নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সুলাইমান আল উমাইর

সুলাইমান আল উমাইর › বিস্তারিত পোস্টঃ

মিলাদ ও কিয়ামের অসারতা-এ বিষয়ে কুরআন ও হাদিস কি বলে?

০১ লা জুলাই, ২০১২ রাত ১১:২৭

আসসালামু আলাইকুম।ধর্ম সচেতনতা আমাদের সবার থাকা জরুরি।বর্তমান সমাজে অনেক বিদআত মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং এমন অনেক বিদআত আছে যা অনেক আগে থেকেই সমাজে বিদ্যমান।তার মধ্যে মিলাদ ও কিয়াম একটি অন্যতম বিদআত।কুরআন ও হাদিসে এই মিলাদ ও কিয়াম এর কোন প্রমান পাওয়া যাএ না।বরঞ্চ রাসুলের প্রতি দরূদ ও সালামের রিওয়াএয়াত পাওয়া যায়ে। এক্ষেত্রে বর্ণনা করা জরুরী যে দরুদ ও সালাম একত্রিত হএ সমাবেশ করে করার কোন রিওয়াএয়াত নেই, সাহাবীরা একত্রিত হএ কোন সময় মিলাদ মাহফিল করেছে বলে জানা যায়ে না। তাই দরূদ ও সালাম পাঠ করাই বাঞ্ছনীয়।কুরআনে বলা হয়েছেঃ

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

অর্থঃ আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত(দরূদ) প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে দরূদ পড় এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর। [সুরা আহযাব-আয়াত ৫৬]



ইবনে কাসির এ উক্ত আয়াতের তাফসিরে বলা হয়েছে সহিহ বুখারিতে আবুল আলিয়া (রা)হইতে বর্ণিত আছে যে,আল্লাহ তা আলা স্বীয় নবী (স) এর উপর দরূদ পাঠের ভাবার্থ হল তার নিজ ফেরেশতাদের কাছে নবী (স) এর প্রশংসা ও গুণাবলীর বর্ণনা দেওয়া।আর ফেরেশতাদের দরূদ পাঠের অর্থ হল তার জন্য দুয়া করা। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেনঃ বারাকাতের (বরকত) দুয়া।

অর্থাৎ এ থেকে জানা যায়ে আল্লাহ তা আলা নিজে রাসুলের প্রতি দরূদ পরেন এবং তার ফেরেতারাও। এবং আল্লাহ তা আলা মুমিনদের কেও এই বেপারে তাগিদ দিয়েছেন যাতে করে ফেরেশতা ও দুনিয়া বাসির মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান হএ।কিন্তু মিলাদ শরিফে উপরন্তু কিয়াম করা হএ। এবং যা কুরআন ও হাদিসের কোন জাএগাএ পাওয়া যায়ে না।মিলাদে যে মিষ্টি ইত্যাদি বিতরন করা হএ তাও কোন জাএগাএ সমর্থন যোগ্য নএ। কিয়াম হল রাসুলের সম্মান প্রদরশনারথে দাঁড়ানো।এই সম্বন্ধে হাদিসে নিষেধ এসেছে। বুখারি (র) তার অন্যতম লিখিত গ্রন্ধ আল আদাবুল মুফ্রাদ কিতাবে একটি হাদিস বর্ণনা করেনঃ

হায্রাত আনাস (রা) বলেন যে, নবী করিম (স) কে দেখিয়া সাহাবা গন যত প্রীত হইতেন আর কাহাকেও দেখিয়া তাহারা এত প্রীত হইতেন না অথচ তাহারা যখন তাহাকে (স) দেখিতেন তখন তাহার জন্য সম্মান আরথে দাড়াতেন না যেহেতু ইহা তার (স) অপছন্দনীয় ছিল এটি তাহারা জানিতেন।[অনুছেদ ৪২৯, হাদিস নং ৯৫৭।] এই হাদিসের নং ও অনুছেদ ইসলামিক ফাউনদেসন থেকে প্রকাশিত আদাবুল মুফ্রাদ অনুযায়ী।

এই হাদিসটি তিরমিযি শরিফেও বর্ণিত আছে।তিরমিযি (র) বলেন, হাদিসটি হাসান,সহিহ,গারিব। মিনা বুক হাউস কত্রিক প্রকাশিত তিরমিযি শরিফের ২৬৯১ নং হাদিসে উক্ত হাদিসটি বিদ্যমান।

তিরমিযি শরিফে ২৬৯২ নং হাদিস(মিনা বুক হাউস অনুযায়ী) টিতেও হযরত আবু মিযলাজ (র) থেকে বর্ণিত আছে, হযরত মুয়াবিয়া(রা) বাইরে বেরোলে তাকে দেখে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর ও ইবনে সাফয়ান দাড়িএ গেলেন। তিনি বললেন, তোমরা দুজনেই বস। আমি রাসুল (স) কে বলতে শুনেছি,যে বেক্তি এতে খুশি হএ যে মানুষ তার জন্য মূর্তির মত দাড়িয়ে থাকুক শেয় যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্দিষ্ট করে ফেলে।

হায্রাত তিরমিযি (র) বলেন হাদিসটি হাসান। এ সম্পর্কে আবু উমামা (রা) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।

তাই রাসুল (সা) জীবিত থাকা অবস্থাএ তার সম্মানার্থে দাঁড়ানো অপছন্দ করেছেন, তাহলে এখন তিনি কিভাবে তার শম্মানে কিয়াম করাকে পছন্দ করবেন?

রাসুল (সা) আমাদেরকে তার প্রতি দরূদ ও সালাম করার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন এবং তার প্রতি দরূদ ও সালামের অনেক ফজিলত বর্ণনা করেছেন।আমরা নামাজে তাশাহুদ পাঠের সময় বলি, ‘আসসালামু আলাইকা ইয়া আইউহান নাবিইয়ু’ অর্থাৎ হে নবী আপনাকে সালাম।আবার আমরা নামাজে দরুদও পড়ি।

অনেক দরূদ রাসুল সা শিখিএ দিএ গেছেন তা বিভিন্ন সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে।

তাই আমরা প্রত্তেক দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দরূদ ও সালাম পাঠ করি যা কুরআন শরিফে করতে আদেশ করা হয়েছে।দরূদ পরার ফযিলত সম্পরকে মুসলিম শরিফে হয্রত আব্দুল্লাহ ইবন উমার ইবনুল আস(রা) থেকে বর্ণিত আছে,তিনি রাসুল(সা) কে বলতে শুনেছেন, যে বেক্তি একবার আমার প্রতি দরূদ প্রেরন করে আল্লাহ তার বিনিময়ে তার প্রতি দশটি রহমত নাযিল করেন।

তাই আমরা দরূদ ও সালাম পাঠ বেশি বেশি করব, আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে কবুল করেন আমিন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.