নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানিব্যাগ আছে, টাকা নাই

যাচ্ছে দিন, কাটছে সময়, দিন শেষে হচ্ছে ভয় !!!

নির্ঘুম আরিফ

যতটুকু বুঝি তার চেয়ে ভুল করি বেশি। অন্যকেউ ভুল করলেও আমাকে ক্ষমা চাইতে হয় মাঝে মাঝে। ছোট ছোট স্বপ্নের মাঝেও অনেক বড় তৃপ্তি অনুভব করি। বৃষ্টির দিনে একা একা হাটার আনন্দটা আমাকে অনেক বেশি আকৃষ্ট করে। মেয়েরা আইসক্রীম খেয়ে যেমন আনন্দ পায়, আমারটা ঠিক তেমনই। হয়ত আরেকটু বেশি।।।।।

নির্ঘুম আরিফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মানিব্যাগ

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪১

আমাকে অনেকদিন থেকেই বলতেছে দেখা করতে। কিন্তু হাতে টাকা পয়সা না থাকায় দেখা করতে পারছি না। কয়েকবার বলছি, কোথায় দেখা করবা ? কিন্তু সে শুধু রেষ্টুরেন্ট এর নাম ছাড়া আর কিছু বলে না। কয়েকবার জায়গা পরিবর্তন করে বললাম, এক কাজ কর ঐ খানে না এসে এখানে আস। সে বলে সমস্যা নাই, এখানে কি ভাল কোন রেষ্টরেন্ট আছে?



আরে বেটি খাবার ছাড়া কি আর কিছু দেখ না ? পার্কে নাকি তার আন্তীয় সজন দেখে ফেলবে। সারা ঢাকা শহর পরিচিত জন দেখার জন্য অপেক্ষা করতেছে।

অনেক কষ্টে বন্ধুর কাছ থেকে ১০০০ টাকা ধার করলাম। বন্ধুরাও আজকাল ভাল নাই। টাকা পয়সা দিতে চাই না। আরে এখন টাকা ফেরত দেয়না বলে কি কখনো দিব না নাকি। মরার পর আমার পরিবারের কাছ থেকে আরো বেশি করে নিয়ে নিস। মিথ্যা বললে তো ওরা বুঝব না। ডাবল পাইবি। একটারেও বুঝাতে পারলাম না। তারপরও একজন ভাল মানুষের কাছ থেকে পেয়ে গেলাম। এখনো কিছু ভাল মানুষ বেচে আছে। না থাকলে আমরা প্রেম করব কি করে।



ধানমন্ডি আসতে বলছে। আমি রাজি হলাম। পরে এক রেস্টুরেন্ট এর নাম বলল, ঐখানে অপেক্ষা করতে বলল। কি নাম বলল , বুজতেও পারি নাই। আমার যদি জিঙ্গাসা করি তাহলে বলবে কিছু জানি না আমি। থাক ছোট হবার চেয়ে নিজেই খুজে বের করব। সবগুলো খুজে খুজে দেখলে হয়ত মনে পড়তে পারে।



একটু কষ্ট করে যথা সময়ে আমি আসলাম। একটু পরই দেখতে পেলাম। কিছু ছবি দেখছিলাম বলে চিনতে অসুবিধা হয় নাই। সেও চিনতে পারল। কাছে আসার পর দেখলাম পিছন থেকে আরো দুইজন বের হল। একটু পর বুঝতে পারলাম আমার সাথে গেম খেলতে চাই । চিনি কিনা দেখবে। আরে বেকুব, তুমি না আমাকে কতগুলো ছবি পাঠাইছ। চিনব না কেন? আমারে কি বর্নান্ধ মনে হয়। বান্ধবী সাথে নিয়ে আসলে পার্কে বলতা। ৫ টাকার বদলে ২০ টাকার করে বাদাম খাওয়াইতাম। বাদাম খাইয়া ডাইরিয়া ধইরা পইড়া থাকবা।।।। এখন টাকা কই পাই। কত যে বিল করব কে জানে। ভাবছিলাম ফোসকা খাইয়াইয়া শেষ করে দিব। পরে আইসক্রীমও খাওয়াতাম।



বান্ধবী দুইজনকেও পরিচয় করিয়ে দিল। তবে মেয়েটাকে ছবিতে যেমন দেখছিলাম তার চেয়ে একটু বেশিই সুন্দর। আকাশি রং এর থ্রি-পিছ পড়ল। অনেক ভাল লাগছে। আমার যদি টাকা থাকত এই মেয়েকে রেষ্টুরেন্টটাই কিনে দিতাম। তবে তার থেকে তার বান্ধবীদের উৎফুল্ল মনে হল বেশি। কিছু বুঝলাম না।



তিশা বসল আমার পাশে, আর ওরা দুইদিকে। প্রথমদিকে কথা জড়িয়ে যাচ্ছে মনে হয়। এত সুইট মেয়ে পাশে আছে। আমার জ্ঞান যে আছে এটাই বেশি। আগে কোন মেয়ের সাথে এত ক্লোজ হয় নাই তো। সামনে আসলেই মনের মাঝে ডুল বাজার শব্দ হত। বাস্তবিক পরিবেশে পরাবাস্তবিক অবস্থা।



তিনজন ম্যানুর দিকে তাকিয়ে আছে। আমার চো্খ একবার যাই ওদের চোখে আরেকবার খাবারের দামের দিকে। যেই ভাবে ম্যানু ধরে আছে, কোনটা যে সিলেক্ট করে আল্লাহই জানে। মনে মনে দোয়া পড়তেছি। যদি বিল সম্পূর্নটা না দিতে পারি , মান সম্মান আর থাকব না। তাদের চো্খের মাঝে দামি খাবারের লোভ। কিছু একটা করতে হবে।



এই তিশা ?

কি?

একটু কাছে আস।

কেন?

আরে আস না।



আস্তে আস্তে বললাম, ভুল করে মানিব্যাগ রেখে আসছি।

............. তিশার ডায়ালগ শুন্য। যেই দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এটার নাম বলতে পারব না।

একটু অপেক্ষা করবা। নিয়ে আসি । যাব আর আসব। এক ঘন্টার ভিতর চলে আসতে পারব।

তিশা কি বলবে বুঝতেছে না। চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেল। আমার ধারনা যদি সে আমার বউ হত তাহলে নিশ্চিত কয়েকদিন আমার খাবার বন্ধ রাখত। এমনটা না করলেও চোখ দেখে এর চেয়ে বেশি কিছু ভাবতে পারছি না।



তিশা একটু অপেক্ষা করে কিছুটা সামলে নিয়ে বলল, আরে না কি যে বলনা। আমি আছি না। যেতে হবে না। তারপর ফ্রেন্ডদের সাথে কি যেন বলল বুঝলাম না। কিন্তু আমার দিকে ওরা যেইভাবে তাকাল, মনে হল আমার চেহারা দিয়ে জাপানের মানচিত্র দেখা যাচ্ছে। একটু পর তিশা হট ডগ এর অর্ডার দিল। নাম শুনে তো মাথায় হাত দিলাম। এই মেয়ে আবার আমার ধর্ম না নষ্ট করে দেই। গভীর চিন্তায় পড়ে গেলাম। অর্ডার আসার পর ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম। না, তেমন কিছু মনে হচ্ছে না। এই সামান্য একটা জিনিসের নাম এত বাজে কেন?



গরম ডগ তো আমার অনেক ভাল লাগল। বললাম, বাহ , এটাতো অনেক ট্যাস্টি।

চাইনা মুভির ডায়ালগ না বুঝে দেখলে মূখটা যেই আকৃতির হয়ে থাকে , তাদেরটাও কিছুটা এমন হয়ে গেল। মুখ ভোতা করে বলতেছে, হুম, ভালই।

ওদের মুখ দেখে মনে হচ্ছে খাবারে লবন হয় নাই। নিজের টাকা দিয়ে খেত, তাহলে বুঝত। আমি হলাম গরিব মানুষ। টাকার অভাবে ভাল একটা প্রেম করতেও অনেকদিন কষ্ট করতে হইছে। আর আমার উপর যদি এত বিল উঠে........





তিশাকে আজ আগের চেয়েও বেশি ভাল মনে হচ্ছে। তবে ওর বান্ধবীরা অনেক নারাজ। হঠাত বান্ধবীরা বলতেছে, চলেন যাই, গরম লাগছে।

কি বলে আমার তো কাথা লাগব। হেতে কই গরম। বাড়িতে গিয়া হাত পাখা দিয়া বাতাস করব, এটা ভাল লাগে?

একটু বসতেও পারলাম না।



ঠিক আছে, চল। কোথায় যাবা ?

আমরা বাসায় যাব। আর তিশা তুই কি যাবি নাকি?

তিশা আমার দিকে একটু তাকিয়ে বলতেছে, হু, আমিও চলে যাব।

আমি তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। ভাবছিলাম একটু থাকবে আমার সাথে। মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমি তিশাকে বললাম, অন্য কোথাও গিয়ে একটু বসি?

না, বাসায় কাজ আছে। যেতে হবে।

কি আর করার, জোর করে তো আর রাখতে পারবনা। ওয়েটার,,,,,,,,,,,

বিলটা নিয়ে আসার পর আমি পকেট থেকে ১০০০ পাকার নোটটা বের দিলাম। তিনজন টাকাটার দিকে এমন ভাবে তাকাল যেন পকেট থেকে কোন গোলক বের করলাম।

তুমি না বলছ টাকা আন নাই ?

আমি কখন বলছি টাকা আনি নাই। আমিতো বলছি মানিব্যাগ আনি নাই।

এখন ১ম আর ২য় ভিলেন এর মুখটা এক প্রকার পাখির মত হয়ে গেল। পাখির নাম মনে আসেছে না। মনে হয় প দিয়ে নামটা। নায়িকার মুখে হাসি দেখা গেল। আগে জানলে বান্ধবীরা ভাল কিছু খেতে পারত। আফসোস......



যাবার বেলায় ওদেরকে রিকশায় উঠিয়ে আমিও রিকশার জন্য দাড়িয়ে রইলাম। একটু পর পিছন থেকে কে যেন আমার হাতটা ধরল। তাকিয়ে দেখি নায়িকা তিশা দাড়িয়ে।



কি ব্যাপার , যাও নাই ?

না, যেতে ইচ্ছে করছে না। তোমার সাথে একটু হাটব। চল না ?



( টাকাটা শেষ করে ছাড়বে )



চল, কোথায় যাবা?

আশেপাশেই। একটা রিকশা নাও।



আমার মনটা অনেক ভাল হয়ে গেল। ওকে পাশে পাব, এই আশা ছিল না। ঔদিন প্রায় ৩ ঘন্টা রিকশা দিয়ে ঘুরলাম। আমার জীবনের ভাল লাগার মুহূর্তগুলোর মাঝে সবচেয়ে আনন্দময় সময় এটা। এখনো সে আমার সাথেই আছে। সময় কাটতেছে অপার মহব্বতে । তবে এখন সে আমার কথাগুলো একটু মনোযোগ দিয়ে শোনে। আবার না কি উল্টাপাল্টা বলে খাবারের ম্যানুটা চেন্জ করে দেই। মাঝে মাঝে কথা হয় ওর বান্ধবীদের সাথে। মেয়ে দুইটা আসলেই অনেক ভাল।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:১৯

সমুদ্রচারী বলেছেন: ভালৈছে +

২| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:২০

শয়তান ২০০০ বলেছেন: :) ভাইরে আমি ৬ মাস try করার পরও রিকশা্তে .... :( কপাল

৩| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:২৬

তন্ময় ফেরদৌস বলেছেন: :) :)

৪| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৩৬

নগর বালক বলেছেন: হা হা হাঁ হ যা ।

৫| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৫৩

নির্ঘুম আরিফ বলেছেন: :D

৬| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৫৫

নির্ঘুম আরিফ বলেছেন: tnx @ Somudrochari :)

৭| ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:২৩

আজমান আন্দালিব বলেছেন: হাহাহা...জট্টিললললললললল

৮| ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৪৯

নির্ঘুম আরিফ বলেছেন: ধন্যবাদ আজমান ভাই

৯| ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:১৫

খান মেহেদী ইমাম বলেছেন: ভাই মাইয়ারা যখন ফ্রেন্ড এর প্রেমিকরে রেস্টুরেন্ট এ পায় তখন তাদের খাওয়া দেখলে মনে হয় এই মাত্র অনশন ভঙ্গ করল। =p~ =p~

১০| ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:৪৩

নির্ঘুম আরিফ বলেছেন: age kokhono experience hoi nai to, ty boji nai Imam vai
:p

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.