নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লিখতে ভালো লাগে তাই লিখি।

সুদীপ কুমার

ধূসর পথের যাত্রী

সুদীপ কুমার › বিস্তারিত পোস্টঃ

পরাবাস্তব

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:৫৬


-আমি দেশের জন্যেই কাজ করছি।আমি চাই দেশ সমৃদ্ধশালী হোক।আমার দল,আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
কামাল সাহেব গড় গড় করে বলে যান
সত্যিই দেশ এগিয়েছে।অনেক ক্ষেত্রেই।শুভ্র মনে মনে ভাবে।
-সত্যিই তাই।দেশ অনেক এগিয়েছে।আচ্ছা আপনি তো বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন?
শুভ্র কামাল সাহেবকে প্রশ্ন করেন।
-তা আর বলতে।আমি ছাত্র রাজনীতি হতেই উঠে এসেছি।আমি সভাপতি ছিলাম।
কামাল সাহেব বেশ আত্মতৃপ্তির সাথে বলেন।
-আপনার ছেলেমেয়ে কয়জন?
-এক মেয়ে আর এক ছেলে।দুই জনই পড়াশুনায় খুব ভাল।ওরা কানাডায় পড়াশুনা করছে।
-বলেন কি? খুব ভাল।
-আপনি স্থানীয় কলেজ শেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন।
-সে আপনি আগেই জানেন।পিতার আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না।বিদেশে পড়ার কথা স্বপ্নেও ভাবিনি।আর দেখুন আমার ছেলেমেয়ে এখন বিদেশের মাটিতে পড়াশুনা করছে।
বেশ উদাস স্বরে কামাল সাহেব বলেন।
-ছাত্র রাজনীতির মধ্যে দিয়েই আপনি প্রচুর অর্থ-সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন?
শুভ্র কামাল সাহেবকে প্রশ্ন করেন।কামাল সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন।তারপর নড়েচড়ে বসেন।
-দেখুন সংগঠন চালাতে টাকা লাগে।আপনার ধারণা আছে একজন ছাত্র নেতার প্রতিদিন কত টাকা হাত খরচ আছে?
শুভ্র মাথা নাড়ে।
-এই দেখুন নেই।আমরা জানি।
কামাল সাহেব বেশ দৃঢ়তার সাথে বলেন।
-ঠিক আছে।তবে একটা কথা কি আপনি ছাত্র জীবনেই কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।এই টাকা সংগঠনের পিছনে ব্যয় করেননি কেন?
ঘরে আবার নীরবতা নেমে আসে।শুভ্র বুঝতে পারে কামাল সাহেব খুব ক্ষিপ্ত হয়েছেন।অবশ্য কামাল সাহেব রাগলে শুভ্রর কিছু যায় আসেনা।
-আসলে চারিদিক থেকে এত টাকা আসতো সে আর কি বলবো?ভর্তি বাণিজ্য,শিবির কর্মীদের আমাদের দলে অন্তর্ভুক্তির বিনিময়ে আমরা অনেক উপার্জন করতাম।
কামাল সাহেব মৃদ স্বরে বলেন।
-কমিটিতে পদ বিক্রি করতেন না?
শুভ্রর প্রশ্ন শুনে হো হো করে হেসে উঠেন কামাল সাহেব।
-দেখুন আমি আমার পদটি কিনতে আমার আব্বার শেষ সম্বল পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করেছিলাম।এখন আমি কয়েক একর জমির মালিক।
-আপনি একজন অতিশয় ভদ্রলোক।আপনি তা জানেন?
শুভ্রর কথায় কামাল সাহেব লজ্জা পান।
-আমাদের দেশের দুর্বলতা কি জানেন?
কামাল সাহেব শুভ্রর কথায় চোখ সরু করে তাকান।
-আপনার মত চুড়ান্ত অসৎ লোক রাজনীতির সম্মুখ কাতারে।আপনার মত উঠতি ধনীদের কবলে বাংলাদেশ।
কামাল সাহেব ভেতরে ভেতরে খুব ক্ষেপে যান।
-আপনি কি সৎ?আপনার তো উন্নতি নেই।জানেন টাকা ছাড়া আপনাকে কেউ চিনবে না।
কামাল সাহেব চিৎকার করে বলেন।শুভ্রর মুখটা বেদনায় নীল হয়ে যায়।কামাল সাহেব বিছানায় উঠে বসেন।এসি বাড়িয়ে দেন।খুব গরম পড়েছে।আর রাতের খাবারও বেশী হয়েছে।রুমী নিঃশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।কামাল সাহেবের একটু হিংসাই হয় রুমীর ঘুম দেখে।তিনি এক গ্লাস জল পান করে আবার শুয়ে পড়েন।


-প্রচুর লাভ না?
শুভ্র বক্কর চাচাকে বলেন।
-শোন বাবা,তোমার বয়স কম।এই সব লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে এসোনা।
বক্কর চাচা উত্তর দেন।
-না এমনিই জানতে ইচ্ছা হলো।আসলে কি, এই যে রমজান আসার এক মাস আগেই সব জিনিসের দাম বেড়ে গেলো।যদিও কোন ঘাটতির কোন খবর কোন পত্রিকা উল্লেখ করেনি।শুধু সরকার বলেছে রমজান মাসে কোন পণ্যের দাম বাড়ানো যাবেনা।
শুভ্রর কথায় বক্কর চাচা মুচকি হাসেন।
-চাচা,আপনি তো সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে ঈদ উদযাপন করেন?
শুভ্র প্রশ্ন করে।
-হ্যাঁ।তাতে কি হয়েছে?
-না,সৌদি আরবে রমজানের সময় সব পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়।আমরা পারিনা কেন?
ফযরের আযানে বক্কর সাহেবের ঘুম ভেঙ্গে যায়।তিনি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়েন।নামায পড়তে যেতে হবে।



-আজ আপনি যে ক্ষুরধার বক্তৃতা দিয়েছেন তা অতুলনীয়।সত্যিই আপনি শিক্ষক কিন্তু অগ্নি নির্বাপন বিষয়ক আপনার এত জ্ঞান,আজকে টকশো না দেখলে অজানাই থেকে যেত।
-কি যে বল শুভ্র।তোমরা আমার চেয়েও কত ভাল জান।
কিবরিয়া সাহেব হেসে শুভ্রকে বলেন।
-আপনি ক্লাসে অসম্ভব ভাল পড়ান স্যার।আপনি যখন সেক্সপিয়ার পড়ান,আমরা তখন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনি।
শুভ্র বলে।কিবরিয়া কোন উত্তর করেন না।
-স্যার আপনার হাতের এই ক্যামেরার দাম কত?
শুভ্র জানতে চায়।
-আর বলোনা।গত সপ্তাহে ছেলেকে কিনে দিয়েছিলাম দেড় লাখ টাকা দিয়ে।কোথায় কি করেছে,এখন ডিসপ্লে হচ্ছেনা।
কথা বলতে বলতে উনার মোবাইলে কল আসে।উনি কল ধরেন।
-হ্যাঁ বাবু,তুমি টিএসসিতে চলে এসো।সাদা গাড়িটি নিয়ে এসো।
শুভ্র আর কথা বাড়ায়না।চলে যায়।কিবরিয়া সাহেব নিঃশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন।এসি আঠারোতে দেওয়া।


নাজমুল সাহেবের ঘুম আসছে না।আজ ভ্যাপসা গরম পড়েছে।বিছানায় ছটফট করতে থাকেন।শেষে বারান্দায় গিয়ে বসেন।উনি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব রক্ষক।যা বেতন পান, দুর্মূল্যের এই বাজারে কোন মতে চালিয়ে নেন।উনার কোন সঞ্চয় নেই।কিভাবে ছেলেদের মানুষ করবেন,এই ভাবনাতেই উনার ঘুম আসেনা।প্রতি মাসের শেষে ধার করে উনার চলতে হয়।
-ঘুম আসছে না?
নাজমুল সাহেব পাশে তাকান।উনার স্ত্রী লতা দাঁড়িয়ে।
-না।
-চল আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দেবো।তোমার ঘুম এসে যাবে।
নাজমুল সাহেব উঠে দাঁড়ান।স্ত্রীর সাথে ঘরে চলে যান।

২৭/০৪/২০১৯

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৩০

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: ভালো লেগেছে।

০৮ ই মে, ২০১৯ রাত ১০:১৮

সুদীপ কুমার বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.