নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লিখতে ভালো লাগে তাই লিখি।

সুদীপ কুমার

মন যা চায়।

সুদীপ কুমার › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্পন্দন (দ্বিতীয় পর্ব)

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২৯




জগদীশ বাবুর বাড়িতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।রাত্রি এগারোটা বেজে গিয়েছে।কেউ এখনও রাতের খাবার খায়নি। অজন্তা একটি পুতুল সাথে নিয়ে দিদির ঘরে প্রবেশ করে।
-গঙ্গা মাসি,গঙ্গা মাসি আমার খুব খিদে পেয়েছে।সকাল থেকে কিছু খাইনি।তুমি খেলেই আমি খাবো।মা খাবে।
ইলোরা শুয়ে ছিল।উঠে বসে।অজন্তার হাত থেকে পুতুল কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে। তারপর ঠাস করে অজন্তার গালে চড় কষিয়ে দেয়।অজন্তা গালে হাত বুলিয়ে উঠে দাঁড়ায়।মেঝে থেকে পুতুল কুড়িয়ে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
-কি খবর?
জগদীশ জানতে চায়।
-আগুন।
অজন্তা উত্তর দিয়ে টেবিলে খেতে বসে যায়।

পরদিন সকালে জগদীশ আর রিক্তা বড় মেয়ের ঘরে প্রবেশ করে।রিক্তার হাতে নাস্তার ট্রে।রিক্তা বিছানার এক পাশে খাবার নামিয়ে রাখে। বাবা-মাকে দেখে ইলোরা মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে শোয়।
-দেখ মা, এমন সুযোগ কেউ হাত ছাড়া করে?
জগদীশ বলে।
ইলোরার কোন সাড়া শব্দ নেই।জগদীশ তার বড় মেয়েকে একটু বেশীই ভালোবাসে।ছোটবেলা হতে মেয়ের সব আবদার সে মেনে নিয়েছে।জুডো শিখবে বলে মেয়ে আবদার ধরলো তো ঠিক আছে শেখো।আর জুডো শিখার পর প্রায়ই বিভিন্ন অভিযোগ শুনতে হয়েছে তাকে।কতবার যে মেয়ের স্কুল হতে ডাক পেয়েছে তা বলা মুশকিল।
-কি অদ্ভুদ নাম? পশুপালন অনুষদ।
রিক্তা বলে।
-কেউ মেডিকেলে চান্স পেলে হাত ছাড়া করে মা?
অনুযোগের সুরে জগদীশ বলে।
ইলোরা উঠে বসে।তারপর চিৎকার করে বলে-আমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব।পড়ব।পড়ব।
জগদীশ খুব হতাশ হয়ে পড়ে।উঠে দাঁড়িয়ে ঘরময় পায়চারি জুড়ে দেয়।রিক্তা একবার স্বামীর মুখের দিকে চায়।আর একবার মেয়ের মুখের দিকে চায়।

কয়েকমাস পরের ঘটনা।জয়ন্ত ময়মনসিংহ শহরে গিয়েছে কেনা কাটা করতে।এমন সময় তার কাছে খবর আসে সুলতানা রাজিয়া হলের কিছু মেয়ে মারামারি করেছে।তিনজনকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।প্রক্টর স্যার হলে গিয়েছে।জয়ন্তর জন্যে অপেক্ষা করছে।জয়ন্ত সুলতানা রাজিয়া হলের প্রভোষ্ট।খবর পেয়েই জয়ন্ত হলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
জয়ন্ত হলে প্রবেশ করেই বুঝতে পারে অবস্থা খুব উত্তপ্ত।জয়ন্তকে দেখেই একদল ছাত্রী উত্তেজিত ভঙ্গিতে ঘিরে ধরে।
-স্যার এর বিচার করতেই হবে।একই অনুষদের হওয়ার পরেও সিনয়রের গায়ে হাত তুলেছে।ওকে আমরা হলে থাকতে দেবোনা।
একজন ছাত্রী উত্তেজিত ভঙ্গিতে বলে।তখন সমস্বরে সব ছাত্রী চিৎকার করে উঠে।
-না না, হলে থাকা চলবেনা।
-আচ্ছা,আমি তো আছি।কেউ অন্যায় করলে অবশ্যই তার বিচার হবে।
জয়ন্ত এই কথা বলে হলের গেষ্ট রুমে প্রবেশ করে।প্রক্টর আর ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা এক ছোফায় বসে আছে।আর এক ছোফায় ইলোরা।নির্বিকার।জয়ন্ত ইলোরার ছোফায় গিয়ে বসে।
-ঘটনা কি শাহজাহান স্যার?
জয়ন্ত বলে।
-ইলোরা ওর রুমমেটকে প্রথমে মেরেছে।ওর রুমমেট আরও কয়েকজন ক্লাসমেট ডেকে আনলে,ও তখন সবগুলোকেই পিটিয়েছে।
প্রক্টর বলে।
প্রক্টরের কথা শুনে জয়ন্ত চুপ মেরে যায়।যদিও সে জানে ইলোরা ছোটবেলা হতেই মারকুটে স্বভাবের।ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা,প্রক্টর আর জয়ন্তর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়।পরে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয় যে,আপাতত পরিস্থিতি ঠান্ডা করার জন্যে ইলোরাকে হল থেকে বহিঃষ্কার করা হবে।বহিঃষ্কারের দিনগুলোতে ইলোরা তার লোকাল গার্জেন জয়ন্তর বাড়িতে থাকবে।

সবিতা ডাইনিং টেবিলে খাবার বেড়ে ইলোরাকে ডাক দেয়।
-মাসি,দাদা খাবেনা?
চেয়ার টানতে টানতে ইলোরা বলে।
-তুই জানিসতো মা,জয়ন্ত পড়তে বসলে সব ভুলে যায়।
সবিতা ইলোরার খাবার বাড়তে বাড়তে বলে।সে নিজেও খেতে বসে।
-হলে কি হয়েছিল?
-আমার রুমমেট রেণু দিদি দুনিয়ার খারাপ।ক্লাস শেষ করে রুমে এসে দেখি দিদি আমার নতুন জামা পড়ে বেরুনোর জন্যে রেডি।আমি বলাতে আমাকে ধাক্কা মেরে চলে যেতে চাইলে আমি হাত টেনে ধরি।আর এরপরই শুরু হয়ে গেলো।
-আমি শুয়ে পড়ছি।তোর থাকার ঘরে সবকিছু ঠিক আছে।তুইও শুয়ে পড়িস।
সবিতা খাওয়া শেষ করে উঠে যায়।ইলোরা বেশ দীর্ঘ সময় নিয়ে খায়।

জয়ন্ত ল্যাপটপে কাজ করছিল।সে টের পায় ঘরে ইলোরা এসেছে।ইলোরা জয়ন্তকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে।জয়ন্তর ঘারে থুতনী রেখে বলে-কি করছো?
প্রথম পর্ব- (Click This Link )
(চলবে)






মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১:১১

রাজীব নুর বলেছেন: অনেক গুলো চরিত্র।

২| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে পাঠক নাই কেন?

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১:৩৪

সুদীপ কুমার বলেছেন: লেখা পছন্দ হয়না।এই জন্যে হয়তো।আর আমিও কোথাও মন্তব্য করিনা এটাও কারণ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.