নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন।

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন

আমি মানুষের কথা বলি। মানবতার কথা বলি। স্বপ্ন দেখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। নিরাপদ একটি ভূখন্ডের।

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্ধত্ব আর অহমিকাই বিএনপির মঞ্জিলে-মকসুদে পৌছুতে সবচেয়ে বড় বাধা।

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১০:১৮

২৮/৪/১৩ তারিখ দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আয়োজনে এক শোকসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিষ্টার মওদুদ আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সাভারের রানা প্লাজা ধসে নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ করে টাকা দেওয়া হবে। খুবই ভাল কথা। হত দরিদ্র গরিব এই শ্রমিকদের পরিবার এতে উপকৃত হবেন। অনেকটাই চিন্তা মুক্ত হবেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের।



৫০০ লোককে ২০ লাখ করে দিলে মোট খরচ হবে (২০,০০০,০০ X ৫০০) একশ কোটি টাকা। যদিও প্রাপ্ত মৃতদেহ এবং নিখোঁজ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৫,০০ বা তার কাছাকাছি বলেই মনে হচ্ছে। সে হিসেবে টাকার অংকটিও তিনশ কোটি হওয়ার কথা। তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি ২০০১ সালের বিএনপি ২০১৩ তে এসে বিশ লক্ষ গুন বেশি মানবিক হয়ে উঠেছে। কেননা তাদের শাসন আমলে এ দেশের মানুষ এমন অনেক দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছেন বিশেষ করে লঞ্চ ডুবিতে। অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। যাদের পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি টাকাও পাননি। তবু এটা আশাব্যঞ্জক তথ্য যে, তারা মানবিক হয়েছেন। যদিও হরতালের নৈরাজ্য তা নির্দেশ করে না। বিশেষত হরতালের সহিংসতার বলি সাধারণ মানুষের পরিবার এ পর্যন্ত এ ধরনের কোন আশ্বাস পেয়েছেন বলে শোনা যায়নি। তথাপিও তাদের মানবিক উৎকর্ষে আমরা যার পর নাই অনিন্দিত(!)

কিন্তু সমস্যা হল; কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলে না কিছুতেই।



জামাত-শিবিরের দেশ ধ্বংসের কার্যক্রমকে নির্লজ্জ সমর্থন দান কারী দলটি কি সত্যিই মানবিক হয়ে উঠেছে?

যারা ফটিকছড়ির সন্ত্রাসীদের সংগ্রামী বন্ধু বলে। তাদের জানায় সংগ্রামী সালাম। যাদের মতে ফটিকছড়ির সন্ত্রাসীদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাদের মুখে এ কথা কতটা মানায়?



এই তিনশ কোটি টাকা দিয়ে তারা শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০০ পরিবারেরই নয় তাদের নিকটাত্নিয় থেকে শুরু করে তাবৎ শ্রমজীবী মানুষেরই ভোটগুলো কিনে নিতে চাইছেন। তাদের প্রচেষ্টা হয়ত সফলও হত; মানুষ যদি তাদের বিশ্বাস করতে পারত। কিন্তু রাজনীতিবিদ গন যে, নিজেরাই নিজেদের বক্তব্যকে বিভাজন করে নিজেদের প্রতিই এক ধরনের অনাস্থা তৈরি করে রেখেছেন তার কি হবে?

মাঠের বক্তব্য, রাজনীতির ভাষা, নির্বাচনী ওয়াদা ইত্যাদি বিশেষণে তার বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে কোনটা কথার কথা। কোনটা সত্যের কাছাকাছি। কোনটা নির্ভেজাল সত্য যা তারা রাখার চেষ্টা করেন। প্রশ্ন হচ্ছে এই কথাটিকে আমরা কি বলে ধরে নেব?

এত টাকাই বা তারা কোথায় পাবেন? সরকারী কোষাগার থেকে না দলীয় তহবিল থেকে?



যদি দলীয় তহবিল থেকে দেয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে তাদের হিসেবে পাকা ধরে নিতেই হবে। কেননা সুদে আসলে এ টাকা উসুল করে নিতে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকাই যথেষ্ট।



আর সরকারী কোষাগার থেকে দেওয়া হলে; কেন মৃত অথবা ক্ষতিগ্রস্তদের অনধিক ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য করার আইন করে ছিলেন সে প্রশ্ন না হয় নাই করি। এ প্রশ্ন তো রাখতেই পারি সরকারী টাকা খরচ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট কেনার এই প্রবণতা কতটা নৈতিক?

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সরকারকে চাপে ফেলতে এবার শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। শ্রমিকদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতেই এলিটদের দল বিএনপি সাভারে ধসে পড়া ভবনের মালিক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের দাবী তুলেছিল। সোহেল রানা গ্রেপ্তার তাদের আশাহত করেছে সন্দেহ নেই।



এবার সাভারের ভবন ধসের বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতাকে তারা পুঁজি করতে চাইছেন। ক্ষমতার মোহে মত্ত এ দলটি এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হবে কিনা বা আদৌ কতটুকু সক্ষম হবে তাও দেখার বিষয়। তবে জোর করে ব্যর্থ প্রতিপন্ন করতে তারা সেনাবাহিনীর কার্যক্রমকে পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ করার যে চেষ্টা করেছেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।



সাভারে রানা প্লাজা ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দিয়ে পোশাক শিল্পগুলো বন্ধ রাখার যে কৌশল অবলম্বনের তারা চেষ্টা করছে তাতে দেশের প্রতি। দেশের মানুষের প্রতি তাদের দায়িত্ব হীনতাই পরিস্ফুট হয়ে উঠছে। এটা কি তারা বুঝতে পারছেন?

জামাত-শিবিরকে সামনে ঠেলে দিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকার পতনে ব্যর্থ হয়ে তারা হেফাজতকে মাঠে নামিয়েছে। সেখানেও ফলপ্রসূ আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা বেছে নিয়েছে শ্রমিক অসন্তোষকে। এটা কি রাজনীতি?

রাজনীতি যদি মানুষকে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধিরই উপায় হয়। সে রাজনীতির প্রয়োজনটাই বা কি?



বিএনপি আজো উপলব্ধি করতে পারছে না তাদের কৃতকর্মের কারণেই সাধারণ মানুষ আজ আর তাদের উপর আস্থা রাখার কারণ খুঁজে পাচ্ছে না। বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা কোন বিচারেই তাদের ব্যর্থতাকে ছাপিয়ে যায়নি। আর তাছাড়া পূর্বকৃত ব্যর্থতার সাথে পাল্লা দিয়ে বিরোধী শিবিরে থেকে আজ তারা যাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এমনকি সহযোগিতা করে যাচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ডও এদেশের বেশিরভাগ মানুষেরই অপছন্দ। যা তাদের ক্ষমতায় আসার পথকে মসৃণ করছে না বরং বন্ধুর করে তুলছে।



বিএনপিকে আগামীতে ক্ষমতায় আসতে হলে সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে ব্যবহার নয়। সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াতে হবে। মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা বাদ দিতে হবে। কোন প্রতারণা নয়। সত্যাশ্রয়ী হতে হবে। প্রমাণ দিতে হবে তারা পুনরায় দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করবেন না।



জনগণের কাছ থেকে চরমভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েও বিএনপি একচুলও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। একবিন্দু শিক্ষা গ্রহণ করেননি গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যকলাপ থেকে।



সাধারণ মানুষ কিন্তু সেই পূর্বের অবস্থানে নেই। তারা অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠছেন দিনকে দিন। আর তারই ফলশ্রুতি গণজাগরণ। একে অস্বীকার করা মানে অন্ধ হয়ে থাকা। এই অন্ধত্বই তাদের মঞ্জিলে-মকসুদে পৌছুতে সবচেয়ে বড় বাধা।



[email protected]



সূত্রঃ এবার শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি

Click This Link

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১০:৫৮

সোহেল,ফেণী বলেছেন: বিএনপির শাসন আমলে এ দেশের মানুষ এমন অনেক দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছেন বিশেষ করে লঞ্চ ডুবিতে , ভবন ধসে ও আগুনে প্রাণহানির
-২০০৩ সালে কোকোর মালিকানাধীন 'লঞ্চ এমভি কোকো-৪' ভোলার লালমোহনের মেঘনায় ডুবে ৭৭ জন যাত্রী মৃত্যুবরন করেছিল।
-২০০৪ সালে শাঁখারীবাজারে ভবন ধসে ১৭ জন মৃত্যুবরন করেছিল।
-২০০৫ সালে সাভারের স্পেকট্রাম গার্মেন্টের ভবন ধসে নিহত হয়েছিল ৬১ জন।
-২০০৬ সালে তেজগাঁওয়ের ফিনিক্স ভবন ধসে ২১ শ্রমিক নিহত হয়েছিল।
যাদের পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি টাকাও পাননি।

আমাদের সজাগ থাকতে হবে যে সাভারের সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ক্ষতিপূরণ থেকে যেন বঞ্চিত না হয়।

২| ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১১:১১

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন বলেছেন: শুধু ক্ষতিপূরন নয়। চাই যথাযথ পূনর্বা্সন। সোহেল ধন্যবাদ তথ্য শেয়ারের জন্য।

৩| ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১১:১২

মুশে হক বলেছেন: আেল্লাহ বলেছেন, " আলা আবছরিহিম গেশাওয়াহ। ছুম্মুন, বুকমুন,উময়ুন ফাহুম লা ইয়ারেযেউন"।
তাদের দৃষ্টি পর্দাশ্রিত। তারা বধির, বোবা, অন্ধ এবং তারা কোনদিন
ফিরে( সত্য পথে) আসবে না। সুরা বাকারা

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১১:১৮

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন বলেছেন: পবিত্র কুরআন সব যুগের সব মানুষের জন্য। আর তাই কেয়ামত পর্যন্তই আমরা একে পাব বর্তমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.