নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এএ বি জয়

খুবই সাধারণ একজন মানুষ আমি। কিন্তু নিজের বুকে লালন করা স্বপ্নগুলোর স্বপক্ষে নির্বিঘ্নে মত প্রকাশ ও কাজ করে যাওয়ার নিশ্চয়তা চাই। সেই বাংলাদেশকে অনেক ভালবাসি,যেই বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধারা আর জাতির জনক আমাদের এনে দিয়েছেন । তাঁদের স্বপ্নকে লালন করতে চাই বুকে। সকল স্বাধীনতা-বিদ্বেষী শক্তির পূর্ণ পতন চাই। সেই সংবিধান ফিরে পেতে চাই,যে সংবিধান আমাদের দিয়ে গিয়েছিল জাতি গঠনে জীবন উৎসর্গ করা সূর্য-সন্তানেরা। সর্বোপরি.,দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে একটি পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই।

এএ বি জয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

৭ই মার্চ ও বাঙালি জাতির পুনর্জন্ম

০৮ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:৪৭

৭ই মার্চ, ১৯৭১...

স্থানঃ ঢাকার রেসকোর্স ময়দান.,যেটি বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত।

সময়ঃ দুপুর ২ টা ৩০ মিনিট।

তিল ধারনের জায়গা নেই বিশাল মাঠটিতে। সবার মধ্যেই টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। কি ঘটতে যাচ্ছে, কি ঘোষণা শুনতে যাচ্ছে তাঁরা...!!

ইতোমধ্যেই জেনারেল ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুকে একরকম হুমকি দিয়েছে যে, এমন কোন পদক্ষেপ যেন তিনি না নেন, যাতে প্রত্যাবর্তন করার কোন উপায় না থাকে ।

পাকিস্তানে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, পাকিস্তানের বিভক্তি আমেরিকা সহ্য করবে না।

এরকমই একটা উত্তেজনাকর অবস্থায় ৩ টা ১৫ মিনিটে সভাস্থলে এসে পৌঁছান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রাহমান।

তুমুল করতালিতে ফেটে পড়ে বিশাল রেসকোর্স ময়দান...!!

শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হয় দিগ্বিদিক...

প্রাণের নেতাকে কাছে পেয়ে সকলের উত্তেজনা দ্বিগুণ হয়ে ওঠে।

৩ টা ২০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন তিনি...-

দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি...

আজ বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়.., আজ বাংলার মানুষ অধিকার চায়...



আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়..,

প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল... তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক।

মনে রাখবা.., রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো... এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ...।।


সকল হুমকি উপেক্ষা করে বজ্রকন্ঠে এই সিংহপুরুষ ঘোষণা করেন...

এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম...!!

এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম...!!!


পরাধীন বাঙ্গালি জাতির প্রতি দেওয়া স্বাধীনতার মহানায়কের ১৮ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডব্যাপী ১,০৭১ শব্দের সেই দিকনির্দেশনামূলক ভাষণটি আজও পৃথিবীর ইতিহাসে একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বিরল উদাহরণ।

সেই ভাষণে প্রতিফলিত হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণে ও নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির স্বাধীনতার একটি জ্বলন্ত বহিঃপ্রকাশ।

ভিনদেশি শাসকের নিষ্পেষণে নিচু হয়ে যাওয়া বাঙালি জাতির মাথাকে পুনরায় অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে উঁচু করতে শিখিয়েছিলেন স্বাধীনতার এই মহান স্থপতি।

তিনিই বাঙালির বুকের ভিতর প্রজ্বলিত করেন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আগুন। বাঙালি জাতিকে তিনিই দেখান নতুন দিনের স্বাধীন সূর্য। এই মহান পুরুষই স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান স্বপ্ন ছড়িয়ে দেন দেশের প্রতিটি প্রান্তে।

তারই ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছি আমাদের চিরকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা...।।



আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর পর আবারও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখন তীব্র সংকটের মুখে, স্বাধীনতাবিরোধীদের উন্মত্ততায় যখন জাতি আবারও হুমকির মুখোমুখি..,তখন সেই একই স্থানে একই দিনে মুক্তিকামী লাখো বাঙালি আবারও একত্রিত হয়েছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে উচ্চারিত সেই শ্লোগানগুলো আবারও প্রকম্পিত হচ্ছে সেই সমাবেশস্থলে...!!

সবাই জাতির পিতার প্রতি বিনম্রচিত্তে নিবেদন করছে হৃদয়ের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার্ঘ্য।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আজকের এই দিনেও স্বাধীনতাবিরোধীচক্র দেশজুড়ে চালাচ্ছে সীমাহীন উন্মত্ততা ও নাশকতা। আজও দেশের স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর...!!!



যাই হোক, ৭ই মার্চ বাঙালি জাতির হৃদয়ে এক দূর্বার অনুপ্রেরণার প্রতীক।

আজ বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীন চেতনা মিশে আছে বাঙালি জাতির প্রতিটি শিরা-উপশিরায়...

তাই যতদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রাহমানের মহান স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে..,মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে.,ততদিন লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই স্বাধীন দেশের বুকে কোন দেশদ্রোহী জানোয়ারদের রাজত্ব করতে দেব না।

এ আমাদের দৃঢ় অঙ্গিকার...।।



জ...য় বাংলা...!!

জ...য় জনতা.....!!!


©AA B Joy

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.