নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আফনানের নিকেশ জগৎ.....।

আফনান আব্দুল্লাহ্

প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের গল্প তার আঙ্গুলের ছাপের মতই ভিন্ন। দূর থেকে এক মনে হলেও যতই তার গভীরে যাবে কেউ ততই বৈচিত্রময় বিভিন্নতা পাবে। নিজের জীবনের গল্পে চরে বেড়ানো মানুষগুলো সবাই’ই যার যার জগতে বন্ধী। সহস্র বছর বাঁচতে পারলে পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের গল্প আমি শুনতাম।নিজের দেখা জগৎ দেখা আদেখা মানুষদের জগতের সাথে গেঁথে নিতেই লিখি এবং আন্যের লিখা পড়ি। কেউ যদি মিথ্যুক বা ভন্ড না হয় তাহলে তার যে কোন ভিন্ন মতের কারন তার চার পাশের ভিন্ন জগৎ, ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন শিক্ষা। তাই মানুষকে বুজতে হলে তার জগৎটাকে জানতে হবে, তার গল্পগুলো শুনতে হবে।আফনান আব্দুল্লাহ্

আফনান আব্দুল্লাহ্ › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্প – সালেহার জিন জেঠু।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪১

প্রায় বিশ কিলো হেঁটে সালেহা বেগম যখন মির্জাপুর গ্রামে পৌঁছান, তখন প্রায় বিকাল। এখানে মিয়া বাড়িতে থাকবেন। মায়ের কাজিন সূত্রের এক খালার বাড়ি। গ্রামের রাস্তায় ঢুকতেই লোকজনের সতর্ক চোখ তার পিছু নিল। মাঝবয়সী, শাড়ি পরা একজন গ্রাম্য মহিলা, হাতে পলিথিনের পুটলা নিয়ে ধুলো পথে হেঁটে যাচ্ছেন। খুবই সাধারণ এই দৃশ্য আগ্রহ ভরে দেখার কিছু নেই। তবু সালেহা বেগম এই আগ্রহ মানুষের মাঝে ছড়াতে পেরেছেন। এরাই পরে তার ব্যাপারে গল্প ছড়াবে যে সালেহা বেগম হাঁটেন না, রাস্তায় উড়ে উড়ে চলেন। কিছু খান না, হাওয়া আর রোদ হলেই চলে তার।

মিয়া বাড়ির উঠানে খালাতো ভাই আর ভাবী কোনো কথা না বলে সালেহার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বোঝার চেষ্টা করল। সালেহা মুচকি হেসে মুখ খুললেন – “ভালো আছিসরে, ফিরোজা, সালেহাকে নিয়ে আসলাম। দু-এক দিন থাকুক তোদের সাথে। পরে এসে আবার নিয়ে যাবো।” বেশ ভারী গলা।

এইবার ফিরোজা যেন কিছু বুঝতে পেরে মাথায় ঘোমটা টেনে বললেন – “আসসালামুওয়ালাইকুম, জেঠা। ভালো করেছেন এসে। ঘরে উঠেন।”
সালেহা বললেন – “না, পরে আবার আসবো। সালেহা বেশ ক্লান্ত, সে ঘুমাক।”
ফিরোজা বললেন – “একটু পান খেয়ে যান। আম্মা থেকে একটু পান এনে দেই?”
সালেহা বললেন – “আচ্ছা, দে। একটা পান খেয়েই যাই।”
ফিরোজা উঠান থেকে রাহেল মিয়াকে ডেকে তার দাদির থেকে পান আনতে পাঠালেন। রাহেল ফিরোজার বড় ছেলে। ল পড়া শেষ করে ঢাকা বারে মেম্বার হয়ে প্র্যাকটিস করছে। ছুটিতে বাড়ি এসেছে। ইশারা বুঝে রাহেল পান এনে সালেহাকে সালাম দিয়ে বলল – “নানা, কেমন আছেন? এই নেন পান।” সালেহা সালাম নিয়ে পান মুখে দিয়ে বললেন – “ভালো আছি, রাহেল। তোমার কোর্ট-কাচারি কেমন চলছে?”
“ভালো নানা।”

সালেহা এরপর ফিরোজার দিকে ফিরে বললেন – “সালেহাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছি। ঠিক আছে, ফিরোজা?” ফিরোজা রুম দেখিয়ে দিলেন। রাহেল অবাক হয়ে সালেহার পান খেতে থেতে ঘরের ভেতরে যেতে দেখল। তার এই সালেহা ফুফু কিন্তু পান খান না।
সালেহা চক্রাকারে বিভিন্ন আত্মীয় বাড়িতে ঘুরে বেড়ান। দু-তিন বছরে দু-একবার এ বাড়ীতে আসেন। মনে করলে দেখা যাবে, সালেহা যেদিন যে গ্রামে যান, ওই দিনই সেখানে কোনো না কোনো ঘটনা ঘটেছে। কেউ মারা গেছে, বিয়ে হচ্ছে, চুরি হয়েছে, নয়তো কাউকে জিনে ধরেছে। কিন্তু আজকে মির্জাপুরে যা ঘটেছে, দশ গ্রামের ইতিহাসে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা কখনো ঘটেনি।

ফিরোজাদের পাশের ঘরের বশির মিয়ার বাড়িতে কয়েক মাস ধরে কাজ নিয়ে থাকছিল জামিলা আর তার বছর তিনেক বয়সী মেয়ে মিনি। জামিলা সারাক্ষণ মেয়েকে চোখে চোখে রাখে। মিনি দুষ্ট আর চঞ্চল বাচ্চা। এর-ওর কাছে হরহামেশা বকা খেত। জামিলা তেড়ে যেত কেউ মিনিকে একটু জোরে বকা দিলেই। জামাই ছেড়ে যাওয়ার পর মিনিই তার জীবনের সব। বশির মিয়ার মূল ঘরের বাইরে পাকা রান্নাঘর। সেখানে বেড়ার পার্টিশান দিয়ে মেয়েকে নিয়ে জামিলার সংসার। রাহেল বাড়িতে আসলে তার সাথেও ভালো জমত মিনির।

আজ ভোররাতের দিকে জামিলার কান্নাকাটিতে বশির মিয়ারা রান্নাঘরে গিয়ে দেখে, মিনির মরা শরীর ধরে জামিলা কাঁদছে। তার দাবি, রাতে কেউ এসে রান্নাঘরের বটি দিয়ে তার মেয়েকে কেটে মেরে ফেলেছে। ঘর ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। বশির মিয়া আর তার বউ কান্না শুনে আসার পর জামিলাই রান্নাঘরের দরজা খুলে দেয়। সকালেই পুলিশ আসে। জামিলা চিৎকার করে দাবি করতে থাকে, এইটা জিনের কাজ। কাল দুপুরে সে অশথ তলায় পাতা কুড়াতে গিয়েছিল। সেখান থেকেই তার সাথে জিন এসে ঢুকেছে ঘরে। রাতে নিশ্চয় জিনের কোনো খারাপ মতলব ছিল জামিলাকে নিয়ে। রাতে মিনি বারবার জেগে উঠায় সুবিধা করতে না পেরে জিনটা মিনিকে মেরে ফেলে গেছে।
গ্রামের সীমানায় মসজিদ, তার পাশে দীঘি, দীঘির পারে কবরস্থান। তার পাশের সুপারিখোলায় রান্নার জন্য শুকনা পাতা কুড়াতে যায় ঘরের বউ আর মেয়েরা। সেই কবরস্থানের বহু গাছগাছালির একটা হলো পুরনো অশথ গাছ। গত বছর শহীদ মিয়ার মেজ মেয়ে রানুকে জিনে ধরেছে এই অশথ গাছ থেকেই। তাই মির্জাপুর গ্রামের মানুষ ধরে নেয়, পুরনো অশথ গাছে বড় খারাপ জিন আখড়া ফেলেছে। না হয় জামিলা কেন তার এত আদরের মেয়েকে মারতে যাবে। তবু জামিলার বলা জিনকে যেহেতু ধরা যায় না, তাই আলামত দেখে দুপুরের পর জামিলাকে পুলিশ বেঁধে নিয়ে যায় নিজের মেয়েকে খুনের দায়ে। আর তার পরেই বিকেলে গ্রামে হাজির হয়েছেন সালেহা বেগম।
সালেহা বেগমের ঘুম ভাঙে সন্ধ্যার পরে। উঠে ঘোমটা টেনে তার ফিরোজা ভাবীকে পা ছুঁয়ে সালাম করেন। বলেন – “ভাবী, কেমন আছেন আপনারা? জেঠা কখন দিয়ে গেছেন আমাকে?” সালেহা ফিরাজাকে ভাভীই ডাকেন। আর জেঠা ডাকেন নাম ধরে।

ফিরোজা বলেন – “বিকেলে। হাত-মুখ ধুয়ে খেতে আস। তোমার কি কিছুই খেয়াল থাকে না যখন জেঠা থাকেন? তোমাকে কোথায় কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন বুঝ না?”

সালেহা বলেন – “কীভাবে বুঝবো বলেন, ভাবী। আমার শরীরতো আর আমার থাকে না।”
কাচারি ঘরে রাতে হাই স্কুল পড়ুয়া চাচাতো ভাই রইছ রাহেলকে জিজ্ঞেস করল – “ভাইয়া, তোমার দেওয়া পান তো দেখলাম সালেহা ফুফুই চিবাচ্ছিলেন, তাহলে শেষে কার পেটে গেল ওটা? ওনার নাকি ওনাকে ভর করে থাকা জেঠার পেটে?”

রাহেল বললো – “ধুর, বাদ দে। বহুত আড্ডা হইছে। এইবার পড়তে বস সবাই।” কিন্তু এমন ঘটনা বহুল দিনে পড়া কি আর হয় কারো।
রাহেল দাদী, মা, বাবার কাছ থেকে জানা সালেহা বেগমের জেঠা-বৃত্তান্ত শুনাতে লাগল তার জুনিয়র কাজিনদের।

ছোটবেলায় সাপের কামড়ে নিজের মা মারা যাওয়ার পরে সৎ মায়ের সাথে বড় হয় সালেহা বেগম। বাবা থাকত শহরে। গ্রামে ছিলেন সালেহার জেঠা, জেলার সরকারি কলেজে অনার্স কোর্সে সাইকোলজির টিচার। গ্রামে নিরিবিলিতে প্রচুর পড়াশোনা করতেন। লিখতেনও প্রচুর। গ্রামে বসেই দেশে-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে তার লেখা ছাপাত। সালেহা ছিলেন তার নিত্যদিনের সহচর। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে বই পড়তে অভ্যস্ত হয়ে যায় সালেহা। প্রায় সারাক্ষণ জেঠুর সাথে থাকলেও সৎ মায়ের আদরও কম ছিলো না সালেহার জন্যে। তবু তার জীবনে সেই সন্ধ্যাটা আসে।

সালেহার বয়স তখন দশ কি এগারো। সেদিন সকালে তার জেঠু স্ট্রোক করেন। বিকাল পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ করে বাবা, মা, সাথে সালেহা সবাই ক্লান্ত। সন্ধ্যার আগে যখন বাবা হসপিটালে, ছোট্ট সৎ ভাইটা ঘুমাচ্ছে, তখন মা মরিয়ম বানু বলেন – “সালেহা চল, আমরা বিছনা হইরা থেকে ঘুরে আসি। মন খারাপ করে বইসা থাইকা লাভ নাই। বর্শী দুইটা নে। কয়টা মাছ ধরা যায় কিনা দেখি।”

বাড়ি থেকে দূরে, জঙ্গলের মাঝে একটা পুকুর। সেটাকে বলে বিছনা হইরা। এই পুকুর পারে বসে জেঠু বই লিখতেন নিরিবিলিতে। সালেহা তার আশপাশে ঘুরত। একদিন সে একটা মাছরাঙার দিকে ছুটতে গিয়ে পানিতে পড়ে গিয়েছিল। – “ও জেঠা, ও জেঠা” বলে চিৎকার দিতেই জেঠা হাতের সদ্য লেখা জার্নালসহ পানিতে ঝাপ দেন। এরপর তিনি আর সালেহাকে ওখানে নেননি। বলেছেন – “তুই আগে সাঁতার শিখে নে, তার পর যাবি।”

সেই ঘাট ছাড়া খাড়া পারের পুকুরে আজ তার মা মরিয়ম আবার তাকে নিয়ে এসেছেন। কলাপাতায় বসে বর্শীর ছিপ ফেলে মরিয়ম মেয়েকে বললেন – “দেখ, কত সুন্দর রঙিন রঙিন পাখি। আমি মাছ ধরি, আর তুই একটা পাখি ধর দেখি।” সালেহা আজ আবারও মাছরাঙার পিছু নেয়, আবারও পুকুরে পড়ে যায়। আবারও “ও জেঠু, ও জেঠু” বলে চিৎকার করে। মা মা বাদ দিয়ে জেঠা জেঠা বলে চিৎকারটা মরিয়ম বানুর কান দুটোকে আরও বেশি বন্ধ করে দেয়। চিৎকার থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন তিনি।

সূর্য ডুবছে এমন সময় মরিয়ম বেগম শাড়িতে কাদা-পানি মেখে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি আসেন। সকালের এক বিপদের মধ্যে আরেক বিপদ মাথায় নিয়ে বাড়ির সব ঘরের লোকজন জড়ো হয়ে পুকুরের দিকে ছুটে যায়। সালেহার মা-ও পিছু পিছু আবার যাচ্ছিলেন। তখনই ভেতরের ঘর থেকে সালেহার জেঠা ডেকে বলেন – “মরিয়ম। এত অস্থির হচ্ছ কেন? সালেহার কিছুই হয়নি। আরে, আমি তো সাঁতার জানি।”

মরিয়ম বললেন – “ভাইজান, আপনি সাঁতার জেনে ঘরে বসে থাকলে তো হবে না। পুকুর থেকে মেয়েটাকে তো তুলতে হবে।” বলতে বলতেই মরিয়ম বেগমের মনে হলো, আরে, সালেহার জেঠা আজগর সাহেব তো হসপিটালে। বাড়িতে কখন আসলেন? অবাক হয়ে ঘরের ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখলেন, সেখান থেকে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে আসছে সালেহা। তার সারা গা ভেজা। চুল থেকে তখনো পানি পড়ছে। তীক্ষ্ণ চোখে সে মরিয়ম বানুর দিকে তাকিয়ে বলল – “তুমি অত অস্থির হয়ো না, মরিয়ম। সালেহাকে আমি দেখে রাখছি তো।” ভারী গলা। মরিয়ম বেগম জ্ঞান হারালেন। সেই রাতে তীব্র জ্বর উঠল তার। ঘটনার তৃতীয় দিন মরিয়ম বেগম মারা গেলেন। জঙ্গলে বিছনা হইরা থেকে জোগাড় হওয়া জিন জেঠুই সাঁতার না জানা সালেহাকে পুকুর থেকে তুলে বাড়িতে দিয়ে যান। এই উপসংহার টেনে গ্রামের সবাই যার যার সংসারের কাজে মনোযোগ দিল। সেই থেকে সালেহার জীবনে জিন জেঠার আবির্ভাব। তার ভেতরে যখন সেই জেঠা আসে, তখন সালেহা ঘুমিয়ে পড়েন নিজের শরীরে, যতক্ষণ না জেঠা তাকে ছেড়ে না যায়।

রইছ জিজ্ঞেস করল – “ভাইয়া, হসপিটালে জেঠুর কী হয়েছিল?”

রাহেল বললো – “জেঠু সপ্তাহ খানেক পরে বাড়ি ফিরেছিলেন। তবে পুরোপুরি বিছানা ছাড়েননি আর। বছর খানেক পরে তিনি মারা যান। জেঠার মতোই বড় কিছু হওয়ার চিন্তা ছিল সালেহা ফুফুর। কিন্তু তিনি জেঠার মতো হতে পারেননি। গ্রামেই রয়ে যান। তবে আয়ত্ত করেন প্রচুর পড়ার অভ্যাস। তার নিঃসন্তান জেঠুর রেখে যাওয়া পুরো লাইব্রেরি তার হাতে চলে আসে। উনার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সংসার টেকেনি। ফিরে আসেন সেই লাইব্রেরিতে একা বাকি জীবন কাটাতে।”

পরদিন সন্ধায় রাহেল দেখল সালেহা হারিকেনের আলোয় কষ্ট করে একটা বই পড়ছে। রাহেল নামটা পড়ল – দ্য মাইন্ডস অব বিলি মিলিগান, লেখক ড্যানিয়েল কিস। রাহেল বুঝল সালেহা ফুফুর জেঠা ফেরত এসেছেন।
রাহেল – “নানা, কী পড়ছেন?” বলে এগিয়ে গেল। সালেহা ফুফুর ভেতরের জেঠাকে রাহেল নানা ডাকে।
নানা বই থেকে চোখ না তুলেই বললেন – “মানুষের ভেতর মানুষ নিয়ে লেখা।”
রাহেল পাশে বসে পড়ল। – “মানুষের ভেতরে আবার মানুষ থাকে নাকি?”
নানা বই বন্ধ করলেন। – “থাকে। আমরা বলিনা তোর কথায় আমার ভেতরটা একে বারে ভেঙ্গে গেছে। এই ভাঙ্গা আংশ গুলো আলাদা আলাদা মানুষ হয়ে উঠতে পারে। যাই হোক। তুই এত চিন্তিত কি নিয়ে?”
রাহেল কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল – “নানা, তুমি তো এর মাঝে পুরো ঘটনা শুনেছ এর-ওর কাছে। তোমার কি মনে হয়? মিনির তদন্তটা ঠিকভাবে আগাচ্ছে?”

নানা তাকালেন। - “পুলিশ কাছাকাছি গেছে। কিন্তু খুনিকে ধরতে পারেনি। সে হারিয়ে গেছে।”
রাহেল অবাক হয়ে বলল – “বলেন কী নানা! জামিলাকে তো ধরেছে। তার মানে কি খুনি অন্য কেউ? পাকা দালানের রান্নাঘর ভেতর থেকে বন্ধ ছিল তো।”
নানা ধীরে ধীরে বললেন – “না। যতটুকু দেখলাম আর জানলাম, তাতেতো সহজে জামিলাকেই খুনি মনে হবে। কিন্তু বলছি যে পুলিশ মূল খুনিকে এখনো ধরতে পারেনি। সে লুকিয়ে আছে গহীনে।”
রাহেল চুপ করে রইল। নানা বললেন – “এতক্ষণ মানুষের ভেতরের মানুষ নিয়ে যা বলছিলাম, সেটা আরো ভালো করে বুঝিয়ে বলি। শুন।” রাহেল আরও কাছে এগিয়ে এল।

নানা বললেন – “ধর, এক জন খুব ভয় পেয়েছে, না হয় খুব কষ্ট। এতে তার মনের ভেতরটা ভেঙে চুরে গেলো। তখন সে এমন কাউকে খোঁজে, যে পরিস্থিটা সামলাতে পারবে। সে নিজের ভেতরটাকে টুকরো করে একটা টুকরো দিয়ে সেই মানুষটাকে বানিয়ে নিতে পারে। সে যা হতে পারেনি, তার ভেতরের টুকরো হয়ে যাওয়া স্বত্তাটা সেটাই হয়ে যায়। সেই অংশটা সুখী মানুষ। আরেক টুকরো দুঃখী মানুষ। এরকম আরো টুকরো হতে পারে। যেমন এই বইয়ের বিলি মিলিগানের ভেতরটা ছোটবেলার ট্রমায় ভেঙে চুরে ২৩টা টুকরো হয়ে যায়। আর এভাবে তার ভেতরে তেইশ জন মানুষ বসবাস করতে লাগল।”

রাহেল বলল – “অদ্ভুত। এই সত্তাগুলো কীভাবে বেঁচে থাকে এক শরীরে?”

নানা বললেন – “আমাদের ভেতরটা একটা অন্ধকার ঘর। ইন্দ্রিয় দিয়ে, মানে চোখ, কান দিয়ে সেই ঘরে বাইরে থেকে আলো আসে। অন্ধকার গুহায় কোনো সুড়ঙ্গ দিয়ে যেভাবে আলো ঢোকে, তেমন। মানুষের নিজের ভাঙাচোরা টুকরোগুলো সেই ঘরে ছোটাছুটি করে ঐ আলোর রেখার সামনে দাঁড়াতে। যেখানে আলো পড়ে, সে জায়গাটাকে এই বইয়ে বলা হয়েছে স্পট। তার ভেতরের যে টুকরো অংশ স্পটে, মানে ঐ আলোর বৃত্তে দাঁড়াতে পারে, তার সাথেই তখন আমরা বাকিরা যোগাযোগ করতে পারি।”

রাহেল বললো – “মানে, যখন যে ব্যক্তিত্ব ওই আলোর ওপর গিয়ে দাঁড়ায়, বাস্তব পৃথিবীতে হোস্টের শরীর ও মুখ দিয়ে তখন কেবল সেই ব্যক্তিত্বই প্রকাশ পায়?”

নানা বললেন – “ঠিক তাই। থিয়েটারের মঞ্চে যেভাবে যখন যে চরিত্রের উপর আলো ফেলা হয়, তাকেই দর্শকরা দেখে। তেমন অনেকটা। পার্থক্য হচ্ছে, মঞ্চের বাকি চরিত্রগুলো তখন আলোয় থাকা চরিত্রটা কী করছে তা মনে রাখে না। খুবই ভয়ঙ্কর জীবন। চিন্তা কর, একটু পর পরই একজন মানুষ জ্ঞান হারাচ্ছে, আবার জ্ঞান ফিরে পাচ্ছে। ভুলে যাচ্ছে গত কয়েক ঘণ্টা তার জীবনে কী ঘটেছে। তারই শরীর নিয়ে আরেকজন মানুষ কোথায় কোথায় চলে যাচ্ছে।”

রাহেল বললো – “তুমি বলছ জামিলার ভেতরেও এমন আরেকজন কেউ বাস করছে, যে খুনটা করে বসেছে।”
নানা বললেন – “বন্ধ রান্না ঘরে বাইরের কারো ঢোকার প্রমাণ নেই। নিজের অতি আদরের ছোট্ট মেয়েকে নিজ হাতে মারার কোনো মোটিভই জামিলার নেই। যেটা হতে পারে, তার ভেতরে লুকানো তারই কোন স্বত্বা কাজ করেছে। কোনো তীব্র কষ্ট, বা না-পাওয়া কোনো বাসনা থেকে তার ভেতরে এই দ্বিতীয় সত্তাটি তৈরি হয়েছে। রাতে একা ঘরে কোনো এক পরিস্থিতিতে ঐ সত্তা আসছে, আবার চলে যাচ্ছে। বিচার করতে হবে তার ঐ খুনে সত্তাটার। তার জন্যে তার মাথার ভেতরের ঐ খুনি সত্তাটাকে ধরে আটকাতে হবে।”
রাহেল বলল – “কীভাবে ধরবেন?”

নানা বললেন – “আলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খুঁজতে হবে জামিলার ভেতরের খুনিকে। যেন একটা অন্ধকার কুয়ায় দুজন মানুষ পড়ে গেছে। এখন টর্চ মেরে মেরে খুঁজতে হবে কোন জন কোথায় লুকিয়ে আছে।”
রাহেল বললো – “কীভাবে করবে?”
নানা বললেন – “টর্চের আলো ফেলে খোঁজা মানে হলো তার ভেতরের সাথে আমাদের যোগাযোগ। কথা বলার মাধ্যমে তার ভেতরের আলোর স্পটটার নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। জামিলাকে আবার একই মানসিক অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। যে পরিস্থিতিতে তার ভেতরের খুনিটা স্পট এ আসে। তাই বুঝতে হবে তার ভেতরে এই খুনি কেন তৈরি হলো। কিন্তু চ্যালেঞ্জ হলো যে কোনো সময় খুনি আবার জামিলার মাঝে হারিয়ে যেতে পারে।”

নানা থেমে আবার বললেন – “স্পট নিয়ন্ত্রণ করতে হলে হোস্টের ভয়, স্মৃতি, অপরাধবোধ, আকাঙ্ক্ষা সবকিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হবে আমাদের।”
রাহেল বলল – “তার যে সত্তাই খুন করুক, মূলত জামিলাই তো করেছে। প্রমাণ হলে তো তাকে ফাঁসি দিয়ে দিবে বলা যায়।”
নানা বললেন – “ভয়ঙ্কর ভুল বিচার হবে। কারণ জামিলা জানবেই না যে সে খুন করেছে। সে জানবে কেউ তার আদরের মেয়েকে খুন করেছে, আবার সেই অপরাধে তাকেও ফাঁসি দিচ্ছে। কত বড় অন্যায়!”
রাহেল বললো – “তাহলে এর সঠিক বিচার কীভাবে হবে নানা?”

নানা বললেন – “সঠিক বিচারের জায়গা তো দুনিয়া না রে রাহেল। বিচার তো হবে হাশরে। খোদার পক্ষেই সম্ভব সকল সত্তাকে এক জায়গায় হাজির করা। তুই অপরাধ করিস আর তোর অন্য সত্তা করে, যাকে তুই জিন, পরী যাই বলিস, খোদা তোর সব অংশকেই পাকড়াও করবেন। তোর মনের যত অন্ধকারেই খুনিটা লুকিয়ে থাকুক, খোদা তো সবই দেখছেন। মানুষ আর মানুষের ভেতরের জিন সবাইকেই তিনি চিনেন। কুরআনে তো বলাই হয়েছে, মানুষ এবং জিন উভয়েরই বিচার হবে।”

রাহেল বললো – “তা হলে কি এমন হবে যে হাশরের মাঠে জামিলার দুই সত্তা আলাদা হয়ে একটা বেহেশতে, আরেকটা দোজখে চলে যাবে? একটা মানুষ আরেকটা জ্বীন?”

নানা বললেন – “প্রচলিত ধারণায় এই আলোচনা উদ্ভট লাগতে পারে। কিন্তু এমনতো হতেই পারে। দেখ তোদের গ্রামের ইতিহাসে যে কয় জনকে জীনে ধরেছে সবারই জীন এসেছে অশথ গাছ থেকে। কারন কি? জীন কি অন্য গাছে থাকতে পারে না?”
রাহেল চিন্তা করে বললো- “কেউ যদি বলে তার ভেতরের জীনটা অন্য কোন গাছ থেকে এসেছে, তাহলে গ্রামের লোকজন সন্দেহ করবে। যেহেতু তারা বিশ্বাস করে আগের জীনগুলো অশথ গাছ থেকেই এসেছে।”

নানা বললেন –“চমৎকার। মানুষের ভেতরের ভিন্ন স্বত্তাটা নিজেকে বাইরের পরিচিত জগতে জীন পরী বলে পরিচয় দেয়। নিজেকে টুকরো করে যে ভিন্ন স্বত্তা তৈরী হলো সেও তো কাজ কর্ম করছে। তারও আমলনামা তৈরী হচ্ছে। হাশরের মাঠেতো এই জীন তাই বিচারের উর্ধে থাকতে পারেনা। দুনিয়ায় জোড়া মাথায় জন্ম নিয়ে জমজ মানুষদের কত কষ্ট। এখানে তো একাধিক মানুষ একই শরীর ব্যাবহার করতেছে! পরকালে যদি আলাদা সত্তাগুলো আলাদা শরীর পায় আর কর্ম অনুযায়ী আলাদা আলাদা ফল পায়, তাহলে কি তাই ভালো না?”
রাহেলেরও মনে হলো – “হ্যাঁ, তাই ভালো। কিন্তু পরকাল কেন। এই কালেই আমরা দ্বীতিয় স্বত্তাটাকে খুঁজে নেই না কেন?”

রাহেল জামিলার কেসটা আইনি লড়াই করতে যায়। তার দরকার কোর্টকে বোঝানো, জামিলার এই দ্বৈত সত্তার কথা। তাহলে জামিলাকে আবার ঐ রান্নাঘরে ঢুকাতে হবে। তার ভেতরের স্পট নিয়ন্ত্রণ করতে অতি দক্ষ মনোবিদ হতে হবে। এই কাজ এখানে করতে পারবে কেবল সালেহা ফুফুর জিন জেঠু, যিনি তার সাইকোলজির প্রফেসর জেঠুর বই আর থিসিস পড়তে পড়তে নিজেই একজন অতি দক্ষ সাইকিয়াট্রিস্ট হয়ে গেছেন। ফুফু যখন যে বাড়িতে যান, মানুষজন সম্পর্কের বিভিন্ন টানাপড়েনের সমাধান নিতে তার ভেতরে থাকা জেঠুর কাছে আসেন।

কিন্তু এখন রাহেল সালেহা ফুফুর ভেতরে থাকা জিন জেঠুকে বুঝতে পারছে। যাকে সে নানা ডাকছে, তিনিও তো সালেহার ভেতরে ডুবে থাকা আরেক সত্তা। পানিতে ডুবে মরতে গিয়ে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলেন সালেহা ফুফু সেই সন্ধ্যায়। তার ভেতরটা ট্রমায় ভেঙে গিয়েছিল । তৈরি হয় তাকে উদ্ধারকারী তারই দ্বিতীয় টুকরো “জেঠু”। এক দ্বিতীয় পার্সোনালিটি আরেকজনের ভেতরে থাকা খুনে পার্সোনালিটিকে ধরে রাখবে কীভাবে? যেখানে আরেকজনের স্পট নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে নিজেই যে কোনো সময় স্পট হারাবে।

রাহেল এই মহাসংগ্রামে জয়ী হয় প্রাথমিকভাবে। পুলিশ রাজি হয় না। যদিও তারা কোনোভাবেই জামিলার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি পাচ্ছিল না। কিন্তু স্থানীয় আদালতের বিচারক রাহেলকে চিনতেন। তিনি ব্যাপারটা পুরো না বুঝলেও রাহেলের খাতিরে জামিলাকে পুলিশের পাহারায় ঐ রান্নাঘরে আবার নিতে বলেন। খুনের মোটিভ তো বুঝতে হবে আদালতকে। তৈরী হলো একই রকম রাতের পরিবেশ। স্রেফ বাচ্চাটা নেই। ভেতরে জেঠু ঢুকে জামিলার সাথে গল্প শুরু করলেন। জামিলা তার পুর জীবন বৃত্তান্ত বলে গেলো। বাচ্চাটাকে নিয়ে সারাক্ষণ বিলাপ করলো। কিন্তু তাকে মেরে ফেলার কোন আলোচনায় ঢুকলো না। এক পর্যায়ে সে ঘুমিয়ে পড়ল। পুরো মিশন ফেইল। ঘরটা ঘিরে দাঁড়ানো পুলিশ আর রাহেল যখন জেঠুকে ডেকে নিতে যাবে, তখনই হঠাৎ গোঙানির শব্দ শোনা গেল। কেউ যেন গলা চেপে ধরেছে কারও।

– “তোরা আমারে ঘিরে রাখচ সারাটা দিন। তোদের জন্যে আমার ভালো একটা বিয়ে হচ্ছে না। কী পাইছিস, হু, কী পাইছিস।” ক্রদ্ধ জামিলার কন্ঠ। যে জামিলা বিলাপ করতে করতে ঘুমিয়েছিলো এ সে নয়।
সালেহা ফোঁফাতে ফোঁফাতে বলছেন – “ছাড়, ছাড়, জামিলা।”
জামিলা বললো – “আমি জামিলা না, সামিরা। আমি কি সারা জীবন তগো কাম করমু আর মাইয়ার গু-মুত সাফ করমু। আমার জীবন নাই, যৌবন নাই? আমার বেড়ানো নাই, শরীর নাই, বিয়া নাই?”
সালেহা গোঙাতে গোঙাতে বলছেন – “তোমার বিয়ে আমি কীভাবে দিবো। ছাড়, আমার গলা ছাড়।”
সামিরা ছাড়ছে না – “মাইয়ার কাম সব আমার! মাইয়া থাকলে আমারে কে বিয়া করবো? মাইয়া গেছে, এইবার কিনা আবার তোরা আমারে ঘিরে রাখছস! সবগুলারে শেষ কইরা ফেলমু।”

রাতে এক পর্যায়ে জেঠু ক্লান্ত এবং ঘুমন্ত সালেহাকে রেখে চলে গিয়েছিলেন। বাইরে থেকে রাহেলরা বুঝতে পারেনি। সালেহাও জামিলার পাশে ঘুমিয়ে পড়েছিল। জেঠু যতক্ষণ ছিলেন, ভেতর থেকে দরজা খোলা ছিল। এখন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ঘরে খুনি সামিরার সাথে সহজ-সরল সালেহা আটকে আছেন। সামিরাকে বসে আনতে পারবে কেবল জেঠু। যিনি কিনা ঘুমন্ত সালেহাকে ছেড়ে গেছেন বেশ কিছুক্ষণ আগে।

পুলিশ দরজা ভাঙতে শুরু করে।

সামিরার হাতে বেশ জোর। সালেহা হঠাৎ চোখে সব অন্ধকার দেখলেন। যেন তিনি আবার পানিতে ডুবে গেছেন। কালো পুকুর। সেখানে কোনো শব্দ নেই, আলো নেই, অনুভূতি নেই। কিছুই নেই। দূরে একটা আলোর রেখা এসে ঢুকেছে সেই অন্ধকারে। সেখানে শব্দ আছে। সালেহা সাঁতরে সেখানে যেতে পারছেন না। দেখলেন, তার পাশ থেকে অন্য কেউ অন্ধকার পুকুরে সাঁতরে ঐ আলোর স্পটে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। এক জীবনে সালেহা অসংখ্যবার এই অন্ধকার পুকুরে পড়েছেন, অসংখ্যবার এই অন্য কেউ তাকে আলো দেখিয়েছে, তার শরীরটাকে সাঁতরে টেনে তুলেছে।

রাহেলরা দেখে, হঠাৎই ভেতর থেকে দরজা খুলে গেছে।
– “ভেতরে আস রাহেল।” সালেহার গলা ভরাট। জেঠু ফেরত এসেছেন। সালেহার বিপদে তিনি আসবেনই। রাহেলরা ভেতরে ঢুকলে বললেন, “কেন খুন করেছে, সেটাতো বুঝতেই পারছ। শুনেছ তো সব, তাই না?”

পুলিশ এবং রাহেল মাথা নাড়ল সম্মতিতে। জামিলাকে পুলিশ আবার ধরে নিল। বলা ভালো সামিরাকে। রাহেল অবাক হয়ে খেয়াল করল, জামিলার চোখে-মুখে প্রচণ্ড ভয়। নিজেই দ্রুত পুলিশের গাড়িতে উঠে বসল। ঐ রাতে জামিলার জ্বর আসল। পরদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হলো। সেখানেও সে নিজেকে সামিরা বলেই দাবি করছিল। পরের সপ্তাহে তাদের কোর্টে হাজিরা ছিল। কিন্তু চতুর্থ দিনের মাথায় জামিলা তার স্পটে সামিরা থাকা অবস্থাতেই মারা গেল।

নানা সালেহাকে নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন, তার পলিথিনের পুটলিতে কিছু কাপড় আর কিছু বই নিয়ে।
রাহেল বিদায়ের সময় বললো – “নানা, সামিরার সাথে তো জামিলাও মারা গেল। সঠিক বিচার কি হলো?”
নানা বললেন – “দুনিয়া ঠিক বিচারের জায়গা না রে রাহেল। বিচার হবে হাশরে।”

রাহেল সালেহার দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে হলো, সালেহা ফুফুর চোখের ভেতর দিয়ে একটা অন্ধকার ঘর দেখছে সে। সেই ঘরের মাঝখানে একটা ছোট্ট আলোর বৃত্ত। আর সেখানে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। কে - সেটা রাহেল জানে না। হয়তো নরম মনের সালেহা। হয়তো দায়িত্বশীল আর জ্ঞানী জেঠা। আবার হয়তো এমন কেউ, যার কোনো নামই নেই। যে শুধু প্রতিশোধ নেয়। কোনো শিশুর উপর অত্যাচার হলে যে হারিকেন দিয়ে হলেও সেই জালিমকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করে দেয়। মরিয়ম যেভাবে বাঁচতে পারেনি, জামিলার ভেতরের গহীনে লুকিয়েও বাঁচতে পারেনি সামিরা।

জেঠু সালেহাকে নিয়ে চলে গেলেন। বাইরে তখন সন্ধ্যা নামছে। দূরের পুরোনো অশথ গাছের পাতাগুলো যেন বাতাস ছাড়াই নড়ে উঠল।

আফনান আব্দুল্লাহর গল্প – সালেহার জিন জেঠু।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.