নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হৃদয়ে আমার সাগর দোলার ছন্দ চাই অশুভের সাথে আপসবিহীন দ্বন্দ্ব চাই এখনো জীবনে মোহন মহান স্বপ্ন চাই দয়িতাকে ভালোবাসার মতোন লগ্ন চাই কবিতায় আমি তারার মতোন শব্দ চাই শান্তি আর কল্যাণময় অব্দ চাই।

উৎস আরণ্যক

মাতাল ঋত্বিক আমি, প্রেম কথা আমার ঋগ্বেদ

উৎস আরণ্যক › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন নতুন নন্দনালের কাহিনীঃ উৎস ফিচারিং রবীন্দ্রনাথ B-))

০২ রা মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮


আনিসুল হক, ইমদাদুল হক মিলন আর কয়েকজন (এই কয়েকজনের নাম বললে মারামারি লাগবে!) এইরকম সাহিত্যিকের উপন্যাস গল্প পড়ার পর মনে হল, নষ্ট! সব শেষ! সাহিত্য বলে আর কিছু থাকলো না। খালি ল্যাদাপ্যাদা লুতুপুতু কাহিনী। কোথায় রবীন্দ্রনাথ, কোথায় শরৎচন্দ্র! কোথায় মুজতবা আলী আর কোথায় বুদ্ধদেব বসু কিংবা গুহ! আর কিছু হবে না। ‘বাংলার আকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা! কে দেবে আশা, কে দেবে ভরসা!”
তখন নিজেকে কইলাম, বৎস, তুমি তো আছো। রবীন্দ্রনাথের মত ক্যালমা দেখাও দেখি! ভাবলাম, কথাটা খারাপ না। আমিই পারি! শুধু আমিই পারি। তাছাড়া, আমার প্রতিভা তো কম নেই। কেউ বুঝতে পারেনি শুধু। রবীন্দ্রনাথের ‘যা যা আছে’, আমারও তাই তাই (শারীরিক দিক বিবেচনায়)। বরং বেশিই আছে( এইবার শরীরের কথা হচ্ছে না, প্রতিভার কথা হচ্ছে; একটা এক্সট্রা দিয়ে আমি কী করবো? হাত/পা/চোখ ইত্যাদির কথা বলছি)। খালি বাপের জমিদারিটা নাই। তখন ভাবলাম, ১৮০০ সালের দিকে আমার দাদার দাদার দাদা জমিদার হলেও তো হতে পারে। তাছাড়া এখন তো জমিদারী প্রথাও নেই। সুতরাং তাদের শরীরে জমিদারী রক্ত থাকলেও তারা সাধারণ মানুষের মত জীবন যাপন করছে।
অর্থাৎ, বাংলা সাহিত্যের একটা আমূল পরিবর্তন করার জন্যই আমার ব্লগে আসা। প্রতিজ্ঞা ছিল, এমন এমন সব গল্প-কবিতা লিখব যা দেখে দুনিয়া টাস্কি খেয়ে যাবে অর্থাৎ ‘সারা বিশ্ব অবাক তাকিয়ে রয়’।
আমার লক্ষ্য মহৎ ছিল কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু একটু বেশিই মহৎ ছিল। এটাই হল প্রবলেম। ফেসবুক পেজগুলোর গল্প পড়তাম আর ভাবতাম, না হচ্ছে না। আমাকে মাঠে নামতেই হবে। নেমেও পড়লাম। নেমে দেখলাম, আমার কোন টাইম নেই। আমার মতো হাজার হাজার ছেলে বাংলা সাহিত্যকে বাঁচাতে “মাতে, মেয় হুন না” বলে মিনিটে মিনিটে কবিতা আর গল্প প্রসব করছে। তাদের ভিড়ে আমি বাঁচবো কী করে! পরে ভাবলাম, সব মহৎ কাজেই একআধটু বাঁধা আসে। বাঁধা না জয় করলে আমি আবার কীসের হিরো? প্রেমিকার ভাই প্রিন্স মুসা আমার বিপক্ষে থাকবে, আমাকে মারতে গুন্ডা পাঠাবে, আমি তাদের আখেরি প্যাঁদানি দিব, এদিকে আমার জানের জন্য জান দিতে প্রস্তুত কোটিপতির ছেলে জানকে মুফতে পেতে তুলে নিয়ে যাবে; আমি কপালে গামছা বেঁধে, সিডিএইটটি মোটরসাইকেল চালিয়ে বিশাল বিশাল ইটের দেয়াল ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়ে, সব্বাইকে খালি হাতে মেরে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে পুলিশের হাতে গুণ্ডাকে তুলে দিয়ে নায়িকাতে উদ্ধার করব। তারপর না সিনেমা শেষ হবে! ‘অতঃপর, তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল” তখনই না গল্পক বলবে!
তেমন সামুতেও সব লুতুপুতুদের সরিয়ে, বিশাল বিশাল কাব্য রচনা করে, উৎকৃষ্ট সব গল্প রচনা করে পাঠিকাদের নজর থুড়ি বিশ্ববাসীর নজর আমার দিকে ঘুরিয়ে নেব। এ জন্য দাম তো একটু দিতেই হবে। সুতরাং নেমে পরলাম ময়দানে।
যেহেতু আমার লক্ষ রবীন্দ্রনাথের পর্যায়ে যাওয়া, তাই আমাকে হতে হবে একাধারে গল্পকার, কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সমালোচক, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, অভিনেতা ইত্যাদি ইত্যাদি। সবগুলো লিখতে হলে রাত ভোর হয়ে যাবে।
এই পথ ধরে, আমি এ পর্যন্ত কিছু কবিতা, অসংখ্য গল্প, বই আলোচনা, দুই একটা সমালোচনা, কিছু রম্য লিখেছি। তার মানে অলরেডি গল্পকার, কবি, আলোচক, সমালোচক, হিউমরিস্ট ইত্যাদি হয়ে গিয়েছি। বাকি থাকে ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, সুরকার, গায়ক আর অভিনেতা ইত্যাদি ইত্যাদি হওয়া। সেও হয়ে যাবো আস্তে ধীরে। আজ যে পোস্ট লিখবো, তাতে রবীন্দ্রনাথ হওয়ার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবো আমি। রবীন্দ্রনাথ তার পূর্বের কবি কালিদাস, মহাকবি মধু আরও অনেকের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন; আজ আমি করব রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে থুড়ি রবীন্দ্রনাথের ‘নন্দনাল’ কে নিয়ে আলোচনা। এই পোস্ট লিখছি নিজেকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, আপনাদের ভাল লাগা, না লাগায় আমি থোরাই কেয়ার করি!
{একজন বিখ্যাত বলেছেন, যদি সেলিব্রেটি হতে চান তাহলে ‘আমি আমি’ করুন। মানে আমিই ভাবটা থাকতে হবে। এবার খেয়াল করুন, “আমি’ এপর্যন্ত কতবার ‘আমি’ বলেছি। মোট আটবার। এছাড়া কিছু বাক্যে ‘আমি’ উহ্য আছে। সেলিব্রেটি হওয়ার পথে ‘আমি’!}
সে যাই হোক, নন্দোনালকে সবাই চিনি। কিন্তু এ এক অন্য নন্দোনাল। এর নাম কবি। মিস্টার লতা-পাতা-ফুল-ফল। ‘মানসী’ কাব্যে এর দেখা আপনি পাবেন। আর কথা না বাড়িয়ে চলুন এগুই-
‘বক্তৃতাটা লেগেছে বেশ,
রয়েছে রেশ কানে-
কী যেন করা উচিত ছিল,
কী করি কে তা জানে।’
রবীন্দ্রনাথ টক শো’র কথা বলছেন। তখন তো আর একাত্তর টিভি, গাজী টিভি ছিল না যে টকশো হবে। সভা হতো প্রায়ই। ওটাকেই টকশো ধরে নিন।
“অন্ধকারে ঐ যে শোন
ভারতমাতা করেন ‘গ্রোন’,
এ হেন কালে ভীষ্ম দ্রোণ
গেলেন কোনখানে।”
ভারতমাতার জায়গায় ‘বঙ্গমাতা’ পড়ুন।“অন্ধকারে ঐ যে শোন/ বঙ্গমাতা করেন ‘গ্রোন’”। বলা হচ্ছে, “দেশ ডিজিটাল হচ্ছে। দেশে কোন জঙ্গি নাই। ব্লগার হত্যা, পুলিশি হয়রানি ইত্যাদি সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে”। তাই তো?
“দেশের দুখে সতত দহি
মনের ব্যাথা সবারে কহি,
এস তো করি নামটা সহি
লম্বা পিটিশানে।
আয় রে ভাই সবাই মাতি
যতোটা পারি ফুলাই ছাতি,
নহিলে গেল আর্যজাতি
রসাতলের পানে।”
আমরা তো আর এমনি এমনি টকশোতে আসি না। দেশের দুঃখে একটু কাঁদতে, কাঁদাতে; মনের কথা সকলকে বলতে আসি। দেশ যেন রসাতলে না যায়, সেই দিকেও খায়াল রাখি।
“কাগজ ভরে লেখো রে লেখা,
এমনি করে যুদ্ধ শেখো,
হাতের কাছে রেখো রে রেখো
কলম আর কালী!
চারটি করে অন্ন খেয়ো,
দুপুরবেলা আপিস যেয়ো
তাহার পরে সভায় ধেয়ো
বাক্যানল জ্বালি-
কাঁদিয়ে লয়ে দেশের দুখে
সন্ধ্যেবেলা বাসায় ঢুকে
শালীর সাথে হাস্যমুখে
করিয়ো চতুরালি।
আপনি ছাপোষা মানুষ। সকালে উঠে চারটা ভাত মুখে দিয়ে অপিসটপিস যাবেন, অপিসের ফাঁকে ব্লগে ফেসবুকে ঢুকে একটু দেশের দুখে কেঁদে নিয়ে সন্ধ্যাবেলা বাড়িতে এসে শালীর সাথে একটু হাস্যরস করে, আমাদের টকশো দেখুন। আপনার চিন্তা নেই, এভরিথিং ইজ ফেয়ার এন্ড লাভলি।
“আয়-না ভাই, বিরোধ ভুলি,
কেন রে মিছে লাথিয়ে তুলি
পথের যত মতের ধুলি
আকাশপরিমান?
পরের মাঝে, ঘরের মাঝে
মহৎ হব যে সকল কাজে,
নীরবে যেন মরে গো লাজে
মিথ্যা অভিমান।”
বেকার আমরা দলাদলি করি। আম্লিগ, বাম্লিগ, জামাত, হেফাজত, রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা সব এক। সবাই মোরা ভাই ভাই। কেন এই মতবিরোধ? মউদুদি মানুষ, জাফর ইকবালও মানুষ নাকি? সব ভুলে আসুন একটা সুন্দর ছবি ব্লগ কিংবা কবিতা পড়ি। লতা-পাতা-ফুল সবার প্রিয়।
“সবাই বড়ো হইলে তবে
স্বদেশ বড়ো হবে,
যে কাজে মোরা লাগাব হাত
সিদ্ধ হবে তবে।
সত্য পথে আপন বলে
তুলিয়া শির সকলে চলে,
মরণভয় চরণতলে
দলিত হয়ে রবে।
নহিলে শুধু কথাই সার,
বিফল আশা লক্ষ বার,
দলাদলি ও অহংকার
উচ্চকলরবে।”
সবাই একজোট হলে তবে না কাজ হবে। দলাদলি সব ভুলে আসুন দেশের কাজে লেগে পড়ি। একাত্তুরের মারামারিতে ভাইয়ে ভাইয়ে কত হাজার লোক মরেছে তা জেনে আমাদের লাভ কী! ওদের ত্রিশ হাজারও থাক, এদের ত্রিশ লাখও থাক। মাঝামাঝি একটা ধরি নাকি? দুই ভাইয়ে মিলে ইতিহাস রচনা করলে তবে না সাচ্চা সহিহ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইতিহাস হবে!
“বাহবা কবি! বলিছ ভাল-
শুনিতে লাগে বেশ-
এমনি করে বলিলে হবে
উন্নতি বিশেষ।
‘ওজস্বিতা’ ‘উদ্দীপনা’
ছুটাও ভাষা অগ্নিকণা,
আমরা করি সমালোচনা
জাগায়ে তুলি দেশ।
বীর্যবলে বাঙ্গালার
কেমনে বল টিকিবে আর,
প্রেমের গানে করেছে তার
দুর্দশার শেষ।”
“কী মধুর বচন! বানীতে কী আগুন। দলাদলিতে দেশ কী আর টেকে? তুমি যে প্রেমের গান গাইলে, যে সাম্যের পথ দেখালে, তাতে সব বিভেদ দূর হয়ে গেল।” আমরা বলছি। চমৎকার! প্লাস। কি সুন্দর কবিতা!
“যাক না দেখা দিন-কতক
যেখানে যত রয়েছে লোক
সকলে মিলে লিখুক শ্লোক
জাতীয় উপদেশ।
নয়ন বহি অনর্গল
ফেলিবে সবে অশ্রুজল
উৎসাহেতে বীরের দল
লোমাঞ্চিতকেশ।”
আসুন, বিভেদ ছেড়ে আমরা কবিতা লিখি, গান লিখি। গানে থাকবে প্রেম, ভালবাসা। পড়ে যেন চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় জল পড়ে। চোখের জলে ভেসে যাবে আস্তিক-নাস্তিক, মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকার ব্যবধান। গাহি প্রেমের গান।
“ঘরেতে ফিরে খেলো গে তাস,
লুটায়ে ভুয়ে মিটিয়ে আশ
মরিয়া থাক বারোটি মাস
আপন আঙিনায়।
...............
তরল হাসি-লহরী তুলি
রচিয়ো বসি বিবিধ বুলি,
সকল কিছু যাইয়ো ভুলি
ভুলো না আপনায়।”
তা তো বটেই। তা তো বটেই। নতুন একটা প্রেমের কবিতায় হাত দিয়েছি। এই তো মাঝ পথে।
“আমিও রব তোমারি দলে
পড়িয়া এক-ধার!
মাদুর পেতে ঘরের ছাতে
ডাবা হুঁকোটি ঘরিয়া হাতে
করিব আমি সবার সাথে
দেশের উপকার।
বিজ্ঞভাবে নাড়িব শির,
অসংশয়ে করিব স্থির
মদের বড়ো এ পৃথিবীর
কেহই নহে আর।”
আমিও তোমাদেরই দলে। তোমারা কবিতা লিখ, আমি পড়ি। আমিও লিখে। তোমাদের ভাল লাগে।
যদিও এদিকে-
“হেথায় দেখো খাটিয়া মরে
দেশে বিদেশে ছড়ায়ে পড়ে,
জীবন দেয় ধরার তরে
স্লেচ্ছ সংসার।
ফুকাব তবে উচ্চরবে
বাঁধিয়া এক-সার-
মহৎ মোরা বঙ্গবাসী
আর্য পরিবার”
কোথাকার কোন আরিফ রহমান খেটে মরে, কোথায় জাফর ইকবাল কী বকে, তার ধার ধেরে আমাদের কী লাভ? আমরা তারচেয়ে শিল্প চর্চা করি। “আনন্দধারা বহিছে ভুবনে।”
*****
আমার কাজ শেষ। এবারে সমালোচক হয়ে গেলাম। কাব্য সমালোচক। বাকিটাও আপনারা সাথে থাকলে হয়ে যাবো।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা মার্চ, ২০১৬ রাত ৮:০৩

রাইসুল ইসলাম রাণা বলেছেন: কোথাকার কোন আরিফ রহমান খেটে মরে, কোথায় জাফর ইকবাল কি বকে, তার ধার ধেরে আমাদের কি লাভ? আমরা তারচেয়ে শিল্প চর্চা করি। "আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে"। :)

০২ রা মার্চ, ২০১৬ রাত ৮:৪৭

উৎস আরণ্যক বলেছেন: আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে

২| ০২ রা মার্চ, ২০১৬ রাত ১১:২০

রাবেয়া রব্বানি বলেছেন: প্লাস

৩| ০৩ রা মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৫

উল্টা দূরবীন বলেছেন: খেক খেক =p~

৪| ০৩ রা মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:৫২

অগ্নি কল্লোল বলেছেন: ভাল!

৫| ১৩ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:২৬

বিজন রয় বলেছেন: ভাল লিখেছেন।
+++

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.