![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইতিহাস ঘেটে যা দেখলাম তাতে একটা কথাই মনে হচ্ছে যারাই দেশাদ্রোহী ছিলেন পরবর্তীতে তারাই শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
কথাটা ঘোলাটে।
উদাহরণ দিচ্ছি।
খুব পেছনে যাচ্ছি না ঊনবিংশ শতাব্দীতেই উদাহরণ রয়েছে।
ব্রিটিশ শাসনামলের শেষের দিকে যে গান্ধীজী, জিন্নাহকে বলা হতো দেশাদ্রোহী উপমহাদেশ বিভক্তের পর স্ব স্ব জাতীর কাছে তারা দেশপ্রেমিকের মর্যাদা পেয়েছেন যদিও ব্রিটিশ সরকার তাদেরকে দেশাদ্রোহীর চোখেই দেখতো।
তদকালীন সময়ে যারা ব্রিটিশদের শাসন করতে সহায়তা করতো পরবর্তীতে তারাই হয়ে গেলো রাষ্ট্রবিরোধী।
এরপর ১৯৬৯ সালে যখন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান পার্লামেন্টে যোগ দিবেন ঠিক তখন তার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তোলা হল যাতে তিনি ছিলেন দেশাদ্রোহী দোষে দুষ্ট।
দেশ স্বাধীনের পর আজ তিনি আমাদের কাছে জাতির জনক।
আর তদকালীন সময়ে যারা পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছেন তারাই আজকের রাষ্ট্রবিরোধী যুদ্ধাপরাধী।
চিন্তা করি যদি দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা ১৯৭১ সালে হেরে যেতাম তাহলে আজ যাদের উত্তরাধীকারীরা সর্বত্র অগ্রাধিকার পাচ্ছে তারা হতো লাঞ্ছিত আর সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বলা হতো দেশাদ্রোহী,এতদিনে হয়তো তাদের সাজাও হয়ে যেতো।
আমার এই পয়েন্ট নিয়ে অনেকে অনেক কিছু ভাবতে পারেন।
তাদের জন্য বলছি আমি উপমা দিতে '৭১ এর পরাজয়কে এনেছি পরাধীনতার শিকলে জাতিকে পুনরায় আবদ্ধ করতে নয়।
যা হোক যখন কোন জাতি অত্যাচারিত হতে থাকে তখন সময়ের প্রয়োজনে তাদের মধ্য থেকে নেতার আবির্ভাব ঘটে।
আর সেই নেতা যদি তাঁর স্বীয় বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গুণে জাতিকে মুক্ত করতে পারে তবে সে ওই জাতীর কাছে দেশপ্রেমিকের মর্যাদা পাবে আর যদি তিনি হেরে যান তবে ঐ অবস্থানেই তিনি হয়ে যাবেন দেশাদ্রোহী।
আর তাই দেশাদ্রোহীরাও দেশপ্রেমিক হয়তো তারা একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কাছে কিন্তু তারাও দেশপ্রেমিক।
কোন সন্তানই মায়ের সাথে বেঈমানী করার প্রত্যয়ে জন্ম নেয় না, পরিস্থিতি আর কিছু জয় পরাজয় কাউকে দেশপ্রেমিক বানায় আর কাউকে বানায় দেশাদ্রোহী।
দেশাদ্রোহীরা কি দেশপ্রেমিক হতে না পারায় নতুন অস্তিত্বকে অস্বীকার করবে নাকি ঘৃণা করবে তাঁর উত্তর আমার অজানা।
তবে আমার মনে হয় স্বীয় অস্তিত্ব মেনে নিয়ে বর্তমানকে মেনে নিয়েই সহযোগীতা করা উচিত,যা নতুন সৃষ্টির জন্য আশীর্বাদ।
এই নতুনের মধ্যেও নতুন করে দাঙ্গা হবে।
আবার তারা দল ধরে আসবে কিছু দেশপ্রেমিক কিছু দেশাদ্রোহী।
কেউ জিতবে কেউ হারবে।
একজন নোয়াখালীর মানুষের কাছে বরিশালের মানুষ নিকৃষ্ট এক বরিশাল অধিবাসীর কাছে তাঁর উল্টোটা।
কিন্তু যখন এরা ২ জন এক সাথে দেশের বাইরে যাবে তখন ভিনদেশীদের সামনে তারা ২ জনেই নিজের দেশের সুনামে গলা মেলাবেন।
কারণ ঐ যে দেশপ্রেম।
কিন্তু দেশে এসে কিন্তু নোয়াখালীর মানুষটিই আবার বলবে বরিশালের লোকজন ভালো নয়।
আমি জানি না আমি কতটুকু বোধগম্য করে উপস্থাপন করতে পেরেছি তবে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।
****ধন্যবাদ কষ্ট করে পুরোটা পড়ার জন্য****
১৫ ই মে, ২০১৪ রাত ৮:৫৩
TanzaJahir বলেছেন: জি ভাই।
একদম তাই।
কিন্তু ১৯৪৭ এ এরা আমাদের ভ্রাতৃত্বের দাবীদার ছিলো
কিন্তু ১৯৭১ এ এসে নতুন চেতনার কারণে তারাই জুলুমকারী।
সময়ই প্রয়োজনের তাগিদে রাষ্ট্রদ্রোহী এবং দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটায়,
যদিও মনে প্রাণে সবাইই দেশপ্রেমিক হতে চায়।
২| ১০ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:৩০
TanzaJahir বলেছেন: জি ভাই।
একদম তাই।
কিন্তু ১৯৪৭ এ এরা আমাদের ভ্রাতৃত্বের দাবীদার ছিলো
কিন্তু ১৯৭১ এ এসে নতুন চেতনার কারণে তারাই জুলুমকারী।
সময়ই প্রয়োজনের তাগিদে রাষ্ট্রদ্রোহী এবং দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটায়,
যদিও মনে প্রাণে সবাইই দেশপ্রেমিক হতে চায়।
৩| ১০ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:৩৯
আফ্রি আয়েশা বলেছেন:
উপস্থাপনা বোধগম্য হয়েছে
ভালো লেখেছো
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:২৯
শিপু ভাই বলেছেন:
মোটামুটি ব্যাপারটা এমনই । কিন্তু মূল বিষয় হচ্ছে "নৈতিকতা"।
পাকিস্তানী হানাদাররা পাকিস্তানিদের কাছে "দেশপ্রেমিক" হয়তো। কিন্তু প্রকৃত বিচারে বা ৩য় কোন পক্ষের কাছে তারা দেশপ্রেমিক নয়। তারা জুলুমকারী।