য প্রস্তুত, হঠাৎই চোখে ঝাপসা দেখতে লাগলাম, বুঝতে পারছিলাম না যে জ্ঞান হারাচ্ছি কিন্তু ঠিক বুঝতে পারছিলাম, এদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের নিভিয়ে দেয়া হচ্ছে আজ।।
১৪ই ডিসেম্বর ১৯৭১,
রায়েরবাজার, ঢাকা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.