নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অনন্তকাল আঁধারে তপস্যা করেছি মনের আঁধার মুছে ফেলবো বলে।পারিনি।তাই আঁধারকে দুচোখের তারায় বসিয়ে রেখেছি যেনো মনের চোখে আলো ধরা দেয়।

আ্যাডোনিস.

close your eyes and try to see

আ্যাডোনিস. › বিস্তারিত পোস্টঃ

বুক রিভিউ

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৩:০০



০১
-বাংলাদেশে খাদ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে কেনো??
এর উত্তরে "কুত্তায়ে বাংলা" তার সুচিন্তিত অভিমত দিতে গিয়ে বললেন,আপনারা যাকে খাদ্য সমস্যা বলছেন,ওটাকে আমি সমস্যা হিসেবে দেখছি না।ওটা আসলে মূল্য বৃদ্ধি মাত্র।জিনিসের দাম তখনি বাড়ে যখন দেশবাসীর ক্রয়শক্তি বৃদ্ধি পায়।এটা বাংলার অর্থ স্বাচ্ছল্যেরই লক্ষণ।চালের দাম বেড়ে ০৪টাকার জায়গায় ৪০ টাকা মণ হয়েছে,তাতে কী??আপনাদের বুঝতে হবে বাঙ্গালীর ক্রয়শক্তি এখন ১০গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।(জোরে হাততালি)
.
"টাট্টুয়ে বাংলা" তার মত প্রকাশ করলেন দার্শনিকতার ছলে।তিনি বললেন,বাংলায় খাদ্য সমস্যা আছেও আবার নাইও।আপনি যদি বলেন সমস্যা আছে তাহলে আছে আর যদি বলেন নাই তাহলে শুধু একবার তুড়ি বাজিয়ে দেখুন নাই।এখানে আমরা নেতারা এক হয়ে যেটা বলবো সেটাই আইন আর পাবলিক সেটাই শুনতে বাধ্য।(আরো জোরে হাততালি)
.
০২
পৃথিবীর সব জাতি ব্যবসা করে ব্যবসায়িক দ্রব্য দিয়ে কিন্তু বাঙ্গালী ব্যবসা করে ২ টি মূলনীতিকে সামনে রেখে-
*নিছক ব্যবসার জন্যই ব্যবসা করা যাবে না।ধর্ম সেবা,জনসেবা ও দেশসেবার নামে ব্যবসা চালাতে হবে।এবং
*বিনা মূলধনে ও বিনা রিস্কে ব্যবসা করতে হবে।
এই মূলনীতিকে সামনে রেখে বাঙ্গালীরা সব কেরানিগিরি ছেড়ে বুদ্ধির ব্যবসাতে হাত পাকালো।
.
০৩
“AICC” এর পূর্ণরূপ “All India Condolence Committee"যাদের কাজ হলো দেশের গুণী মানুষের মৃত্যুতে সংঘবদ্ধভাবে শোক প্রকাশ।শোক প্রকাশ হলো এর বাহ্যিক কর্মকান্ড।শোকের আড়ালে এই কমিটির প্রধান লক্ষ একটাই "মুনাফা"অর্জন।
.
০৪
বাঙ্গালী পারেনা এমন কোনো কাজ নেই।দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মরছে আর অন্যদিকে একদল মহামানব চালের বস্তা মজুদ করছে।সরকার যখন তাদের লঙ্গরখানা খুলে গরিবদের খাওয়াতে বললো তখন তারা ৩০০ ৪০০ লোককে খেতে দিয়ে ১০০০০ লোকের নাম তালিকায় পূরণ করে সরকারের কাছ থেকে টাকা নিতে লাগলো।শেষে সরকারী হিসাবে দেখা গেলো যত লোক কলকাতায় বাস করে তার ডাবল লোক লঙ্গরখানায় খাওয়া দাওয়া করে।সমস্যা বুঝে হোটেল মালিকেরা লঙ্গরখানার পাশাপাশি একটা করে কবরস্থান এবং শ্মশানে কবর দেয়া ও দাহ করার কমিটি খুলে ফেললো।কারণ এইখানে আর যাইহোক লোকশানের কোনো সম্ভাবনা নাই।সাথে পত্রিকায় নামও আসবে "সমাজসেবক"।
.
০৫
আমরা সমাজসেবীরা রিলিফ ওয়ার্কের নাম করে আসলে কি করি বা আগে কি করতাম সেটি বোঝা যায় "রিলিফ ওয়ার্ক"পড়ে।
point to be noted: কিছুদিন আগে একটি নিউজ পড়লাম।উত্তরবঙ্গে বন্যার্তদদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে একদল "সমাজসেবী "জনগণের কাছ থেকে টাকা তুলে সেই টাকায় নিজেদের উদরপূর্তি করেছে।(গর্বিত বাঙ্গালীদের জন্য হাততালি)
.
০৬
একটি সুশীল সমাজের আন্দোলন নাম "গ্রো মোর ফুড"।অনেক বাকবিতণ্ডার পর নেতারা একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে পৌছালো যে,ইংরেজ -মার্কিনমুলুকের জন্য তারা মদ,ভারতীয় ভদ্রলোকদের জন্য গাজা এবং ভারতীয় জনসাধারণদের জন্য হাওয়ার চাষ করাই হবে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য।
.
০৭
জার্মানি আর জাপান ২য় বিশ্বযুদ্ধে অনেকদেশ ধ্বংসে ভূমিকা পালন করলেও কিছু মানুষের কাছে তাদের হেরে যাওয়াটা ছিলো অবর্ণনীয় কষ্টের কারণ তারা তাদের ব্ল্যাকমার্কেট থেকে যে টু-পাইস কামাচ্ছিলেন সেটিতো বন্ধ হয়ে গেলো।আরো কিছুদিন যুদ্ধ কেনো চললো না এই কষ্ট বুকেে নিয়ে তারা রাস্তায় নেমে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে চিৎকার করে বলতে লাগলো,হায় জাপান,হায় জার্মান।
.
০৮
আমাদের দেশের জনগণ আসলে যে কতটা বোকা আর কতবার যে নেতারা তাদের কাধে চড়ে তাদের রক্ত পানি করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে এবং এখনো গুছিয়ে চলেছে সেটি এই অধ্যায়টি না পড়লে বোঝা যাবে না।
.
০৯
এক ছেলে অনেক চেষ্টা করেও যখন চাকরি পেলো না তখন সে সিদ্ধান্ত নিলো জনসেবা করবে।এর জন্য সে তার বন্ধু বান্ধবের সহায়তায় প্রথমে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট,তারপর জেলাবোর্ডের চেয়ারম্যান,তারপর মন্ত্রী,তারপর লাট,তারপর খানবাহাদুর,তারপর স্যার,তারপর হাই কমিশনার।এতকিছু করেও জনগণ তার সেবা অর্থাৎ জনসেবা আর পেলোনা।
.
উপরের ০১ থেকে ০৯ হচ্ছে আবুল মনসুর আহমদের "ফুড কনফারেন্স"বইয়ের ৯টি গল্প।গল্প ০৯টি পড়ুন আর আমাদের চারপাশে মেলান।কোনো পার্থক্য পাবেন না।এগুলাই আমরা চারপাশে এখনো ঘটতে দেখছি এবং আশা করা যাচ্ছে অবস্থা না বদলালে দেখতে থাকবো।
.
এই বইটি পড়ে "অন্নদাশংকর রায়" বলেছিলেন,"আয়না লিখিয়া আবুল মনসুর প্রাতঃস্মরণীয় হইয়াছিলেন আর ফুড কনফারেন্স লিখিয়া তিনি অমর হইলেন"।
.
অসাধারণ এই বইটি পড়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করছি।
"হ্যাপি রিডিং"।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.