![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি মনে করি আমি অনেক নিকৃষ্ট মানের ব্যক্তি(ব্যক্তি হিসেবে)।
কিন্তু যখন কিছু বর্বরতা আমার নিকৃষ্টতাকে ছাড়িয়ে যায় তখন আমার বিবেক আমাকে এই ব্লগ রচায়নের দিকে ধাবিত করে।
যখন পত্রিকাতে দেখি যে বাবা মা তাদের সন্তানকে ট্যাঙ্কিতে ফেলে হত্যা করে,তখন আমার মনে হয় এ যেন আই ইয়ামে জাহেলিয়াতের নৃশংসতা ফিরে এসেছে যারা কন্যা শিশুকে মাটি চাপা দিয়ে হত্যা করতো।
আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি-যারা ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয় তারা যতটা ইসলাম মেনে চলেন জন্ম সূত্রে সৌভাগ্যবান মুসলমানেরা কেন ততটা মানতে পারে না?
মানতে পারে না নাকি মানতে চায় না?
যদি আজ রাজপথে দাঁড়িয়ে বলি "কে কে মানেন-লা ইলাহা ইল্লালাহ?"
শতকরা ৯২ জন মানুষ এক বাক্যে হ্যাঁ বলবেন(বাকী ৮ শতাংশ অন্য ধরমালম্বী ধরে নিচ্ছি উপজাতি,বিদেশী অনেক কিছুই হতে পারে,এখানে স্যাম্পল সরূপ শতাংশ হিসেব করেছি,)।
কিন্তু যখনই বলবো "কতজন লা ইলাহা ইল্লালাহ এর এপ্লিকেশান মানেন?"
অর্ধেকের বেশি লোক নিশ্চুপ থাকবে,
যদি বলি "আচ্ছা আজ থেকে মানবেন?"
আবার সবাই বলবে হ্যাঁ।
আর বাসায় এসে আবার শুরু করবে আগের মতোই।
মানুষই একমাত্র মাখলুকাত যাদের সব কিছু করার স্বাধীনতা আছে।
তাই বলে এমন কিছু আমরা করবো না নিশ্চয়ই যা পৃথিবীকে জাহান্নাম/নরকে রূপান্তরিত করে।
যারা এই ধারণার বাইরে তথা সত্যিই এই পৃথিবীর নিকৃষ্টটাকে বন্ধ করতে চান,তখন তারা পারিপার্শ্বিক সাহায্য চান।
কিন্তু সেই পারিপার্শ্বিকতা তাদেরকে নিরুতসাহিত করে।
আমার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ছিলো এমন-"বাদ দাও।
নিজের কাজ করো,নিজের পরিবার নিয়ে ভালো থাকো,নিজে ভালো কাজ করো,যার শাস্তি সে পাবে,তোমার কি?"
উত্তরটা মানতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো উত্তর খুজছিলাম,মিলছিলো না।
হঠাত করেই আজ উত্তর মিললো।
নিজের আমলই যদি সব কিছু হতো তাহলে যুগে যুগে নবী-রাসূলদের আসার দরকার কি ছিলো?
নবী-রাসুলরা নিজেরাই তো ভালো ছিলেন,ভালো থাকতে পারতেন পরিবার পরিজন নিয়ে।
তারা কেন দীক্ষার পথ দেখাতে গিয়ে নির্যাতন সহ্য করেছেন।
এবার সেই নিরুতসাহিতকারীরা বলবে "কিভাবে পরিবর্তন আনতে চাও বলো?"
আচ্ছা ধরে নিলাম রাসুল(সাঃ) আমাদের নামায পড়া শেখান নি,তাহলে আমরা নামায কিভাবে পড়তাম,আর কুরয়ানে তো বলাই আছে "সালাত কায়েম করো।"
তাহলে কিভাবে সম্ভব সালাত আদায় করা??? উত্তর আরে ভাই ধরবেন কেন?নবী (সাঃ) তো শিখিয়েই গিয়েছেন।আসলেই তাই এখানেও ঐ "কিভাবে" এর উত্তর সেই সুন্নত।
নবী যদি একটি দেশে,সারা পৃথিবীতে শান্তি আনতে পারে আমরা একটা সমাজ তথা আমাদের দেশে কেন পারবো না???
আমাদের বিবেক তো চায় আমরা ভালো থাকি নাহলে রমজান মাসে মসজিদ উপচে পড়তো না মানুষে।
সমাজে যা ইভ্যুলেশান আসে তা বিনষ্ট করার জন্য মিথ্যাবাদী,নাফরমানী সমাজ সদা প্রস্তুত।
জেহাদের ভাষা খুন বা রক্ত নয়।
মানুষকে বোঝান।
যে সাহায্য চায়,তাকে সাহায্য করুন,আর আপনার কেন আর কিভাবের উত্তর নবীর সুন্নতে খুজুন,
আল্লাহর কসম আপনার হতাশা কমবে বৈ বাড়বে না।
আমরা এই বর্বর সমাজকে ধিক্কার জানাই যেখানে মানবতাকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে ক্ষমতা ও টাকার মতো কিছু ক্ষণস্থায়ী দম্ভ,
আমরা মুসলিম যখন জন্মসূত্রে হয়েছি সেটা বাস্তব জীবনে মেনে চলাও আমাদের উপর ফরজ।
আর শুধু একা না মুসলিম সম্প্রদায়এর আনাচে কানাচে এই খবর পৌছে দেওয়াও আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।
আর ধর্মের সাথে রাজনীতী গুলিয়ে এমন কোন কেমিস্ট্রি তৈরী করবেন না যা বিস্ফোরন ঘটায়।
আমি মানি আমরা মুসলিম দেশ না,ভালো কথা মুসলিম অধ্যুসিত দেশ তো।
তাহলে সেটা মানেন।
আমই বলছি না বেধরমীদেরকে ইসলামের বোঝা চাপিয়ে মিশিয়ে দাও,আমার কথা বর্বরতা কোন ধর্মই সহয করেন।
তাই মনুষ্যত্বের চর্চা করুন,এটিই মানুষদের জন্য জান্নাত হিসেবে পৃথিবীকে প্রতিষ্ঠিত করবে ইনশাআল্লাহ।
****মতামত কাম্য***
©somewhere in net ltd.