![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুক্তিযোদ্ধা স্বামী কিডনিসহ নানা জটিল রোগে ভুগে প্রায় বিনা চিকিতসায় মারা গেছেন প্রায় ২/৩ বছর আগে। ৩ মেয়ে ১ ছেলে। মেয়ে ৩টি বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে ভার্সিটিতে পড়ে। একা বাড়িতে থাকেন। নিজের শরীরে নানা রোগ বাসা বেধেছে। কখনো রান্না করার সামর্থ্য হলে খান কখনো না খেয়ে ঘুমান। স্বামীর মুক্তিযুদ্ধা ভাতাতে কোনমতে চলে অভাবের সংসার। এর মধ্যে একদিন শুনতে পান মৃক্তিযোদ্ধারদর নামের তালিকায় স্ত্রী, সন্তান ও নাতী নামের বানান সংশোধন করার জন্য সময় বেধে দেয়া হয়েছে ৩০/৩/২০১৪ পর্যন্ত। তা করতে হবে অনলাইনে, কম্পিউটারের দোকানে। এর পরে আর কোন সংশোধন নেয়া হবে না। খবরটা একটু দেরীতে পান এবং শরীরের তেমন সায় না পেয়ে শহরে যেতে দেরী হয়। অনেক ঘুরাঘুরি করে একদিন বিদ্যুত না থাকায় ফিরে আসেন। আবার আরেকদিন শহরে যান সেদিনও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের সার্ভারে সমস্যা। আবার ভগ্ন হৃদয়ে ফিরে আসেন। আবার শহরে যান, কম্পিউটারের দোকানের ভিড় ঠেলে দোকানিকে টাকা দিয়ে জানতে পারেন তার নামে কোন তথ্য আসছে না। অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থেকে আর শরীরে ক্লান্তি সহ্য না করতে পেরে ফিরে আসেন। কেউ কেউ বলে অনেকের নাম এভাবে আসছে না। তাদের সার্ভারে সমস্যা। পথে ভাবতে থাকেন তাহলে কি আমার স্বামীর নাম মুক্তিযোদ্ধার খাতা থেকে বাদ পড়ল। ছেলেটা এসব বিষয়ে তেমন মাথা ঘামায় না। এই বুড়ো বয়সে তাহলে কি করব। প্রচন্ত র্যেদ্রের মধ্য দিয়ে ভাবতে ভাবতে পথ চলছেন। কখন যে মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। তা জ্ঞান ফিরে জানতে পারেন। এই হচ্ছে আমাদের দেশের অবস্থা।
স্বাধীনতা নিয়ে অনেক কিছু করা হয়। অথচ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের একটি ওয়েব সাইড তা আবার বেশির ভাগ সময়ে সমস্যা থাকে। অথচ এই ওয়েব সাইডটি থাকার কথা সবচেয়ে ডাইনামিক। গাছের আগায় পানি ঠেলে লাভ নেই। গোড়া যদি শুকনো থাকে তাহলে লাভ কি? আমার তো মনে হয় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় থেকে এসব দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের এই অনলাইনেরকাজগুলো তাদের বাড়িতে গিয়ে ল্যাপটপ দিয়ে করে দেওয়া উচিত। তাহলে কিছু একটা করা হবে।...............আর কত কাল আমরা উল্টো পথে চলব!
©somewhere in net ltd.