নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তারেক০০০

আমি একজন ইসলাম ধর্মের অনুগত ছাত্র।তাই আমি সত্যের বিজয় চাই,সেটা ধর্মীয়,রাজনৈতিক সব দিক দিয়ে।

তারেক০০০ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফিকহে হানাফীঃ কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য - পর্ব ০১(সংগৃহীত)

৩১ শে জুলাই, ২০১১ রাত ১১:০৫

মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ



জীবনের অঙ্গন অতি বিস্তৃত এবং অতি বৈচিত্রময়। ইসলাম যেহেতু পূর্ণাঙ্গ দ্বীন তাই তা জীবনের সকল বৈচিত্রকে ধারণ করে। জীবনের সকল বিভাগ তাতে নিখুঁতভাবে সন্নিবেশিত। ইসলামী জীবন-দর্শনের পরিভাষায় মানব-জীবনের মৌলিক বিভাগগুলো নিম্নোক্ত শিরোনামে শ্রেণীবদ্ধ হয়েছে : ১. আকাইদ (বিশ্বাস), ২. ইবাদাত (বন্দেগী ও উপাসনা), ৩. মুআমালাত (লেনদেন), ৪. মুআশারাত (পারিবারিক ও সামাজিক নীতি এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা) ও ৫. আখলাক (চরিত্র, আচরণ ও নৈতিকতা)। বলাবাহুল্য যে, প্রতিটি বিষয়ের অধীনে প্রচুরসংখ্যক মৌলিক শিরোনাম ছাড়াও রয়েছে প্রাসঙ্গিক বহু বিষয়। আমাদের সামনে হাদীস ও ফিকহের বহু বিষয়ভিত্তিক সংকলন বিদ্যমান রয়েছে। এসব গ্রন্থের সূচিপত্রে নজর বুলালে উপরোক্ত প্রতিটি বিষয়ের ব্যাপকতা অনুমান করা যাবে। ইসলামের অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে, তার মৌলিক দুই সূত্র-কুরআন ও সুন্নাহ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

পূর্ণ কুরআন মজীদ এবং হাদীস ও সুন্নাহ্র উল্লেখযোগ্য অংশ ‘তাওয়াতুরে’র মাধ্যমে এসেছে। হাদীস ও সুন্নাহর অপর অংশটিও এসেছে ‘রেওয়ায়েত’ ও ‘আমলে’র নির্ভরযোগ্য সূত্রে। হাদীসের মৌলিক গ্রন্থসমূহে প্রতিটি হাদীস সনদসহ সংকলিত হয়েছে। এতে যেমন রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও কর্ম তেমনি রয়েছে মুজতাহিদ সাহাবা ও তাবেয়ী ইমামগণের ফতোয়া ও আমলের বিবরণ। পরবর্তী যুগের মুজতাহিদ ইমামগণের ফতোয়া ও আমলও ফিকহের মৌলিক গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মুসলিম উম্মাহকে দুটি মহান জামাতের ঋণ স্বীকার করতে হবে। তাঁরা হলেন আইম্মায়ে হাদীস ও আইম্মায়ে ফিকহ। হাদীসের ইমামগণ যেমন হাদীস ও আছারকে সূত্রসহ সংরক্ষণ করেছেন তেমনি ফিকহের ইমামগণ সংরক্ষণ করেছেন হাদীসের মর্ম ও আমলের ধারাবাহিকতা।

বর্ণনা ও রেওয়ায়েতের শুদ্ধাশুদ্ধির বিষয়ে আমরা যেমন হাদীস-শাস্ত্রের মুজতাহিদ ইমামগণের মুখাপেক্ষী তেমনি হাদীস ও সুন্নাহর যথার্থ অনুসরণের ক্ষেত্রে ফিকহের ইমামগণের উপর নির্ভরশীল। আপনি যে বিষয়েরই হাদীস অধ্যয়ন করুন, তা ইমামগণের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সংকলিত হয়েছে এবং আজ আমরা তা পাঠ করে ধন্য হচ্ছি। অতএব হাদীসকে হাদীস হিসাবে জানার ক্ষেত্রে আমরা হাদীস-শাস্ত্রের মুজতাহিদ ইমামগণের মুকাল্লিদ। তদ্রূপ কুরআন-সুন্নাহ থেকে হালাল-হারামের বিধান, ইবাদতের সঠিক নিয়ম-কানুন, হুকুক ও অধিকার ইত্যাদি সঠিকভাবে জানার ক্ষেত্রে ফিকহ-শাস্ত্রের মুজতাহিদ ইমামগণের অনুসারী। এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করার জন্য একটি মৌলিক বিষয় বুঝে নেওয়া দরকার। তা এই যে, কুরআন-সুন্নাহর উপরোক্ত সকল নির্দেশনা মৌলিক দুই ভাগে বিভক্ত : ১. যা অনুধাবনে ইজতিহাদী পর্যায়ের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অপরিহার্য। ২. যা অনুধাবনে ইজতিহাদী পর্যায়ের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অপরিহার্য নয়।

প্রথম শ্রেণীর নির্দেশনাগুলো মূলত ‘আহকাম’ বিষয়ক। ‘আহকাম’ অর্থ হালাল-হারাম, জায়েয-না জায়েয এবং কর্তব্য ও কর্মপদ্ধতি বিষয়ক বিধান। দ্বিতীয় শ্রেণীর নির্দেশনাগুলো মূলত বিশ্বাস ও চেতনা এবং চরিত্র ও নৈতিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা মানুষকে আখিরাতের চেতনায় উজ্জীবিত করে এবং ঈমান ও ইয়াকীনে সমৃদ্ধ করে। পাশাপাশি তা উন্নত মানবিক বোধ জাগ্রত করে এবং উত্তম হৃদয়-বৃত্তির অধিকারী করে। সর্বোপরি তা দান করে জীবন-যাপনের আদর্শ নীতিমালা। এই বিষয়বস্তুগত পার্থক্য অনুধাবনের জন্য আমরা কুরআন মজীদের মক্কী ও মাদানী সূরাগুলি তুলনা করে পাঠ করতে পারি। মক্কী সূরা বলতে বোঝানো হয় যে সূরাগুলি হিজরতের আগে অবতীর্ণ হয়েছে, আর মাদানী সূরা অর্থ যা হিজরতের পর অবতীর্ণ হয়েছে। এদের মধ্যে বিষয়বস্তুগত মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মক্কী সূরাগুলোতে বিশ্বাস, চেতনা ও নীতি-নৈতিকতাই প্রধান। পক্ষান্তরে মাদানী সূরাসমূহে হুকুক ও আহকামের প্রাধান্য। হাদীস শরীফের ক্ষেত্রেও এই পার্থক্য অনুধাবন করা কঠিন নয়। তবে হাদীস শরীফের মৌলিক গ্রন্থসমূহে অর্থাৎ ‘মাসানীদ’, ‘জাওয়ামি’, ‘মা‘আজিম’, ‘সুনান’ ইত্যাদিতে উভয় ধরনের হাদীস সংকলিত হয়েছে। ‘সুনান’ গ্রন্থসমূহে আহাদীসে আহকাম বিশেষভাবে সংকলিত হলেও অন্যান্য প্রসঙ্গও তাতে সন্থান পেয়েছে। এই উৎস-গ্রন্থসমূহ থেকে আলিমগণ বহু ধরনের হাদীস-গ্রন্থ সংকলন করেছেন। পাঠক যদি মুনযিরীর ‘আত-তারগীব ওয়াত তারহীব’ ও নববীর ‘রিয়াযুস সালেহীন’কে হাফেয যায়লায়ীর ‘নাসবুর রায়াহ’ ও হাফেয ইবনে হাজার আসকালানীর ‘আলতালখীসুল হাবীরে’র সঙ্গে তুলনা করেন তাহলে উপরোক্ত দুই শ্রেণীর হাদীসের বিষয়বস্তুগত পার্থক্য তাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এরপরের পর্যায়টি বেশ কঠিন। তা হচ্ছে হুকুক ও আহকাম বিষয়ক আয়াত ও হাদীস সম্পর্কে মুজতাহিদ ইমামগণের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা। এটা করতে সক্ষম হলে স্পষ্ট হবে যে, কুরআন-সুন্নাহর এই অংশটি প্রকৃতপক্ষেই ইজতিহাদের ক্ষেত্র। এই দীর্ঘ আলোচনার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইজতিহাদ ও তাকলীদের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা। আশা করি উপরের আলোচনায় পরিষ্কার হয়েছে যে, কুরআন-সুন্নাহর আহকাম শ্রেণীর নির্দেশনাগুলোই মৌলিকভাবে ইজতিহাদ ও তাকলীদের ক্ষেত্র। এগুলো ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের ফলপ্রসূ অধ্যয়নের জন্য দ্বীনের সঠিক রুচি ও বিষয়বস্তু সঠিকভাবে অনুধাবনের যোগ্যতা থাকাই যথেষ্ট। এজন্য হক্কানী উলামা-মাশায়েখের সোহবতের দ্বারা সঠিক দ্বীনী রুচি অর্জনের পর সাধারণ পাঠকও কুরআন-সুন্নাহ্র এই অংশ সরাসরি অধ্যয়ন করতে পারেন এবং তা থেকে দ্বীনী চেতনা আহরণ করতে পারেন।

পক্ষান্তরে আহকাম বিষয়ক অধিকাংশ নির্দেশনা সরাসরি কুরআন-সুন্নাহ থেকে বোঝার জন্য ইজতিহাদী পর্যায়ের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অপরিহার্য। তাই তা অনুসরণের শরীয়তসম্মত পন্থা হচ্ছে : ১. যিনি ইজতিহাদের যোগ্যতার অধিকারী তিনি ইজতিহাদের ভিত্তিতে আমল করবেন। ২. যার ইজতিহাদের যোগ্যতা নেই তিনি মুজতাহিদের তাকলীদ করবেন। এটিই হচ্ছে কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণের কুরআন-সুন্নাহসম্মত পন্থা। পক্ষান্তরে তৃতীয় পদ্ধতি, অর্থাৎ ইজতিহাদের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ইজতিহাদের প্রচেষ্টা কিংবা ইজতিহাদের যোগ্যতাহীন লোকের অনুসরণ, দু’টোই শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রত্যাখ্যাত। এই ভূমিকাটুকুর পর এবার আমরা মূল আলোচনায় প্রবেশ করছি ।

শিরোনামে ‘ফিকহ’ শব্দটি উল্লেখিত হয়েছে। কুরআন-সুন্নাহ্য় উল্লেখিত হুকুম-আহকাম এবং পরবর্তীতে উদ্ভূত নানাবিধ সমস্যার কুরআন-সুন্নাহ্ভিত্তিক সমাধানের সুসংকলিত রূপকেই পরিভাষায় ফিকহ বলা হয়। যে ইমামগণ তা আহরণ করেছেন তাদের সঙ্গে সম্বন্ধ করে এর বিভিন্ন নাম হয়েছে। যেমন ফিকহে হানাফী, ফিকহে মালেকী, ফিকহে শাফেয়ী ও ফিকহে হাম্বলী। এই সব ফিকহের, বিশেষত ফিকহে হানাফীর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য।



প্রথম বৈশিষ্ট্য : কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার স্বীকৃত পদ্ধতি



ফিকহে হানাফী ও অন্যান্য ফিকহের প্রথম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তা কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণের স্বীকৃত ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি। চার মুজতাহিদ ইমামের ইজতিহাদী যোগ্যতা এবং তাঁদের সংকলিত ফিকহের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে গোটা মুসলিম উম্মাহ একমত। সর্বযুগের আলিমগণের স্বীকৃতি ও অনুসরণের দ্বারা এই সত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনুল উযীর (মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম) ইয়ামানী (মৃত্যু : ৮৪০ হি.) বলেন, ‘তাঁর (ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর) মুজতাহিদ হওয়ার বিষয়ে (মুসলিম উম্মাহর) ইজমা রয়েছে। কেননা, ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর মতামতসমূহ তাবেয়ী যুগ থেকে আজ নবম হিজরী পর্যন্ত গোটা মুসলিম জাহানে সর্বজনবিদিত। যারা তা বর্ণনা করেন এবং যারা অনুসরণ করেন কারো উপরই আপত্তি করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে মুসলিম উম্মাহর (আলিমগণের) অবস্থান হল, তাঁরা হয়তো সরাসরি তার অনুসরণ করেছেন, কিংবা অনুসরণকারীদের উপর আপত্তি করা থেকে বিরত থেকেছেন। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এভাবেই ইজমা সম্পন্ন হয়ে থাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বহু মনীষী আলিম পরিষ্কার বলেছেন যে, মুজতাহিদ যখন ফতোয়া দান করেন এবং সাধারণ মানুষ তার অনুসরণ করে তখন সমসাময়িক আলিমগণ আপত্তি না করলে প্রমাণ হয় যে, তিনি প্রকৃতপক্ষেই মুজতাহিদ। (পরবর্তী যুগের) আলিমদের জন্য যদি এ নীতি প্রযোজ্য হয় তাহলে তাবেয়ী যুগের কথা তো বলাই বাহুল্য। কেননা, তা ছিল জগদ্বিখ্যাত মনীষীদের যুগ। আর ইমাম আবু হানীফা রাহ. তাঁদেরই সমসাময়িক ছিলেন।’-আর রওযুল বাছিম, মাকানাতুল ইমাম আবী হানীফা ফিল হাদীস পৃ. ১৬৪-১৬৫ এ বিষয়টি শুধু ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর ক্ষেত্রেই নয়, তাঁর মনীষী সঙ্গীদের ক্ষেত্রে এবং অন্য তিন ইমামের ক্ষেত্রেও সমান সত্য। আলোচনা দীর্ঘ হওয়ার আশংকা না হলে এখানে মুসলিম জাহানের ওইসব মনীষীর একটি তালিকা উল্লেখ করা যেত, যাঁরা হাদীস-শাস্ত্রের শীর্ষস্থানীয় মুজতাহিদ হওয়া সত্ত্বেও ফিকহের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা রা.-এর মতামত অনুসরণ করেছেন।



দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য : কুরআন-সুন্নাহর আহকাম ও ফিকহুস সালাফের উত্তম সংকলন



এ কথা বলাই বাহুল্য যে, ফিকহে হানাফী কুরআন-সুন্নাহ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। উপরের আলোচনা থেকেও তা বোঝা যায়। ফিকহে হানাফীর সকল সিদ্ধান্ত কুরআন-সুন্নাহ ও আছারে সাহাবার ভিত্তিতে প্রমাণিত। ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর ফিকহ-সংকলনের নীতিমালা সম্পর্কে যাদের ধারণা রয়েছে তাদের এ বিষয়ে কোনো সংশয় থাকার কথা নয়। এ প্রসঙ্গে আমি উস্তাদে মুহতারাম হযরত মাওলানা আবদুল মালেক ছাহেব দামাত বারাকাতুহুমের একটি মূল্যবান প্রবন্ধ থেকে কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি : ‘ফিকহে মুতাওয়ারাছ’ (ফিকহের যে অংশ নবী-যুগ থেকে চলে আসছে) সংকলন এবং সাহাবা ও শীর্ষস্থানীয় তাবেয়ীগণের যুগ শেষ হওয়ার পর উদ্ভূত নতুন সমস্যাবলির সমাধানের জন্য ইমাম আবু হানীফা রাহ.কে কী কী কাজ করতে হয়েছিল এবং এ বিষয়ে তাঁর কী কী অবদান রয়েছে-এ সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে গ্রন্থ রচনা করতে হবে। তাই আমি এখানে তাঁর নিজের ভাষায় শুধু এ বিষয়টি উল্লেখ করতে চাই যে, ফিকহ ও ফতোয়ার বিষয়ে তাঁর মৌলিক নীতিমালা কী ছিল। ‘এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন সহীহ সনদে ইমাম আবু হানীফা রাহ. থেকে যে নীতিমালা উল্লেখিত হয়েছে তার সারকথা এই- ১. মাসআলার সমাধান যখন কিতাবুল্লাহ্য় পাই তখন সেখান থেকেই সমাধান গ্রহণ করি। ২. সেখানে না পেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং সহীহ হাদীস থেকে গ্রহণ করি, যা নির্ভরযোগ্য রাবীদের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। সহীহ হাদীস আমাদের জন্য শিরোধার্য। একে পরিত্যাগ করে অন্য কিছুর শরণাপন্ন হওয়ার প্রশ্নই আসে না। ৩. এখানেও যদি না পাই তবে সাহাবায়ে কেরামের সিদ্ধান্তের শরণাপন্ন হই। ৪. কিতাবুল্লাহ, সুন্নাতু রাসূলিল্লাহ ও ইজমায়ে সাহাবার সামনে কিয়াস চলতে পারে না। তবে যে বিষয়ে সাহাবীগণের একাধিক মত রয়েছে সেখানে ইজতিহাদের মাধ্যমে যার মত কিতাব-সুন্নাহ্র অধিক নিকটবর্তী বলে মনে হয় তা-ই গ্রহণ করি। ৫. মাসআলার সমাধান এখানেও পাওয়া না গেলে ইজতিহাদের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছে থাকি। তবে এক্ষেত্রেও তাবেয়ীগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্ছিন্ন হই না।-আলইনতিকা ফী ফাযাইলিল আইম্মাতিছ ছালাছাতিল ফুকাহা, ইবনে আবদিল বার পৃ. ২৬১, ২৬২, ২৬৭; ফাযাইলু আবী হানীফা, আবুল কাসিম ইবনু আবিল ‘আওয়াম পৃ. ২১-২৩ মাখতূত; আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী, আবু আবদুল্লাহ আসসাইমারী (মৃত্যু : ৪৩৬ হি.) পৃ. ১০-১৩; তারীখে বাগদাদ, খতীবে বাগদাদী ১৩/৩৬৮; উকূদূল জুমান, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ সালিহী পৃ. ১৭২-১৭৭; মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা, মুয়াফফাক আলমাক্কী ১/৭৪-১০০ ‘ফিকহে মুতাওয়ারাছ সংকলন এবং ‘ফিকহে জাদীদ’ আহরণের যে নীতিমালা ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর নিজের ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে তা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর সকল ইমামের সর্বসম্মত নীতি। কোনো ফিকহ তখনই ইসলামী ফিকহ হতে পারে যখন তা উপরোক্ত নীতিমালার ভিত্তিতে সংকলিত ও আহরিত হয়। ‘ফিকহ-সংকলন এবং ফিকহ-আহরণের ক্ষেত্রে উপরোক্ত নীতিমালা অনুসরণে তিনি কতটুকু সফল হয়েছেন তা তাঁর সমসাময়িক তাফসীর, হাদীস, ফিকহ ইত্যাদি সকল ইসলামী শাস্ত্রের স্বীকৃত ইমামগণের বক্তব্য থেকে জানা যেতে পারে। ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রাহ. (মৃত্যু : ১৬১ হি.) বলেন, ‘আবু হানীফা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ইলম অন্বেষণ করেছেন। তিনি ছিলেন (দ্বীনের প্রহরী) দ্বীনের সীমানা রক্ষাকারী, যাতে আল্লাহর হারামকৃত কোনো বিষয়কে হালাল মনে করা না হয়, কিংবা হালালের মতো তাতে লিপ্ত থাকা না হয়। যে হাদীসগুলো তার কাছে সহীহ সাব্যস্ত হত, অর্থাৎ যা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ বর্ণনা করে এসেছেন, তার উপর তিনি আমল করতেন এবং সর্ববিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ আমলকে গ্রহণ করতেন। কুফার আলিমগণকে যে আমল ও ধারার উপর প্রতিষ্টিত দেখেছেন তিনিও তা থেকে বিচ্যুত হননি (কেননা, এটাই ছিল সাহাবা যুগ থেকে চলমান আমল ও ধারা)।-আলইনতিক্বা, ইবনে আবদিল বার পৃ. ২৬২; ফাযাইলু আবী হানাফী, ইবনু আবিল ‘আওয়াম পৃ.. ২২ (মাখতূত)। ‘... এজন্য হাদীস শাস্ত্রের সর্বজনস্বীকৃত মনীষী ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রাহ. (১৮১ হি.) বলেছেন, ‘আবু হানীফার ফিকহকে নিছক রায় (মত) বলো না। প্রকৃতপক্ষে তা হচ্ছে হাদীসের ব্যাখ্যা।’-ফাযাইলু আবী হানীফা,, ইবনু আবিল ‘আওয়াম পৃ. ২৩’’ (ফিকহে হানাফীর সনদ, মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, মাসিক আলকাউসার জুলাই ’০৭ পৃ. ৯) যোগ্য ব্যক্তির জন্য সরাসরি পরীক্ষা করে দেখারও সুযোগ রয়েছে। হাফেয যায়লায়ী রাহ. (৭৬২ হি.) কৃত ‘নসবুর রায়া ফী তাখরীজি আহদীছিল হিদায়া’ গ্রনে'র ভূমিকায় আল্লামা যাহিদ কাওছারী রাহ. লেখেন, ‘পাঠক যদি এই গ্রনে'র পৃষ্ঠা ওল্টাতে থাকেন এবং বিভিন্ন অধ্যায়ে সংকলিত হাদীসগুলো পাঠ করেন তাহলে তার প্রত্যয় হবে যে, হানাফী মনীষীগণ শরীয়তের সকল বিষয়ে হাদীস ও আছারের নিষ্ঠাবান অনুসারী।’ (ভূমিকা, নাসবুর রায়াহ পৃষ্ঠা : ১৯) ইমাম আবদুল ওয়াহহাব আশশা’রানী রাহ. (৮৯৮-৯৭৩ হি.) বলেন, ‘আমি যখন (চার) মাযহাবের দলীল বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছি তখন, আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া যে, ইমাম আবু হানীফা রাহ. ও তাঁর সঙ্গীদের মতামত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হয়েছে। আমি লক্ষ করেছি যে, তাঁদের সিদ্ধান-গুলোর সূত্র হচ্ছে কুরআন মজীদের আয়াত, (সহীহ) হাদীস ও আছার অথবা তার মাফহুম, কিংবা এমন কোনো হাদীস, যার একটি সনদ যয়ীফ হলেও মূল হাদীস একাধিক সনদে বর্ণিত, অথবা নির্ভরযোগ্য উসূলের উপর কৃত কিয়াসে সহীহ।’-আলমীযান পৃ. ৫২; আবু হানীফা ওয়া আসহাবুহুল মুহাদ্দিসূন পৃ. ৬১



তৃতীয় বৈশিষ্ট্য : শূরাভিত্তিক সংকলন



ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর একটি বিশেষত্ব এই যে, তিনি ছিলেন সঙ্গী-সৌভাগ্যে অতি সৌভাগ্যবান। সমকালীন শ্রেষ্ঠ মনীষার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তাঁর সঙ্গে ছিল। কুরআন-সুন্নাহ, হাদীস, আছার, ফিকহ, ইজতিহাদ, যুহদ ও আরাবিয়্যাতের দিকপাল মনীষীরা ছিলেন তাঁর শীষ্য। এঁদের সম্মিলিত আলোচনা ও পর্যালোচনার দ্বারা ফিকহে হানাফী সংকলিত হয়েছে। সমকালীন হাদীস ও ফিকহের বিখ্যাত ইমামগণও ফিকহে হানাফীর এই বৈশিষ্ট্য সর্ম্পকে সচেতন ছিলেন। কুফা নগরীর বিখ্যাত মনীষী ইমাম সুলায়মান ইবনে মিহরান আমাশ রাহ. (১৪৮ হি.) কে এক ব্যক্তি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তখন (ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর মজলিসের দিকে ইঙ্গিত করে) বললেন, এঁদের জিজ্ঞাসা করুন। কেননা, এঁদের নিকট যখন কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয় তখন তারা সম্মিলিতভাবে মতবিনিময় করেন এবং (সর্বদিক পর্যালোচনার পর) সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন।’-জামিউল মাসানীদ, আবুল মুআইয়াদ খুয়ারাযমী ১/২৭-২৮ ইবনে কারামাহ বলেন, ‘আমরা একদিন ওকী ইবনুল জাররাহ রাহ. এর মজলিসে ছিলাম। জনৈক ব্যক্তি কোনো বিষয়ে বললেন, ‘আবু হানীফা এখানে ভুল করেছেন।’ ওকী বললেন, আবু হানীফা কীভাবে ভুল করতে পারেন, তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আবু ইউসুফ, যুফার ইবনুল হুযাইল ও মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের মতো ফকীহ ও মুজতাহিদ, হিব্বান ও মানদালের মতো হাফিযুল হাদীস, কাসিম ইবনে মা’ন-এর মতো আরাবিয়্যাতের ইমাম এবং দাউদ ইবনে নুছাইর ত্বয়ী ও ফুযাইল ইবনে ইয়াযের মতো আবিদ ও যাহিদ? এই পর্যায়ের সঙ্গী যাঁর রয়েছে তিনি ভুল করবেন কীভাবে? কখনো যদি তাঁর ভুল হয় তবে তো এঁরাই তাকে ফিরিয়ে আনবেন।’-প্রাগুক্ত পৃ. ৩৩ ইমাম আসাদ ইবনুল ফুরাত রাহ. (২১৩ হি.) বলেন, ‘ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর চল্লিশজন সঙ্গী গ্রন্থসমূহ (ফিকহে হানাফী) সংকলন করেছেন। তাঁদের শীর্ষ দশজনের মধ্যে ছিলেন আবু ইউসুফ, যুফার, দাউদ ত্বয়ী, আসাদ ইবনে আমর, ইউসুফ ইবনে খালিদ ও ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া ইবনে আবী যাইদা। শেষোক্ত জন সিদ্ধান-সমূহ লিপিবদ্ধ করতেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন।’-ইবনু আবিল ‘আওয়াম-এর সূত্রে যাহিদ হাসান কাওছারী-ভূমিকা, নসবূর রায়াহ ১/৩৮



চতুর্থ বৈশিষ্ট্য : অবিরাম আলোচনা ও পর্যালোচনা দ্বারা সুসংহত



ইতিহাসের বাস্তবতা এই যে, চার ইমামের সমকালে মুসলিম-জাহানে অনেক অগ্রগণ্য মুজতাহিদ বিদ্যমান ছিলেন। নিজ নিজ অঞ্চলে তাঁদের তাকলীদও হয়েছে। কিন্তু চার ইমামের বৈশিষ্ট্য এই যে, মনীষী সঙ্গীগণ তাঁদের মতামতকে সংরক্ষণ করেছেন এবং আলোচনা ও পর্যালোচনা দ্বারা সুসংহত করেছেন, যা অন্যদের বেলায় হয়নি। বস্তুত চার মাযহাবের দীর্ঘায়ু ও বিপুল বিস্তারের এটি অন্যতম প্রধান কারণ। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রাহ.-এর একটি পরিসংখ্যান থেকে তা অনুমান করা যাবে। তিনি ‘ইলামুল মুয়াক্কিয়ীন’ গ্রন্থে মুসলিম জাহানের বিভিন্ন ভূখণ্ডের ফকীহ ও মুজতাহিদদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা ‘তবাকা’ অনুসারে উল্লেখ করেছেন। এতে কুফা, শাম, মিসর প্রভৃতি বিখ্যাত কেন্দ্রের আলোচনা এসেছে। কুফা নগরীর আলোচনায় ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর সমসাময়িক সাতজন ফকীহর নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা হলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবী লায়লা, আবদুল্লাহ ইবনে শুবরুমা, সায়ীদ ইবনে আশওয়া, শরীক ইবনে আবদুল্লাহ, কাসিম ইবনে মা’ন, সুফিয়ান ছাওরী ও হাসান ইবনে হাই। পরবর্তী তবাকায় উল্লেখিত হয়েছেন সর্বমোট ১৪ জন। লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, এঁদের মধ্যে ৮ জনই ‘আসহাবু আবু হানীফা’ শিরোনামে। পক্ষান-রে সুফিয়ান ছাওরী ও হাসান ইবনে হাই রাহ. প্রত্যেকের ২ জন করে সঙ্গীর নাম উল্লেখিত হয়েছে। অবশিষ্ট দু’জন হলেন, হাফছ ইবন গিয়াছ ও ওকী ইবনুল জাররাহ। (ইলামুল মুয়াককিয়ীন ১/২৬) উল্লেখ্য, ইবনুল কাইয়িম রাহ. এ দু’জনকে আলাদাভাবে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁরাও ‘আসহাবু আবী হানীফা’র অন্তর্ভুক্ত। তদ্রূপ ইমাম আবু হানীফার সমসাময়িকদের মধ্যে কাসিম ইবনে মা’নকে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনিও ইমাম আবু হানীফার সঙ্গী এবং ফিকহে হানাফীর অন্যতম ইমাম। অন্য ফকীহদের কোনো শাগরিদ এই তবাকায় উল্লেখিত হননি। এ থেকে ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর মনীষী শীষ্যদের প্রাচুর্য সম্পর্কে অনুমান করা যায়। ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর মাঝে ব্যক্তিত্ব তৈরির অতুলনীয় যোগ্যতা ছিল। তাই তাঁর সোহবত ও তরবিয়ত থেকে ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম যুফার ইবনুল হুযাইল, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান প্রমুখ মুজতাহিদ তৈরি হয়েছেন। পরবর্তীতে এই বৈশিষ্ট্য তাঁর শীষ্যদের মাঝেও বিকশিত হয়েছিল। সম্ভবত একটি দৃষ্টান্তই এক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে যে, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান রাহ.-এর সোহবত থেকে তৈরি হয়েছেন ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইদরীস আশশাফেয়ী। স্বয়ং ইমাম শাফেয়ী রাহ. তা কৃতার্থ চিত্তে স্মরণ করতেন। তিনি বলতেন ‘ফিকহ ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে আমার প্রতি সর্বাধিক অনুগ্রহ করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান।’ (তারীখে বাগদাদ ২/১৭৬) তিনি আরো বলেছেন, ‘ফিকহ ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে সকল মানুষ (ইমাম) আবু হানীফার কাছে দায়বদ্ধ।’ (তারীখে বাগদাদ ১৩/৩৪৬) তাই প্রতি যুগেই যোগ্য পূর্বসূরী থেকে যোগ্য উত্তরসূরী পয়দা হয়েছেন এবং কখনো ফিকহে হানাফীর ধারক ও বাহকের অভাব হয়নি। পঠন-পাঠন এবং ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হয়েছে। মূল আলোচনায় ফিরে আসি। কুফা নগরীর পর ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. শামের মুজতাহিদ ইমামদের তালিকা উল্লেখ করেছেন। এতে যাঁদের নাম এসেছে তারা হলেন : ইয়াহইয়া ইবনে হামযা, আবু আম্র আবদুর রহমান ইবনে আম্র আওযায়ী, ইসমাইল ইবনে আবিল মুহাজির, সুলায়মান ইবনে মূসা উমাভী ও সায়ীদ ইবনে আবদুল আযীয রাহ.। পরবর্তী তবাকায় ‘ছাহিবুল আওযায়ী’ উপাধী শুধু একজনের নামের সঙ্গেই দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ আব্বাস ইবনে ইয়াযীদ ছাহিবুল আওযায়ী। (ইলামুল মুয়াক্কিয়ীন ১/২৭) ইমাম আওযায়ী রা. ছিলেন মুসলিম জাহানের বিখ্যাত মুজতাহিদদের অন্যতম। কিন্তু যোগ্য উত্তরসূরীর অভাবে তাঁর মাযহাব দীর্ঘায়ূ হয়নি। ফিকহের ইতিহাস লেখকরা বলেন, শাম ও আন্দালুসে ইমাম আওযায়ী রাহ. (১৫৭ হি.)-এর মাযহাব প্রচারিত হয়েছিল, কিন্তু হিজরী তৃতীয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এখন শুধু ফিকহে মুকারান অর্থাৎ তুলনামূলক ফিকহের গ্রন্থাদিতে তাঁর মতামত পাওয়া যায়। মিসরের মুজতাহিদ ইমামদের মধ্যে উল্লেখিত হয়েছেন-আমর ইবনুল হারিছ, লাইছ ইবনে সা’দ ও উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু জা’ফর। পরবর্তী তবাকা সম্পর্কে ইবনুল কাইয়েম রাহ.-এর বক্তব্য-‘এঁদের পর (মিসরের মুফতী ও মুজতাহিদ হলেন) ইমাম মালিক রাহ.-এর ‘আসহাব’ যেমন, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহব, উছমান ইবনে কিনানা, আশহাব ও ইবনুল কাসিম রাহ.। এঁদের পর ইমাম শাফেয়ী রাহ.-এর ‘আসহাব’ যেমন, মুযানী, বুওয়াইতী ও ইবনু আব্দিল হাকাম। এরপর (সে অঞ্চলে) ব্যাপকভাবে ইমাম মালিক রাহ. ও ইমাম শাফেয়ী রাহ.-এর তাকলীদ হতে থাকে। কিছু মনীষী ব্যতিক্রম ছিলেন, যাঁদের নিজস্ব মতামত ছিল। যেমন মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ও আবু জা’ফর তহাবী।’(ই’লামুল মুয়াককিয়ীন ১/২৭) মিসরের বিখ্যাত মুজতাহিদ ইমাম লাইছ ইবনে সা’দ রহ. সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ী রাহ. বলেছেন যে, ‘তিনি ফিকহ ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের চেয়েও অগ্রগামী ছিলেন, কিন্তু সঙ্গীগণ তাঁর মতামত সংরক্ষণ করেনি।’ (তাযকিরাতুল হুফফায ১/২২৪) এই সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান থেকে অনুমান করা কঠিন নয় যে, চার মাযহাবের প্রচার ও সংহতির পিছনের যোগ্য ধারক ও বাহকদের অবদান অনস্বীকার্য। হাফেয আবদুল কাদের আলকুরাশী রাহ. (৬৯৬-৭৭৫ হি.) এর একটি বিবরণ উল্লেখ করে এই আলোচনা সমাপ্ত করব। ফিকহে হানাফীর মনীষীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি সম্পর্কে তাঁর গ্রন্থ ‘আলজাওয়াহিরুল মুযিয়্যা’র ভূমিকায় তিনি লেখেন, অন্যান্য মাযহাবের অনুসারীগণ তাঁদের মনীষীদের উপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। কিন্তু আমাদের কাউকে হানাফী মনীষীদের জীবনী সংকলন করতে দেখিনি। অথচ (তা একটি দীর্ঘ গ্রন্থের বিষয়বস্তু। কেননা, বিভিন্ন ভূখণ্ডের) হানাফী মনীষীদের সংখ্যা এত প্রচুর যে, তা গণনা করে শেষ করা যায় না। (কয়েকটি দৃষ্টান- দেখুন : ইমাম বুরহানুদ্দীন যারনুজী লিখিত) ‘কিতাবুত তা’লীম’-এ বলা হয়েছে যে, ইমাম আবু হানীফা রাহ. থেকে যে মনীষীগণ তাঁর ফিকহ বর্ণনা করেছেন তাদের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। আর বলা বাহুল্য যে, তাঁদের প্রত্যেকের ছিল বহু সঙ্গী, যারা ওই ইলম ও ফিকহকে ধারণ করেছেন। ইমাম সামআনী বলেন, বুখারার খাইযাখাযা শহরে ইমাম আবু হাফস আলকাবীরের এত শাগরিদ রয়েছেন যে, গণনা করে শেষ করা যায় না। লক্ষ্য করুন, এটি বুখারার একটি মাত্র এলাকার কথা। ইমাম কুদূরী রাহ.-এর আলোচনায় বলেন, তিনি বিখ্যাত ‘মুখতাছার’-এর রচয়িতা। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে (তালিবে ইলমকে) উপকৃত করেছেন। আমাদের একজন হানাফী মনীষী আবু নাসর আলইয়াযী সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, শাহাদত বরণের সময় তিনি এমন চল্লিশজন সঙ্গী রেখে গেছেন, যারা ইমাম আবু মানসুর মাতুরীদীর সমসাময়িক। তদ্রূপ ‘আসহাবুল আমালী’ যারা ইমাম আবু ইউসুফ রাহ. থেকে ‘আমালী’ বর্ণনা করেছেন তাঁদের সংখ্যাও অগণ্য। সমরকন্দ ও মা-ওয়ারাউন্নাহ্রে ফিকহে হানাফীর কত মাশায়েখ ছিলেন তা কি গণনা করা সম্ভব? একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যে, যাকরদীজাহ শহরে একটি কবরস্থান আছে যার নাম ‘তুরবাতুল মুহাম্মাদীন’। এখানে প্রায় চারশ’ মনীষী শায়িত আছেন, যাঁদের সকলের নাম মুহাম্মাদ এবং প্রত্যেকে ছিলেন ফকীহ ও মুসান্নিফ (গ্রন্থকার)। (বুখারার), কালাবায শহরে ‘মাকবারাতুস সুদূর’ কবরস্থানে অসংখ্য হানাফী ফকীহ শায়িত আছেন। তদ্রূপ বুখারার নিকটে ‘মাকবারাতুল কুযাতিস সাবআ’তে সমাহিত হয়েছেন অসংখ্য ফকীহ, যাদের অন্যতম হলেন ইমাম আবু যায়েদ আদ-দাবূসী। তদ্রূপ (পশ্চিম বাগদাদে) শূনীযে ‘মাকবারা আসহাবে আবী হানীফা’তে অসংখ্য হানাফী ফকীহ সমাহিত আছেন। তদ্রূপ কত বিখ্যাত পরিবার ছিল, যাতে অসংখ্য ফকীহ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দামাগানী পরিবার ও সায়েদী পরিবারের গ্রহ-নক্ষত্রদের কে গণনা করে শেষ করতে পারে? ... কাযিল কুযাত আবু আবদুল্লাহ দামাগানীর ঘরানা থেকে তো অসংখ্য ফকীহ বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন। আমাদের একজন ফকীহ মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল মালিক হামাযানীর একটি বৃহৎ গ্রন্থ আমি দেখেছি, যাতে আবু আবদিল্লাহ দামাগানী ও ইমাম সায়মারীর শুধু ওইসব সঙ্গীর আলোচনা করা হয়েছে, যারা তাদের নিকট থেকে সরাসরি (ইলম ও ফিকহ) গ্রহণ করেছিলেন। তদ্রূপ ছাফফারিয়্যাহ পরিবার, নূহিয়্যা পরিবার ও লামগানী পরিবারেও অসংখ্য আলিম, যাহিদ, কাযী ও ফকীহ জন্মগ্রহণ করেছেন।-আলজাওয়াহিরুল মুযিয়্যা ১/৫-৯

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:৪২

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: হানাফী মাজহাব অনুযায়ী সালাতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া লাগে না। অথচ সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাত হয় না। এখন আমরা কোনটা মানব? সহীহ হাদিস নাকি হানাফী মাজহাব?

২| ০১ লা আগস্ট, ২০১১ রাত ১:০৯

তানজিব বলেছেন: @আব্দুল্লা ভাই আপনে মনে আরবি গ্রামার সহ জানেন।(আলহামদুলিল্লা) যে ভাবে বললেন সহী হাদিস থেকে সরাসরি উসুল বের করবেন।

যাই হোক সালাতে সুরা ফাতিহা পড়া সম্পর্কে যত গুলা হাদিস আছে ওগুলো পড়েন। তারপর এ ব্যাপারে আবু হানিকার সম্পূর্ন ইসতিহাদটা পড়বেন। আশা করি আপনি আপনার উত্তরটা পেয়ে যাবেন।

৩| ০১ লা আগস্ট, ২০১১ রাত ১:২৭

তানজিব বলেছেন: ও একটা হাদিস আছে ইমামের কেরআত মুক্তাদির কেরআত হিসেবে গন্য হবে।


আর একটা ব্যাপার পরিষ্কার হওয়া উচিৎ সেটা হচ্ছে আমরা ইমাম আবু হানিফাকে অনুসরন করি না। বরং যে বিষয় গূলো কোরান বা হাদিসে কাতাই হিসেবে আসে নি বা যে বিষয়ে কোন স্পষ্ট উসুল পাওয়ার জন্য অনেক গুলো আয়াত বা হাদিসের মধ্যে সামন্জস্য করতে হয় সে সব ক্ষেত্রে আমারা জ্ঞানী ব্যক্তিদের ইসতিহাদ অর্থাৎ শারিআ কে অনুসরন করি।

খুলাফায়ে রাশিদার সময়ও যখন অনেক জ্ঞানী সাহাবা বেচে ছিলেন। যারা অনেকেই অনেক হাদিস বর্ননা করেছেন কিন্তু মাসআলা দিতেন অল্প কয়েকজন সাহাবা। যারা খলিফাদের কাছ থেকে অনুমোদিত ছিলেন।


তাছাড়া যেসব বিষয় গুলোতে আয়াত বা হাদিস কাতাই অর্থ দেয় সে সব বিষয়ে কোনও ইমাম ই ইসতিহাদ করেন নি।

৪| ০১ লা আগস্ট, ২০১১ সকাল ৮:৩৫

তারেক০০০ বলেছেন: @ Abdullah Arif Muslim :

The Muqtadi (follower) Should Listen and Remain Silent.

However, if a person did recite behind the Imam, Salah will be complete.

Reciting Behind the Imam:

#Allah Ta'aala says: "When the Qur'an is being recited then listen attentively and remain silent so that Rahmah will be showered upon you".

#Hazrat Abdullah Ibn Mas'ud, Abu Hurairah, Abdullah Ibn Abbas and Abdullah Ibn Mughaffal (RA) state that this verse of the Quran was revealed with regards to the Khutba (of Juma'ah) and with regards to Salaah. [Tafsir Ibn Kathir, vol. 1 pg. 281] The dictates of this verse of the Holy Qur'an is that when the Imaam recites the Qur'an aloud, the followers should listen attentively, and when he recites softly, the followers should remain silent.

#Rasulullah (Sall Allahu alaihi wa Aalihi wa Sallim) is reported to have said: "When you begin your congregational prayers, straighten your rows. Thereafter when the Imaam says the takbeer (i.e. when he says Allahu Akbar aloud) you must also say the takbeer. However, when he begins the recital of the Qur'an, you must remain silent. And when he recites walad daul leen then you should say Aameen". By performing your salaah in this manner Allah Ta'ala will love you." [Muslim; ch. on tashahhud] (A similar Hadith has been narrated by Abu Hurairah (radhiallahu anhu)-Imaam Muslim has attested to its authenticity).

The muqtadi Must Not Recite Surah Fatiha

#It is reported from Hazrat Ataa Ibn Yasaar (radhiallahu anhu) that he questioned Hazrat Zaid Ibn Thaabit (radhiallahu anhu) concerning reciting Qira'at with the Imaam. Hazrat Zaid (radhiallahu anhu) answered: "There is no recitation of the Glorious Qur'an in any salaah behind the Imaam". [Sahih Muslim, chapter on Sujood-ut-Tilaawah, Hadith 577]

The Qiraat of the Imaam SUFFICES for the Muqtadi

#Hazrat Abdullah Ibn Umar (radhiallahu anhu) used to repeatedly say:

"Whoever performs salaah behind the Imaam, the Imaam's qiraat suffices for him". (Sunan Baihaqi; chapter on not reciting qiraat behind the Imaam ? Imaam Baihaqi (R.A.) has stated that this Hadith is Sahih.)

However, one must recite a surah if a person is performing salah individually

#Hazrat Abdullah Ibn Umar (radhiallahu anhu) was asked:

"Must the muqtadi recite behind the Imam?" He replied that the qiraat of the Imaam is sufficient for the muqtadi. But if he performs salaah individually, then he must recite qiraat. It was the practice of Hazrat Abdullah Ibn Umar (radhiallahu anhu) also that he would not recite surah fatiha behind the Imam. (In Aathaarus Sunan (Vol. 1 pg.89) this Hadith has been classified as sahih).

#Hazrat Jaabir (radhiallahu anhu) narrates: that the one who does not recite sura fatiha even in one rakaat, his salaah is not valid. However, if he is behind an Imam he must not recite surah fatiha. (This Hadith has been classified as hasan ? Tirmizi - ch. on not reciting behind the Imaam).

And Allah Ta'aala Knows Best

৫| ০১ লা আগস্ট, ২০১১ সকাল ৮:৪৯

তারেক০০০ বলেছেন: @ Abdullah Arif Muslim :
ইমাম আবু হানিফা জামাতে নামাজ পড়ার যে ফতওয়া টি দিয়েছেন,সে টি ও ভাল মত পড়ে দেখুন। ফিকাহের কিতাবে হাদীস সহ তা বিস্তারিত লিখা আছে,যা লিখা সময় সাপেক্ষ।
ধন্যবাদ।

৬| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ রাত ২:৩০

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: তানজিব বলেছেন: ইমামের কেরআত মুক্তাদির কেরআত হিসেবে গন্য হবে।
=> ভাই ইমামের কেরাত মুক্তাদির কেরাত। কিন্তু ইমামের সূরা ফাতিহা মুত্তাকির সূরা ফাতিহা না। মুক্তাদিকেও সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।

-----------------------------------------------------------------------------
আল্লাহ কোরআনে বলেছেন
সূরা হিজর-৮৭> And indeed, We have bestowed upon you seven of Al-Mathâni (the seven repeatedly recited Verses), (i.e. Sûrat Al-Fâtiha) and the Grand Qur'ân.

উপরোক্ত আয়াতে সূরা ফাতিহাকে কোরআন থেকে আলাদা করা হইছে। সূরা ফাতিহা এবং কোরআন।

তারিক ভাই আপনি বললেন
#Allah Ta'aala says: "When the Qur'an is being recited then listen attentively and remain silent so that Rahmah will be showered upon you".

সূরা আরাফ-২০৪> যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা উহা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, তাহলে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ বর্ষিত হবে।

=> এই আয়াতের শানে নুজুল পড়েন। সেখানে আছে কাফেরা বিশৃঙ্খলা করতো কোরআন পড়ার সময়। আল্লাহ তাদের চুপ থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত

রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, তোমরা কি ইমামের কিরাআত অবস্থায় কিছু পাঠ করে থাকো? তারা বললো হ্যা আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেন, এটা করবে না। বরং শুধুমাত্র """সূরা ফাতিহা"""" চুপে চুপে পড়বে। (বুখারী, জুযউল কিরাআত, ইবনু হিব্বান, বাইহাক্কী, ত্বাবারানি, ২৮৬৪ নায়নুল আওত্বার)।


আবু হুরায়রা রাঃ কে বললেন, যাও """সূরা ফাতিহা"""" ব্যতিত কারো সালাত হবে না এবং তার সাথে সংক্ষিপ্ত কোন সূরা বা আয়াত না মিলালে কিছুতেই সালাত শুদ্ধ হবে না। এই কথা ঘোষনা করে দাও। অতঃপর আবু হুরায়রা রাঃ মদীনার গলিতে গলিতে এই কথা ঘোষনা করে দিলেন (জুযউল কিরাআত, ১/৪৪২ হাঃ ৮১৯ আবু দাউদ)


উক্ত আয়াতে যদি মুক্তাদির """সূরা ফাতিহা"""" পাঠ নিষিদ্ধ হতো, তাহলে তিনি ইহা পড়ার নির্দেশ দিতেন না।



আর এই কোরআন যেই ব্যক্তির উপর নাজিল হইছে সেই শেষ ও প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন যেহরী সালাতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে।


=> উবাদাহ ইবন সামিত রাঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ আমাদের নিয়ে একদিন ফজরের সালাত আদায় করলেন, যাতে উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করা হয়। রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ কিরাআত পাঠের সময় আটকে যান। অতঃপর সলাত শেষে তিনি সমবেত মুসল্লিদের লক্ষ্য করে বলেন ঃ আমি যখন উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলাম, তখন কি তোমরা কিরাআত পাঠ করেছো। জবাবে আমাদের কেউ বলেন, হ্যা আমরাও কিরাআত পাঠ করেছি। তখন তিনি বলেন, এইরূপ আর কখনো করবে না। তিনি আরো বলেন কিরাআত পাঠের সময় যখন আমি আটকে যাই তখন আমি এইরূপ চিন্তা করি যে, আমার কুরআন পাঠে কিসে বা কে বাধার সৃষ্টি করছে? তারপর তিনি বললেন, যখন আমি উচ্চস্বরে কোরআন পড়ি, তখন "সূরা ফাতিহা" ব্যতিত তোমাদের কেউ যেন কিছু না পড়ে। (১/৪৪৪-৪৪৫ হাঃ ৮২৩-৮২৪ আবু দাউদ, ২/৫৪ হাঃ ৯২৩ নাসাঈ)।


=> একদিন ফজরের সালাতে কিরাত পড়াকালে পড়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে সালাত শেষে নবীজি সাঃ বললেন- সম্ভবত তোমারা (সাহাবারা) ইমামের পিছনে কিরআত পড়ে ছিলে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! হ্যা, আমরা তা তাড়াহুড়া করে তা করি। তিনি বললেনঃ এমনটি করো না, তবে তোমাদের """সূরা ফাতিহা""" পড়াটা স্বতন্ত্র, কারণ যে এটি পড়ে না তার সালাত হয় না (২/১০৯ হাঃ ৭২০ বুখারী, ২/১৪৫-১৪৬-১৫০ হাঃ ৭৫৮-৭৬২-৭৭০ মুসলিম, ১/২৩৬ হাঃ ২৪৭ তিরমিযী, ২/৫০ হাঃ ৯১৪ নাসাঈ, ১/৪৪৯ হাঃ ৮২৮ আবু দাউদ, আহমাদ, দারাকুৎনী, হাঃ ৮৫৪ মিশকাত)।

=> আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন ঃ যে ব্যক্তি সালাতে উম্মুল কোরআন "সূরা ফাতিহা" পাঠ করেনি তার সালাত অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর আবু হুরায়রা রাঃ কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আমরা তো ইমামের পিছনে থাকি তখনো কি আমরা "সূরা ফাতিহা" পড়বোঃ তখন তিনি আমার বাহু ধরে বললেন ঃ হে ফারসী, তুমি তা মনে মনে পাঠ করবে। কারণ আমি রাসুলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে অর্ধেক করে ভাগ করেছি। আর বান্দা যা চাইবে তা সে পাবে। (২/১৪৬ হাঃ ৭৬২ মুসলিম, ১/৪৪৩ হাঃ ৮২১ আবু দাউদ, ১/৩২২ হাঃ ৮৩৮ ইবনে মাজাহ, ২/৪৯ হাঃ ৯১২ নাসাই, হাঃ ৮২ মিশকাত)

ইমাম আবু হানিফা যখন ফতোয়া দিয়েছেন তখন হাদিস বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলো। আর ইমাম আবু হানিফা নিজেই বলছেন

হাদিস বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হলে ওটাই আমার মাযহাব বা অভিমত বলে পরিগণিত হবে। (১/৬৩ ইবনু আবিদীন এর হাশিয়া পৃষ্ঠা-৬২, ছালিহ আল ফাল্লানীর, ১/৪৬ শামী)।

--------------------------------------------------------------------------

বুখারীর একটা হাদিস

উবাদাহ ইবনে সামেত রাঃ থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি সালাতের মধ্যে সূরা ফাতিহা পড়বে না তার সালাত হবে না।

বুখারী ১ম খন্ড, হাদিস নং-৪৪১, অনুবাদ-আল্লামা আজিজুল হক, হামিদিয়া পাবলিকেশন্স।


-------------------------------------------------------------------------

-------------------------------------------------------------------------

#Hazrat Abdullah Ibn Mas'ud, Abu Hurairah, Abdullah Ibn Abbas and Abdullah Ibn Mughaffal (RA) state that this verse of the Quran was revealed with regards to the Khutba (of Juma'ah) and with regards to Salaah. [Tafsir Ibn Kathir, vol. 1 pg. 281] The dictates of this verse of the Holy Qur'an is that when the Imaam recites the Qur'an aloud, the followers should listen attentively, and when he recites softly, the followers should remain silent.

#Rasulullah (Sall Allahu alaihi wa Aalihi wa Sallim) is reported to have said: "When you begin your congregational prayers, straighten your rows. Thereafter when the Imaam says the takbeer (i.e. when he says Allahu Akbar aloud) you must also say the takbeer. However, when he begins the recital of the Qur'an, you must remain silent. And when he recites walad daul leen then you should say Aameen". By performing your salaah in this manner Allah Ta'ala will love you." [Muslim; ch. on tashahhud] (A similar Hadith has been narrated by Abu Hurairah (radhiallahu anhu)-Imaam Muslim has attested to its authenticity).

=> অবশ্যই যখন ইমাম কোরআন পাঠ করবেন তখন আমরা শুনবো। কারণ আল্লাহর নির্দেশ সূরা আরাফের ২০৪ নং আয়াত। এবং অবশ্যই আমরা উম্মুল কোরআন বা সূরা ফাতিহা পাঠ করবো কারণ রাসুল সাঃ নির্দেশ দিয়েছেন।

-------------------------------------------------------------------------

The muqtadi Must Recite Surah Fatiha

#It is reported from Hazrat Ataa Ibn Yasaar (radhiallahu anhu) that he questioned Hazrat Zaid Ibn Thaabit (radhiallahu anhu) concerning reciting Qira'at with the Imaam. Hazrat Zaid (radhiallahu anhu) answered: "There is no recitation of the Glorious Qur'an in any salaah behind the Imaam". [Sahih Muslim, chapter on Sujood-ut-Tilaawah, Hadith 577]


=> অবশ্যই যখন ইমাম কোরআন পাঠ করবেন তখন আমরা শুনবো। কারণ আল্লাহর নির্দেশ সূরা আরাফের ২০৪ নং আয়াত। এবং অবশ্যই আমরা উম্মুল কোরআন বা সূরা ফাতিহা পাঠ করবো কারণ রাসুল সাঃ নির্দেশ দিয়েছেন।
--------------------------------------------------------------------------

#Hazrat Abdullah Ibn Umar (radhiallahu anhu) used to repeatedly say:

"Whoever performs salaah behind the Imaam, the Imaam's qiraat suffices for him". (Sunan Baihaqi; chapter on not reciting qiraat behind the Imaam ? Imaam Baihaqi (R.A.) has stated that this Hadith is Sahih.)

=> প্রশ্নঃ হাদিসে আছে ইমামের কেরাত মুক্তাদির কেরাত। তাহলে আমরা কেন কেরাত পড়বো?

=> কারণ মহানবী সাঃ যখন ইমাম ছিলেন তখন নবীজি সাঃ ইমাম হিসেবেই সূরা ফাতিহা পড়ার আদেশ দিছেন।

আর সূরা আরাফ এর ২০৪ নং আয়াত তো তার উপরই নাজিল হইছিল। তাহলে তার চেয়ে ভালো আয়াত আর কে বুঝতে পারবো। আর তিনি তো বুঝেই এই নির্দেশ দিয়েছেন।

=========================================

সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাত হবে না। এ ব্যাপারে একমত-

=> শাইখ মুহাম্মদ আমানুল্লাহ, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব।
=> শাইফ আকরামুজ্জামান বিন আবদুস সালাম, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব।
=> শাইখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব।
অধ্যক্ষ, মাদ্রাসা দারুস সুন্নাহ, মিরপুর, ঢাকা।
=> মুফতী কাজি মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ইসলামিক টিভি।
=> প্রফেসর মানজুরে এলাহী, ইসলামিক টিভি।
=> শাহ ওয়ালী উল্লাহ, পিস টিভি।
=> শাইখ মুরাদ বিন আমজাদ, খতীব, মোহাম্মদী জামে মসজিদ, খুলনা।
=> নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি বাই জিয়া সফিক উদ্দিন আহমাদ ও ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান (তাহকিক মুহাদ্দিস মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)।
=> ডঃ জাকির নায়েক এর সালাত এর উপর লেকচার, ৪০ মিনিটের মাথায় তিনি বলেন সূরা ফাতিহা পাঠ ফরজ)


তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো যেখানে রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন সূরা ফাতিহা পড়তে তাই আমরা মুসলিমরা পড়ি। ব্যাস। এতটুকুই।

আল্লাহ আমাদের সত্য বুঝার ও গ্রহণের তৌফিক দান করুন। আমিন।

৭| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ সকাল ৭:৪৪

তারেক০০০ বলেছেন: @ Abdullah Arif Muslim

ভাই,

সবচেয়ে বড় কথা হল আপনি শুধু হাদীসের reference দিয়ে গেছেন,সেই হাদীসের ব্যাখ্যা দিয়ে যাননি।মনে রাখবেন,হাদীসের ব্যাখ্যা পড়া ছাড়া একজন সাধারণ মানুষ কখনো পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না, সব আলেম উলামা মুহাদ্দিসগণ এ বিষয়ে একমত। তাই আমি আপনাকে ফিকাহর কিতাব পড়ে দেখতে বলেছি, ওখানে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া আছে যা এখানে বর্ণনা করতে গেলে অনেক সময় লাগবে।
শুধু মাত্র আধুনিক যুগের কিছু বই থেকে copy paste করে পান্ডিত্য জাহিরের মাঝে কোন আনন্দ নেই।


আর আমি শুরুতেই বলছি,
However, if a person did recite behind the Imam, Salah will be complete.
আপনি বোধহয় খেয়াল করেননি।

সূরা আরাফ-২০৪ এর শানে নুযূল পড়তে বলছেন, অথচ আমি কিন্তু তাফসীর ইবনে কাতীরের reference আপনাকে দিয়েছি।

প্রথমত, সূরা আরাফ-২০৪ শানে নুযূল সম্পর্কে বিভিন্ন রেওয়ায়েত রয়েছে যে, এ হুকুম টি কি নামাযের কোরআন পাঠ সংক্রান্ত,না কোন বয়ান বিবৃতিতে কোরআন পাঠের ব্যাপারে,নাকি সাধারণভাবে কোরআন পাঠের বেলায়;তা নামাযেই হোক বা অন্য যে কোন অবস্থায়ই হোক।অধিকাংশ মুফাসসিরীনের মতে, এটাই যথার্হ যে, আয়াতের শব্দগুলো যেমন ব্যাপক তেমনি এর হুকুমও ব্যাপক।

ইমাম আবু হানিফা এবং তার সমসাময়িক অনেক বড় বড় ইমামগণ এ আয়াত দ্বারা ও অন্যান্য হাদীস দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে,ইমাম যখন কেরাত পড়বেন,মুক্তাদীর তখন কেরাত পড়া বিধেয় নয়।

তাফসীর ইবনে কাতীরে কিন্তু সাহাবীদের reference এ এই আয়াতটি সালাতের ক্ষেত্রে নাযিল হয়েছে বলে উল্লেখ আছে।

এ ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমগণের মতামত নেওয়ার পরামর্শ রইল।

উবাদাহ ইবনে সামেত রাঃ থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি সালাতের মধ্যে সূরা ফাতিহা পড়বে না তার সালাত হবে না।

ইমাম আবু হানিফা সহ অন্য অনেক বড় বড় মুহাদ্দিসগণের মতে এ হাদীসের উদ্দেশ্য ঐ নামাযী ব্যক্তি যে কোন ইমামের সাথে মুক্তাদী না হয়।কারণ মুক্তাদী সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন আরও হাদীস আছে। যেমনঃ
"Whoever performs salaah behind the Imaam, the Imaam's qiraat suffices for him"
অথবা
Hazrat Jaabir (radhiallahu anhu) narrates: that the one who does not recite sura fatiha even in one rakaat, his salaah is not valid. However, if he is behind an Imam he must not recite surah fatiha.
অথবা
Hazrat Abdullah Ibn Umar (radhiallahu anhu) was asked:

"Must the muqtadi recite behind the Imam?" He replied that the qiraat of the Imaam is sufficient for the muqtadi. But if he performs salaah individually, then he must recite qiraat. It was the practice of Hazrat Abdullah Ibn Umar (radhiallahu anhu) also that he would not recite surah fatiha behind the Imam.
অথবা
Rasulullah (Sall Allahu alaihi wa Aalihi wa Sallim) is reported to have said: "When you begin your congregational prayers, straighten your rows. Thereafter when the Imaam says the takbeer (i.e. when he says Allahu Akbar aloud) you must also say the takbeer. However, when he begins the recital of the Qur'an, you must remain silent. And when he recites walad daul leen then you should say Aameen". By performing your salaah in this manner Allah Ta'ala will love you
এখানে বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয় যে,
…when the Imaam says the takbeer (i.e. when he says Allahu Akbar aloud) you must also say the takbeer. However, when he begins the recital of the Qur'an, you must remain silent…
যদি সুরা ফাতিহা পড়া মুক্তাদীর জন্য জরুরী হত,তাহলে এখানে অবশ্যই বলে দেওয়া হত যে প্রথমে মুক্তাদী সুরা ফাতিহা পড়বে,তারপর চুপ থাকবে যেমন ভাবে বলে দেওয়া হয়েছে এর পরে…
And when he recites walad daul leen then you should say Aameen

আপনি নিশ্চয়ই উপরের হাদীস গুলো অস্বীকার করতে পারেন না ??? যখন সহীহ হাদীসের মাঝে বিরোধ দেখা যায়,তখন ইজতিহাদের দরকার হয়,আর ইজতিহাদ যোগ্য মানুষ ছাড়া কেউ করতে পারে না।
ইমাম আবু হানিফা এসব হাদীস বিশ্লেষণ করেই তার মতামত দিয়েছেন।
মনে রাখবেন,আপনি এই ফিতনা যুগের মানুষ, আর ইমাম আবু হানিফা ছিলেন একজন তাবেঈন যিনি সাহাবীদের দেখেছেন।
ইমাম আবু হানিফা নিজেই বলছেন

হাদিস বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হলে ওটাই আমার মাযহাব বা অভিমত বলে পরিগণিত হবে
তাহলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন উপরে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ না।
ইমাম আবু হানিফা যখন ফতোয়া দিয়েছেন তখন হাদিস বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল
হ্যাঁ, এবং তিনি সেগুলো সংগ্রহ করে একত্রিত করার কাজ করেছেন, কিন্তু তার মানে এই না যে তিনি হাদীস কম জানতেন।তিনি যদি সুরা ফাতিহার হাদীসটি নাই জানতেন,তাহলে কেন বললেন যে, ইমামের জন্য এবং একাকী নামাযীর জন্য সুরা ফাতিহা পড়া জরুরী।
বিস্তারিত জানতে ইমাম আবু হানিফার জীবনী পড়েন, তবে অবশ্যই ইতিহাস প্রসীদ্ধ লেখকের লিখা।
সমকালীন যে কোন ইসলামী বক্তার চেয়ে তাবেঈন,তাবে তাবেঈন রা কিন্তু অনেক জ্ঞানী ও বুযুর্গ ছিলেন,এবং তারাই কিন্তু মাযহাবের বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন এবং এরাই কিন্তু কোরআনের তাফসীর,হাদীস ও হাদীসের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য আজ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন।
আমি আপনি কোরআন হাদীস পড়ে ভুল বুঝতে পারি, তাবেঈন রা কিন্তু ভুল বুঝবেন না।
ধন্যবাদ।
আল্লাহ আমাদের সত্য বুঝার ও গ্রহণের তৌফিক দান করুন। আমিন।
আসুন,একে অপরকে ভুল না বুঝে সত্য ও সঠিক ইসলামের দাওয়াত দিই সবাইকে।

৮| ০৬ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ২:৩৯

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

ভাই আমি বুঝলাম না আপনি বুঝতে চাইতেছেন না, নাকি বুঝছেন না। ধরে নিলাম আমিই আপনাকে বুঝাতে পারি নাই।

প্রথমত সূরা ফাতিহা ও কোরআন এর মধ্যে আপনার পার্থক্য জানা দরকার। আপনি যতগুলো হাদিস বলছেন সেগুলোতে কোরআন পাঠের কথা বলা হইছে। সূরা ফাতিহা না। সূরা ফাতিহা ও কোরআন এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

------------------------------------------------------------------------
প্রথমত সূরা ফাতিহা থেকে কোরআন কে আলাদা করে দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা।

আল্লাহ কোরআনে বলেছেন
সূরা হিজর-৮৭> And indeed, We have bestowed upon you seven of Al-Mathâni (the seven repeatedly recited Verses), (i.e. Sûrat Al-Fâtiha) and the Grand Qur'ân.

আমি তোমাকে একে একে সাত আয়াত এবং কোরআন দান করেছি।

উপরোক্ত আয়াতে সূরা ফাতিহাকে কোরআন থেকে আলাদা করা হইছে। সূরা ফাতিহা এবং কোরআন।

-----------------

দ্বিতীয়ত হাদিসে সূরা ফাতিহাকে উম্মুল কোরআন বা কোরআনের মা। এখানেও কোরআন থেকে সূরা ফাতিহাকে আলাদা করে দেওয়া হইছে।

----------------

তৃতীয়ত হাফেজ হাজার ইবনে আসকালানী তার বুলুগুল মারাম গ্রন্থে একটি হাদিস নিয়ে এসেছেন যা হলো,
রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন আমাকে একটা সূরা দেওয়া হয়েছে যা কোরআন ও তাওরাতে নাই। সেটা উম্মুল কোরআন।

আশা করি সূরা ফাতিহা ও কোরআন এর দূরত্ব বুঝতে পারছেন।

--------------------------------------------------------------------------

এবার আসল কথায় আসি। আপনি যতগুলো হাদিস দিছেন সেগুলো কোরআন তিলাওয়াত এর কথা বলা হইছে, সাত আয়াত না তথা সূরা ফাতিহা না

১) It is reported from Hazrat Ataa Ibn Yasaar (radhiallahu anhu) that he questioned Hazrat Zaid Ibn Thaabit (radhiallahu anhu) concerning reciting Qira’at with the Imam. Hazrat Zaid (radhiallahu anhu) answered: "There is no recitation of the Glorious Qur’an in any salah behind the Imam". [Sahih Muslim, chapter on Sujood-ut-Tilaawah, Hadith 577]


২) Hazrat Abdullah Ibn Umar (radhiallahu anhu) used to repeatedly say: "Whoever performs salah behind the Imam, the Imam’s qiraat suffices for him". (Sunan Baihaqi; chapter on not reciting qiraat behind the Imam — Imam Baihaqi (R.A.) has stated that this Hadith is Sahih.)

=> এই হাদিসগুলোতে কোরআন পাঠের কথা বলা হইছে, আল্লাহর বলা "একে একে সাত আয়াত তথা সূরা ফাতিহা" নয়।

-------------------------------------------------------------------------

Hazrat Abdullah Ibn Umar (radhiallahu anhu) was asked: "Must the muqtadi recite behind the Imam?" He replied that the qiraat of the Imam is sufficient for the muqtadi. But if he performs salah individually, then he must recite qiraat. It was the practice of Hazrat Abdullah Ibn Umar (radhiallahu anhu) also that he would not recite surah fatiha behind the Imam. (In Aathaarus Sunan (Vol. 1 pg.89) this Hadith has been classified as sahih).

=> এই হাদিসটিকে বলা যায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ এর ব্যক্তিগত আমল যদি হাদিসটা সহিহ হয়ে থাকে। কারণ অন্যান্য হাদিসগুলো সরাসরি রাসুল সাঃ থেকে এসেছে যেখানে সূরা ফাতিহা পড়ার প্রতি জোর দেওয়া হইছে। আর এই হাদিসে রাসুল সাঃ ও অনুপস্থিত এবং হাদিসটি সহিহাইন গ্রন্থগুলো বা ছিহাহ সিত্তাহ এর অন্তুর্ভূক্ত নয়।

-------------------------------------------------------------------------


নিম্নোক্ত হাদিসে কি সূরা ফাতিহা পড়তে নিষেধ করা হইছে নাকি নিরবে পড়তে বলা হইছে। বাহ্যিক ভাবে দেখলে দেখা যায় পড়তে নিষেধ করা হইছে। এবং এটা কে হানাফীরা সূরা ফাতিহা না পড়ার দলিল হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু অন্যান্য হাদিস বলে এই হাদিসে চুপি চুপি সূরা ফাতিহা পড়ার নির্দেশ দেওয়া হইছে। যেমন----

Rasulullah (Sall Allahu alaihi wa Aalihi wa Sallim) is reported to have said: "When you begin your congregational prayers, straighten your rows. Thereafter when the Imaam says the takbeer (i.e. when he says Allahu Akbar aloud) you must also say the takbeer. However,

আপনার মতে বিশেষ লক্ষনীয় হলো

when he begins the recital of the Qur'an, you must remain silent. And when he recites walad daul leen then you should say Aameen". By performing your salaah in this manner Allah Ta'ala will love you

আপনি সূত্র দেন নাই। সূত্র হলো [Muslim; ch. on tashahhud]

=> এই হাদিসে বলা হইছে আল্লাহু আকবার বলার পর যখন কোরআন পড়া হইবো তখন চুপ থাকতে বা নিরব থাকতে। এখানে চুপ থাকার মানে হলো নিরবে পড়া। কারণ আমি উপরে হাদিস দিয়ে প্রমাণ করেছি রাসুল সাঃ নিরবে সূরা ফাতিহা পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং জোরে ইমামের সাথে সূরা পড়তে নিষেধ করছেন যাতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। আপনার অবগতির জন্য আবারও দিলাম।


=> উবাদাহ ইবন সামিত রাঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ আমাদের নিয়ে একদিন ফজরের সালাত আদায় করলেন, যাতে উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করা হয়। রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ কিরাআত পাঠের সময় আটকে যান। অতঃপর সলাত শেষে তিনি সমবেত মুসল্লিদের লক্ষ্য করে বলেন ঃ আমি যখন উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলাম, তখন কি তোমরা কিরাআত পাঠ করেছো। জবাবে আমাদের কেউ বলেন, হ্যা আমরাও কিরাআত পাঠ করেছি। তখন তিনি বলেন, এইরূপ আর কখনো করবে না। তিনি আরো বলেন কিরাআত পাঠের সময় যখন আমি আটকে যাই তখন আমি এইরূপ চিন্তা করি যে, আমার কুরআন পাঠে কিসে বা কে বাধার সৃষ্টি করছে? তারপর তিনি বললেন, যখন আমি উচ্চস্বরে কোরআন পড়ি, তখন "সূরা ফাতিহা" ব্যতিত তোমাদের কেউ যেন কিছু না পড়ে। (অর্থ্যাৎ নিরবে পড়)।


=> একদিন ফজরের সালাতে কিরাত পড়াকালে পড়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে সালাত শেষে নবীজি সাঃ বললেন- সম্ভবত তোমারা (সাহাবারা) ইমামের পিছনে কিরআত পড়ে ছিলে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! হ্যা, আমরা তা তাড়াহুড়া করে তা করি। তিনি বললেনঃ এমনটি করো না অর্থ্যাৎ এভাবে পড়ো না, তবে তোমাদের """সূরা ফাতিহা""" পড়াটা স্বতন্ত্র, কারণ যে এটি পড়ে না তার সালাত হয় না (অর্থ্যাৎ নিরবে পড়)।



=> আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন ঃ যে ব্যক্তি সালাতে উম্মুল কোরআন "সূরা ফাতিহা" পাঠ করেনি তার সালাত অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এ কথা তিনি তিনবার বললেন।

অতঃপর আবু হুরায়রা রাঃ কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আমরা তো ইমামের পিছনে থাকি তখনো কি আমরা "সূরা ফাতিহা" পড়বোঃ তখন তিনি আমার বাহু ধরে বললেন ঃ হে ফারসী, তুমি তা মনে মনে পাঠ করবে। কারণ আমি রাসুলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি সালাতকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে অর্ধেক করে ভাগ করেছি। আর বান্দা যা চাইবে তা সে পাবে।

== এখানেও আবু হুরায়রা রাঃ এর মতো সাহাবী বলছেন """নিরবে মনে মনে পড়তে।""

অতএব রাসুলুল্লাহ সাঃ ও সাহাবী আবু হুরায়রা ও ফারসী রাঃ এর মত অনুযায়ী সূরা ফাতিহা মনে মনে পড়তে হবে।

-------------------------------------------------------------------------

আপনি নিশ্চয়ই উপরের হাদীস গুলো অস্বীকার করতে পারেন না ???

=> আমরা শুধু মুসলিম অর্থ্যাৎ হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, আহলে হাদিস মুসলিম না, শুধু মুসলিম রা কোন হাদিসকে প্রত্যাখান করি না বরং সবগুলোই মানি। তবে আপনারা হানাফী রা হানাফী মাজহাব এর জালে পড়ে কিছু হাদিস মানেন এবং কিছু প্রত্যাখ্যান করেন।

আপনারা হানাফীরা যে হাদিস দিয়া প্রমাণ করেন সূরা ফাতিহা পড়া লাগে না অর্থ্যাৎ সাইলেন্ট থাকতে বলা হইছে সেই হাদিস আমরাও মানি। এবং আমাদের মতে সেখানে সাইলেন্ট থাকা মানে নিরবে সূরা ফাতিহা পড়া কারণ সাহাবীরা এভাবেই পড়েছেন।


-------------------------------------------------------------------------

যখন সহীহ হাদীসের মাঝে বিরোধ দেখা যায়,তখন ইজতিহাদের দরকার হয়,আর ইজতিহাদ যোগ্য মানুষ ছাড়া কেউ করতে পারে না।
ইমাম আবু হানিফা এসব হাদীস বিশ্লেষণ করেই তার মতামত দিয়েছেন। মনে রাখবেন,আপনি এই ফিতনা যুগের মানুষ, আর ইমাম আবু হানিফা ছিলেন একজন তাবেঈন যিনি সাহাবীদের দেখেছেন।
ইমাম আবু হানিফা নিজেই বলছেন

হাদিস বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হলে ওটাই আমার মাযহাব বা অভিমত বলে পরিগণিত হবে। তাহলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন উপরে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ না।



=> যখন হাদিসের মধ্যে বিরোধীতা সৃষ্টি হয় তখন ইজতিহাদের প্রয়োজন হয়। আমি একমত। আর ইমাম আবু হানিফাই একমাত্র হাদীস বিশ্লেষক না। আপনি যা করছেন তা হলো তাকলীদ। আপনি যুক্তি পেশ করছেন যে আমরা ফিতনা যুগের মানুষ, আবু হানিফা তাবেঈন যুগের মানুষ। আল্লাহর রাসুল ছাড়া আর কাউকে তাকলীদ করা যাবে না। আপনি কি জানেন অনেক সাহাবা হাউজে কাউসারের পানি পান করতে পারবেন না? আমি কখনো বলি নাই হাদিস গুলো সহীহ বা যঈফ। আমি বলেছি তখন হাদিস ছড়ানো ছিটানো ছিল। পরে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম সহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ হাদিসগুলোকে একত্রিত করেন। সেগুলোতে যদি ১৫ টা হাদিস থাকে যেখানে মুর্তি পূজা নিষেধ করা হইছে আর ইমাম আবু হানিফা বলেন মুর্তি পুজা জায়েজ। তাহলে আপনি কোন টা মানবেন? আমরা মুসলিমরা সেটাই মানব যেটা কোরআন ও সহীহ হাদিস বলে, এবং অনুসরণ করবো তাদের যারা এগুলো নিয়ে গবেষনা করেছেন। শুধুমাত্র ইমাম আবু হানিফা একমাত্র গবেষক নন। আর ইমাম আবু হানিফাও একই কথা বলছেন যে সহীহ হাদিস অনুসরণ করো। তিনি বলেন নাই আমার কথা সহীহ হাদিসের বিরুদ্ধে গেলে আমার তাকলীদ করো। কিন্তু আফসোস আপনার মতো ব্যক্তিরা তাদের তাকলীদ করছে।

-------------------------------------------------------------------------


শুধু মাত্র আধুনিক যুগের কিছু বই থেকে copy paste করে পান্ডিত্য জাহিরের মাঝে কোন আনন্দ নেই।

=> এখানে আপনি আমাকে অপমান করছেন। কে কপি পেষ্ট করলো কে করলো না সেটা অফটপিক। আপনি কি বলেন আপনি উপরের পোষ্টের সব লেখা নিজে লিখেছেন। বরং আপনিও কপি পেষ্ট মারছেন অন্ধভাবে। আর অফটপিক এ কথা বলা আমি পছন্দ করি না।

-------------------------------------------------------------------------

ইমাম আবু হানিফা যখন ফতোয়া দিয়েছেন তখন হাদিস বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল
হ্যাঁ, এবং তিনি সেগুলো সংগ্রহ করে একত্রিত করার কাজ করেছেন, কিন্তু তার মানে এই না যে তিনি হাদীস কম জানতেন।তিনি যদি সুরা ফাতিহার হাদীসটি নাই জানতেন,তাহলে কেন বললেন যে, ইমামের জন্য এবং একাকী নামাযীর জন্য সুরা ফাতিহা পড়া জরুরী।
বিস্তারিত জানতে ইমাম আবু হানিফার জীবনী পড়েন, তবে অবশ্যই ইতিহাস প্রসীদ্ধ লেখকের লিখা।


=> তিনি যতগুলো হাদিস পাইছেন সেগুলোর উপর ভিত্তি করে ফতোয়া দিছেন। তবে সব হাদিস তার সংগ্রহে ছিল না। আর

""কিন্তু তার মানে এই না যে তিনি হাদীস কম জানতেন।তিনি যদি সুরা ফাতিহার হাদীসটি নাই জানতেন,তাহলে কেন বললেন যে, ইমামের জন্য এবং একাকী নামাযীর জন্য সুরা ফাতিহা পড়া জরুরী।""


এখানে পুরোটাই তাকলীদ। হয়ত সূরা ফাতিহা সম্পর্কিত হাদিস টা তার কাছে পৌছায়নি। আপনি কি এমন কোন দলিল দেখাতে পারবেন যেখানে ইমাম আবু হানিফা সূরা ফাতিহা সম্পর্কিত সবগুলো হাদিসগুলো পাইছেন। তারপর সূরা ফাতিহা পাঠ না করার ফতোয়া দিছেন?

--------------------------------------------------------------------------

সমকালীন যে কোন ইসলামী বক্তার চেয়ে তাবেঈন,তাবে তাবেঈন রা কিন্তু অনেক জ্ঞানী ও বুযুর্গ ছিলেন,এবং তারাই কিন্তু মাযহাবের বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন এবং এরাই কিন্তু কোরআনের তাফসীর,হাদীস ও হাদীসের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য আজ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন।

=> হুম তারা জ্ঞানী ছিলেন এবং তারাই মাযহাব তথা মতামতের বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন এবং মানুষজনকে ৪ টিরও বেশী ভাগে ভাগ করেছেন। তবে তারা সবাই বলছেন তাদের পরবর্তীতে সহীহ হাদিস মানতে। কেউই বলেন নাই তাদের তাকলীদ করতে যেটা আপনার করছেন।

এরাই কিন্তু কোরআনের তাফসীর,হাদীস ও হাদীসের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য আজ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন।

=> হুম তারা তাফসীর, হাদিস ও হাদিসের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। তাহলে আমাদের এখন কি করতে হবে........ তাদের তাকলীদ? বরং আমাদের কোরআন ও সহীহ হাদিস মানতে হবে।


--------------------------------------------------------------------------

আমি আপনি কোরআন হাদীস পড়ে ভুল বুঝতে পারি, তাবেঈন রা কিন্তু ভুল বুঝবেন না।

=> এটাও তাকলীদ।

--------------------------------------------------------------------------


আর আমি শুরুতেই বলছি,
However, if a person did recite behind the Imam, Salah will be complete.
আপনি বোধহয় খেয়াল করেননি।


=> সূরা শুরা-২১> Or have they partners with Allâh (false gods), who have instituted for them a religion which Allâh has not allowed. And had it not been for a decisive Word (gone forth already), the matter would have been judged between them. And verily, for the Zâlimûn (polytheists and wrong-doers), there is a painful torment.

আপনাকে কি দ্বীনের বিধান দেওয়ার অধিকার দেওয়া হইছে? দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ। "কেউ চাইলে পড়ুক কেউ পড়ুক না" এমন ফতোয়া দেওয়া যাবে না। কারণ সত্য প্রকাশিত। অতএব হানাফী গোড়ামী ছেড়ে কোরআন ও সহীহ হাদিস অনুসরণের চেষ্টা করুন।

------------------------------------------------------------------------

আমরা শুধুমাত্র আবু হানীফার অনুসরণ করি না। আর তাবেঈগণ জ্ঞানী এজন্য তাদের তাকলীদ করি না। বরং নবীজি সাঃ, তার সাহাবা, তাবে তাবেঈনগণ সহ বিখ্যাত পূর্ববর্তী বুজুর্গরা যেটা বুঝেছেন সেটাই গ্রহণ করি।

যেমনঃ শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী রঃ বলেন জেহরী সালাতে মুক্তাদী এমনভাবে ""সূরা ফাতিহা"" পাঠ করবে যাতে ইমামের কিরাআত বিঘ্ন না হয় । (২/৯ হজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ)।

সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাত হবে না। এ ব্যাপারে একমত-

=> শাইখ মুহাম্মদ আমানুল্লাহ, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব।
=> শাইফ আকরামুজ্জামান বিন আবদুস সালাম, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব।
=> শাইখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব।
অধ্যক্ষ, মাদ্রাসা দারুস সুন্নাহ, মিরপুর, ঢাকা।
=> মুফতী কাজি মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ইসলামিক টিভি।
=> প্রফেসর মানজুরে এলাহী, ইসলামিক টিভি।
=> শাহ ওয়ালী উল্লাহ, পিস টিভি।
=> শাইখ মুরাদ বিন আমজাদ, খতীব, মোহাম্মদী জামে মসজিদ, খুলনা।
=> নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি বাই জিয়া সফিক উদ্দিন আহমাদ ও ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান (তাহকিক মুহাদ্দিস মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)।
=> ডঃ জাকির নায়েক এর সালাত এর উপর লেকচার, ৪০ মিনিটের মাথায় তিনি বলেন সূরা ফাতিহা পাঠ ফরজ)


তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো যেখানে রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন সূরা ফাতিহা পড়তে তাই আমরা মুসলিমরা পড়ি। ব্যাস। এতটুকুই।

------------------------------------------------------------------------

অতএব আপনি যদি তাকলীদ করেন বা অন্ধ অনুকরণ করেন কোন সাহাবার বা কোন তাবে তাবেঈর তাহলে আপনি সূরা তাওবার ৩১ নং আয়াত অনুযায়ী ধর্মীয় গুরুদের ""রব বানিয়ে নিবেন।

মক্কা মদিনা সহ সকল দেশের জ্ঞানী ব্যক্তিরাই জানেন সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাত হয় না। তারপরও যদি সকল মুসলিমদের পথ ছেড়ে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন হতে পারে সেটা তাকলীদের দ্বারা তবে সূরা নিসার ১১৫ নং আয়াত পড়ার জন্য অনুরোধ করা হইল।

সূরা নিসা-১১৫> যারা রাসুলের বিরুদ্ধাচারণ করে এবং সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তাকে সেদিকেই ফিরাবো যেদিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে নিক্ষেপ করব জাহান্নামে।

যদি বলেন আপনি হানাফী মুসলিম মানে শুধু হানাফী ফতোয়াগুলোরই তাকলীদ করেন কোরআন ও সহীহ হাদিস বাদ দিয়া তাহলে আপনি হলেন সেই ব্যক্তি যারা দ্বীনকে খন্ড বিখন্ড করে নিয়েছে। যেমন

সূরা রোম-৩১-৩২> (হে নবী) আপনি মুশরিকদের অন্তুর্ভূক্ত হবেন না যারা দ্বীনকে মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং খন্ড বিখন্ড হয়ে দলে দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে (যেমন হানাফী, শাফেয়ী, হাম্বলী, আহলে হাদিস ইত্যাদি) প্রত্যেক দলই নিজস্ব মতবাদ তথা মাযহাব নিয়ে উল্লসিত।

সূরা আনআম-১৫৯> যারা দ্বীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ে যায়, তাদের সাথে (হে নবী) আপনার কোন সমপৃক্ততা নাই।
------------------------------------------------------------------------


আমরা তাই অনুসরণ করি যা রাসুল সাঃ ও তার সাহাবারা বলেছেন এবং করেছেন। এবং আমরা শুধু মুসলিম যারা শুধুমাত্র কোরআন ও সহীহ হাদিস অনুসরণ করে।

আল্লাহ আমাদের সত্যের পথে পরিচালিত করুন।

আল্লাহ নো দ্যা বেস্ট।



৯| ০৬ ই আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫১

তারেক০০০ বলেছেন: বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

প্রথমেই বলে রাখি, কোরআন ও হাদীসের মূল বিষয় সম্পর্কে আপনার জ্ঞা্ন অনেক সীমিত, এজন্য অনুরোধ করব কোরআন ও হাদীসের মৌলিক কিতাব গুলো পড়ুন,তাতে ফেকাহর কিতাব গুলো বুঝতে সুবিধা হবে।

আপনি যতগুলো হাদিস দিছেন সেগুলো কোরআন তিলাওয়াত এর কথা বলা হইছে, সাত আয়াত না তথা সূরা ফাতিহা না।

প্রসিদ্ধ কোরআনের তাফসীর ও হাদীসের ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহে এমনকি ফেকাহর কিতাব গুলোর কোথাও এ কথার উল্লেখ নেয় যে, হাদীসের যেখানে কোরআন পাঠ বা তিলাওয়াতের কথা বলা হয়েছে সেখানে সুরা ফাতিহা না বরং অন্য সুরা পাঠের কথা বলা হয়েছে।

সুতরাং আপনার মতটি গ্রহণযোগ্য নয়।

হাদিসটি সহিহাইন গ্রন্থগুলো বা ছিহাহ সিত্তাহ এর অন্তুর্ভূক্ত নয়

এ কথাটির মাধ্যমে কি আপনি এটি বুঝাতে চেয়েছেন যে ছিহাহ সিত্তাহ তে উল্লেখ না থাকলে সে হাদীস সহীহ না?

হাদীস বিশুদ্ধতার মাপকাঠি হল সনদ বা সূত্র। সুতরাং উসুলে হাদীস শাস্ত্রের স্বীকৃত মূলনীতি মালার আলোকে কোন হাদীসের সনদ বিশুদ্ধ প্রমাণিত হলে তা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে, বুখারী বা মুসলিম শরীফে সংকলিত হয়নি,শুধে এই কারণে কোন হাদীস দুর্বল বা বর্জনীয় হতে পারে না।কেননা হাদীস শাস্ত্রের আরো অনেক বরেণ্য ইমাম হাদীস সংকলনের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদের সংকলিত বহু হাদীস সনদ ও সূত্রগত
বিশুদ্ধতার বিচারে বুখারী,মুসলিমের চেয়ে উন্নতমানের প্রমানিত হয়েছে।

For instance. Ibn Majah. which is the sixth of the canonical books of Hadith - has transmitted Ahadith, which in some regards are superior to those of his predecessors. The standard, therefore of measuring the authenticity of any Hadith is not whether it is present in Bukhari or Muslim, but rather the standards employed by these two great scholars of Hadith themselves. If a certain Hadith meets the same criteria as Bukhari or Muslim and is not necessarily found in the two collections, this Hadith nonetheless would be regarded as sound.

হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিরূপনের বিষয়টি ইজতিহাদ নির্ভরও।তাই দেখা যায়, এক ইমামের দৃষ্টিতে যে
হাদীস বিশদ্ধ বা উত্তম, অন্য ইমামের দৃষ্টিতে সে্টিই বিবেচিত হচ্ছে দুর্বল বা বর্জনীয় রূপে।

কোন ইমামের মতে ফরজ ও ওয়াজীবের মাঝে গুণগত পার্থক্য আছে, কোন ইমামের মতে নেই।

এরূপ আরও বর্ণনার অবকাশ থা্কে।

ইমাম ও মুজতাহীদ গণের মতানৈক্য সমর্কে বিস্তারিত বলার এখানে অবকাশ নেই।
এ বিষয় নিয়ে একটি পোস্ট লিখার আশা আছে। অপেক্ষায় থাকুন।




ইমাম আবু হানিফা হাদীস কম জানতেন বলে যাদের মনে সন্দেহ আছে তাদেরকে নিচের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ পড়ে দেখার জন্য অনুরধ রইলঃ

১।তাহাবী শরীফ
২।ফাতহুল কাদীর, ইবনে হুমাম কৃত
৩।নাসবুর রায়াহ, যায়লায়ী কৃত
৪।আল জাওহার, নাকী মারদীনী কৃত
৫।উমদাতুল কারী, আল্লামা আয়নী কৃত
৬।ফাতহুল মুলহিম, আল্লামা উসমানী কৃত
৭। বাযলুল মাজহুদ
৮।ইলাউস সুনান, আল্লামা যাফর আহমদ কৃত
৯।মা’আরেফুস সুনান, আল্লামা বিন্নোরী কৃত
১০।ফায়জুলবারী শরহে সাহীহুল বুখারী
ইত্যাদি।




আপনি সূত্র দেন নাই। সূত্র হলো [Muslim; ch. on tashahhud]

ভাই সাহেব, ভাল মত খেয়াল করুন, প্রথম বার যখন হাদীসটি দেওয়া হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট ভাবে সূত্র দেওয়া হয়েছে।

এবার আসুন হাদীসে।

Rasulullah (Sall Allahu alaihi wa Aalihi wa Sallim) is reported to have said: "When you begin your congregational prayers, straighten your rows. Thereafter when the Imaam says the takbeer (i.e. when he says Allahu Akbar aloud) you must also say the takbeer. However, when he begins the recital of the Qur'an, you must remain silent. And when he recites walad daul leen then you should say Aameen". By performing your salaah in this manner Allah Ta'ala will love you." [Muslim; ch. on tashahhud] (A similar Hadith has been narrated by Abu Hurairah (radhiallahu anhu)-Imaam Muslim has attested to its authenticity).

আপনার কথা মত কিছুক্ষণের জন্য ধরে নিলাম

সেগুলোতে কোরআন পাঠের কথা বলা হইছে। সূরা ফাতিহা না।


When you begin your congregational prayers, straighten your rows. Thereafter when the Imaam says the takbeer (i.e. when he says Allahu Akbar aloud) you must also say the takbeer.

দেখুন হাদীসে step by step বলা হয়েছে।প্রথমে কাতার ঠিক করার কথা বলা হয়েছে, তারপর তাকবীরের কথা এসেছে।
However, when he begins the recital of the Qur'an, you must remain silent. And when he recites walad daul leen then you should say Aameen". By performing your salaah in this manner Allah Ta'ala will love you.

তারপর দেখুন he begins the recital of the Qur'an , অর্থাৎ কোরআন তিলাওয়াত শুরু করে,
you must remain silent. And when he recites walad daul leen then you should say Aameen".

এখন আপনি বলুন কোরআন শরীফে সুরা ফাতিহা ছাড়া অন্য কোন সুরাতে walad daul leen বলার পর আমীন বলতে হয় ???

সুতরাং কোরআন পাঠের কথা বলা হইছে। সূরা ফাতিহা না – এ কথা ভিত্তিহীন।



তবে আপনারা হানাফী রা হানাফী মাজহাব এর জালে পড়ে কিছু হাদিস মানেন এবং কিছু প্রত্যাখ্যান করেন।

আপনার এ কথা ও ভিত্তিহীন। কারণ

Imam Abu Hanifa attempted to reconcile contradictory Hadith and hence endeavored to apply every Hadith as long as it was not fabricated. Weak Hadith have also been utilised when no other Hadith was found to contradict it…

আপনি কি বলেন আপনি উপরের পোষ্টের সব লেখা নিজে লিখেছেন। বরং আপনিও কপি পেষ্ট মারছেন অন্ধভাবে।

কখনো নয়, আমি অন্ধভাবে কপি মারি নি, আমি কোরআনের বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থ, হাদীসের ব্যাখ্যা গ্রন্থ, ফেকাহর কিতাব, আমার উস্তাদ গণের বিভিন্ন যুগোপযোগী লিখা, তাদের দরস, বয়ান ইত্যাদির সম্মিলিত বক্তব্য এখানে উপস্থিত করছি।

আপনি কি এমন কোন দলিল দেখাতে পারবেন যেখানে ইমাম আবু হানিফা সূরা ফাতিহা সম্পর্কিত সবগুলো হাদিসগুলো পাইছেন। তারপর সূরা ফাতিহা পাঠ না করার ফতোয়া দিছেন?

লিখা টি পড়ে খুব মজা পেলাম, আপনি যে ফেকাহ শাস্ত্র ও ইমাম আবু হানিফা সম্পর্কে খুব অজ্ঞ তা এখানেই বুঝা যাচ্ছে।
ফেকাহ এর কিতাবে স্পষ্ট ভাবে আছে ইমাম আবু হানিফা হাদীস গুলো পেয়েছেন।
ফেকাহ এর কিতাবের অনেক নাম দেয়া আছে, দয়া করে দেখে নিবেন।


পড়ুন আরও বিস্তারিতঃ


Imaam Malik and Imaam Ahmad: Both are of the view that the muqtadi is not required to recite Surah Fatihah in the Jahri Salaah (Salaah in which the Imaam recites aloud, Maghrib etc.), but he will have to read it in the Sirri prayers (silent prayers, Zuhr, Asr, etc.).

Imaam Shafi' ee's popularly known view is that it is necessary for the muqtadis to perform the qira 'ah of Surah Fatihah in both types of Salaah.fahri as well as Sirri. This view, although being the popular one is not necessarily his final jurisdiction. Careful study of his literature will reveal this to be his former opinion, as Ibn Qudamah states in his book Al-Mughni',

AI Mughni 601:1

The words of lmaam Shafi'ee himself in his book AI-Umm, inform us that it is not necessary for the muqtadis to recite Surah Fatihah in the Jahri Salaah. However he still retains his opinion of the necessity to read it in the Sirri prayers. He writes in Kitabul- Umm, "And we say that every prayer performed behind the tmaam in which the Imaam reads in a tone that cannot be heard, then the muqtadis should perform the qira 'ah. "

AI Mughni 601:1

Kitabul-Umm is one of lmaam Shafi'ee's later books as Hafiz Ibn Kathir in AI-Bidaayah-Wan-Nihaayah

AI Bidaayah wan Nihaayah 252:10

and Allamah Suyuti in Husnul-Muhadharah have affirmed. This proves the view understood from Kitabul-Umm to be the more recent one of Imaam Shafi'ee and therefore, obviously the more correct one.

Imaam Abu Hanifah, Abu Yusuf and Muhammad all are unanimous in their verdict regarding this issue. They state, "It is forbidden for the muqtadis to recite any portion of the Holy Qur 'an, be it Surah Fatihah or any other verse, behind the Imaam in both Sirri and Jahri prayers. "
Whatever has been said about Imaam Muhammad holding a view of Surah Fatihah being more preferable in the Sirri prayer, is incorrect. Ibn Humaam has classified it as an erroneous accusation on Imaam Muhammad and says, "The truth is that Imaam Muhammad s opinion is the same as that ofImaam Abu Hanifah and Abu Yusuf

Fathul Mulhim 20:2




Evidence from Quran:


“So, when the Qur 'an is recited, listen to it, and be silent that you may receive mercy”

It states in Tanzim-ul-Ashtaat that the aayah is issuing two commands to the muqtadi: one to remain silent, this he will carry out in the Sirri prayer as well as in the Jahri prayers by remaining completely hushed: the second, to listen with concentration also, he will absolve in the Jahri prayers. What it means is that the muqtadi will maintain perfect silence in order to listen carefully to the recitation of his Imaam and leader in the Jahri prayers, and in the Sirri prayers he will also remain silent even though he is unable to hear the Imaam (due to the first command). Furthermore this aayah states very generally, "When the Holy Qur 'an is being recited (whether audibly or silently, whether one hears it or not), "it does not make any restrictions by stating in words such as, "Only when you hear the Qur'an," or "Only when the Qur'an is read aloud, then keep silent, otherwise not." Here again it is clear that the aayah means it is a must to maintain silence when in the Sirri prayers and if it is a Jahri Salaah then to listen with concentration is a requirement as well.

Now, because some people assert that this particular verse is not regarding silence in Salaah but was revealed regarding the maintenance of calmness in khutbah, it becomes necessary to bring reality to light. That is this verse was certainly revealed to command silence in Salaah and not only for khutbah. It is incorrect to say its revelation was only for the sermon and not for the Salaah also, due to a number of reasons. Hafiz Ibn Taymiyah writes in his Fataawaa,

"It comes to be understood from the predecessors that the verse was revealed regarding qira 'ah in Salaah and some have said, (it was revealed) regarding khutbah. Imaam Ahmad has stated a consensus (of the scholars) that it was revealed regarding prayer. "

Fataawaa269:23

Ibn Qudamah writes in his book Al-Mughni,

"Imaam Ahmad states in a report from Abu Daud, 'The people are unanimous that this verse was revealed regarding Salaah

AI Mughni 601: 1

Ibn Taymiyah also states,

"Ahmad has stated a consensus that qira 'ah is not necessary for the muqtadi when the Imaam is performing qira 'ah audibly

Fataawaa269:23

Imaam Ahmad gives an even more detailed explanation as is reported in AI-Mughni,

Ahmad says, "We have never heard of any Muslim scholar asserting that if an Imaam reads aloud and the muqtadi observes silence, the muqtadi is Salaah is not valid. " He says, "This is Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam), the Companions and the Tabi 'een, this is Malik from the people ofHijaz, Thawri from the scholars of Iraq, Awza 'ee from the people of Syria and this is Laith from Egypt, none have said regarding the person whose Imaam recites and he does not that his Salaah is not valid.

AI Mughni602:1

Then Ibn Jarir and Ibn Abi Hatim in their Tafseers and Imaam Bayhaqi in Kitabul-Qira 'ah have related a hadith from Mujahid, "This verse was revealed regarding some Companions of Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) reciting behind the Imaam. "

Although, this report is mursal, (a narration in which a Tabi 'ee has reported directly from Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) without mentioning the Sahaabi in between) but being reported by Mujahid, who is known as 'Aa 'lamun-nas-bit-tafseer " meaning the most knowledgeable among people regarding tafseer, it will stand as sufficient evidence and will be accepted.
Also Ibn Jarir At Tabari relates another hadith from Yaseer Ibn Jabir regarding Hadhrat Ibn Mas' ood (RA), Ibn Mas' ood (RA) was performing Salaah when he heard a few people reading with the Imaam. Upon finishing he remarked, "Hasn't the time arrived for you to understand? Hasn't the time come for you to realise that when the Qur 'an is being recited, listen to it attentively and remain silent just as Allah has ordered you to?

I'la'us Sunan 43:4, Tabari 378:11

Hence all the aforementioned comments and statements justify the fact that the verse was revealed regarding Salaah and not only for khutbah. To further reinforce this fact it is worth knowing that this is a Makkan verse and Salaatul-Jumu 'ah was only made obligatory later on in Madinah, so in no way can this verse have been revealed regarding the maintenance of silence and calmness in khutbah only.

"So recite as much of the Qur 'an as may be easy (for you). "

AI Qur'an 20:73

This verse commands the recitation of absolutely any portion of the Holy Qur'an to be fardh in Salaah. It does not confine the obligation to Surah Fatihah only, like some have asserted. They say that as the verse is referring to Surah Fatihah, it must be read in Salaah by everyone because a hadith of Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) states, "No Salaah is accepted without Surah Fatihah. "

The clever way in which they manage to link the hadith to the verse is by designating the word 'Maa' in the verse to be an indefinite term whilst taking the hadith for its commentary. This brings the sentence of the Holy Qur'an, in this way, to mean, "Recite Surah Fatihah in Salaah (by obligation)." The problem is that this type of an interpretation can only be made due to the ignorance of the rules of jurisprudence.

That is because, in reality the word 'Maa' in this context is not an indefinite term at all, but is 'Aam' (a general term). By taking this context it will allow any portion of the Holy Qur ' an to be recited in prayer and will not restrict it to Fatihah only. In this way, the verse will come to mean, "Recite whatever is possible for you to recite" which is more correct because by confining it to Surah Fatihah only it would abrogate the general nature ofthe aayah and keep it restricted which is incorrect.

The Hanafis thus combine the two and conclude that to recite ?Reciting Behind the Imaam any part of the Holy Qur' an will be fardh due to the aayah and to recite Surah Fatihah will be classified as wajib because of the hadi th. The imaarn and munfarid will have to recite Surah Fatihah along with some other verses and the muqtadis will not read at all. Although it is necessary for the muqtadi to read his Imaam's qira 'ah will suffice, because the muqtadi has been commanded to remain silent by the former aayah. The concept of the imaarn's qira 'ah absolving the muqtadi s obligation will be explained further under hadith number five Insha Allah.

"And say your prayer neither aloud nor in a low voice, but follow a way between. "

AI Qur'an 110:17

Ibn Abbas ~ relates regarding the conditions for the revelation of this aayah,

This aayah was revealed whilst Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) was in hiding in Makkah. He would lead the Companions in prayer and read loudly. When the mushrikeen (polytheists) would hear the recitation, they would criticise the Holy Qur' an, they would criticise and swear at the one who revealed it (Allah) and abuse the one who brought it (Muhammad ~). Thus Allah ordered Rasoolullah ~, "And say your prayer neither aloud that the polytheist hear your recitation and nor in a low voice but let the believers hear you. "

At Ta'liq-us-Sabeeh 366:1, Muslim

In this verse Allah commanded his Prophet to recitein a sufficiently loud enough tone so the Companions behind him could hear. Allah said, "Let them hear it." This was only possible if they helped by remaining silent enough to listen. Thus the verse proves that qira 'ah is the responsibility of the imaarn. He should read loud enough whilst leading the congregational prayers and the muqtadis should remain silent and listen and not busy themselves in reciting.



Evidence From Ahadith

Abu Sa' eed AI Khudri 4), narrates, "Rasoolullah iJJdelivered a sermon in which he outlined our sunnah for us, taught us our Salaah and instructed, "When you perform your Salaah straighten your rows then one of you lead the rest in prayer. When he says the takbeer you also say it, when he recites remain silent and when he reaches 'Ghayril maghdhubi alayhim waladhalleen ' say aameen and Allah will accept your plea. "

Muslim 174:1

Abu Hurayrah ~ narrates, "Rasoolullah iJJinformed, 'The Imaam has been appointed to be followed. Thus, when he says the takbeer, you also say it, when he recites, remain silent and when he says, 'Samialla huliman hamidah 'say, 'Rabbana lakal hamd. "

Abu Daud 96: 1, Nasai 46

These two ahadith give a better explanation of verse number one mentioned above and has distinguishes between the obligation of the Imaam and the muqtadi. Where it commanded the muqtadi to follow the Imaam in saying the takbeer and performing the rukus etc. it did not command him to recite Surah Fatihah with the Imaam also, instead it ordered him to remain silent This proves the fact that if reciting was necessary for the muqtadi, Rasoolullah ~ would never have ordered the contrary. Therefore qira 'ah is the fardh of the Imaam and the fardh of the muqtadi is to remain silent and listen.

It is understood from the hadith that the only time the muqtadi is permitted to utter anything is when the Imaam reaches 'Waladhalleen '. At this point he should say aameen and the reason for him saying aameen is to strengthen and endorse the request which the Imaam has made to Allah in Surah Fatihah.

Surah Fatihah, after beginning with praises of the Lord of the Universe, becomes a request the servant makes to Allah. The servant humbly asks, ?Reciting Behind the Imaam "Guide us to the straight way, the way of those on whom you have bestowed your grace, not (the way) of those who earned your anger (such as the Jews), nor of those who went astray (such as the Christians). "

AI Qur'an 5-7: 1

If it had been necessary for all the muqtadis to recite Surah Fatihah also, they would have been ordered to say aameen at the end of it. Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) has however ordered it to be said jointly at the termination of the Imaam's Fatihah.

One other point derived from this hadith is from the words, "The Imaam has been designated to be followed." Apparently Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) is explaining the reason for the command he has issued regarding the muqtadis having to remain silent. This is because it is obligatory for the muqtadi to listen to his Imaam's qira 'ah. If he is to also begin reciting, it will be taken as an opposition on his side of his leader. His own reciting will deem it quite improbable for him to also lend an ear to the Imaam.

Now the next hadith will expound in greater detail as to why the muqtadi is exempted from reading and specifically how his obligation is absolved by the Imaam.
Jabir (RA) narrates, "Whoever has an Imaam then his Imaam’s qira 'ah is (sufficient) for him. "

AI Jawharun Naqih 159:2, I'Ia'us Sunan 61:4, Ibn Abi Shaybah 377:1

This hadith has also been related by Imaam Muhammad With a slight variation in the wording.

Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) informed,

"Whoever prays behind the Imaam. the qira 'ah of the Imaam is qira 'ah for him (meaning it is sufficient for him). "

Umdatul Qari 12:3, Muwatta Muhammad 96, I'Ia'us Sunan 61:4

Abdullah Ibn Shaddad relates that, "Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) lead the Asr Salaah. A person began reading behind him so another person close to him gave him a nudge. When he finished the Salaah, he asked, 'Why did you nudge me?' The second person replied, 'Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) was in front of you therefore I did not approve of you reciting behind the Imaam. 'Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) heard this and said 'Whoever has an Imaam, the qira'ah of the Imaam is enough for him "

Muwatta Muhammad 98, I'Ia'us Sunan 70:4

A person asked Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam), "0 Prophet of Allah (Sallaho Alaihe Wassallam)! Is there qira 'ah in every Salaah?" Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) replied, "Yes!" Somebody from amongst the people said, "(That means) it is necessary. "Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) replied, "I understand that the Imam’s qira 'ah is sufficient (for the muqtadis). "

Majma-uz-Zawaa'id 110:2

All the above ahadith containing the words "The Imaam s qira 'ah is sufficient for the followers. " Have completely and totally clarified the fact that the muqtadi will not read. The reason for it simply is that the Imaam's qira 'ah is sufficient for him. It has to be. If the muqtadi was also to begin reciting, how would he fulfil his real obligation of remaining silent and listening?

Ibn Taymiyah writes in his Fataawaa, 'The qira 'ah of the Imaam is sufficient for the muqtadis: The consensus of the Sahaabah and the Tabi 'een prove it. The ahadith proving it are narrated musnadan as well as mursalan. The fataawaa of the Tabi 'een were also that the qira 'ah is sufficient and the greatest thing is that it is in complete accordance with the Holy Qur 'an and the Sunnah. '

Fataawaa271:23

Abu Hurayrah (RA) narrates that Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) turned around (to us) after finishing a Salaah in which he had recited aloud. He asked, "Did anyone read along with me just now." A person replied, "Yes, 0 Prophet of Allah. " Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) said, "I was wondering what was the matter with me that 1 am having to struggle in (reciting the) Qur 'an. " When the people heard that from him they discontinued reading with Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) during those prayers in which he used to recite loudly.

Tirmizi 71:1, Malik51, Nasai 146:1, Abu Daud 146:1, lbn Majah 61, Bayhaqi 157:2

Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) was performing the Zuhr prayer when a person began to recite, 'Sabbihisma rabbikal aa 'la' (a surah of the Qur ' an) behind him. Upon completing his prayers, Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) asked, "Which one of you was reading?" A person answered, "I was. "Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) replied, "I thought one of you was contending with me in the recitation. "

Muslim 172:1, I'Ia'us Sunan 56:4

One other hadith informs us that it caused him confusion. Abdullah Ibn Mas' ood (RA) narrates that the Companions would recite behind Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) so Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) said, "You have caused me confusion in reciting the Holy Qur 'an. "

Majma-uz-Zawaa'id I 10:2, AI Jawharun Naqih 162: 1

These ahadith are concrete evidence that Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) was not too happy about the people reciting" behind the Imaam. It is also clear that the Sahaabah were not reciting very loudly either as this would be classified as complete disrespect, which is impossible to attribute to people of the Sahaabah s calibre. Therefore although they recited in subdued voices Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) still rebuked them because it caused a disturbance in his reciting.

The same type of disturbance is bound to occur whether the muqtadi s attempts to read only Surah Fatihah and nothing else or ifhe reads some other verses with it. In both instances it is possible that the Imaam may be driven to confusion. This means that the command will accommodate the Jahri prayers along with the Sirri prayers in its prohibition, so the prohibition will be totally general.



Words of the Sahaabah (RA)

Allamah Ayni writes in Umdatul Qari, his commentary of Sahih Al-Bukhari, that it was the opinion of approximately eighty Companions not to do qira 'ah behind the Imaam. Some were also very strict in implementing and enforcing this view. A few of their reports and comments are related here to understand the seriousness of this issue and to discover the stance of the Sahaabah.

1. Ataa Ibn Yasaar (RA) inquired from Zaid fun Thabit (RA) regarding ?qira'ah with the Imaam. He answered, "There is no qira 'ah with the Imaam. "

Muslim 215:1

Malik reports from Nafi' that Abdullah Ibn Umar es, was asked whether anyone should read behind the Imaam or not. He replied, "Whenever anybody performs Salaah behind the Imaam the qira 'ah of the Imaam is sufficient for him but when he prays alone then he should recite (himself). " The narrator says that, Abdullah Ibn Umar (RA) did not perform qira 'ah behind the Imaam.'

Malik 51, I'la'us Sunan 76:4

Ubaydullah Ibn Muqsim narrates that he asked Abdullah Ibn Umar, Zaid Ibn Thabit and Jabir Ibn Abdillah (RA) (regarding this issue). They told him that in no Salaah should anyone perform qira 'ah behind the Imaam.'

Aathaarus Sunan 116:1, I'la'us Sunan 81:4

See the amount of disapproval expressed in the next statement:

4. Alqamah relates that Abdullah Ibn Mas' ood (RA) said, "If only the mouth of the person reading behind the Imaam would be filled with soil (rubble).

Aathaarus Sunan 116:1, I'la'us Sunan 81:4 SUDaD87:4

Abu Jamrah says, "1 asked Abdullah Ibn Abbas (RA),
'Shall I recite when the Imaam is infront of me? , He replied, 'No."

Aathaarus Sunan 116:1, I'la'us Sunan 81:4 9.

Ibn Abbas (RA) informs that the qira 'ah of the Imaam is sufficient for you whether he recites silently or aloud."

Darn Qutni 331: 1. I'la'us Sunan 82:4

Moosa Ibn Aqabah informed that Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam), Hadhrat Abu Bakr, Umar and Uthman (RA) would prohibit reciting behind the Imaam.

Umdatul Qari 67:3 ", II'la'us Sunan 84:4

Moosa Ibn Sa'ad Ibn Zaid Ibn Thabit narrates from his grandfather that he said; "Whoever recites behind the Imaam there is no Salaah for him. "

MuwattaMuharnmad 100, I'la'us Sunan 87:4

Ibraheem Nakh'ay says, "The first action innovated (in the religion) was qira 'ah behind the Imaam. The Sahaabah did not recite behind the Imaam. "

AI Jawharun Naqih 169:4

This is further strengthened by the following:

10. Ibraheem An Nakh'ay states, "The first person to read behind the Imaam was an accused person (an innovator). "
Muwatta Muhammad 100, I'Ia'us Sunan 89:4

Then Muhammad Ibn Sireen tells us,

11. "I do not recognise qira 'ah-khalfal-Imaam to be from the sunnah. "

Ibn Abi Shaybah 377: 1, I'Ia'us Sunan 90:4

Abdullah Ibn Zaid Ibn Aslam reports from his father that ten Companions of Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) adamantly prohibited qira 'ahkhalfal-Imaam: Abu Bakr Siddique, Umar Farooq, Uthman Ibn Affan, Ali Ibn Abi Taalib, Abdur rahman Ibn Auf, Saad Ibn Abi Waqqas, Abdullah Ibn Mas' ood, Zaid Ibn Thaabit, Abdullah Ibn Umar and Abdullah Ibn Abbas (RA).

Qalaa'idul Azhaar 42:2

Hadhrat Ali (RA) states, "Whoever recites behind the Imaam, his Salaah is not valid. " In another hadith he says, "He has deviated from the correct disposition (nature). "

AI Jawharun Naqih218:2, IbnAbi Shaybah376:1

Sa'ad (RA) says, "I would like a burning ember to be in the mouth of the one who recites behind the Imaam. "

Abdur Razzaq 138:2, Ibn Abi Shaybah 376:2

What does Umar Ibnul Khattab say?

15. He says, "If only there could be a stone in the mouth of the one who recites behind the Imaam. "

Abdur Razzaq 128:2

Such great and exalted Companions of Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) who were scholars as well, Abu Bakr, Umar, Uthman, Ali, Abdillah Ibn Umar, Jabir Ibn Abdullah, Abdullah Ibn Mas' ood, Abdullah Ibn Abbas, Sa'ad Ibn Abi Waqqas, Abdur Rahman Ibn Auf and great Tabi 'een like Muhammad Ibn Sireen, Ibraheem Nakh'ay and Awza'ee, etc., all echo the same words, 'There will be no qira 'ah for the muqtadi behind the Imaam. " Some of them were known to strictly enforce their view as well and others even said qira 'ah-khalfal-tmaam was an innovation. Comments and statements like, "May the reciter’s mouth be ?filled with embers or stones, " and other statements of that nature, coming from people of their status, point towards the seriousness of this issue. They have even gone as far as to say there will be no Salaah for whoever reads behind the Imaam. All this is in accordance to what the Hanafis say, "Do not recite behind the Imaam because the Imaam s qira 'ah is sufficient. "



The qira 'ah which one is obliged to perform in Salaah is broken down into two categories, the first being Surah Fatihah and the second being the chapters or verses one is required to recite following Surah Fatihah. As you know, it has been mentioned before that none of the ulama say, "The muqtadi is obliged to recite the verses of the second category, " instead they state that, "The Imaam s qira 'ah is enough and sufficient for them. " Why then should some ulama say that Surah Fatihah, meaning category one is necessary for the muqtadi to recite while the second one is not? Just as the qira 'ah by the Imaam, of the second category .is sufficient for the muqtadi according to consensus category one, meaning Surah Fatihah should also hold the same command and the Imaam's qira 'ah should be sufficient.

If a person who, being delayed for some reason, arrives and finds the Imaam in ruku, the procedure he has to follow in order to join the congregation is that he will first say the takbeer, remain standing for a short while, if even for a second, then join the Imaam in ruku. This rak 'ah of his will be understood to be acquired. He will not have to perform an extra rak 'ah at the end to make up for this one.
Every scholar will agree that ifhe missed takbeer or qiyaam, this rak 'ah of his would be classified as a missed one which he would have to complete at the end. However, no scholar's opinion is of the persons rak 'ah not being accepted because he has failed to read Surah Fatihah. This proves that Surah Fatihah in reality is notfardh for the muqtadis whereas the takbeer and qiyaam are. It also proves that the Imaam's qira 'ah is sufficient for him.

If the Imaam makes a mistake in Salaah, all the muqtadis will perform the sajda-tut-sahw with him and when he reads an aayah of sajdah, the muqtadis will perform the sajda-tut-tilaawat also, although it may be in the midst of a Sirri prayer in which they do not even hear him recite. Likewise, if a single sutrah of the Imaam can be sufficient for the whole congregation, so why ?then should the Imaam's qira 'ah not be sufficient for them all as well?


Correct Analysis of the Seemingly Contradicting Ahadith Regarding this Issue

There are a number of ahadith, sahih as well as weak, which apparently seem to be in contradiction to the verses and ahadith mentioned earlier. Due to these some scholars have even attempted to prove that qira 'ah-khalfal-Imaam is obligatory.
For all these ahadith there is an innumerable supply of evidence which clears away the doubts, misconceptions and misinterpretations concerning them and brings out their meaning to be in complete harmony to the meaning of the former ahadith.

This section will comprise of only a few important and comprehensive points of evidence and interpretation in number form, as it would probably take a whole book to mention them all. However at the end of the book, the names of beneficial and more informative books will be mentioned for those who want to delve deeper into more intricate details and finer points.

1. Ubadah ibn Samit (RA) narrates that Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) said, "There is no Salaah for the one who does not read Surah Fatihah. " In one other narration he says, "There is no Salaah for the one who does not read Surah Fatihah and some other verses. "

This is a sahih hadith which is usually used to prove the qi ra 'ah of Surah Fatihah to be fardh for the muqtadi also. However if this hadith is analysed and interpreted correctly it will turn out to be in complete agreement with the verses and ahadith of the Hanafi's evidence and no contradiction whatsoever will remain.

This can be done in a number of ways. They are as follows:

(i) The Imaam and the muqtadi are both obliged to recite Surah Fatihah according to this hadith because it seems to be issuing a totally general command, which includes the muqtadi also in its jurisdiction. The, Hanafis do not reject this, but say that this necessity of the muqtadi will be absolved by the Imaam's ?Reciting Behind the Imaam recitation, because Rasoolullah ~ has also said that the Imaam's qira 'ah is the qira 'ah of the muqtadi also. Thus, it will be taken that the muqtadi has fulfilled the responsibility placed on him by the hadith.

(ii) Since the muqtadi has been commanded by the Holy Qur'an along with other sahih ahadith to remain silent and listen, he will be excluded from this obligation and the hadith will be interpreted as issuing a command to the Imaam and munfarid only.

(iii) Some sahih ahadith (which have been presented earlier) have prohibited the muqtadi from reciting. Thus he will be exempted from this particular hadith's obligation. The obligation of this hadith will be for the munfarid and Imaam only.

(iv) The first narration has only mention of Surah Fatihah and the second one also has the word 'fasaidan' meaning 'and extra'. What is strange here is that those scholars who assert Surah Fatihah to be necessary for the muqtadi at the same time do not oblige him to read anything more than that, whereas both S urah Fatihah along with some extra verses, are mentioned in the same hadith under the same context, as being necessary. Thus whatever reason and explanation they have for not rendering the extra verses obligatory for the muqtadi, will also be our reason for not making both things necessary for him. The only difference will be that we have taken the full hadith into consideration and issued the same order for both Surah Fatihah and the extra verses, that they will both be absolved for the muqtadi by his Imaam's reciting and they have only made Fatihah necessary, leaving the extra verses as unnecessary. If the explanations that the Imaam's reading the extra portion is sufficient for the muqtadi, then we too have been saying that the Imaams recitation of both is sufficient for the muqtadi as hadith number three clarifies to us.

(v) This hadith is certainly not ordering the muqtadi, but is commanding the Imaam and the munfarid to recite Surah Fatihah. This is exactly what a Companion of Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) says in the next hadith.1maam Tirmizi has narrated the hadith of Hadhrat Jabir (RA) with a sahih transmission, in which he states, "Whoever performed a rak 'ah in which he did not recite Surah Fatihah, then it is as though he has not performed it, unless he was behind the Imaam. "

Tirmizi 71: 1


2. Ubadah Ibnus Samit ea narrates, "We were performing the Fajr Salaah behind Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam). He began reciting but found it difficult to read, so upon finishing he asked, 'You probably recite behind the Imaam?' We replied, 'Yes, 'Oh Prophet of Allah. ' Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) said, 'Do not recite anything except Surah Fatihah, because there is no Salaah for the one who has not recited it. "

Abu Daud, Tirmizi and Nasai have narrated similar reports and in a narration of Abu Daud it says,

"Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) exclaimed, 'What s wrong with me that they contend with me in the recitation of the Qur 'an. Do not recite any part of the Holy Qur 'an whilst I am reciting aloud, except Surah Fatihah. "42 that a muqtadi does not have to perform any qira 'ah other than Surah Fatihah which is necessary.

There are a number of reasons why this hadith will either not be accepted in this meaning or it will be completely waived:

(i) There is a Muhammad Ibn Ishaaq in the chain of narrators regarding whom, although some have said 'trustworthy', but most ofthe A 'imma-tur-Rijaal have directed great criticism on him. Sulayman At Taymi and Hisham have been reported to have called him a Kazzab and Imaam Malik has been reported to have labelled him Dajjal from amongst the Dajjals. Ibn Zaheer, Wahhaab Ibn Khalid, Jarir Ibn Abdil Hamid and Daru Qutni etc., also have grave statements to make about him. Therefore it will be completely unfair to accept such a transmission.

(ii) Secondly, the transmission is full of confusion. Sometimes Makhool relates the hadith from Muhammad Ibn Rabee' and at times from Nafi' Ibn Mahmood, to mention just a few. With regards to Nafi' Ibn Mahmood, scholars, such as Ibn Abdil Barr, Tahawi and Ibn Qudamah state that he is unknown. Due to the fact that there is a multitude of other ahadith regarding this issue which have an unblemished history, therefore, the need for employing such ahadith (like the one being discussed) is eliminated when it falls in contradiction with them.

(iii) It could also be argued that this hadith is ma 'lool and also said to be mawquf upon Ubadah Ibn Samit (RA) and not marfu '. Ibn Taymiyah explains in detail

Fataawaa 287:23

For Imaam Ibn Taymiyah to say this, it has to be taken for what it is. Thus, this hadith will not stand as any evidence whatsoever.


Subject this hadith to a grammatical analysis, and you will discover that the hadi th can not stand as evidence for rendering the recitation of Surah Fatihah necessary on the muqtadis. The reason for this is that according to the rules of grammar, the word 'Laa' (in the narration) is a negative imperative and whatever is excluded from its prohibition (by using the word 'lllaa ') will only remain permissible and it will not be classified as obligatory. As Surah Fatihah has been excluded along these lines, it will remain merely permissible and not necessary. In the earlier days of Rasoolullah's (Sallaho Alaihe Wassallam) era, it did remain permissible for some time, but then it became totally forbidden and the Sahaabah ceased reciting it behind the Imaam, as ahadith numbers one and two explain.


3. Abu Hurayrah (RA) narrates that Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) said, "Whoever performs a Salaah in which he does not read the Ummul Qur 'an, then his Salaah is incomplete. " The transmitter of the hadith asked Abu Hurayrah (RA), "I am sometimes behind the Imaam (so ?Reciting Behind the Imaam what should I do)?" Abu Hurayrah (RA). instructed, "Recite it in your mind. "

Tirmizi 71: 1

There are two segments of this hadith: the first is marfu' in which Rasoolullah (Sallaho Alaihe Wassallam) himself stresses the importance of Surah Fatihah The second is a statement of Abu Hurayrah (RA). It is from this second section that the necessity of Surah Fatihah behind the Imaam, has been attempted to be proven.

The first section of this narration is quite similar to hadith number one (which was analysed a short while back, which has just passed along with the various answers given regarding it). Hence, all the reasons explained under it will also be in effect here. The main answer and explanation is, "The qira 'ah of the Imaam is sufficient for the muqtadis, "therefore, the muqtadis is automatically fulfilling his obligation of Fatihah.

The second part of the hadith will be explained as follows:

1. It is mawquf due to the fact that Abu Hurayrah (RA) said it himself and has not related it from Rasoolullah sg, Thus, it will not be accepted because it being only a mawquf narration, falls in contradiction to other sahih marfu ' ahadith, which are more supenor.

2. The words, 'Fee Nafsik' actually mean, 'Read it in your mind, brood over it, and do not express it by mouth.' No doubt, if the muqtadi concentrates on his Imaam's recital he will also go through it in his mind.

3. These same words could also be translated to mean, 'Recite it when you are performing Salaah individually.' and a Hadithul-Qudsi, which contains a similar Arabic context, supports this translation. Allah says,

"If the servant remembers me while he is alone (the actual words are fee nafsihi), I similarly remember him and if he remembers me in a gathering then I remember him as well in a gathering much better than his. "

The opposite of being with a group of people in a gathering is ?being alone. Thus, the meaning of what Abu Hurayrah (RA) stated will be that, 'Only when you are performing Salaah separately, should you recite Surah Fatihah.' In this way the words 'Fee Nafsik' will be taken to mean, 'When you are alone'.

After reaching the end of the analyses, it can be now concluded, quite easily and confidently, that due to the overwhelming evidence in the Hanafi's favour, they have the most correct opinion. The understanding acquired from the verses of the Holy Qur'an and the vast number of ahadith is that the muqtadi has two obligations to fulfil, which are that he remain silent and listen carefully. The qira 'ah which is undertaken by the Imaam is classified by the ahadith as totally sufficient for the muqtadis.

Since verse number one, actually prohibits that any word be uttered or said whilst the recitation of the Qur'an is taking place, it will be accepted as a prohibition and the muqtadi will maintain perfect silence, whether it be a sirri or a Jahri prayer. There should now remain no unsettled question as to why the muqtadi should remain silent, even in a Sirri prayer when he is unable to hear his Imaam's qira 'ah anyway. It has been explained before that verse number one contains two commands: one of them being the maintenance of silence which will be carried out in the Sirri prayers.

The Hanafi school of thought takes all these points into consideration and eventually come up with an opinion that encompasses all the various aspects of the ahadith and thus this opinion can be concluded to be the closest to the Qur ' an and Sunnah.

১০| ০৬ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৮:১৯

তারেক০০০ বলেছেন: উপরে যতগুলো কিতাবের কথা বলা হয়েছে, তার কোনটিতেই এ কথার উল্লেখ নেই যে, মুক্তাদীর চুপ করে থাকার অর্থ হচ্ছে নীরবে পড়া,বরং কিতাব গুলোতে মুক্তাদীর চুপ করে থাকা বলতে কোন কিছু না পড়ে ইমামের কেরাত শুনা বা ইমাম কে অনুসরণ করা কে বুঝানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.