নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লিখতে ভালো লাগে তাই লিখি।

সুদীপ কুমার

ধূসর পথের যাত্রী

সুদীপ কুমার › বিস্তারিত পোস্টঃ

যেখানে সবই সত্য

২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:১৪


এক
চম্বাবতীর কাছে বিষয়টি বেশ বিরক্তিকর।কমলেশ ওকে অন্য ছেলেদের সাথে মিশতে দিতে চায়না।আরে বাবা, চাকুরী সূত্রে ওকে সবার সাথেই মিশতে হয়।কিন্তু কমলেশ বাড়ি ফিরেই বিষয়টি নিয়ে নানা কথার অবতারনা করবে।এই নিয়ে আবার ফেসবুকে কত জ্ঞানগর্ভ স্ট্যাটাস যে দেয় কমলেশ তার কোন হিসাব নেই।আর কমলেশের ফলোয়াররাও সেই রকম।স্ট্যাটাস পড়ার সাথে সাথে ছাগলের মত ম্যাৎকার জুড়ে দেয় ওর স্ট্যাটাসে। চম্পাবতী কমলেশের টাইমলাইনে ঢুকলেই কেমন যেন ছাগলের বোঁটকা গন্ধ পায়।

কমলেশ ছাদে উঠে।আজ বাসায় সে একাই।চম্পাবতী অফিসের কাজে সাত সদস্যের এক টিমের সাথে জার্মানী গিয়েছে।এক মাস থাকতে হবে।কমলেশ নিষেধ করেছিল।পরবর্তি দলের সাথে ওরা একসাথে যেতে পারতো।চম্পা ওর টিম নিয়েই চলে গেলো।কমলেশ আকাশের দিকে তাকায়।চাঁদটিকে বেশ বড় লাগছে দেখতে।আগামীকাল জ্যোৎস্না।আরও কিছুক্ষণ ছাদে থেকে সে নীচে নেমে আসে।খাবার সাজানো আছে টেবিলে।সে খেয়ে রুমে চলে আসে।বিছানায় গিয়ে বসে।গ্লাস হাতে নেয়।তারপর একটি একটি করে দশটি ঘুমের ঔষধ খেয়ে নিয়ে শুয়ে পরে।ঘুম আসার আগে শেষবারের মত চম্পাবতীর কথা ভাবে।

কমলেশ বেশ অবাক হয়।মন্দরটি অসম্ভব সুন্দর।চারদিকে আলো ঝলমল করছে।প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে মন্দিরের প্রতিটি অংশের জন্যে।চারপাশে প্রচুর দেবদেবী।ঘুম থেকে উঠে কমলেশ নিজেকে এই মন্দিরে আবিস্কার করে।মন্দিরে সবই মূর্তি।তবে কোন পূজারী নেই।অন্যকোন মানুষও নেই।কমলেশ ভেবে উঠতে পারেনা এখানে সে কিভাবে এলো?আরও মজার বিষয় সে যে কে এটাও বুঝতে পারছে না।ঘুরে ঘুরে মন্দিরের সবকিছু দেখতে থাকে।দেখা শেষ হলে গনেশ ঠাকুরের বারান্দায় গিয়ে বসে।বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর সে উঠে দাঁড়ায়।মন্দির থেকে বেরিয়ে আসে।বেশ নির্জন রাস্তা।প্রথম যে ব্যক্তির সাথে কমলেশের সাক্ষাৎ হয়,সে দেখতে একদম মন্দিরের কার্তিক ঠাকুরের মত।ভীষণ অবাক হয় কমলেশ।লোকটি তার পাশ দিয়ে চলে যায়।কমলেশ ভাবতেও পারেনি পরবর্তি সময়ে তার জন্যে কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে।সে হাঁটতে হাঁটতে এক বাজারের মধ্যে চলে আসে।আর সেই বাজারে মন্দিরের সব দেবতা উপস্থিত।কিম্বা বলা যায় লোকগুলি সব মন্দিরের দেবতাদের মত দেখতে।কেউ কৃষ্ণের মত দেখতে,কেউ নারায়ণ,কেউ গনেশ,কেউ দূর্গা,কেউ লক্ষ্মী,কেউ স্বরস্বতীর মত দেখতে।কমলেশের মনে হয় বহু কৃষ্ণ,বহু গনেশ,বহু কার্তিক সব এই বাজারে উপস্থিত হয়েছে।বাজার থেকে বেরিয়ে আসে।সবখানেই একই অবস্থা।এক ব্রক্ষ্মা এক গনেশের দোকানে চা পান করছিল।তারও চায়ের তৃষ্ণা জাগে।
-ভাই এইটি কোন জায়গা?
কমলেশ ব্রক্ষ্মার কাছে জানতে চায়। ব্রক্ষ্মা কথার উত্তর দেয়না।
-ভাই এক কাপ চা দেনতো?দুধ বেশী করে দিয়েন।
গনেশ কোন জবাব দেয়না।কমলেশ দাঁড়িয়ে থাকে।সময় কেটে যায়।গনেশ আরও অনেককে চা দেয়।কিন্তু কমলেশকে দেয়না।
-কি ভাই কখন বললাম আমাকে চা দিতে।দিচ্ছেন না কেন?
বেশ উষ্মার সাথে কমলেশ বলে।
-আপনি কি কারও কথা শুনতে পাচ্ছেন?
প্রশ্ন শুনে কমলেশ চারপাশে চায়।কিন্তু প্রশ্ন কর্তাকে খুঁজে পায়না।
-এখানে আপনি কারও কথা শুনতে পাচ্ছেন না।আর আপনাকেও উনারা দেখতে পাচ্ছেন না।শুধু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনাকে।আর আপনার কথাও শুনতে পাচ্ছি।
কমলেশের মনে হলো,কেউ পিছন থেকে কথা বলছে।সে ঘুরে দাঁড়ায়।একটি কুকুর দাঁড়িয়ে আছে।
-আমিই বলছি।
কথা বলা কুকুর দেখতে পেয়ে কমলেশ হতভম্ব হয়ে যায়।এ ধরণের ঘটনা কেবল বাচ্চাদের কার্টুনেই ঘটে।বাস্তবে কিভাবে ঘটছে তা কমলেশের বোধগম্য হয়না।সে আবার মন্দিরের দিকে হাঁটা শুরু করে।কুকুরটিও ওর সাথে সাথে আসতে থাকে।
-আমার কথা শুনতে পাচ্ছো আবার আমার ভাষাতেও কথা বল?।তাজ্জব ব্যাপার ।
কমলেশ কুকুরটিকে বলে।
-তাজ্জব নয়।এটাই বাস্তব।
কুকুর বলে।
-হতে পারে।আচ্ছা এই জায়গার নাম কি?
কমলেশ প্রশ্ন করে।
-এই জায়গার নাম চেতন-অবচেতন।
-এ কেমন নাম?
-তোমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে?
কমলেশ মাথা নাড়ায়।
কথা বলতে বলতে ওরা মন্দিরের কাছে চলে আসে।কমলেশ আবার মন্দিরে প্রবেশ করে।কুকুরটি মন্দিরের গেটেই দাঁড়িয়ে থাকে।
-ভেতরে আসো।
কুকুরকে আসতে বলে কমলেশ।
-আমি ভেতরে আসতে পারবো না।
এই কথা বলে কুকুরটি চলে যায়।
মন্দিরের ভেতর খাবারের গন্ধে মৌ মৌ করছে।নাকে খাবারের ঘ্রাণ আসতেই কমলেশের উদোরে মোচড় মারে।খুব খিদা পেয়েছে কমলেশের।কমলেশ খেয়াল করে প্রতিটি ঠাকুরের ঘরে বিভিন্ন পদের খাবার থরে থরে সাজানো।আর অবাক করার বিষয় প্রতিটি পাথরের মূর্তি জীবন্ত হয়ে গিয়েছে।আর তারা খাচ্ছে।শুধু একজন বাদে।আর তিনি হলেন সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা।তিনি পাথরের মূর্তি হয়েই আছেন।আর তার সামনে কোন খাবারও নেই।শুধু জবা ফুলের মালা।কমলেশ প্রথমে নারায়ণের সামনে যায়।আর অবাক হয়ে লক্ষ্য করে নারায়ণের সামনে খাসির মাংসের রেজালা,মুরগীর রোষ্ট,বিভিন্ন পদের মাছ,সাদা ভাত,বিভিন্ন পদের মিষ্টান্ন থরে থরে সাজানো।নারায়ণ গোগ্রাসে সব গিলছে।কমলেশ মনে মনে খাবার প্রার্থনা করে।নারায়ণ সারা দেয়না।কমলেশের খুবই খিদা পেয়েছে।সে খুব ভক্তি সহকারে আবার খাবার প্রার্থনা করে।নারায়ণ ঠাকুর বিকারহীন।এবার বেশ জোরেই কথা বলে কমলেশ।
-হে আমার আরাধ্য দেবতা,আমি ক্ষুধার্ত।আমি আপনার কাছে খাবার প্রার্থনা করছি।
নারায়ণ হাসে।কিন্তু কোন খাবার প্রাদান করেনা।নারায়ণ ঠাকুর আহার শেষ করে।এঁটো থালাগুলো উধাও হয়ে যায়।পুনরায় পাথরের মূর্তির রুপ ধারণ করে নারায়ণ ঠাকুর।বিভিন্ন ঠাকুরের দ্বারে দ্বারে কমলেশ ঘুরে বেড়ায়।সবখানেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।ব্যর্থ মনোরথে কমলেশ কালিমাতার সামনে গিয়ে বসে।খুবই খিদা লেগেছে তার।খিদার জ্বালায় বুকে ব্যাথা শুরু হয়ে গিয়েছে।
-কমলেশ তুমি গনেশের কাছে যাও।গনেশের খাওয়া এখনও শেষ হয়নি।সে তোমাকে সহায়তা করবে।
কমলেশ তাকিয়ে দেখে কালিমাতার হাতে তার মৃত পিতার মুন্ডু।আর তিনিই কথা বলছেন।
-বাবা,তোমার ছিন্ন মস্তক কেন মায়ের হাতে?
খুব করুণ সুরে কমলেশ জানতে চায়।
-বাবা কমলেশ,মানুষের মাথাই তো সবকিছু।
এই কথা বলে ছিন্ন মস্তকটি আবার পাথর খন্ডে পরিণত হয়।
কমলেশ গণেশের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
-কি কোথাও পেলেনাতো?আর পাবেই বা কি করে?আজ আমি তোমাকে খাওয়াবো যে।
এই কথা বলে গনেশ যত্ন সহকারে খাবার বেড়ে দেয়।কমলেশ খাওয়া শুরু করে।
-একটা প্রশ্ন জেগেছিল মনে।
কমলেশ গনেশ ঠাকুরকে বলে।
-কি প্রশ্ন?মন্দিরে মাংস কেন?ও তুমি বুঝবে না।তার চেয়ে তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও।তোমাকে এক জায়গায় রেখে আসব।
-কোথায় নিয়ে যাবে আমাকে?
কমলেশ জানতে চায়।
-খাওয়া শেষ কর আগে।অত প্রশ্ন কেন বাপু?তুমি সেখানে গেলেই জানতে পারবে।
গনেশ ঠাকুর বলে।
খাওয়া শেষ হলে গনেশ তার বাহন ইঁদুরের পিঠে উঠে বসে।
-এসো আমার পিছনে বস।
কমলেশ গনেশের পিছনে গিয়ে বসে।
-শক্ত করে জড়িয়ে ধর আমাকে।ইঁদুর দৌড় শুরু করলে পড়ে যেতে পারো।
কমলেশ গনেশকে জড়িয়ে ধরে।বিশাল ভুঁড়ি গনেশের।বেড়ে পায়না কমলেশ।

দুই
গনেশ ওকে একটি বাড়িতে নিয়ে আসে।লোক সংখ্যা দেখে কমলেশের ধারণা জন্মে,এ হয়তো যৌথ পরিবার।আর মজার বিষয় হলো এই পরিবারের বড়রা সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক,-সব গনেশের মত।শুধু শিশুরা ছাড়া।গনেশকে দেখেই সবাই সমস্বরে বলে উঠলো-জয় গনেশ ঠাকুরের জয়।জয় গনেশ ঠাকুরের জয়।গনেশ ঠাকুর বাংলাদেশের নেতাদের মত হাত তুলে অভিবাদন গ্রহণ করে।প্রচুর খাবারের আয়োজন করা হয়েছে গনেশ ঠাকুরের জন্যে।এত আয়োজন যে এই খাবার দিয়ে একশ জন মানুষকে অনায়াসে খাওয়ানো যাবে।কমলেশ মনে মনে ভাবে একটু আগেই দুপুরের আহার শেষ করে এসেছে,এখন আর খাবেনা।কিন্তু কমলেশের ধারণা ভুল প্রমাণ করে গনেশ আর তার বাহন ইঁদুর সব খাবার সাবার করে ফেলে।
-কমলেশ,এই ভুঁড়ি কখনও ভরে না।যা খাবার দেবে সবই খেয়ে শেষ করে দেবে।আর আমার বাহনের দিকে তাকাও।খেয়ে পেট কেমন বানিয়েছে।
কথা শেষ করে গনেশ ঠাকুর হো হো করে হেসে উঠে।
খাওয়ার পর্ব শেষ হলে বাড়ির সবাই করজোড়ে গনেশের কাছে আসে।গনেশ ঠাকুর ওদের জানিয়ে দেয়,আজ হতে কমলেশ ওদের বাড়িতে থাকবে।ঠিক দু’মাস পর কমলেশকে যেন মন্দিরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।দুটি মেয়ে গনেশ ঠাকুরের কাছে আসে।একজন গা ঘেঁষে দাঁড়ায়,আর একজন কোলে বসে।সবাই আবার সমস্বরে বলে উঠে,-জয় গনেশ ঠাকুরের জয়।ওদের আচরণ দেখে কমলেশ লজ্জা পায়।কিন্তু বাড়ির লোকজনের কোন বিকার নেই।গনেশ ঠাকুর কমলেশকে কিছু দিব্য জ্ঞান ও শক্তি প্রদান করেছিল।ফলে কমলেশ ওদের ভাষা বুঝতে পারে এবং বলতেও পারে।

গনেশ ঠাকুর রেখে যাওয়ার পর,কমলেশ ওই বাড়িরই এক যুবকের সাথে একই ঘরে থাকার সুযোগ পায়।ছেলেটির নাম সবখাবো।সবখাবো একজন ছাত্রনেতা।এই বাড়িতে কয়েকটি রাজনৈতিক দল আছে।তবে এখন একটি দলই কার্যকর।আর তার নাম হলো জয় গনেশা।জয় গনেশার ছাত্র সংগঠনের নেতা সবখাবো।প্রতিদিন সবখাবোর আগেই কমলেশ ঘুমিয়ে যায়।আজ কমলেশের ঘুম আসছিলনা।সে ঘরময় পায়চারী করছিল।হঠাৎ খেয়াল করে সবখাবো তার মাথা ধরে টানাটানি করছে।
-কি ভাই মাথা ধরে টানছেন কেন?
কমলেশ প্রশ্ন করে।
-আরে ভাই মুখোশ খুলছি।
এই কথা বলে সবখাবো তার গনেশের মুখোশ খুলে ফেলে।আর মুখোশের আড়াল হতে গড়পরতা এক বাঙালি যুবকের মুখ বেরিয়ে আসে।কমলেশের মুখ হ্যাঁ হয়ে যায়।
-অত বড় হ্যাঁ করবেন না দাদা।মশা ঢুকবে যে।
সবখাবো হাসতে হাসতে বলে।
-গনেশজি জানেন?
কমলেশ বলে।
-উনি হয়তো জানেন না।তবে উনার বাহন ইঁদুর জানে।
-বলে দেয়না?
-কেন দেবে?মাস গেলে মোটা অংকের টাকা ইঁদুরের বাসায় দিয়ে আসি।আর সেই টাকা দিয়ে ইঁদুর বিদেশে বাড়ি কিনেছে।তার ছানাদের বিদেশের মাটিতে পড়াচ্ছে।
সবখাবো গড়গড় করে বলে যায়।
-আপনারা টাকা পান কি করে?
-আপনি কি খেয়াল করেছেন, আমাদের বনেদী টাইটেল?
-না করিনি?
-আমাদের বনেদী বংশ।আর তা হলো খাবো।আর আমাদের বাড়ির নাম খাবো খাবো।
-আপনারা সবাই গনেশজির মুখোশ পড়ে আছেন?
-আসলে কিছু তো মুখোশ ছাড়া সত্যিকারের গনেশ অবশ্যই আছে।তবে চালকের আসনে আমরা বসে আছি।তবে আমাদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
-বলেন কি?
কমলেশ আশ্চর্য হয়ে যায়।
-সব বাহন ইঁদুরের অবদান।

দেখতে দেখতে দুই মাস শেষ হয়ে যায়।কমলেশ মন্দিরে ফিরে আসে।গনেশ ঠাকুরের কাছে গিয়ে প্রণাম করে।কিন্তু গনেশ ঠাকুর পাথরের মূর্তি হয়েই বসে থাকে।পাশে পাথরের ইঁদুর।কমলেশ ভেবে রেখেছিল গনেশ ঠাকুরকে সব বলে দেবে।কিন্তু হলো কই।সে মন্দিরের বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়ে।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে ওর পড়নের পোষাক ইঁদুরে কুচি কুচি করে কেটে ফেলেছে।ওর পড়নে শুধু আন্ডার ওয়্যার।
-ভক্ত,এদিকে এসো।আমি তোমাকে পোষাক দেবো।
কমলেশ তাকিয়ে দেখে কার্তিক ঠাকুর তাকে ডাকছে।সে এগিয়ে যায়।কার্তিক ঠাকুর তাকে নতুন পোষাক প্রদান করে।কার্তিক ঠাকুর তাকে আরও কিছু দৈব শক্তি প্রদান করে এবং গনেশের মত নতুন এক জায়গায় রেখে আসে।

নতুন স্থানটি কমলেশের খুব পছন্দ হয়।বিশাল এক আশ্রম।চারপাশে শুধু পুরুষ পূজারী।কোন মেয়ে নেই।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবাই পূজা-অর্চনা নিয়েই ব্যস্ত।অতন্ত্য মনোমুগ্ধকর একটি স্থান।বেশ আনন্দেই সময় পাড় করছিল কমলেশ।এর মধ্যে এক রাতে ঘটে যায় জঘন্য এক ঘটনা।মাঝরাতে প্রচন্ড ব্যথায় কমলেশের ঘুম ভেঙ্গে যায়।কমলেশ উঠবার চেষ্টা করে।কিন্তু পারেনা।চারজন পূজারী তাকে চেপে ধরে আসে।আর আশ্রমের বড় মহারাজ তাকে বলাৎকার করছে।

পরদিন সকালে তীব্র ব্যথা নিয়ে সে পায়খানায় যায়।পরে কার্তিক ঠাকুরের দেওয়া দৈব শক্তিতে সে নিজেকে সুস্থ করে পুনরায় মন্দিরে ফিরে আসে।মন্দিরে ফিরে এসে সে দেবী দূর্গার কাছে সব কথা খুলে বলে।দেবী দূর্গা আকস্মিকভাবে কমলেশের কাছে চলে আসে।
-যাও বৎস,তুমি তোমার স্থানে ফিরে যাও।
এই কথা বলে মা দূর্গা কমলেশের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।কমলেশ ঘুমিয়ে পড়ে।


কমলেশ নিজেকে হাসপাতালে আবিস্কার করে।একে একে তার চম্বাবতীর কথা মনে পড়ে।ওদের লিভ টুগেদারের দশ বছর পূর্তি হয়েছে এই কথা মনে পড়ে।ওর যে কোন সন্তান নেই সেই কথা মনে পড়ে।ঘুমের ঔষধের কথা মনে পড়ে।ডাক্তার আসে ওর কেবিনে।কমলেশকে দেখে হাসে।
-কমলেশ বাবু,আপনি খুব লাকি।পাক্কা তিন মাস কোমাতে ছিলেন।আবার ফিরেও এলেন ভালভাবে।আর এক সপ্তাহ।তারপর বাড়ি যেতে পারবেন।

এরপর কমলেশের গল্প আর বেশী দূর অগ্রসর হয়না।কমলেশের হার্টে অনেকগুলি ব্লক ধরা পড়ে।সে আর পরিশ্রম করতে পারেনা।কোন মতে অফিসে হাজিরা দেয়।চম্পাবতীর সাথে ওর ব্রেকআপ হয়ে যায়।একদিন চাকরিটাও চলে যায়।কমলেশ সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়। তবে এখন আর কমলেশের মৃত্যুর ইচ্ছা হয়না।মাঝে মাঝে ঘুমের ভেতর স্বপ্ন দেখে-একটি সুন্দর মন্দির।একটি কথা বলা কুকুর।মুখোশের আড়ালের মানুষ।আরও কতকিছু?যার মাথা-মুন্ডু কিছুই বুঝতে পারেনা সে।

২০/০৪/২০১৯

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:১৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: কমলেশের গল্প বেশ ভাল লাগলো।

২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৭

সুদীপ কুমার বলেছেন: ধন্যবাদ গিয়াস ভাই।

২| ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৫১

শায়মা বলেছেন: যাক তবুও কোমা থেকে ফিরে আসতে পারলো .....

২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৭

সুদীপ কুমার বলেছেন: সে যা বলেছেন।পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।

৩| ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:৩২

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: বেশ :)

২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৬

সুদীপ কুমার বলেছেন: আসলেই আমাদের নেতারাও বেশ।

৪| ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: বেশ কিছু বানান এডিট করে ঠিক করে নিবেন।

২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৫

সুদীপ কুমার বলেছেন: খুব উপকার করলেন।এডিট করেছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.