নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্মৃতির পাতায়...

জীবনটা এক আয়না- ভেঙ্গে গেলে জোড়া লাগে, তবু দাগ যায় না..

জিদনী

জিদনী › বিস্তারিত পোস্টঃ

(শুরুর আগেই শেষ )

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৪১

আমার নাম লাবণী। আমি ষষ্ঠ শ্রেনীতে পরি।এখন আমার এস.এস.সি দেবার কথা,ভাবনায় আসতে পারে তাহলে ষষ্ঠ শ্রেনীতে কেন? তাই না? তো এবার আসল কথায় আসি। চথুর্ত শ্রেনীতে পড়ার পরে মা-বাবা ইচ্ছে করলেন আমাকে মাদ্রাসায় পড়াবেন, যেই ইচ্ছে সেই কাজ।আমাকে দেয়া হলো মাদ্রাসায়।

সেই সময় টা ইচ্ছে আর অইচ্ছের মানেটা বুঝতাম না, ভালো খারাপ টাও বুঝতাম না, জিবন সে তো এক ছবির মতো মনে হত, ভাবতাম ব, আর তো কিছু দিন। তারপর, হয়তো পথে কারো সাথে দেখা হবে চোখে চোখ পরবে মৃদু হাসবো আর তার পর ......?? সত্যি এক কল্পনার জগতেই বসবাস করতাম তখন।

তখন যে কোন নতুন কিছু অনেক ভালো লাগতো, যেমন- নতুন কাপড়,নতুন চকোলেট,নতুন যায়গা।হ্যা, যেমন নতুন যায়গা... আমারো তো আরেকটা নতুন যায়গাতে যাওয়ার কথা। মাদ্রাসায় আমাকে বোডিং এ রাখা হয়।

আর সে যে কি আয়োজন!! নতুন ট্রাঙ্ক, নতুন তোশক, নতুন চাদর,নতুন সেলোয়ার কামিজ, এতশত আয়োজন আমাকে বিদায় দেয়ার জন্য করা হচ্ছে। নিজের এতটা গুরুত্ব দেখে তখন অনেক ভালো লাগছিলো। কিন্তু তখন যে জানতাম না, যে, এই সব কিছু ক্ষনিকের আয়োজন, কেন না সেখানে তো থাকবেনা আপনজনরা কেউ!!

সন্ধ্যে হলে মা যে ডাকবেনা লাবণী আরে ও লাবণী ঘরে আয় মা!!। রাত ১২টা বাজে গেট টি নক করলে যে দৌড়ে গিয়ে বাবাকে বলতে পারবোনা আমার চোকলেট টা কি এনেছো? আর আনলেও যে ভাইবোনদের সাথে তা নিয়ে লড়াই করতে পারবোনা, আর মা’র উচ্চ স্বরে বলে ওঠা ডাকটি যে আর আমার কানে বাজবে না!!।বোকা মেয়ে এর কিছুই তো তখন ভাবিনি! বাছ, নিজের ট্রাঙ্ক এর চাবি টা নিয়ে সবাই কে বল্লাম আমি যাই দোয়া করো আমার জন্য।

অনেকের কাছে বোডিং শব্দটি নতুন লাগতে পারে, বোডিং এ থাকা মানে খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, পড়ালেখা সারাদিন রাত সেখান টাই থাকা কে বুঝায়। বলতে গেলে নিজের সন্তান অন্যের হাতে তুলে দেয়াটাই বোডিং। কেউ প্রতি সপ্তাহ বাড়ি যেত আবার কেউ তিনেকমাসেও দেখতে পেতনা তার বাবা মায়ের মুখ।দেখতে পেতনা খেলার সাথিগুলো কেমন আছে, কিংবা বাড়ির কোন উৎসব । আমার কথাটা আলাদা, ছাএী হিসেবে একটু ভি.আই.পি ছিলাম আমি।যদি বলতাম বাড়ি আজ ই যাবো তো আজ ই যেতাম সেটা যে ভাবেই হোক । যেভাবেই হোক বলতে কখনো পেটে ব্যাথা, কখনো মাথা ব্যাথা আবার কখনো মা’কে ইমোশনাল ব্লাকমিল করেই হোক না কেনো। বাড়ি যেহেতু ভালো ভাবে যেতেই পারবোনা তো খারাপ ভাবেই যাওয়া যাক, তাই না? কাজগুলো কি ভলো করতাম?

না ... কাজগুলো ভালো করতাম না। কেনো না যদি তখন মা-বাবা কে না দেখার কষ্টটুকু বুকে চাপা দিয়ে রাখতাম তাহলে আজ লাবণী নামের মেয়েটি কে সবাই এিশ পাড়া কোরানের হাফেজ বলে চিনতো। আমার মা-বাবা বলতে পারতো যে তাদের লাবণী কোরআন এ হাফেজ!!।

যখন মাদ্রাসা থেকে চলে আসতাম ভাবতাম আমি জিতেছি। আজ ভাবি না যারা তাদের মা বাবাকে না পাওয়ার বেদনায় বালিসে মুখটি চেপে কাদঁতো !! আজ তারাই বিজয়ী। ইস!! যদি আমার মা-বাবও আমাকে নিতে না আসতেন, ইস!! যদি আমিও বালিসে মুখটি চেপে কাঁদতাম তো আজ আমিও?! হ্যা ,আমিও আমার পড়ালেখাটা শেষ করতে পারতাম।

তাই আজ ব্যর্থতা কে সাথে নিয়েই চলছি। যে সময় গত হয় তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।পাচঁ পাড়া পড়েছিলাম। খতম দেয়া হয় কখনো নানুর জন্য, কখনো দাদার জন্য।মাঝে মাঝে মনটাকে বুঝিয়ে নেই যে যাক চারটি বছর!! হে, চারটি বছর মাদ্রাসায় পড়াটা এক বারেই যে বৃথা তা কিন্তু নয়।

কোরআন তেলাওয়াত টা তো করতে পারি!!। মানুষ কোন না কোন ভাবে নিজেকে শান্ত করেই নে, আর আমিও মানুষের মান টা রাখতে পারলাম । কি ঠিক বল্লাম তো??



জীবনটাকে সাজাতে তাই আবারও চেষ্টা করছি আমি।

নাম আমার লাবনি।:)









মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:০৯

চ।ন্দু বলেছেন: আপু, তোমার লেখাটা হৃদয় ছুঁয়ে গেল। দোয়াকারি ভাল থেক।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:১০

জিদনী বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।

২| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৩৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ভালই দুষ্ট ছিল লাবনি ;)

কিন্তু ক্ষনিকের ভাল বুঝি প্রায়ই দীর্ঘ কষ্টের কারণ হয়ে রয়!!!!!!!

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:১৩

জিদনী বলেছেন:
হম!! ঠিক বলেছেন।
ক্ষনিকের ভাল প্রায়ই দীর্ঘ কষ্টের কারণ হয়ে রয়!!!!!!!

ভালো থাকুন। :)

৩| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৫০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনার সব চেষ্টারই আনন্দময় সফল সমাপ্তি ঘটুক ।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪৫

জিদনী বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ
আশা করি ভালো আছেন। :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.